Home শীর্ষ সংবাদ একাদশ সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগে মনোনয়ন দৌঁড়ে সাবেক ছাত্রনেতারা

একাদশ সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগে মনোনয়ন দৌঁড়ে সাবেক ছাত্রনেতারা

157
SHARE

কক্সবাংলা ডটকম(২৩ সেপ্টেম্বর) :: একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বাকি আর মাত্র মাস চারেক। এই ভোটযুদ্ধের আগে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগে চলছে মনোনয়নযুদ্ধ। দলীয় মনোনয়ন পেতে মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন সম্ভাব্য প্রার্থীরা।

এই দৌড়ে আছেন বর্তমান মন্ত্রী, এমপি, দলের কেন্দ্রীয় নেতা, আইনজীবী, ব্যবসায়ী, ক্রীড়াবিদ, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, প্রবাসী ও ছাত্রলীগের সাবেক নেতারা।

মনোনয়ন প্রত্যাশীরা নিজ নিজ এলাকায় তৎপর অনেক আগে থেকেই। কর্মীদের সঙ্গে গড়ে তুলছেন নিবিড় সম্পর্ক। যাচ্ছেন ভোটারদের দুয়ারে দুয়ারে। পৌঁছে দিচ্ছেন সরকারের উন্নয়ন বার্তা। রাজনৈতিক কর্মসূচি পালনের পাশাপাশি অংশ নিচ্ছেন নানা সামাজিক, ধর্মীয়, সাংস্কৃতিক ও সেবামূলক কর্মকাণ্ডে। জানান দিচ্ছেন নিজেদের অবস্থান।

হাইকমান্ডের সন্তুষ্টি অর্জনের প্রতিটি ধাপ পূরণের চেষ্টা করছেন তারা। এ দৌড়ে পিছিয়ে নেই ছাত্রলীগের সাবেক নেতারা। ছাত্র রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকায় এলাকায় রয়েছে তাদের আলাদা পরিচিতি। বয়সে তরুণ হওয়ায় কাজও করছেন নিরলস।

দুঃসময়ে ছাত্রলীগের রাজনীতিতে যারা সক্রিয় ভূমিকা রেখেছেন, জেল-জুলুম, নির্যাতন সহ্য করেছেন; বিশেষ করে ওয়ান ইলেভেনের সময় দল ও নেত্রীর পক্ষে আপসহীন ভূমিকা রেখেছেন- তাদের অনেকেই নিজ নিজ এলাকায় রাজনৈতিকভাবে শক্ত ঘাঁটি স্থাপন করতে সক্ষম হয়েছেন। এবার নৌকার মনোনয়ন লড়াইয়ে তাদের অনেকেই চমক থাকতে পারেন। নবীনদের রাজনীতিতে সুযোগ করে দিতে দলীয় প্রধানও আগ্রহী। এবার নির্বাচনে সাবেক ছাত্রনেতাদের অনেকেই আওয়ামী লীগের টিকেট পেতে পারেন।

নিজ নির্বাচনী এলাকায় শক্ত ঘাঁটি রয়েছে এবং অবিরত গণসংযোগ করছেন, এমন সাবেক ছাত্রনেতাদের মধ্যে এবার আলোচনায় আছেন ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও জাকসুর সাবেক ভিপি এ কে এম এনামুল হক শামীম। তিনি আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক। শরীয়তপুর-২ (নড়িয়া-সখিপুর) আসনে মনোনয়ন পেতে পারেন সাবেক এই ছাত্রনেতা। এ আসনে বর্তমান সংসদ সদস্য কর্নেল (অব.) শওকত আলী।

ফরিদপুর-১ (আলফাডাঙ্গা-মধুখালী-বোয়ালমারি) আসনে গণসংযোগ করছেন ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি লিয়াকত সিকদার। গত কয়েকমাস ধরে পুরোদমে সময় দিচ্ছেন নির্বাচনী এলাকায়। দিনরাত গণসংযোগ করছেন। নবীন-প্রবীণ, নারী-পুরুষ সব শ্রেণিপেশার মানুষের সঙ্গে মিশছেন। চষে বেড়াচ্ছেন মাঠ। এ আসনে বর্তমান সংসদ সদস্য ছাত্রলীগের আরেক সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবদুর রহমান। বর্তমানে তিনি আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক।

নেত্রকোনা-৩ আসনে মনোনয়ন দৌড়ে এগিয়ে আছেন ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক অসীম কুমার উকিল। আওয়ামী লীগের সংস্কৃতিবিষয়ক সম্পাদক তিনি। এ আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য ইফতিখার উদ্দিন পিন্টু। তিনিও মনোনয়ন প্রত্যাশী। নেত্রকোনা-৫ আসনে মনোনয়ন পেতে পারে ছাত্রলীগের আরেক সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন। গত তিন মেয়াদে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক তিনি। এ আসনে বর্তমান সংসদ সদস্য ওয়ারেসাত হোসেন বেলাল।

