আটক ১২জন কেউই স্কুলের শিক্ষার্থী নয় ! নাশকতায় লিপ্ত ছিল ওরা!

12-student.jpg

কক্সবাংলা ডটকম(১০ সেপ্টেম্বর) :: ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) হেফাজতে থাকা ১২ শিক্ষার্থী জামায়াত-শিবিরের সক্রিয় কর্মী। কোমলমতি শিক্ষার্থীদের নিরাপদ সড়কের আন্দোলন চলাকালে গুজব ছড়িয়ে পরিস্থিতি ঘোলাটে করার অপচেষ্টা করেছিল তারা। গ্রাম থেকে কোচিং করার নামে ঢাকায় এসে সরকারবিরোধী অপতৎপরতায় লিপ্ত হয় এরা। তাদের কাছে যেসব স্কুলের ড্রেস ও পরিচয়পত্র পাওয়া গেছে তারা কেউই ওসব স্কুলের শিক্ষার্থী নয়।

এমনকি একই ছবি দিয়ে একেকজনের একাধিক স্কুলের পরিচয়পত্র বানানো হয়েছে। পাওয়া গেছে শিবিরের বেশকিছু প্রকাশনাও। আটকের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে চাঞ্চল্যকর তথ্য মেলায় তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানায় দায়ের করা দুটি মামলায় রবিবার তাদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।

সোমবার জিজ্ঞাসাবাদের জন্য এই ১২ জনকে ৭ দিনের রিমান্ডের আবেদন করা হয়। শুনানি শেষে ঢাকা মহানগর হাকিম নুরুন্নাহার ইয়াসমিন প্রত্যেকের দুদিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

তবে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে হঠাৎ করে ঢাকায় এসে পুলিশের হাতে আটক হওয়া ১২ জনের স্বজনদের মধ্যে কিভাবে যোগাযোগ সৃষ্টি হলো এবং রবিবার তারা একযোগে কিভাবে গণমাধ্যমের সামনে এলেন তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন পুলিশ কর্মকর্তারা।

পুলিশের দাবি, শিবিরকর্মী হওয়ার কারণেই তাদের নিজেদের ও পরিবারের মধ্যে সমন্বয় এবং যোগাযোগ ছিল।

ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে দুপুরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে উপপুলিশ কমিশনার (মিডিয়া) মো. মাসুদুর রহমান ১২ শিক্ষার্থী আটকের খবর জানিয়ে দাবি করেন, রবিবার ১২ জন শিবিরকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- তারেক আজিজ, তারেক, জাহাঙ্গীর আলম, মো. মোজাহিদুল ইসলাম, মো. আল আমিন, জহিরুল ইসলাম, মো. বোরহান উদ্দিন, ইফতেখার আলম, মেহেদী হাসান রাজিব, মো. মাহফুজ, সাইফুল্লাহ ও রায়হানুল আবেদিন।

এদের মধ্যে নিরাপদ সড়ক আন্দোলন চলাকালে গুজব সৃষ্টিকারীদের অন্যতম মূলহোতা তারেক আজিজসহ বাকিদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আল আমিন তিন মাস আগে বাগেরহাট জেলা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির কোচিং করার নামে ঢাকায় আসেন। জহিরুল ইসলামসহ অন্যরাও একই কথা বলে গ্রাম থেকে ঢাকায় আসেন বলে তার বাবা এনামুল হক দাবি করছেন।

