Home কক্সবাজার কক্সবাজারবাসীর বড় শূণ্যতা একটি শিশু পার্ক

কক্সবাজারবাসীর বড় শূণ্যতা একটি শিশু পার্ক

97
SHARE

সাইফুল ইসলাম(১৪ সেপ্টেম্বর) :: কক্সবাজার বিশ^মানের পর্যটন নগরী বটে। কিন্তু বহুকালের এই তকমা কেবলই মুখে আর কাগজে কলমে সীমাবদ্ধই রয়ে গেলো। এখানে আধুনিক হোটেল মোটেলসহ অসংখ্য পর্যটন স্পট গড়ে উঠলেও বরাবরই পিছিয়ে আছে শুধুমাত্র একটি শিশু পার্কের উদ্যোগ।

প্রতিনিয়ত দেশী-বিদেশী পর্যটকরা ভ্রমনে আসলেও দীর্ঘ সৈকত হেঁটে বেড়ানো, সমুদ্র স্নান আর পাহাড়বেষ্টিত সৌন্দর্যটুকু উপভোগ ছাড়া বাড়তি কোন বিনোদনের ব্যবস্থা নেই। এতে চরম হতাশ পর্যটকরা। একই দু:খ স্থানীয় বাসিন্দাদেরও। বিশেষ করে শিশুদের বিনোদনের জন্য একটি শিশু পার্কের চাহিদা বেশ গুরুত্ব পাচ্ছে ইদানিং।

তবে অনেক দু:খের মাঝে সুখবর হলো-সম্প্রতি সৈকত তীরবর্তী বিয়াম ল্যাবরেটরি স্কুল সংলগ্ন জায়গায় একটি পার্কের ভিত্তিপ্রস্থর স্থাপন করেছে জেলা প্রশাসন। এখন দেখার অপেক্ষা কখন নাগাদ সাইনবোর্ড সম্বলিত সেই ভিত্তিপ্রস্থর আলোর মুখ দেখবে। যে দেখার মধ্যদিয়ে গুছে যাবে শিশুপার্ক শুণ্যতার মহাগ্লানীটুকু।

কক্সবাজার সদর সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাজিম উদ্দীন জানান, জেলা প্রশাসন ও শিশু পার্ক বাস্তবায়ন নাগরিক কমিটির উদ্যোগে কবিতা চত্বর ও বিয়াম স্কুলের মাঝামাঝি সৈকত সংলগ্ন তিন একর জায়গাজুড়ে শিশু পার্ক নির্মাণ করা হবে। সম্প্রতি ওই স্থানে টাঙ্গানো হয়েছে শিশু পার্কের সাইনবোর্ড। শীঘ্রই পার্কের কাজ শুরু হবে বলে জানান তিনি।

অভিভাবকদের মতে, শিশুদের মানসিক বিকাশের জন্য প্রয়োজন একটু আলো-বাতাস। যেটি শিশুদের মনে সহজে দাগ কাটে। আর এতেই শিশুদের বেড়ে উঠার পেছনে অনেকটা দায়িত্ব পালন করে থাকে একটি মানসম্মত ও আধুনিক শিশু পার্কে। যেটি পর্যটন নগরী কক্সবাজারে নেই। এটি শুধু কক্সবাজারের স্থানীয় শিশুদের মননশীল বিকাশে গুরত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে না, পাশাপাশি দেশি বিদেশী ভ্রমনে আসা পর্যটক শিশুদের জন্যও গুরুত্ব বহন করবে।

কলাতলীর বেশ কয়েকজন হোটেল ম্যানেজার বলেন, পর্যটন শহর কক্সবাজারে শিশুপার্ক না থাকাটা অত্যন্ত দুঃখজনক। প্রতিবছর লাখ লাখ পর্যটক আসেন এই সমুদ্র শহরে। সঙ্গে শিশু-কিশোররাও থাকে। অথচ এখানকার স্থানীয় শিশুদের পাশাপাশি বেড়াতে আসা শিশুদের জন্য কোনো বিনোদনের ব্যবস্থা নেই।

ঢাকা যাত্রাবাড়ি থেকে আসা দম্পতি ফরিদ উদ্দীন ও রেহেনা আক্তার বলেন, পর্যটন নগরী কক্সবাজারে এসে খুবই ভাল লাগছে। বিনোদনের জন্য সবকিছু থাকলেও শিশু পার্ক না পেয়ে হতাশা প্রকাশ করছে আমাদের দুই সন্তান।
স্থানীয় শিক্ষক জহিরুল ইসলাম জানান, পর্যটন নগরী হিসেবে কক্সবাজারে শিশু পার্ক অতি গুরুত্বপূর্ণ। লেখাপাড়ার পাশিপাশি শিশুদের বিনোদনও প্রয়োজন। তাই শিশু পার্ক আমাদের র্দীঘদিনের দাবি।

কক্সবাজার জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, অতীত সময়কাল থেকেই কক্সবাজার জেলাবাসী প্রায়শই দাবী করে আসছিল জেলা শিশু পার্ক নির্মাণের। পৃথিবীর দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকতের কারণে কক্সবাজার বিশ্বময় পরিচিতি লাভ করেছে। ফলে প্রতিবছরই এখানে আসে দেশ-বিদেশ থেকে অসংখ্য পর্যটক। স্থানীয়দের পাশাপাশি পর্যটকদেরও দাবী কক্সবাজারে একটি শিশু পার্ক নির্মিত হোক। বিভিন্ন সময়ে জেলা প্রশাসন থেকে শিশু পার্ক নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হলেও জায়গা না হওয়ার কারণে এতোদিন সে উদ্যোগ সফল হয়নি। ইতোমধ্যই শিশু পার্ক হওয়ার মতো জায়গা হয়েছে। অতি শীঘ্রই ওই স্থানে পার্কের কাজ করা হবে।

কক্সবাজারের আইনজীবী শওকত বেলাল জানান, জেলাবাসীর প্রাণের দাবী কক্সবাজারে একটি শিশুপার্ক নির্মাণ হওয়া। কক্সবাজারের মতো একটি পর্যটন জায়গায় একটি আধুনিক ও মানসম্মত শিশু পার্ক নেই তা অত্যন্ত দুঃখজনক। কক্সবাজারবাসীর দীর্ঘদিনের এই দাবি কখন পূরণ হবে। জেলাসহ জেলার বাইরের মানুষ স্ব-পরিবারে এই শিশুপার্কের আলোর মূখ দেখবো। যাতে শিশুদের নিয়ে একটু আনন্দের সাথে সময় কাটাতে পারবো। যেটি শিশুদের সৃজনশীলতা ও মনন বিকাশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন।

কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক প্রশাসক মো. কামাল হোসেন জানান, জেলা প্রশাসন ও শিশু পার্ক বাস্তবায়ন নাগরিক কমিটির উদ্যোগে ইতোমধ্যেই শিশু পার্কের জন্য জায়গা নির্ধারণ হয়েছে। ওই স্থানে সাইনবোর্ডও টাঙ্গানো হয়েছিলো। অতি শীঘ্রই কাজ শুরু করা হবে।

SHARE