Home কক্সবাজার চকরিয়ায় মহাসড়কের তিন চাকার গাড়ি খাদে নিক্ষেপ !

চকরিয়ায় মহাসড়কের তিন চাকার গাড়ি খাদে নিক্ষেপ !

72
SHARE

এম.জিয়াবুল হক,চকরিয়া(১৫ সেপ্টেম্বর) :: কক্সবাজার-চট্টগ্রাম মহাসড়কে এবার দুর্ঘটনা প্রতিরোধে মহাসড়ক থেকে তিন চাকার গাড়ি জব্দ করে খালে ফেলে দিলো চকরিয়ার মালুমঘাট হাইওয়ে পুলিশ।

গত বৃহস্পতিবার থেকে আজ শনিবার তিনদিনের অভিযানে অন্তত পঁচিশটি যানবাহন খাদে ও নদীতে নিক্ষেপ করেছে।

তৎমধ্যে দশটি ব্যাটারিচালিত টমটম, ছয়টি অটোরিক্সা, তিনটি ভ্যান ও ছয়টি লেগুনা গাড়ি ছিল। কক্সবাজার সদরের কঞ্চনমালা, নতুন অফিস, চকরিয়ার খুটাখালী, ডুলাহাজারায় এ অভিযান চলে।

মালুমঘাট হাইওয়ে পুলিশের এসআই জসিম উদ্দিন ও টিএসআই ছফি উল্লাহ জানায়, সড়ক দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ তিন চাকার গাড়ি। তাই তিন চাকার গাড়ি যাতে মহাসড়কে চালাচল করতে না পারে তাই এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

মালুমঘাট হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পুলিশ পরিদর্শক আলমগীর হোসেন বলেন, গত ১১ সেপ্টেম্বর চকরিয়া মহাসড়কে লেগুনা ও টমটমের সাথে সংঘর্ষে ২৪ ঘন্টায় ১১ জন নিহত হয়েছে।

মর্মান্তিক এ ঘটনার পর মহাসড়কে তিন চাকার গাড়ি যাতে চলাচল করতে না পারে সেজন্য পুলিশের উচ্চপর্যায় থেকে কঠোর নির্দেশনা এসেছে। নির্দেশনা অনুযায়ী তারা এ অভিযানে নেমেছেন বলে জানান।

এদিকে মহাসড়কে ম্যজিক গাড়ি না থাকায় অন্যান্য মিনি বাসগুলো অতিরিক্ত ভাড়া হাতিয়ে নিচ্ছেন বলে অভিযোগ করেন যাত্রীরা। এছাড়াও হাজারো অধিক সংখ্যক চালক শ্রমিক বেকারে পরিনত হয়েছে। এভাবে যদি চলতে থাকে এলাকায় চোর ডাকাত ও অপরাধ প্রবণতা বৃদ্ধির সম্ভাবনা বলে অনেকে আশংকা প্রকাশ করে।

কয়েকজন ম্যজিক গাড়ির মালিক জানান, চকরিয়ার ফাঁসিয়াখালী মহাসড়কে বিরতিহীন ভাবে চলছে টমটম ও অটোরিক্সা। হারবাং, বরইতলী, শহর মহাসড়কে অনবরত চলছে তিন চাকা ও লেগুনা যানবাহন। আইন সকল এলাকার জন্য এক হওয়া উচিত বলে মনে করেন তাঁরা। ইলিয়াস নামের এক চালক বলেন, তার ম্যাজিক গাড়িটি দু মাস ধরে ঘরে পড়ে রয়েছে।

হাইওয়ে পুলিশের ভয়ে মহাসড়কে গাড়ি চালাতে পারছে না। পরিবারের ভরনপোষণ বন্ধ হওয়ার পাশাপাশি খরচ বহন করতে না পারায় সন্তান-সন্ততির পড়ালেখা বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে।

অভিযোগ উঠেছে সড়কে চলাচলরত গাড়ির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা না নিয়ে শনিবার সকাল সাড়ে ১০টায় মাতামুহুরী সেতুর উপর থেকে একটি টমটম নদীতে ফেলে দেয় হাইওয়ে পুলিশ। ওইসময় তিনটি গাড়ির কাঁচ ভাংচুর এবং দুটি গাড়ি জব্দ করা হয়।

নদীতে ফেলে দেয়া টমটম মালিক ইয়াকুব নবী বলেন, ছয়জন শিক্ষার্থীর অনুরোধে আমি টমটম নিয়ে বিদ্যালয়ে যাচ্ছিলাম। সেতু শেষ মাথায় পৌছলে চিরিংগা হাইওয়ে পুলিশের তিন সদস্য কোন ধরনের প্রশ্ন না করেই শিক্ষার্থী ও আমাকে নামিয়ে দিয়ে গাড়িটি নদীতে ফেলে দেয়।

জানতে চাইলে চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নূরুদ্দীন মুহাম্মদ শিবলী নোমান বলেন, আমাকে এ বিষয়ে কেউ জানায়নি। দুই হাইওয়ে পুলিশের দায়িত্বরতদের কাছ থেকে ঘটনা জেনে কি ঘটেছে বলতে পারবো।

SHARE