Home কক্সবাজার কক্সবাজার শহরের সিটি কলেজে পাহাড় ধ্বসে আহত শ্রমিকের মৃত্যু

কক্সবাজার শহরের সিটি কলেজে পাহাড় ধ্বসে আহত শ্রমিকের মৃত্যু

64
SHARE

শহিদুল্লাহ কায়সার(১৩ অক্টোবর) :: কক্সবাজার শহরে পাহাড় ধ্বসের ঘটনায় মস্তিষ্কসহ সারাদেহে গুরুতর আঘাতপ্রাপ্ত শ্রমিক মারা গেছে। ৪ অক্টোবর কক্সবাজার সিটি কলেজের অভ্যন্তরে ঘটে পাহাড় ধ্বসের ঘটনা। এতে পাহাড়ি মাটিতে চাপা পড়ে এক শ্রমিক। দীর্ঘক্ষণ চেষ্টার পর তাকে মাটি খুড়ে মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করে শিক্ষার্থীরা।

এক সপ্তাহের অধিককাল মৃত্যু যন্ত্রণায় কাতরানোর পর ১১ অক্টোবর রাতে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মৃত্যু হয় মুমূর্ষু শ্রমিকের।

নিহত নির্মাণ শ্রমিকের নাম নুরুল আলম (৪০)। সে মহেশখালী পৌরসভার তেলিপাড়ার বাসিন্দা। গতকাল চমেক হাসপাতাল থেকে তার মরদেহ কক্সবাজার নিয়ে আসা হয়। এরপর মহেশখালী নিয়ে গিয়ে সেখানকার স্থানীয় কবরস্থানে কবর দেয়া হয়।

এদিকে, শ্রমিক নুরুল আলমের মৃত্যুর পর বেরিয়ে আসছে অনেক অপ্রকাশিত সত্য। ঘটনার পর থেকেই নুরুল আলমকে নির্মাণশ্রমিক হিসেবে চিত্রিত করা চেষ্টা চালাচ্ছে কলেজ কর্তৃপক্ষ। পাহাড় কাটার মতো পরিবেশ বিধ্বংসি কর্মকা- থেকে নিজেদের রক্ষা করতেই নেয়া হয় এই কৌশল। পাশাপাশি মুমূর্ষু নুরুল আলম মারা গেলে গণমাধ্যমগুলো ফলাও করে তা প্রকাশ করতে পারে। এতে থলের বেড়াল বেরিয়ে আসার সম্ভাবনা রয়েছে। বিষয়টি মাথায় রেখেও কলেজ কর্তৃপক্ষ নুরুল আলমকে নির্মাণশ্রমিক অর্থাৎ রাজমিস্ত্রী সাজিয়েছে। কিন্তু বিষয়টি সম্পূর্ণ মিথ্যা।

নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, ৪ অক্টোবর পাহাড় ধ্বসের কয়েকদিন আগে কলেজে নিয়ে আসা হয় কয়েকজন শ্রমিক। কলেজের বাণিজ্য ভবন সংলগ্ন দখলে থাকা পাহাড় কেটে সমতলভূমিতে রূপান্তর করতে তাদের মজুরির বিনিময়ে আনা হয়েছিল। নুরুল আলম তাদেরই একজন। কয়েকদিন তাদের দিয়ে পাহাড় কাটানো হয়। যার অর্থের জোগান দেয়া হয় কক্সবাজার সিটি কলেজের নিজস্ব তহবিল থেকে। কিন্তু পাহাড় ধ্বসের ঘটনা সব হিসাব-নিকাশ পাল্টে দিয়েছে। পাহাড় কাটার চেয়েও কলেজ কর্তৃপক্ষের কাছে পাহাড় ধ্বসের ঘটনা চাপা দেয়া মূখ্য।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নিহত নুরুল আলমের এক আত্মীয়া জানিয়েছেন, হাসপাতালে যাওয়ার পর নুরুল আলমের পরিবারকে কিছু অর্থ দেয়া হয়েছিল। চিকিৎসা করাতে এই অর্থ দেয় সিটি কলেজ কর্তৃপক্ষ। চমেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থাতেও সামান্য টাকা পৌঁছে তার পরিবারের হাতে। কিন্তু নুরুল আলমকে বাঁচানো যায়নি। তার স্ত্রী ও দুইটি শিশু সন্তান রয়েছে। কলেজ কর্তৃপক্ষ বলছে, বড় হলে নিহতের সন্তানদের কলেজে চাকরি দেয়া হবে। এই প্রলোভন দেয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যে বিষয়টি সুরাহা করার জন্য কলেজের একজন শিক্ষককে দায়িত্ব দিয়েছে কলেজ কর্তৃপক্ষ। ওই শিক্ষক নিহত নুরুল আলমের পরিবারের সাথে যোগাযোগ করছেন বলেও জানান তিনি।