মহানগর গোয়েন্দা (উত্তর) পুলিশ সূত্রে জানা যায়, তারেক আজিজের বিরুদ্ধে আইসিটি অ্যাক্টে এবং বাকিদের বিরুদ্ধে পুলিশের কাজে বাধা ও হামলার অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে। তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানায় এ দুটি মামলা দায়ের করা হয়। তাদের কাছ থেকে বিভিন্ন স্কুল কলেজের মনোগ্রামসহ ১২ সেট ইউনিফর্ম, ১৩টি ফিতাসহ আইডি কার্ড (গ্রেপ্তারকৃত ছাত্ররা কেউই ওসব স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী নয়), হ্যান্ডমাইক, ম্যাগনিফাইয়িং গøাস, হাতুড়ি, স্কু ড্রাইভার, তিনটি ল্যাপটপ, ইসলামি ছাত্রশিবিরের কর্মপদ্ধতির বিভিন্ন ফরম, শিবিরের কিশোর কণ্ঠ ম্যাগাজিনসহ বিভিন্ন ইসলামি বই, বিভিন্ন কার্যক্রমের বিষয়ে লেখা ডায়েরি ও ফেসবুকে পোস্ট করা বিভিন্ন ভিডিওসহ ছবি উদ্ধার করা হয়।

এদিকে আটকের পর ছাত্রদের জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে উপকমিশনার মাসুদুর রহমান বলেন, তারা গত ২৯ আগস্ট শহীদ রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের দুই শিক্ষার্থী নিহত হওয়ার ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ও নিরাপদ সড়কের আন্দোলনকে ভিন্নখাতে প্রভাবিত করতে ফেসবুক ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন উসকানিমূলক লেখা/পোস্ট/ফটো/ভিডিওর মাধ্যমে গুজব ছড়ায়।

মাসুদুর রহমান বলেন, গত ৬ আগস্ট বেলা পৌনে ১২টার দিকে তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানার আহসানউল্লাহ বিশ্ববিদ্যালয় এবং অন্যান্য স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের বহিরাগত ছাত্ররাসহ ৪০০ থেকে ৫০০ জন আহসানউল্লাহ বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে সরকারবিরোধী বিভিন্ন উত্তেজনাকর স্লোগান দিয়ে রাস্তায় নেমে আসে। উত্তেজিত শিক্ষার্থীরা রাস্তা বন্ধ করে ও সরকারবিরোধী বিভিন্ন ধরনের স্লোগান দিতে থাকে। উচ্ছৃঙ্খল ছাত্ররা পুলিশকে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে।

তিনি বলেন, ছাত্রদের ইটপাটকেলের আঘাতে তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানার পিআই আবু হাজ্জাজ, এস আই ইমাম হোসেন, এ এস আই আজাদ, এ এস আই ইব্রাহিমসহ কয়েকজন আহত হন। ছাত্র আন্দোলনকে ভিন্নখাতে প্রভাবিত করা ব্যক্তিদের মূলহোতা তারেক আজিজ ফেসবুক টাইমলাইনের মাধ্যমে কার্যক্রম পরিচালনা করত।

গোয়েন্দা পুলিশ (উত্তর) ক্যান্টনমেন্ট জোনের সিনিয়র সহকারী পুলিশ কমিশনার হান্নানুল ইসলাম জানান, তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানায় দায়ের করা মামলায় গ্রেপ্তার শিক্ষার্থীদের সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠায় পুলিশ। আদালত দুদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে আরো তথ্য মিলতে পারে।

উল্লেখ্য, গত ৫ সেপ্টেম্ব^র নিখোঁজের তিন দিন পরও সন্তানদের খোঁজ না পেয়ে রবিবার দুপুরে ঢাকার সেগুনবাগিচায় বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনে (ক্র্যাব) সংবাদ সম্মেলন করেন নিখোঁজ ১২ শিক্ষার্থীর পরিবারের সদস্যরা।

তাদের দাবি, রাজধানীর মহাখালী ও তেজগাঁও এলাকা থেকে ৫ সেপ্টেম্ব^র বুধবার অভিযান চালিয়ে পুলিশ ১২ শিক্ষার্থীকে ধরে নিয়ে যায়। ওই দিন এই ১২ শিক্ষার্থীর সঙ্গে আরো কয়েকজনকে আটক করে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ কার্যালয়ে নেয়া হয়। তবে ১২ জনকে রেখে বাকিদের ছেড়ে দেয়া হয়।

Share this post

PinIt
scroll to top