কক্সবাজার-৩(সদর-রামু) আসনের উন্নয়নে সম্ভাবনাময়ী তরুণ মনোনয়ন প্রত্যাশীরা

alg-perlament-elegtion-coxsbazar-sador-ramu-young-candidate-for-mp-.jpg

বিশেষ প্রতিবেদক(২৪ সেপ্টেম্বর) :: একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন দোরগোড়ায়। দেশের অন্যান্য জেলার মতো কক্সবাজার জেলাজুড়েও বর্তমানে বইছে নির্বাচনের হাওয়া।এর মধ্যে সর্বাধিক আলোচনায় রয়েছে কক্সবাজার-৩ সদর-রামু আসনটি। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সম্ভাব্য প্রার্থীরা চষে বেড়াচ্ছেন মাঠ। পুরনোদের পদাঙ্ক অনুসরণ করে নবীন প্রার্থীরাও নিচ্ছেন নির্বাচনী প্রস্তুতি। এ কারণে বেশির ভাগ জল্পনা-কল্পনাজুড়ে আছেন আওয়ামী লীগ এর তরুণ মনোনয়ন প্রত্যাশীরা।

কক্সবাজার জেলার চারটি সংসদীয় আসনের মধ্যে কক্সবাজার-৩ অর্থাৎ কক্সবাজার সদর-রামু আসনেই নতুন প্রার্থীদের নাম শুনা যাচ্ছে বেশি। যাদের অধিকাংশের রয়েছে রাজনীতিতে পারিবারিক ঐতিহ্য। সবাই উচ্চশিক্ষিত। দেশের দুই বৃহৎ রাজনৈতিক সংগঠন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এবং বিএনপি’র মনোনয়ন নিয়েই নির্বাচনী লড়তে ইচ্ছুক তাঁরা।

গত ২৩ সেপ্টেম্বর কেন্দ্রঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে কক্সবাজারে আসেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। কক্সবাজারের ঈদগাঁও এবং চকরিয়ায় দুটি পথসভায় বক্তব্যও রাখেন তিনি। নামে পথসভা হলেও আদতে সভা দুটি পরিণত হয় জনসভায়। সভাগুলোতে বক্তব্য দানকালে ওবায়দুল কাদের প্রার্থী হতে ইচ্ছুকদের মাঠে থাকার আহবান জানান। এর মাধ্যমে তিনি পরোক্ষভাবে তারুণ্যেরই জয়গান গেয়েছেন।

ইতঃপূর্বে এমপি প্রার্থী হতে ইচ্ছুকদের মধ্যে নবনির্বাচিত পৌর মেয়র জনাব মুজিবুর রহমান আওয়ামী লীগকে ঐক্যবদ্ধকরে বিপুল ভোটের ব্যবধানে নির্বাচনে জিতে অনেকটা আত্মবিশ্বাসী,কউক চেয়ারম্যান লে.কর্নেল (অব.) ফোরকান আহমদ সততা ও কর্মদক্ষতায় দলীয় হাই কমান্ডের সুনজরে, জেলা মহিলা আওয়ামী লীগ সভানেত্রী কানিজ ফাতেমা মোস্তাক এর প্রতি রয়েছে সহানুভূতি।

এছাড়াও মাঠের লড়াইয়ে রয়েছেন বর্তমান সংসদ-সদস্য সাইমুম সরওয়ার কমল, রামু উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি কর্মীবান্ধব- তৃণমূল নেতা সোহেল সরওয়ার কাজল, কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক, সংগঠক ও সমাজকর্মী নাজনীন সরওয়ার কাবেরী।

সদ্য সমাপ্ত পৌর নির্বাচন শেষে নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছেন ৪ বার নির্বাচিত পৌর চেয়ারম্যান, প্রতিষ্ঠাতা কমান্ডার- জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমান্ড, জনপ্রিয় আওয়ামী লীগ নেতা জনাব নুরুল আবছার । সম্প্রতি কক্সবাজার পৌর আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি নজিবুল ইসলামকে একক প্রার্থী হিসেবে পরিচয় করিয়ে দিচ্ছেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মুজিবুর রহমান চেয়ারম্যান।

সর্বশেষ ১৯৯১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কক্সবাজার-৩ আসনে জয়লাভ করে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী। এরপর থেকে সংগঠনটির মনোনয়ন পাওয়া কোন প্রার্থীই নির্বাচনে জয়লাভ করতে পারেননি। দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সাইমুম সরওয়ার কমল নির্বাচিত হন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায়। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি অংশগ্রহণ করলে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীকে যে কঠিন প্রতিযোগিতার সম্মুখীন হতে হবে । এ বিষয়ে কারো মধ্যেই দ্বিমত নেই।

কিছুদিন ধরে কক্সবাজার-৩ আসনের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব দিতে ইচ্ছুকদের মধ্যে যাঁদের নাম আলোচনায় এসেছে তাঁরা হলেন, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার মিজান সাঈদ,কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি প্রশান্ত ভূষণ বড়–য়া, সাবেক ছাত্রলীগ নেতা শিল্পপতি সুজন শর্মা, রামু উপজেলা চেয়ারম্যান রিয়াজুল আলম। এদের অনেকেই সরাসরি রাজনীতিতে জড়িত না থাকলেও রামু-কক্সবাজার সদরবাসীর প্রতিনিধিত্ব করার ইচ্ছা রয়েছে তাদের।

