Home কক্সবাজার রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরু নিয়ে ছলচাতুরী

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরু নিয়ে ছলচাতুরী

110
SHARE

কক্সবাংলা রিপোর্ট(১৫ সেপ্টেম্বর) :: শিগগিরই তিন হাজার রোহিঙ্গাকে মিয়ানমারে ফেরত পাঠানোর মধ্য দিয়ে প্রত্যাবাসন কার্যক্রম শুরু হবে বলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী দাবি করলেও মাঠের চিত্র ভিন্ন।

এ প্রক্রিয়া কবে শুরু হতে পারে তা নিশ্চিত করে বলতে পারছেন না সংশ্লিষ্টরা। মিয়ানমারের ঘন ঘন মত পরিবর্তন ও ছলচাতুরীর কারণেই প্রত্যাবাসন শুরু করা অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে।

সরকারের এক পদস্থ কর্মকর্তা বলেছেন, অনেক সময় মিয়ানমারের সঙ্গে যোগাযোগ করাই দুরূহ হয়ে পড়ে।গত বছরের আগস্টে রাখাইনে সেনাবাহিনীর নির্মম নির্যাতন ও গণহত্যা শুরু হলে সাত লাখের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে আসে। আন্তর্জাতিক চাপের মুখে তাদের প্রত্যাবাসনের জন্য নভেম্বরে বাংলাদেশের সঙ্গে একটি চুক্তি করে মিয়ানমার। কিন্তু প্রায় এক বছর হতে চললেও একজন রোহিঙ্গাকেও ফেরত পাঠানো যায়নি।

বরং এখনো রাতের আঁধারে বিচ্ছিন্নভাবে রোহিঙ্গারা সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। ১০-২০ জনের ছোট ছোট একেকটি দল নাফ নদ পেরিয়ে সীমান্ত লাগোয়া গ্রামগুলোতে ঢুকে পড়ছে।

গত শুক্রবার কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার শাহপরীর দ্বীপের ঘোলারচর সীমান্ত পয়েন্ট দিয়ে গভীর রাতে আসা একটি দলের সাত সদস্যকে আটকের পর মিয়ানমারে ফেরত পাঠিয়েছে বিজিবি।

স¤প্রতি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী রাখাইন সফর করেছেন। সেখানে দুই দেশের মধ্যে গঠনমূলক আলোচনা হয়েছে। তারপরও রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানো শুরুই করা যায়নি। তা ছাড়া রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের জন্য মিয়ানমার এখনো উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করেনি বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ।

বিশ্ব সংস্থাটি বলছে, রাখাইন রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের জন্য এখনো নিরাপদ নয়। উপযুক্ত পরিবেশ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করেই রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন করার আহŸান জানিয়েছে সংস্থাটি।সম্প্রতি রোহিঙ্গার প্রত্যাবাসনে ব্যর্থতার জন্য বাংলাদেশকেই দোষারোপ করেছেন মিয়ানমার স্টেট কাউন্সেলর অং সান সু চি।

ভিয়েতনামের রাজধানী হ্যানয়ে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের সম্মেলনে তিনি বলেন, দুই দেশের মধ্যে প্রত্যাবাসন সম্পর্কিত একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হলেও জানুয়ারিতে এই প্রক্রিয়া শুরু করতে বাংলাদেশ প্রস্তুত ছিল না। তবে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে মিয়ানমারের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে।

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন কবে শুরু হতে পারে এমন প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র সচিব মো. শহীদুল হক বলেন, আমরা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ার মধ্যে আছি। মিয়ানমার যাচাই-বাচাই করে তিন হাজার রোহিঙ্গার বিষয়ে অনাপত্তি দিয়েছে। এখন আমরা তাদের কাছে জিজ্ঞেস করব তারা যেতে রাজি কিনা। এ ছাড়া আরও কিছু আনুষঙ্গিক কাজ আছে। সেগুলো শেষ হলেই প্রত্যাবাসন শুরু হবে।

তবে সরকারের এক পদস্থ কর্মকর্তা বলেন, প্রত্যাবাসন শুরু অনিশ্চিত। কারণ মিয়ানমার কোনো বিষয়ে তেমন একটা সহযোগিতা করছে না। অনেক সময় তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করাই দুরূহ হয়ে পড়ে। বিশ্ব সম্প্রদায় মিয়ানমারের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে। বাংলাদেশও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে সঙ্গে নিয়ে রোহিঙ্গা সমস্যার একটি টেকসই সমাধান আশা করছে।প্রত্যাবাসন শুরু না হলেও রোহিঙ্গাদের যে মিয়ানমারে ফিরে যেতে হবে সে বিষয়ে বাংলাদেশের অবস্থান স্পষ্ট।

এ বিষয়ে পররাষ্ট্র সচিব শহীদুল হক বলেন, রোহিঙ্গারা মিয়ানমারের বাসিন্দা। আমরা তাদের স্থায়ীভাবে আশ্রয় দেওয়ার কথা ভাবছি না। মানবিক এই সংকট মোকাবিলায় উন্নত দেশগুলোকে এগিয়ে আসার আহŸান জানিয়ে তিনি বলেন, অন্যান্য দেশ কিংবা মিয়ানমার তাদের না নেওয়া পর্যন্ত শিবিরেই থাকতে হবে রোহিঙ্গাদের।

SHARE