খুলনা-৩ আসনে নিয়মিত গণসংযোগ করছেন ছাত্রলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় নেতা এসএম কামাল হোসেন। তিনি আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য। এ আসনের সংসদ সদস্য মুন্নুজান সুফিয়ান।

চাঁদপুর-৩ (সদর-হাইমচর) আসনে দীর্ঘদিন ধরে গণসংযোগ করছেন ছাত্রলীগের সাবেক নেতা সুজিত রায় নন্দী। আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন তিনি। এ আসনে বর্তমান সংসদ সদস্য দলের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. দীপু মনি।

পিরোজপুর-১ আসনে মনোনয়ন পেতে দৌড়ঝাপ করছেন ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ইসহাক আলী খান পান্না ও ঢাকা বিশ^বিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ সাকিব বাদশা। এ আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য এম এ আউয়াল। মঠবাড়িয়া উপজেলার আসনটিতে মনোনয়ন পেতে কাজ করছেন ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আশরাফুর রহমান। বর্তমানে মঠবাড়িয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান তিনি।

মাগুরা-১ আসনে মনোনয়ন পেতে মাঠ দখলে রেখেছেন ছাত্রলীগের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ও প্রধানমন্ত্রীর এ পি এস সাইফুজ্জামান শিখর। রাজশাহী বিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন শিখর। সঙ্গে তার বাবার রাজনৈতিক ব্যাকগ্রাউন্ড। নিজ এলাকার মানুষের মন জয় করতে অক্লান্ত কাজ করছেন শিখর।

গাইবান্ধা-৫ আসনে শক্ত অবস্থান তৈরি করেছেন ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মাহমুদ হাসান রিপন। প্রতিনিয়ত এলাকায় কাজ করছেন তিনি। জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার এডভোকেট ফজলে রাব্বী মিয়া বর্তমান সংসদ সদস্য। তিনিও আবার মনোনয়ন পেতে মাঠে কাজ করছেন।

পটুয়াখালী-১ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশী ছাত্রলীগের সাবেক নেতা এডভোকেট আফজাল হোসেন। তিনি আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক। এ আসনে বতর্মানে সংসদ সদস্য জাতীয় পার্টির মহাসচিব এ বি এম রুহুল আমিন হাওলাদার।

নরসিংদী-৫ (রায়পুরা) আসনে মনোনয়ন পেতে পারেন ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সদস্য এডভোকেট রিয়াজুল কবির কাওছার। তিনি আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য। এ আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য সাবেক মন্ত্রী রাজিউদ্দিন আহমেদ রাজু। বয়সের ভারে ন্যুব্জ ও নানা কারণে বিতর্কিত রাজু এবার মনোনয়ন নাও পেতে পারেন।

চট্টগ্রাম-৭ (সাতকানিয়া-লোহাগড়া) আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেতে মাঠে আছেন ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি আমিনুল ইসলাম আমিন। তিনি আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কমিটির উপ-প্রচার সম্পাদক। এলাকায় ব্যাপক জনপ্রিয় তিনি।

কক্সবাজার-৩ (সদর-রামু) আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেতে কাজ করছেন কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি প্রশান্ত ভূষণ বড়–য়া। আদর্শ ও জ্ঞানভিত্তিক রাজনৈতিক কর্মী সৃষ্টির লক্ষে নিয়মিত রাজনৈতিক প্রশিক্ষন কর্মশালার আয়োজন করে আসছেন। প্রধানমন্ত্রীর আস্থাভাজন এই আইনজীবী এককভাবে ৫ হাজার কপি বঙ্গবন্ধুর আত্মজীবনী বিতরণ করে সাড়া ফেলেছেন। এবার নির্বাচনে সদর-রামু আসনে মনোনয়নও পেতে পারেন। এছাড়া কক্সবাজার জেলা ছাত্রলীগে এবং এলাকায় ব্যাপক জনপ্রিয় তিনি।

ঢাকা-১৫ আসনে মনোনয়ন পেতে কাজ করছেন ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি ও সংগঠনটির ঢাকা মহানগরের সভাপতি মেজবাহুল ইসলাম সাচ্চু। নির্বাচনী আসনের মিরপুর-কাফরুলে ব্যাপক পোস্টার-ফেস্টুন টানিয়েছেন। এ আসনে বর্তমান সংসদ সদস্য কামাল আহমেদ মজুমদার। এখানে মনোনয়ন পেতে কাজ করছেন ছাত্রলীগের আরেক সাবেক সহসভাপতি এস এ মান্নান কচি। ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি তিনি।

