Home কক্সবাজার পেকুয়ায় জেলে গেল দেড় বছরের শিশু আলবী

পেকুয়ায় জেলে গেল দেড় বছরের শিশু আলবী

82
SHARE

নাজিম উদ্দিন,পেকুয়া(৭ অক্টোবর) :: পেকুয়ায় জেলে গেল দেড় বছর বয়সী শিশু আলবী। ২৪ দিন ধরে ওই শিশু জেলে বন্দী। জেল যন্ত্রনাবিভূর জীবন নিয়ে এ শিশু কারাগারে দিনাতিপাত করছে। শিশু আলবীর জীবন এখন কারাগারে আটকে গেছে। একটি ফৌজধারী মামলায় তার মাকে জেলে যেতে হয়েছে।

মা ও ছেলে এক সঙ্গে কক্সবাজার কারাগারে বন্ধী আছে। পেকুয়া থানা পুলিশ ৫শ ২০ পিস ইয়াবা জব্দ করে। এ সময় আলবীর মা আয়েশা ছিদ্দিকা(২০)কে আটক করে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রন আইনে পেকুয়া থানার পুলিশ একটি মামলা রুজু করে।

ওই মামলায় আয়েশা ছিদ্দিকাকে জেলে যেতে হয়েছে। চলতি বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর পেকুয়া থানায় এ মামলা রুজু হয়। যার নং ০৯/১৮, জিআর ১৪৫/১৮। পেকুয়া থানার এস,আই শফিকুল ইসলাম ওই মামলার বাদী।

সুত্র জানায়, পেকুয়া থানা পুলিশ চলতি বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যার দিকে ৫২০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করে। পুলিশ উপজেলার বারবাকিয়া ইউনিয়নের সবজীবনপাড়া নাছির উদ্দিনের বাড়িতে অভিযান পরিচালনা করছিলেন।

এ সময় এ সব ইয়াবা উদ্ধার হয়েছে। নাছির উদ্দিনের বাড়ি থেকে ইয়াবা উদ্ধার হওয়ায় তার স্ত্রী আয়েশী ছিদ্দিকাকে আটক করে। ওই দিন পেকুয়া থানায় এ মামলা রেকর্ড হয়। আদালত আয়েশা ছিদ্দিকার জামিন না মনজুর করছিলেন।

১৫ সেপ্টেম্বর তাকে জেলে প্রেরন করে। এ দিকে ইয়াবাসহ ওই নারীকে আটকের ঘটনায় চাঞ্চল্যকর তথ্য ফাঁস হয়েছে। স্থানীয় সুত্র জানায়, আয়েশা ছিদ্দিকার স্বামী নাছির উদ্দিন ও তার প্রতিবেশী বারবাকিয়া ইউপির সদস্য অপর নাছির উদ্দিন মিয়ার মধ্যে দীর্ঘদিন যাবত বিরোধ চলছিল।

ইউপি নির্বাচনের সময় আয়েশা ছিদ্দিকার স্বামী নাছির উদ্দিন প্রকাশ্যে অপর নাছির উদ্দিন মিয়ার বিরোধীতা করছিলেন। নির্বাচিত হওয়ার পর প্রতিপক্ষকে শায়েস্তা করতে ব্যস্থ ছিল এ মেম্বার। দু’জনের বিরোধ চরম ও প্রকট আকার ধারন করছিল।

স্থানীয়রা এ দুইজনকে মিটমাট করতে সচেষ্ট হন। তারা দুইজনের উত্তেজনা ও বনিবনা কিছুদিন প্রশমিত হয়। গত ২ মাস ধরে এ বিরোধ দুইজনের মধ্যে অধিক তীব্রতর হয়। নাছির উদ্দিন মিয়া প্রায় সময় প্রকাশ করতেন আয়েশা ছিদ্দিকার স্বামী ইয়াবা ব্যবসায় জড়িত।

পেকুয়া থানা পুলিশকে অনেকবার গোপন ও প্রকাশ্যে এ তথ্য দেয়। অনুসন্ধানে পুলিশ ইউপি সদস্যের এ তথ্যে একমত হতে পারছিলেন না।

