Home কক্সবাজার স্বাচ্ছন্দ্যের খোঁজে বাড়ছে উবার-নির্ভরতা

স্বাচ্ছন্দ্যের খোঁজে বাড়ছে উবার-নির্ভরতা

115
SHARE

হাফিজুল ইসলাম চৌধুরী, ঢাকা থেকে(১৭ সেপ্টেম্বর) :: ঢাকা শহরে ট্রাফিক জ্যাম এখন দুনিয়া-জুড়ে বিখ্যাত। এই শহরে চাহিদার তুলনায় পাবলিক বাস খুবই কম। নেই ট্রাম বা পাতাল রেলের মতো গন-পরিবহন ব্যবস্থা। তাই স্বাচ্ছন্দ্যের খোঁজেই ঢাকার যাত্রীরা বেছে নিচ্ছেন উবার এবং মোটরসাইকেলে একই সেবা দেয়ার অ্যাপ পাঠাও। স্থানীয় সিএনজি অটোরিকশার ব্যবসা তাতে ব্যাপক মার খাচ্ছে।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, মাত্র বছর খানেক আগেও ঢাকার রাস্তায় সিএনজি অটোরিকশার চালককে যাত্রীরা সমঝে চলতো। আর এখন উল্টোটা। ঢাকার রাস্তায় সিএনজি অটোরিকশা চালকদের অনেকেই বলছেন, এই কাজে আর পোষায় না। ঢাকায় চার চাকার ট্যাক্সি সার্ভিস সেই অর্থে নেই। ফলে মধ্যবিত্তের অনেকেই তিন চাকার এই সিএনজি অটোরিকশার উপর নির্ভরশীল ছিলেন।

কিন্তু যাত্রীদের অনেকেই এখন বলছেন, তাদের জন্য রয়েছে বিকল্প উপায়। ঢাকার উত্তরার বাসিন্দা আশরাফ জামান বলেন, ‘তিনি সিএনজি ব্যবহার ছেড়েই দিয়েছেন। ‘সিএনজিতে যেটা দেখি, তারা মিটারে যেতে চায় না। অনেক বেশি ভাড়া চেয়ে বসে। অনেক সময় জায়গা মতো যেতেও চায় না। কিন্তু উবার বা পাঠাও ব্যবহার করলে নির্দিষ্ট ভাড়া ওঠে। উবার বা পাঠাও সব জায়গাতেই যায়।’

অনুসন্ধান বলছে- মূলত ঢাকা শহরে পরিবহন খাতে নানা অনিয়ম আর বিশৃঙ্খলার সুযোগে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে মোবাইল ফোনে অ্যাপ ভিত্তিক গাড়ি ও মোটরসাইকেল শেয়ার নেটওয়ার্ক উবার অথবা পাঠাও এর মতো কোম্পানি। ঢাকা শহরে প্রতিমাসে ২ লাখের বেশি মানুষ উবার ব্যবহার করেছেন। প্রতি মাসে ১০ হাজারেরও বেশি চালক উবারের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার জন্য রেজিস্ট্রেশন করছেন। অন্যদিকে, ঢাকা মহানগরে প্রায় ৩৫ হাজারের মতো সিএনজি রয়েছে।

সূত্র জানায়-“উবার প্রথম চালু হয়েছিলো সিঙ্গাপুরে। একটা গাড়ি বহু মানুষ ব্যবহার করলো, গাড়ির মালিক না হয়েও গাড়িতে চড়ার ফ্লেভারটা পেলো। দিন শেষে মানুষ তো আসলে সেবা পেতে চায়।”

কক্সবাজারের রামুর গর্জনিয়া ইউনিয়ন পরিষদের পাঁচ বারের নির্বাচিত সাবেক চেয়ারম্যান ও মুক্তিযোদ্ধা তৈয়ব উল্লাহ চৌধুরী ঢাকায় বেড়াতে এসে ট্রাফিক জ্যামে পড়ে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছিলেন। পরে তাঁর বড় ছেলে শাহারীয়ার ওয়াহেদ চৌধুরী রাসেলের মাধ্যমে উবার- সম্পর্কে অবগত হন।

তৈয়ব উল্লাহ চৌধুরী বলেন, ‘সোমবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সকালে উত্তরা থেকে ঢাকা বিশ^বিদ্যালয় প্রাঙ্গনে যাওয়ার জন্য উবার ডাকলাম। মাত্র ৫ মিনিটের মধ্যে ড্রাইভার আমার লোকেশনে এসে পড়লেন এবং স্বাচ্ছন্দ্য মতো পৌঁছে দিলেন গন্তব্যস্থলে। সত্যিই যাত্রীদের দরকারে জনপ্রিয় হয় এরকম সেবা। আজকাল অনেক স্বচ্ছল ও শিক্ষিত মানুষ উবারের চালক হিসাবে হাজির হন।’

SHARE