ফেনী-৩ (দাগনভুঁইয়া-সোনাগাজী) আসনে কাজ করছেন ছাত্রলীগের আরেক সাবেক সহসভাপতি জহির উদ্দিন মাহমুদ লিপটন। এ আসনে বর্তমান সংসদ সদস্য হাজি রহিমউল্লাহ।

ঢাকা-৪ (কদমতলী-শ্যামপুর) আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেতে এক দশক ধরে কাজ করছেন ছাত্রলীগের সাবেক নেতা সংগঠনটির বাংলাদেশ কৃষি বিশ^বিদ্যালয় শাখার সাবেক সভাপতি ড. আওলাদ হোসেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাবেক এ পি এস তিনি। ৫ জানুয়ারি নির্বাচনেও স্বতন্ত্র প্রার্থী হন তিনি। আসনটির সংসদ সদস্য জাতীয় পার্টির সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা। সংরক্ষিত সংসদ সদস্য এডভোকেট সানজিদা খানমও মনোনয়ন প্রত্যাশী।

চট্টগ্রাম-৬ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চান ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুল হায়দার চৌধুরী রোটন। নিয়মিত গণসংযোগ করছেন তিনি। এ আসনে বর্তমান সংসদ সদস্য এ বি এম ফজলে করিম এবারো দলীয় মনোনয়ন চান।

মুন্সীগঞ্জ-১ (শ্রীনগর-সিরাজদিখান) আসনে মনোনয়ন পেতে কাজ করছেন ছাত্রলীগের সাবেক সিনিয়র সহসভাপতি ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক গোলাম সারোয়ার কবির। বর্তমান সংসদ সদস্য সুকুমার রঞ্জন ঘোষ শারীরিকভাবে অসুস্থ হওয়ায় দেড় বছর ধরে এলাকায় যান না। অনেকটা জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন। ফলে গোলাম সারোয়ার কবির শক্ত অবস্থানে রয়েছেন।

ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি এইচ এম বদিউজ্জামান সোহাগ মনোনয়ন পেতে দ্বারে দ্বারে ছুটছেন বাগেরহাট-৪ (শরণখোলা-মোড়লগঞ্জ) এলাকায়। বতর্মান সংসদ সদস্য ডা. মোজাম্মেল হোসেন বয়সে প্রবীণ হওয়ায় এবার মনোনয়ন থেকে ছিটকে পড়তে পারেন বলে গুঞ্জন রয়েছে। সে হিসেবে সোহাগের সম্ভাবনা এবার অনেক বেশি।

বরিশাল-৩ নির্বাচনী এলাকায় নিয়মিত যাতায়াত করছেন ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি এডভোকেট বলরাম পোদ্দার। এ আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য তালুকদার মোহাম্মদ ইউনুস।

রাজবাড়ি-২ (পাংশা-বালিয়াকান্দি-কালুখালী) আসনে মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন ঢাকা বিশ^বিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি শেখ সোহেল রানা টিপু। নিয়মিত গণসংযোগ করছেন তৃণমূলে। এ আসনের সংসদ সদস্য জিল্লুল হাকিমও মাঠে সক্রিয় আছেন।

নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া) আসনে নৌকার মনোনয়ন পেতে কাজ করছেন ছাত্রলীগের সাবেক ধর্মবিষয়ক সম্পাদক আমিরুল ইসলাম আমির। ৫ জানুয়ারি নির্বাচনে স্বতন্ত্র নির্বাচন করে হেরে গিয়েছিলেন তিনি।

দিনাজপুর-১ (বীরগঞ্জ-কাহারোল) আসনে শক্ত অবস্থান করেছেন ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি ও সংগঠনটির রাজশাহী বিশ^বিদ্যালয়ের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবু হুসাইন বিপু। এলাকায় গণসংযোগ করছেন। ক্লিন ইমেজের অধিকারী সাবেক এই ছাত্রনেতা ক্রমেই জনপ্রিয় হয়ে উঠেছেন নিজ এলাকায়। এ আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য মনোরঞ্জন শীল গোপালও পুনরায় মনোনয়ন পেতে দৌড়ঝাপ করছেন।

নাটোর-৪ (বড়াইগ্রাম-গুরুদাসপুর) আসনে মনোনয়ন পেতে তৎপরতা চালাচ্ছেন রাজশাহী বিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি আহম্মেদ আলী মোল্লা। এ আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতা অধ্যাপক আবদুল কুদ্দুস।

SHARE