Home অর্থনীতি তেল রফতানি সংকটে ইরান

তেল রফতানি সংকটে ইরান

63
SHARE

কক্সবাংলা ডটকম(১৪ সেপ্টেম্বর) :: যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা আরোপের জেরে একের পর এক ক্রেতারা মুখ ফিরিয়ে নেয়ায় জ্বালানি তেল রফতানি নিয়ে সংকটে পড়েছে ইরান। গন্তব্য অনিশ্চিত হয়ে পড়ায় ইরানের জ্বালানি পণ্য বহনকারী ট্যাংকারগুলোকে সাগরেই ভাসমান থাকতে হচ্ছে।

সর্বশেষ ইরানি আল্ট্রা লাইট জ্বালানি তেলের কনডেনসেট বহনকারী দুটি ট্যাংকারকে এক মাসের বেশি সময় ধরে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) উপকূলে ভাসতে দেখা গেছে। পণ্য সরবরাহ নিয়ে সৃষ্ট এ সংকট ভবিষ্যতে ইরানের জ্বালানি তেল রফতানির অনিশ্চয়তাকে আরো জোরালো করে তুলেছে।

জ্বালানি খাতসংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, মার্কিন নিষেধাজ্ঞা সামনে রেখে দক্ষিণ কোরিয়া ইরান থেকে পণ্য আমদানি বন্ধ রেখেছে। একই পথে হাঁটছে ইউএই। আর চাহিদা কমতে থাকায় চীনে ইরানি জ্বালানি পণ্য আমদানির ধারা নিম্নমুখী।

জাহাজীকরণের তথ্য অনুযায়ী, ইউএই উপকূলে ভাসমান ট্যাংকারগুলোয় প্রায় ২৪ লাখ ব্যারেল সাউথ পারস কনডেনসেট রয়েছে। এর মধ্যে একটি ট্যাংকার গত আগস্টের শুরুতে ইরান থেকে কনডেনসেট বোঝাই করে ইউএইর জেবেল আলীর উদ্দেশে রওনা হয়। ট্যাংকারটি গত ৭ আগস্ট দুবাই উপকূলে পৌঁছানোর পর থেকেই একই এলাকায় নোঙর করে রয়েছে। অন্য ট্যাংকারটি ইরান থেকে রওনা হওয়ার পর দুবাই উপকূলে এসে পৌঁছায় গত ১৭ আগস্ট। এরপর থেকেই ট্যাংকারটি ওই এলাকায় রয়েছে।

দক্ষিণ কোরিয়া ইরানের সাউথ পারস কনডেনসেটের সবচেয়ে বড় ক্রেতা। যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা আরোপ-সংক্রান্ত ঘোষণার পর গত জুলাই থেকেই কোরীয় প্রক্রিয়াজাতকারীরা ইরান থেকে জ্বালানি তেল আমদানি বন্ধ রেখেছেন। ইউএই সরকার দেশটির এমিরেটস ন্যাশনাল অয়েল কোম্পানিকে (ইএনওসি) ইরানের বদলে অন্য দেশ থেকে পণ্য আমদানি করতে বলেছে।

ইএনওসি ইরানি কনডেনসেটের আরেক উল্লেখযোগ্য ক্রেতা। নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হওয়ার আগেই ইউএই ইরানের সঙ্গে জ্বালানি তেল বাণিজ্য ও আর্থিক লেনদেন শেষ করে আনতে চায়। আমদানি বন্ধের ব্যাপারে জানতে চাওয়া হলে ন্যাশনাল ইরানিয়ান অয়েল কোম্পানি ও ইএনওসির পক্ষ থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

সূত্র জানায়, বিদঘুটে গন্ধের কারণে চলতি বছরের দ্বিতীয় ও তৃতীয় প্রান্তিকে গ্রীষ্মকালীন মাসগুলোয় চীন সাউথ পারস কনডেনসেট আমদানি উল্লেখযোগ্য পরিমাণে কমিয়ে দিয়েছে। এ কনডেনসেটে উচ্চ মাত্রার সালফার যৌগ রয়েছে, যা আলাদাভাবে অপসারণ করতে হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের ঘোষণা অনুসারে, আগামী ৪ নভেম্বর থেকে ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হবে। তেহরানকে পারমাণবিক চুক্তি নিয়ে পুনরায় আলোচনার টেবিলে বসতে বাধ্য করার জন্য এ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। আলোচনায় বসতে বাধ্য হওয়ার আগ পর্যন্ত মার্কিন প্রশাসন ইরান থেকে জ্বালানি পণ্য রফতানি শূন্যে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নিয়েছে। এর পর থেকেই জ্বালানি তেলের ক্রেতা নিয়ে সংকটে পড়েছে ইরান।

ক্রেতা সংকটের কারণে সাগরে ভাসমান ইরানি জ্বালানি তেল বোঝাই জাহাজের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। এর আগে প্রায় ২০ লাখ ব্যারেল ইরানি জ্বালানি তেল বহনকারী তিনটি সুপার ট্যাংকার ১০ দিন বা তার বেশি ধরে সাগরে ভাসমান ছিল। এছাড়া আরো চারটি সুপার ট্যাংকারকে প্রায় এক সপ্তাহ সাগরে ভাসতে হয়েছে।

থমসন রয়টার্সের অয়েল রিসার্চ ও ফোরকাস্টের তথ্য অনুযায়ী, গত আগস্টে ইরান ৬৭ লাখ ৭০ হাজার অপরিশোধিত জ্বালানি তেল ও কনডেনসেটের রফতানি করেছে, যা ২০১৭ সালের এপ্রিলের পর থেকে সর্বনিম্ন।

রয়টার্স

SHARE