Home কক্সবাজার কক্সবাজারের চকরিয়ায় স্টার লাইন বাস-ছাড়পোকার সংঘর্ষে নিহত-৭ : আহত-৪

কক্সবাজারের চকরিয়ায় স্টার লাইন বাস-ছাড়পোকার সংঘর্ষে নিহত-৭ : আহত-৪

175
SHARE

মুকুল কান্তি দাশ,চকরিয়া(১১ সেপ্টেম্বর) :: ফেনী থেকে যাত্রী নিয়ে কক্সবাজার যাচ্ছিল স্টার লাইন পরিবহণের বাস (নং-ঢাকা মেট্টো-ব-১৫-০৬৩৮)। বাসটি চকরিয়ার বরইতলীর নতুন রাস্তার মাথা এলাকায় পৌঁছলে বিপরীতমুখি লেগুনার (ম্যাজিক গাড়ি) এক পাশে ধাক্কা লাগে। ওই ধাক্কায় ম্যাজিক গাড়িটির একপাশ ভেঙ্গে যায়।

পরপর দ্বিতীয় দফায় ম্যাজিক গাড়িকে দ্রুতগতির বাসটি ধাক্কা দিলে ছারপোকা হিসেবে পরিচিত ম্যাজিকটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়। এদূর্ঘটনায় ঘটনাস্থলে ও হাসপাতালে নেয়ার পথে নিহত হয় মা-মেয়ে ও ছাত্রসহ সাতজন। আহত হয় চার যাত্রী।

মঙ্গলবার সকাল ১১টার দিকে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের চকরিয়ার বরইতলী রাস্তার মাথা এলাকায় মর্মান্তিক দূর্ঘটনাটি ঘটে।

নিহতরা হলেন-চকরিয়া উপজেলার হারবাং ইউনিয়নের লালব্রীজস্থ পূর্ব বৃন্দাবলখিল এলাকার মঞ্জুর আলমের ছেলে মো.জহির আলম (৩২), হারবাং পাহাড়তলী এলাকার ছৈয়দ আলমের ছেলে মীর কাশেম (২৭), চকরিয়ার বরইতলী ইউনিয়নের উপর পাড়ার রুহুল কাদেরের ছেলে ও কক্সবাাজর পলিটেকনিক কলেজের হোটল এন্ড ট্যুরিজম বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র শফিকুল কাদের তুষার (২২), চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার চুনতির স্টেশন এলাকার আহমদ হোসেনের ছেলে ও লেগুনা চালক খায়ের আহমদ (৪০), চুনতি শাহ সাহেবের দরগাহ গেইট এলাকার মোস্তাক আহমদের স্ত্রী রোখেয়া বেগম (৫৫) এবং তার মেয়ে ও প্রবাসী আবুল হাশেমের স্ত্রী জায়তুন নাহার (৩০) এবং চুনতির পূর্ব সিকদার পাড়া এলাকার মৃত যতীন্দ্র মোহন সিকদারের স্ত্রী বাসন্তী সিকদার (৬৫)। আহতদের স্থানীয় ও চট্টগ্রামের হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শী দোকানদার শামীম উদ্দিন বলেন, আমার চোখের সামনেই হৃদয়বিদারক দূর্ঘটনাটি ঘটেছে। আমি দোকানে মালামাল বিক্রয় করছিলাম। এসময় কক্সবাজারের দিকে যাচ্ছিল যাত্রীবাহি বাস স্টার লাইন। এই গাড়িটি চালানো হচ্ছিল বেপরোয়া গতিতে। চোখের পলকেই ওই গাড়িটি বিপরীত দিক থেকে আসা ম্যাজিক গাড়িকে দু’দফায় ধাক্কা দেয়।

এসময় সড়কে রক্ত ছিটকে পড়তে দেখি। সাথে সাথে দোকান থেকে বের হয়ে গাড়ির কাছে গিয়ে দেখি নিথর হয়ে পড়ে আছে ৭-৮জন নারী-পুরুষ। ওইসময় ঘটনাস্থলে জড়ো হওয়া লোকজন নিথর কয়েকজনকে হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন।

চকরিয়া থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) জুয়েল চৌধুরী বলেন, দূর্ঘটনার খবর শুনেই প্রথমে হাসপাতালে পরে হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়িতে ছুটে যায়। দুটি স্থানে গিয়েও মৃতদের সঠিক সংখ্যা নির্ণয় করা যাচ্ছিলনা। কয়েকজনের মরদেহ আত্মীয়রা বাড়িতে নিয়ে যাওয়ায় সংখ্যা নিয়ে বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়।

ফলে, গ্রামের ঠিকানা নিয়ে বাড়িতে গিয়ে মৃতদের পরিচয় ও সঠিক সংখ্যা নির্ধারণ করতে হয়। বিকাল ৩টায় নিশ্চিত হওয়া যায় দূর্ঘটনা ৭জন মারা গেছে।

চিরিংগা হাইওয়ে পুলিশ জানায়, দূর্ঘটনায় পতিত দুটি গাড়ি জব্দ করা হয়েছে। তন্মধ্যে ম্যাজিকটি দুমড়ে-মুচড়ে গেছে। এই গাড়ির চালকও মারা গেছে। বাসের চালক-হেলপার পালিয়ে গেছে। নিহতদের পরিবারের লোকজনের আবেদনের প্রেক্ষিতে ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ হস্তান্তর করা হয়েছে।

SHARE