এদিকে, দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় ধরে কলেজ সংলগ্ন পাহাড় সমতলভূমিতে রূপান্তরের কাজ করছে সিটি কলেজ কর্তৃপক্ষ। কলেজ সংলগ্ন পাহাড় দখলপূর্বক এই কাজ চালানো হয়। মজুরির বিনিময়ে বিপুল সংখ্যক শ্রমিক নিয়োগ করেই এই কাজ চালানো হচ্ছিল। বিষয়টি স্থানীয় ও জাতীয় গণমাধ্যমগুলোতে ফলাও করে প্রচার করা হয়। পরিবেশ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকেও কলেজটিতে বেশ কয়েকবার পরিচালনা করা হয় অভিযান। কিছু অর্থ জরিমানা করা হয়েছিল।তাতেও টনক নড়েনি সিটি কলেজ কর্তৃপক্ষের। উল্টো পাহাড় কাটা অব্যাহত রাখে।

দীর্ঘদিন ধরেই কলেজের পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে পাহাড় কাটার সাথে সিটি কলেজ সম্পৃক্ত নয়। সংবাদ সম্মেলন করেও এমন দাবি করেছিলেন কলেজ অধ্যক্ষ ক্য থিং অং। ২০১৪ সালের ৩১ মার্চ কলেজ মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই দাবি করেন তিনি । যদিও এই দাবির কোন সত্যতা ছিলোনা, বর্তমানেও নেই। ৪ অক্টোবর পাহাড় কাটায় নিয়োজিত একজন শ্রমিকের মৃত্যু যার প্রমাণ। এখন কলেজ কর্তৃপক্ষ কি দাবি করেন সেদিকেই নজর সবার।

উল্লেখ্য, ৪ অক্টোবর বৃহস্পতিবার সকালে কলেজ অভ্যন্তরে কমার্স ভবন সংলগ্ন এলাকায় নির্মাণ কাজে অংশ নেয় শ্রমিকেরা। সকাল ১১ টার দিকে হঠাৎ করে পাহাড়ের একটি অংশ ধ্বসে পড়ে। পাহাড়ি মাটিতে চাপা পড়ে যায় এক নির্মাণ শ্রমিকের দেহ। কলেজটিতে তখন শিক্ষার্থীদের অভ্যন্তরিন পরীক্ষা চলছিল। পাহাড় ধ্বসে নির্মাণ শ্রমিকের দেহ মাটিতে চাপা পড়েছে। এমন খবর দ্রুত পৌঁছে যায় তাদের শিক্ষার্থীদের কানে। দীর্ঘক্ষণ চেষ্টার পর তারা মাটি খুড়ে মুমূর্ষু অবস্থায় চাপা পড়া শ্রমিককে উদ্ধার করে ।

উদ্ধার পরবর্তীকালে মুমূর্ষু শ্রমিককে নিয়ে আসা হয় কক্সবাজার সদর হাসপাতালে। হাসপাতালের জরুরী বিভাগে চিকিৎসা দেয়ার পর তাকে প্রেরণ করা হয় ফ্লোরেন্স নাইটিংগেল ওয়ার্ডে। কিন্তু শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে চিকিৎসকরা উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রামে প্রেরণের পরামর্শ দেন।

মাটিতে চাপা পড়ার কারণে মস্তিষ্কের আঘাত গুরুতর হওয়ায় তাকে চমেক হাসপাতালে প্রেরণ করা হয় বলে জানিয়েছিল কক্সবাজার সদর হাসপাতাল সূত্র।

উল্লেখ্য ৪ অক্টোবর সকালে কলেজ অভ্যন্তরে কমার্স ভবন সংলগ্ন এলাকায় নির্মাণ কাজে অংশ নেয় শ্রমিকেরা। সকাল ১১ টার দিকে হঠাৎ করে পাহাড়ের একটি অংশ ভেঙ্গে পড়ে।

এ সময় পাহাড়ী মাটিতে চাপা পড়ে যায় আহত নির্মাণ শ্রমিকের দেহ। ওই সময় কলেজটিতে অভ্যন্তরিন পরীক্ষা চলছিল। পাহাড় ধসে নির্মাণ শ্রমিকের দেহ মাটিতে ঢেকে যাওয়ার বিষয়টি জানতে পারে কলেজের ছাত্রছাত্রিরা। দীর্ঘক্ষণ চেষ্টার পর তারা মাটি খুড়ে মুমূর্ষু অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ।

উদ্ধার পরবর্তীকালে মুমূর্ষু নির্মাণ শ্রমিককে নিয়ে আসা হয় কক্সবাজার সদর হাসপাতালে। হাসপাতালের জরুরী বিভাগে চিকিৎসা দেয়ার পর তাকে প্রেরণ করা হয় ফ্লোরেন্স নাইটিংগেল ওয়ার্ডে। কিন্তু শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে চিকিৎসকরা উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রামে প্রেরণের পরামর্শ দেন।

মাটিতে চাপা পড়ার কারণে মস্তিষ্কের আঘাত গুরুতর হওয়ায় তাকে চমেক হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছিল বলে ঘটনার দিন এই প্রতিবেদককে জানিয়েছিলো হাসপাতাল সূত্র।

SHARE