উল্লিখিতদের মধ্যে ব্যারিষ্টার মিজান সাঈদ কক্সবাজার জেলার প্রথম ব্যারিষ্টার। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের প্রাক্তন মেধাবী এই ছাত্র আওয়ামী আইনজীবি পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য। পেশাগত জীবনে সফলতায়পূর্ণ এই আইনজীবীর সঙ্গে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী একটি অংশের সাথে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে। একজন সফল আইনজীবি এবং পরিচ্ছন্ন ইমেজের প্রার্থী হিসেবে ব্যারিস্টার মিজান সাঈদের গ্রহনযোগ্যতা সর্বমহলে স্বীকৃত। রামু-কক্সবাজারের আঞ্চলিক প্রভাব বলয়, সামাজিক আবস্থান ও ভোট ব্যাংকের বিবেচনায় ব্যারিস্টার মিজান সাঈদ অপরাপর মনোনয়ন প্রত্যাশীদের তুলনায় যোগ্য ও বিএনপি প্রার্থীর প্রধান প্রতিপক্ষ হিসেবে এরইমধ্যে কেন্দ্রের অগ্রাধিকার ভিত্তিক বিবেচনায় রয়েছেন।ব্যারিস্টার মিজান সাঈদের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন “মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নেতৃৃেত্ব ডিজিটাল বাংলাদেশ তথা সমৃদ্ধ ও উন্নত বাংলাদেশ গড়তে হলে সমাজের সর্বস্তরে বিশেষ করে রাজনীতিতে সৎ ও সক্ষম নেতৃত্বের বিকল্প নেই। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমার মত তরুণদের উপর আস্থা রাখতেই পারেন। কারণ আমাদের দৃষ্টি আগামী দশকের বাংলাদেশ নয়, আমাদের ভাবনায় আছে আগামী শতকের বাংলাদেশ”।

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সরাসরি সংশ্লিষ্ট প্রশান্ত ভূষণ বড়ুয়া। তিনি ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি ছিলেন, ছিলেন আওয়ামী লীগের উপ কমিটির সহ-সম্পাদক। আদর্শ ও জ্ঞানভিত্তিক রাজনৈতিক কর্মী সৃষ্টির লক্ষে নিয়মিত রাজনৈতিক প্রশিক্ষণ কর্মশালার আয়োজন করে আসছেন। প্রধানমন্ত্রীর আস্থাভাজন এই আইনজীবী এককভাবে ৫ হাজার কপি বঙ্গবন্ধুর আত্মজীবনী বিতরণ করে সাড়া ফেলেছেন।

কক্সবাজার-রামুর উন্নয়ন বিষয়ে তিনি বলেন, “মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কক্সবাজারের উন্নয়নের দায়িত্ব নিজ হাতে নিয়েছেন এবং অতুলনীয় উন্নয়ন করে যাচ্ছেন। দল আমাকে এই উন্নয়ন-কাজে প্রত্যক্ষ অবদান রাখার জন্য দায়িত্ব দিলে আমি তা দায়িত্বশীলতার সঙ্গে পালন করব।”

এছাড়া রামু উপজেলার নির্বাচিত চেয়ারম্যান রিয়াজুল আলমকেও আগামীর সম্ভাবনার জায়গায় দেখতে চায় অনেকে। রিয়াজুল আলমের সবচেয়ে ভাল দিক হচ্ছে- তিনি সর্বমহলে গ্রহণযোগ্য, অমায়িক ও স্বজ্জন।তাই রামু উপজেলা যুবলীগের বর্তমান সভাপতি রিয়াজুল আলমও কেন্দ্রর সুনজরে রয়েছেন।

অপরদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্র ও সাবেক ছাত্রলীগ নেতা সুজন শর্মা ঢাকা শহরে প্রতিষ্ঠিত শিল্পপতি। রামু- কক্সবাজারের বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক কর্মকান্ডে তিনি জড়িত। কক্সবাজার ছাত্র পরিষদ, ঢাকার সাবেক সভাপতি ও ঢাকাস্থ রামু সমিতির বর্তমান সাধারণ সম্পাদক তিনি। স্বজ্জন, সদালাপী ও ইতিবাচক মনোভাবের কারণে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় অনেক নেতার আস্থাভাজনও তিনি। রামু-কক্সবাজারকে নিয়ে নিয়মিত ভাবেন ও নেতৃত্ব নিয়ে কাজ করতে আগ্রহী। আটানব্বইয়ের বন্যায় প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক নিযুক্ত হয়েছিলেন কক্সবাজার জেলার ত্রাণ পর্যবেক্ষণ কমিটির প্রধান হিসেবে। বর্তমানে তিনি বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশ উপ-কমিটির সদস্য হিসেবে কাজ করে যাচ্ছেন।

আগামি দিনের নেতৃত্ব প্রসঙ্গে সুজন শর্মা বলেন- “ব্যাপক সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও বিভিন্ন সমস্যায় জর্জরিত কক্সবাজারের দিকে আজ পুরো পৃথিবী তাকিয়ে। যুগোপযোগী তরুণ নেতৃত্বই পারবে কক্সবাজারকে একখন্ড আধুনিক বাংলাদেশ হিসেবে বিশ্বের সামনে তুলে ধরতে”।

তরুণ নেতৃত্বের ব্যপারে সাবেক পৌর চেয়ারম্যান জনাব নুরুল আবছার বলেন- “তরুণরাই আগামীর বাংলাদেশ। তরুণদের নতুন নতুন আইডিয়া ও পুরানোদের অভিজ্ঞতাই পারে পর্যটন বান্ধব একটি আধুনিক কক্সবাজার নির্মাণ করতে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর রয়েছে কক্সবাজারের প্রতি সুদৃষ্টি। আমাদের দরকার ঐক্যবদ্ধতা ও সম্মিলিত পরিকল্পনা”। উনি কক্সবাজারের মেধাবী তরুণদের সুষ্টধারার রাজনীতিতে আরো বেশী সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানান।

Share this post

PinIt
scroll to top