Home কক্সবাজার নাইক্ষ্যংছড়িতে বন্দুক যুদ্ধে শীর্ষ সন্ত্রাসী আনোয়ার বলি নিহত : অস্ত্র ও গুলি...

নাইক্ষ্যংছড়িতে বন্দুক যুদ্ধে শীর্ষ সন্ত্রাসী আনোয়ার বলি নিহত : অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার

121
SHARE

আব্দুল হামিদ,নাইক্ষ্যংছড়ি(২২ সেপ্টেম্বর) :: বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার বাইশারী ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ড বাইশারী-আলীক্ষ্যং সড়কের ব্রীকফিল্ড নামক এলাকায় আনাইয়্যা বাহিনীর সেকেন্ড ইন কমান্ড শীর্ষ সন্ত্রাসী মোঃ আনোয়ার হোসেন প্রকাশ আনোয়ার বলি পুলিশের সাথে বন্দুক যুদ্ধে নিহত হয়েছে।

নিহত আনোয়ার বলি কক্সবাজার জেলার মহেশখালী উপজেলার নতুন বাজার এলাকার বাসিন্দা মৃত আবু ছৈয়দ ও মাতা মমতাজ বেগমের পুত্র বলে প্রাথমিক ভাবে সনাক্ত করেছে পুলিশ। তবে বিগত ৬/৭ বছর যাবৎ রামু উপজেলার ঈদগড় ইউনিয়নের কাটাজঙ্গল এলাকায় বসবাস করত বলে অনেকে জানান।

নাইক্ষ্যংছড়ি থানার অফিসার ইনচার্জ শেখ মোঃ আলমগীর জানান, ২১ সেপ্টেম্বর শুক্রবার দিবাগত রাত ১টা ৩৫ মিনিটের দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তিনি খবর পান বাইশারী ইউনিয়নের ব্রীকফিল্ড নামক স্থানে ডাকাত আনাইয়্যা বাহিনীর সদস্যরা অবস্থান করছিল। তিনি বিষয়টি বাইশারী পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ পরিদর্শক এ.কে.এম হাবিবুল ইসলামকে জানালে সাথে সাথে সঙ্গীয় ফোর্স সহ ঘটনাস্থলে পৌছায়।

ঐ সময় ডাকাত দলের সদস্যরা পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে প্রথমে পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়ে। পুলিশও আত্বরক্ষার্থে পাল্টা গুলি ছুড়তে বাধ্য হয়। প্রায় আধা ঘন্টা পুলিশ ও ডাকাত দলের সাথে গুলি বিনিময়ের ঘটনা ঘটে। ঐ সময় ডাকাতদলের এক সদস্য পুলিশের গুলিতে মারা যায়।

এছাড়া দুই পুলিশ সদস্যও ডাকাতের গুলিতে আহত হয়। আহতরা হলেন, কনেষ্টবল সুলতান ও জ্যোতিময় চাকমা। আহতদের স্থানীয় বাইশারী বাজারে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে প্রেরণ করেছেন বলে জানান তিনি।

বাইশারী পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ পরিদর্শক এ.কে.এম হাবিবুল ইসলাম জানান, নাইক্ষ্যংছড়ি থানার অফিসার ইনচার্জ শেখ মোঃ আলমগীরের নির্দেশে তিনি সঙ্গীয় ফোর্স সহ অভিযানে গেলে ডাকাত দলের সদস্যরা পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়ে। পুলিশ পাল্টা গুলি ছুটলে ডাকাতদলের সদস্যরা পাল্টা গুলি ছুড়ে পিছু হটতে বাধ্য হয়।

এ সময় পুলিশের গুলিতে এক ডাকাত সদস্য নিহত হয়। ভোরে স্থানীয় লোকজন ও এলাকার চেয়ারম্যান সহ গন্যমান্য ব্যক্তিরা মৃত ব্যক্তিকে ডাকাত আনোয়ার বলি বলে সনাক্ত করেন। ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ তার ব্যবহৃত ১টি মোবাইল ফোন, ৬ রাউন্ড গুলি, দুইটি দেশীয় তৈরী বন্দুক উদ্ধার করে। যার মধ্যে রয়েছে একটি শর্ট এলজি ও আরেকটি একনলা লম্বা এলজি।

স্থানীয়রা জানান, আনোয়ার প্রকাশ আনাইয়্যা বাহিনীর অন্যতম সহযোগী আনোয়ার হোসেন প্রকাশ আনোয়ার বলি দীর্ঘদিন যাবৎ বাইশারী, ঈদগড়, গর্জনীয়া ইউনিয়ন সহ আশপাশ এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে আসছিল।

বাইশারী ইউনিয়নে অবস্থিত বিভিন্ন রাবার বাগানে নিয়মিত শ্রমিকদের মারধর, হুমকি, মোবাইল ফোনে রাবার বাগান মালিকদের নিকট চাঁদা দাবী, বাগানে কাজে যেতে নিষেধ সহ প্রতিনিয়ত হুমকি প্রদর্শন করে আসছিল। তার অত্যাচারে তিন ইউনিয়নের লক্ষাধিক মানুষ অতিষ্ট হয়ে পড়ছিল।

আনোয়ার বলির মৃত্যুতে তিনি ইউনিয়নের লক্ষাধিক মানুষের স্বস্তি ফিরেছে। তবে আনোয়ার বাহিনীর প্রধান প্রকাশ আনাইয়্যা বহাল তবিয়তে থাকায় এলাকাবাসী ও রাবার শ্রমিকদের আতংক এখনো কাটেনি।

পুলিশ জানায়, মোঃ আনোয়ার প্রকাশ আনোয়ার বলির বিরুদ্ধে রামু, নাইক্ষ্যংছড়ি ও কক্সবাজার থানায় খুন, ডাকাতি, অপহরণ, চাঁদাবাজী সহ বেশ কয়েকটি মামলা রয়েছে।

নাইক্ষ্যংছড়ি থানার অফিসার ইনচার্জ শেখ মোঃ আলমগীর সাংবাদিকদের জানান, ঘটনাস্থল থেকে আনোয়ার ডাকাতের লাশ চুরতহাল শেষে উদ্ধার করে বান্দরবান সদর হাসপাতালে প্রেরণ করা হবে এবং সংশ্লিষ্ট আইনে মামলা রুজুর প্রস্ততি চলছে।

এছাড়া শীর্ষ সন্ত্রাসী আনোয়ার বাহিনীর প্রধান আনাইয়্যাকে ধরতে পুলিশ-বিজিবির সমন্বয়ে শীগ্রই যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হবে।

SHARE