Home কক্সবাজার কক্সবাজার উপকূলের ৬ জলদস্যু বাহিনীর ৪৩ জন সদস্যের ৯৪টি অস্ত্রসহ আত্মসমর্পণ :...

কক্সবাজার উপকূলের ৬ জলদস্যু বাহিনীর ৪৩ জন সদস্যের ৯৪টি অস্ত্রসহ আত্মসমর্পণ : স্বাভাবিক জীবনের আকাঙ্খা

158
SHARE

এম রমজান আলী,মহেশখালী(২০ অক্টোবর) :: কক্সবাজারের সমুদ্র উপকূলে জলদস্যুদের সন্ত্রাস জীবন থেকে স্বাভাবিক জীবনে ফেরাতে দীর্ঘ সময় যোগাযোগের পর অবশেষে মহেশখালী উপকূলের প্রায় ৪৩ জন জলদস্যু ও সন্ত্রাসী র‌্যাবের হাতে শনিবার আত্মসমর্পন করেছে।

আত্মসমর্পণকারী জলদস্যু বাহিনীর সদস্যদের মধ্যে আনজু বাহিনীর ১০ জন, রমিজ বাহিনীর ২ জন, নুরুল আলম প্রকাশ কালাবদা বাহিনীর ৬ জন, জালাল বাহিনীর ১৫ জন, আইয়ুব বাহিনীর ৯ জন ও আলাউদ্দিন বাহিনীর ১ জন সদস্য রয়েছে। তারা মোট ৯৪টি অস্ত্র জমা দিয়েছেন।

মহেশখালী আদর্শ উচ্চবিদ্যালয়ের মাঠে আয়োজিত অনুষ্ঠানে শনিবার দুপুর ১২টা ৩০ মিনিটে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের হাতে অস্ত্র ও গোলাবারুদ জমা দিয়ে জলদস্যূরা আত্মসমর্পণ করেন। এসময় মহেশখালী ও কুতুবদিয়া উপকূলের ৬টি জলদস্যু বাহিনীর ৪৩ জন দস্যু আত্মসমর্পণ করে ৯৪টি অস্ত্র এবং ৭ হাজার ৬৩৭টি গোলাবারুদ জমা দেয়।

এতে উপস্থিত আছেন র‌্যাবের মহাপরিচালক বেনজির আহমেদ, সাংসদ আশেক উল্লাহ রফিক, সাংসদ সাইমুম সরওয়ার কমল, পুলিশের চট্টগ্রাম বিভাগের ডিআইজি খন্দকার গোলাম ফারুক, কক্সবাজার জেলা প্রশাসক কামাল হোসেন, পুলিশ সুপার এবিএম মাসুদ হোসেন প্রমুখ।

র‌্যাবের তথ্যমতে, উপকূলীয় এলাকা মহেশখালীর ৪৩ জলদস্যু আজ আত্মসমর্পণ করছে। এসব সন্ত্রাসী ও জলদস্যুরা ৯৪ টি অস্ত্র জমা দেওয়ার কথা রয়েছে। এরমধ্যে ভারী অস্ত্রও রয়েছে।

জানা গেছে, র‌্যারের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলায় নিয়োজিত সরকারি অন্যান্য বাহিনীগুলো জলদস্যুদমনে কঠোর অবস্থানে ছিলো। যে কোনভাবে বঙ্গোপসাগরকে নিরাপদ রাখার পাশাপাশি জলদস্যুদের দমন ছিলো এর কারণ। বেশ কয়েকটি অপারেশনের মাধ্যমে কয়েকজন জলদস্যুকে অস্ত্র ও গুলিসহ আটক করতেও সক্ষম হয়। কিন্তু তাদের মূলোৎপাটন করা সম্ভব হচ্ছিল না। ফলে অপারেশন আরো জোরদার করা হয়। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে বিশ^স্ত লোক মারফত র‌্যাবের কাছে আত্মসমর্পণের প্রস্তাব পাঠায় কয়েকটি দুর্ধর্ষ জলদস্যু বাহিনী। র‌্যাব সেই প্রস্তাবে সাড়া দেয়ায় অবশেষে আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মসমর্পণের মাধ্যমে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার সিদ্ধান্ত নেয় জলদস্যুরা।

উল্লেখ্য দীর্ঘদিন ধরেই মহেশখালী উপজেলা দেশব্যাপী সন্ত্রাসের জনপদ হিসেবে পরিচিত। কয়েকবছর ধরে বঙ্গোপসাগরের মহেশখালী চ্যানেল সংলগ্ন এলাকায় ব্যাপক হারে বেড়ে যায় জলদস্যুতা। জলদস্যুদের হাতে প্রাণ হারায় নিরীহ মাঝি-মাল্লা।অনেক সময় দস্যুরা সাগর থেকে ট্রলারের মাছ লুটের পাশাপাশি ট্রলার লুট করার পাশাপাশি মাঝি-মাল্লাদের গোপনস্থানে নিয়ে যায়। পরবর্তীকালে মুক্তিপনের মাধ্যমে ছাড়িয়ে আনা হয় মাঝি-মাল্লাদের। প্রায় এক দশক ধরে ট্রলার মালিক এবং জেলেদের দাবি ছিলো বঙ্গোপসাগরকে জলদস্যুমুক্ত করা। বিষয়টি নিয়ে আন্দোলনের মতো কঠোর কর্মসূচিও পালন করেছে তারা। কিন্তু কোন ফল পাওয়া যায়নি। জলদস্যুরা কিছুদিন আত্মগোপনে থাকে। পরিস্থিতি শান্ত হলে আবার নেমে পড়ে দস্যুবৃত্তিতে।

বর্তমানে মহেশখালীতে বাস্তবায়নাধীন বেশ কয়েকটি মেগা প্রকল্প। বিনিয়োগ করা হচ্ছে কয়েক লাখ কোটি টাকা। বিদেশি এই বিনিয়োগের জন্য প্রয়োজন অভ্যন্তরিন নিরাপত্তা। মহেশখালীর জলদস্যুরা ছিলো অভ্যন্তরিন নিরাপত্তার জন্য হুমকি। তাদের রয়েছে দেশিয় অস্ত্র তৈরির কারখানা। অধিকাংশ সময় বঙ্গোপসাগর এবং গভীর অরণ্যে বিচরণ করে তারা। ফলে দেশের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারি বাহিনীর পক্ষে এই দুর্ধর্ষ বাহিনীগুলোর সদস্যদের আটক করা সম্ভব হচ্ছিল না।

আর শনিবার আনুষ্ঠানিকভাবে অস্ত্র জমা দেয়ার পাশাপাশি স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার আকাঙ্খাও ব্যক্ত করলেন তারা।

SHARE