Home আন্তর্জাতিক ধেয়ে আসছে ইতিহাসের ভয়াবহ সুপার টাইফুন মাংখুট

ধেয়ে আসছে ইতিহাসের ভয়াবহ সুপার টাইফুন মাংখুট

264
SHARE

কক্সবাংলা ডটকম(১৪ সেপ্টেম্বর) :: পাঁচ মাত্রার প্রলয়ঙ্করী রূপ নিয়ে ঘণ্টায় ২০৫ কিলোমিটার বেগে ফিলিপিন্সের দিকে এগোচ্ছে প্রশান্ত মহাসাগরে তৈরি হওয়া সুপার টাইফুন মাংখুট। স্থানীয় সময় শনিবার ভোরে শক্তি আরও বাড়িয়ে ঘণ্টায় ২৫৫ কিলোমিটার বেগে তা আছড়ে পড়তে পারে ফিলিপিন্সের উত্তরপূর্ব কাগায়ান প্রদেশের উপর। টাইফুনের চোখটাই প্রায় ১২৫ কিলোমিটার চওড়া। এমনটাই জানিয়েছে হাওয়াইয়ের জয়েন্ট টাইফুন ওয়ার্নিং সেন্টার।

সুপার টাইফুনের জেরে প্রায় ৯০০ কিলোমিটার চওড়া বর্ষার মেঘ ছড়িয়েছে ফিলিপিন্সের আকাশে। মাখুট ভূমিতে আছড়ে পড়লেই হড়পা বান, ভারী বৃষ্টি এবং ধস নামতে পারে লুঝোন দ্বীপের ২৫ প্রদেশজুড়ে। ফলে সমুদ্র এবং বিমানযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে ফিলিপিন্স প্রশাসন।

ফিলিপিন্সের প্রেসিডেন্ট রডরিগো দুতার্তে মিসাইল উৎক্ষেপন পরিদর্শন বাতিল করে শুক্রবার মন্ত্রিসভার সদস্য এবং প্রশাসনিক আধিকারিকদের নিয়ে বৈঠক করেন। সেনাবাহিনী এবং বিপর্যয় মোবাকিলা দলের সঙ্গে মন্ত্রিসভার সদস্যদেরও বিপর্যয় মোকাবিলার জন্য তৈরি থাকতে নির্দেশ দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট।

কাগায়ান প্রদেশে ৪০,২০,০০০ বাসিন্দাকেই সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। কাগায়ানের গভর্নর ম্যানুয়েল মাম্বা বলেছেন, ইতিমধ্যেই উপকূলবর্তী এবং নিচু অঞ্চল থেকে ১০,২০,০০০ বাসিন্দাকে নিরাপদ স্থানে সরানো হয়েছে।

সব স্কুল, কলেজ বন্ধ। কাগায়ানের উত্তরাংশেই ধসের আশঙ্কা বেশি থাকায় ওই এলাকার বাসিন্দাদের সর্বাগ্রে সরানো হচ্ছে। টাইফুনের পথে প্রায় ৪৮০০০ বাড়ি পড়ছে কাগায়ানে। সেগুলি প্রায় সব কটিই ধূলিসাৎ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। কারণ, সম্প্রতি আমেরিকার গুয়াম দ্বীপের উপর দিয়ে বয়ে গিয়েছিল সুপার টাইফুন মাংখুট।

মার্কিন প্রশাসন জানিয়েছে, ঝড়ের দাপটে যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন এবং গাছ উপড়ে যাওয়া তো আছেই, গুয়ামের প্রায় ৮০ শতাংশ বাড়ি বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছিল।