তথ্যের বিভ্রাট হওয়ায় নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক প্রত্যক্ষদর্শী জানায়, থানার একজন জৈষ্ট্য এস,আই নাছির উদ্দিন মিয়ার মেম্বারের উপর ক্ষেপে যান। এক পর্যায়ে ওই পুলিশ কর্মকর্তা তাকে ধমকি দিয়ে চড়থাপ্পড় মারছিলেন।

মিথ্যা তথ্য দেয়ায় পুলিশ এ ইউপি সদস্যকে লাঞ্চিত করে। সুত্র আরও জানায়, প্রেম সংক্রান্ত বিষয়ে ধনিয়াকাটায় শাহজাহান নামের এক যুবককে মারধর করা হয়। ওই যুবকের নাম শাহজাহান।

তিনি নাছির উদ্দিন মিয়া মেম্বারে ছেলে। নয়াকাটার দলিলুর রহমানের ছেলে রাজিবসহ কিছু যুবক তাকে মারধর করে। শাহজাহান যে মেয়ের সাথে প্রেম করছিলেন এ মেয়েটি রাজিবের খালাত বোন।

মিয়া ধারনা করছিলেন, তার ছেলেকে আয়েশা ছিদ্দিকার স্বামীর ইন্ধনে মারধর করা হয়েছে। এর সুত্র ধরে দুই নাছিরের মধ্যে সম্পর্কের আরও অবনতি ঘটে। এর দু’তিনদিনের মধ্যে ইয়াবা উদ্ধার হয়েছে।

আয়েশা ছিদ্দিকার মা নিলুফা আক্তার জানায়, আমার মেয়ে নিরাপরাধ। ইয়াবা কি জিনিস আমার মেয়ে জীবনেও দেখেনি। জামাইর সাথে মেম্বারের দ্বন্ধ ছিল।

এ দ্বন্ধেই আমার এ অবেলা মেয়েটির কপাল পুড়ল। শত্রুতায় সর্বনাশ হয়েছে আমার মেয়ে ও নাতির। শত্রুরা এ সব ইয়াবা ঢুকিয়ে দিয়েছে। মেয়ের জামাই চট্রগ্রামে ছিল। প্রায় ১ সপ্তাহ বাড়িতে ছিল না। কেন তার বাড়িতে ইয়াবা থাকবে এখন সে বিষয়।

আমরা এর আসল রহস্য ও ক্লু উদঘাটনে বিচার বিভাগীয় তদন্ত দাবী করছি। এ দিকে আয়েশা ছিদ্দিকা কারান্তরীন হয়েছে প্রায় ২৪ দিন। ওই নারীর সাথে তার একটি ছোট্র গর্বের ধন সন্তান কারাগারে গেছে। আলবী নামের এ শিশুর বয়স মাত্র দেড় বছর।

মা ও ছেলে কারান্তরীন। কঠিন সময় ও যন্ত্রনাবিধুর অবস্থায় এ শিশু মায়ের সাথে কারাগারে। পৃথিবীর আলো বাতাস ও মায়া মমতা সব কিছু কারাগারের মধ্যে আটকিয়ে গেছে। আয়েশা ছিদ্দিকার অপর একটি সন্তান আছে। তার নাম মোহাম্মদ আলী। মা জেলে গেছে সেটি এ শিশু আগে থেকে বুঝতে পেরেছে। এ প্রতিবেদক ওই শিশুর সাথে কথা বলছিলেন।

জানতে চাইলে আয়েশা ছিদ্দিকার বড় ছেলে মো: আলী জানায়, মা ও ভাইয়া জেলে। খাওয়া দাওয়া খেয়েছ কিনা এমন প্রশ্নের উত্তরে সাড়ে তিন বছর বয়সী ওই শিশু জানায়, মাতো নেই। খাওয়ার কে দেবে? শিশুটি চোখের জল ফেলছিল। মায়ের কথা বলতে চোখের জল চলচল করছিল। কথা বার্তা তার কন্ঠ থেকে অনেকটা স্তব্দ হচ্ছিল। শিশুটি জানায়, আমার মা ও ভাইয়াকে কখন পাব।

SHARE