Home অর্থনীতি বিশ্বের দুই অর্থনৈতিক পরাশক্তির শুল্কে শেয়ারবাজারে পতন

বিশ্বের দুই অর্থনৈতিক পরাশক্তির শুল্কে শেয়ারবাজারে পতন

104
SHARE

কক্সবাংলা ডটকম(২৪ সেপ্টেম্বর) :: চীনা পণ্যের ওপর আরেক দফা শুল্ক কার্যকর করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। চীন থেকে আমদানি করা ২০ হাজার কোটি ডলারের পণ্যের ওপর নতুন এ শুল্ক আরোপ করা হয়েছে, যা এ-যাবত্কালের মধ্যে সর্বোচ্চ। বিদ্যমান পরিস্থিতি ও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের আরো শুল্কারোপের হুমকির কারণে বাণিজ্যযুদ্ধ প্রশমনে উভয় পক্ষের মধ্যে আলোচনার সম্ভাবনা উড়িয়ে দিয়েছে চীন।

বিশ্বের দুই অর্থনৈতিক পরাশক্তিধর দেশের মধ্যে ক্রমবর্ধনশীল বাণিজ্য উত্তেজনার প্রভাবে গতকাল এশিয়া ও ইউরোপের শেয়ারবাজারে ব্যাপক দরপতন দেখা গেছে। খবর বিবিসি, ব্লুমবার্গ, এএফপি ও রয়টার্স।

বাণিজ্য উত্তেজনা নতুন মাত্রা পাওয়ায় সোমবার এশিয়া ও ইউরোপের শেয়ারবাজারে দরপতন লক্ষ করা যায়। এশিয়ার মধ্যে হংকংয়ের শেয়ারবাজার সবচেয়ে বেশি নিম্নমুখী ছিল। এ শেয়ারবাজার ১ দশমিক ৬ শতাংশ, সিডনি দশমিক ১ শতাংশ এবং ওয়েলিংটন দশমিক ৪ শতাংশ হারিয়েছে। এছাড়া মুম্বাই ও জাকার্তার সূচকে ১ শতাংশেরও বেশি পতন হয়। তবে সরকারি ছুটির কারণে টোকিও, সাংহাই, সিউল ও তাইপের শেয়ারবাজার বন্ধ ছিল।

অন্যদিকে ইউরোপের স্টক্স দশমিক ৩ শতাংশ, জার্মানির ডিএএক্স দশমিক ৪ শতাংশ হারিয়েছে। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ওপর নির্ভরশীল গাড়ি ও খনি কোম্পানিগুলোর শেয়ারদর হ্রাস পেয়েছে। এর মধ্যে ফক্সওয়াগন, ডাইমলার ও বিএমডব্লিউর শেয়ারদর সবচেয়ে বেশি কমে যেতে দেখা গেছে।

চীনের বিরুদ্ধে বৈষম্যমূলক বাণিজ্যচর্চার অভিযোগ এনে নতুন শুল্ক কার্যকর করেছে যুক্তরাষ্ট্র। প্রতিশোধ নিতে চীনও ৬ হাজার কোটি ডলারের মার্কিন পণ্যে অতিরিক্ত শুল্কারোপ করবে বলে জানিয়েছে। চীনের পক্ষ থেকে আরো বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ‘ইতিহাসের বৃহত্তম বাণিজ্যযুদ্ধের’ সূচনা করেছে। সর্বপ্রথম জুলাইয়ে চীনের পণ্যে অতিরিক্ত শুল্কারোপ করে যুক্তরাষ্ট্র। এখন পর্যন্ত সব মিলিয়ে ২৫ হাজার কোটি ডলারের চীনা পণ্যে অতিরিক্ত শুল্ক বসিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। অর্থাৎ যুক্তরাষ্ট্রে রফতানি করা চীনের প্রায় অর্ধেক পণ্যেই বর্তমানে অতিরিক্ত শুল্ক আদায় করছে ট্রাম্প প্রশাসন। চীনও ৫ হাজার কোটি ডলারের মার্কিন পণ্যে অতিরিক্ত শুল্ক বসিয়েছে।

নতুন দফায় চীন থেকে আমদানি করা প্রায় ছয় হাজার পণ্যে ১০ শতাংশ করে অতিরিক্ত শুল্ক কার্যকর হয়েছে। হাতব্যাগ থেকে শুরু করে চাল, বস্ত্রের মতো পণ্যগুলো এর আওতায় পড়েছে। দুই দেশ কোনো চুক্তিতে না পৌঁছালে আগামী বছরের শুরুতেই এ শুল্ক বেড়ে ২৫ শতাংশে উন্নীত হবে। পাল্টা কর্মসূচি হিসেবে ছোট আকারের উড়োজাহাজ, কম্পিউটার ও বস্ত্রপণ্যে অতিরিক্ত ৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করবে চীন এবং রাসায়নিক, মাংস, গম ও ওয়াইনের মতো পণ্যে অতিরিক্ত ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপিত হবে।

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, তিনি ‘চীনে আমেরিকান প্রযুক্তি এবং মেধাসম্পদের অবৈধ প্রবাহ বন্ধ’ ও কর্মসংস্থান সুরক্ষিত রাখতে চান।

প্রসঙ্গত, শুল্কারোপের কারণে আমদানিকৃত পণ্যের তুলনায় স্থানীয় বাজারে মার্কিন পণ্যগুলো সুলভ হয়ে উঠবে, যা ভোক্তাদের পণ্য ক্রয়ে উৎসাহী করে তুলবে এবং এর ধারাবাহিকতায় স্থানীয় ব্যবসা চাঙ্গা হবে এবং জাতীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। তবে অনেক মার্কিন কোম্পানি ও শিল্পপ্রতিষ্ঠান যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেড রিপ্রেজেন্টেটিভ অফিসকে জানিয়েছে, এ শুল্কের কারণে তারা ব্যবসায়িকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

এদিকে নতুন শুল্ক কার্যকর হওয়ার ১ ঘণ্টার মধ্যেই চীনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, শুল্কারোপের হুমকি বন্ধ না হলে তারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো ধরনের আলোচনায় বসবে না। রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদ সংস্থা সিনহুয়ায় প্রকাশিত শ্বেতপত্রে বলা হয়, ‘বাণিজ্য-বিষয়ক আলোচনার দ্বার সবসময়ই খোলা, তবে তা পারস্পরিক শ্রদ্ধার পরিবেশে অনুষ্ঠিত হতে হবে।’

ঋণমান নির্ধারণকারী সংস্থা ফিচ রেটিং তাদের সর্বশেষ গ্লোবাল আউটলুক প্রতিবেদনে এ বাণিজ্য উত্তেজনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। সংস্থাটির প্রধান অর্থনীতিবিদ ব্রায়ান কোলটন জানিয়েছেন, ‘বাণিজ্যযুদ্ধই এখন বাস্তবতা’। বিশ্বের প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস কমিয়ে ৩ দশমিক ১ শতাংশ নির্ধারণ করেছে ফিচ এবং তা আরো কমে যাওয়ার বিষয়েও সতর্ক করেছে।

SHARE