হংকং অবজার্ভেটরির পূর্বাভাস, সোমবার মাংখুট চীনের গুয়াংডং, গুয়াংশি এবং হাইনান প্রদেশের দিকে এগোতে পারে। তবে তখন তার শক্তি কমে হাওয়ার গতিবেগ হতে পারে ঘণ্টায় ১৭৫ কিলোমিটার। ইতিমধ্যেই গুয়াংডং–এ ৩৭৭৭টি ত্রাণশিবির খোলা হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা এবং পর্যটক সহ লক্ষাধিক মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরানো হয়েছে। ৩৬০০০টি মৎস্যজীবীদের নৌকাকে ফেরত আসতে নির্দেশ দিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। গুয়াংডং এবং হাইনানের মধ্যে সব নৌ পরিষেবা এবং ঝাংজিয়াং–মাওমিং–এর মধ্যে ট্রেন পরিষেবা স্থগিত। ফুজিয়ান প্রদেশের সব সমুদ্রতীর খালি করে দেওয়া হয়েছে।

এদিকে, কয়েক দিন ধরে চার মাত্রার শক্তি সঞ্চার করছিল হ্যারিকেন ফ্লোরেন্স। বাতাসের বেগ কমে বৃহস্পতিবার রাতে ১ মাত্রার শক্তি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নর্থ ক্যারোলিনা, সাউথ ক্যারোলিনা ও ভার্জিনিয়া রাজ্যে আছড়ে পড়ে ঘূর্ণিঝড়টি। তিন রাজ্যের উপকূলবর্তী ১৭ লাখেরও বেশি বাসিন্দাকে বাড়িঘর ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যেতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। খবর বিবিসি ও সিএনএনের।

হ্যারিকেন ফ্লোরেন্সের প্রভাবে শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ব উপকূলের বহু এলাকায় দমকা বাতাস ও বৃষ্টি হয়েছে। প্রবল বৃষ্টিপাতে বন্যার সৃষ্টি হয়েছে। তা আরও বাড়ছে বলে আশঙ্কা করছে আবহাওয়া অধিদফতর।

হ্যারিকেনটির মাত্রা ১ হলেও ‘জীবন-সংহারী’ এ ঝড় নর্থ ও সাউথ ক্যারোলিনা এবং ভার্জিনিয়াকে লণ্ডভণ্ড করে দিতে পারে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে। নর্থ ও সাউথ ক্যারোলিনায় আছড়ে পড়ার পর ঝড়টি ঘণ্টায় দেড়শ’ কিলোমিটার বেগে উপকূল থেকে ভেতরের দিকে অগ্রসর হতে থাকে।

হ্যারিকেনের কবলে এরই মধ্যে এক লাখেরও বেশি বাড়িঘরের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। ঝড়ের কারণে ‘ভয়াবহ’ বন্যার আশঙ্কা করা হচ্ছে, যা ব্যাপক প্রাণহানি ঘটাতে পারে বলেও অনুমান জরুরি ব্যবস্থাপনা বিভাগের কর্মকর্তাদের। এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

বিভিন্ন ছবিতে আশ্রয় কেন্দ্রের বারান্দায় কম্বল, বাতাসে ফুলানো যায় এমন ম্যাট্রেস ও বিছানা নিয়ে মানুষজনকে ভিড় করতে দেখা গেছে। নর্থ ক্যারোলিনার কিছু এলাকায় কয়েক ঘণ্টায় এক ফুটের মতো বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে। সমুদ্রের পানির উচ্চতার সঙ্গে সঙ্গে উপকূলে আছড়ে পড়া ঢেউয়ের তীব্রতাও বাড়ছে।

ঘূর্ণিঝড়টির আওতায় থাকা এলাকাগুলোর নদী ও এর আশপাশ এবং নিচু এলাকার লোকজনের ঝুঁকিই এখন সবচেয়ে বেশি বলে সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় জরুরি ব্যবস্থাপনা সংস্থার প্রশাসক ব্রুক লং। ঝড়ের কারণে শনিবার পর্যন্ত পূর্ব উপকূলে দমকা বাতাস ও বৃষ্টি হতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে মার্কিন আবহাওয়া অধিদফতর। কিছু কিছু এলাকার নদীর পানির উচ্চতা ৪ মিটার পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।

SHARE