Home অর্থনীতি ইরান থেকে তেল আমদানির ব্যয় রুপিতে পরিশোধ করবে ভারত

ইরান থেকে তেল আমদানির ব্যয় রুপিতে পরিশোধ করবে ভারত

71
SHARE

কক্সবাংলা ডটকম(৫ নভেম্বর) :: ইরানি তেল রফতানির ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ৫ নভেম্বর থেকে বাস্তবায়ন হলেও ১৮০ দিনের অব্যাহতি সুবিধা পাচ্ছে ভারতসহ আটটি দেশ। এ অব্যাহতি কাজে লাগিয়ে তেহরান থেকে ভারতীয় মুদ্রায় তেল আমদানির প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করছে ভারত ও ইরান।

ভারতের ইউসিও ব্যাংকের মাধ্যমে অর্থ পরিশোধের একটি প্রক্রিয়া পুনরায় কার্যকর করতে যাচ্ছে দেশটি। আগে ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক হিসেবে পরিচিত আর্থিক প্রতিষ্ঠানটির আন্তর্জাতিক কার্যক্রম না থাকায় ব্যাংকটি নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকিতেও নেই। এর আগে তেল আমদানির অর্থ দুভাগে পরিশোধ করা হতো। যার মধ্যে ইউসিও ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে মোট ব্যয়ের ৪৫ শতাংশ রুপিতে এবং বাকি ৫৫ শতাংশ ইউরোতে পরিশোধ করা হতো। তবে এবার ইরান পুরো অর্থই রুপিতে গ্রহণ করবে। তেহরান এ অর্থ ভারত থেকে পণ্য আমদানিতে ব্যয় করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এছাড়া স্থানীয় ব্যাংকের মাধ্যমে অর্থ পরিশোধের ব্যবস্থা থাকায় ইরানি ব্যাংকগুলো যদি সুইফট পেমেন্ট ব্যবস্থা থেকে নিষিদ্ধ হয়, তবু ভারত তেল আমদানির অর্থ পরিশোধ করতে সক্ষম হবে।

ইরানের জ্বালানি খাত ছাড়াও দ্বিতীয় দফায় দেশটির শিপিং, জাহাজ নির্মাণ ও আর্থিক খাতকে লক্ষ্য করে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। সূত্র জানিয়েছে, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অব্যাহত আলোচনার মাধ্যমে ভারত এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

জ্যেষ্ঠ মার্কিন কর্মকর্তা ব্রায়ান হুক জানিয়েছেন, যেসব দেশ ইরান থেকে তেল আমদানি অব্যাহত রাখবে, তাদের এসক্রো অ্যাকাউন্ট (তৃতীয় কোনো দেশের অধীনে থাকা হিসাব) খুলতে হবে। এর ফলে ইরান এ অর্থ শুধু মানবিক বাণিজ্য এবং নিষেধাজ্ঞাবহির্ভূত পণ্য ও সেবা বাণিজ্যের ক্ষেত্রে ব্যয় করতে পারবে।

হুক বলেন, ইরান যাতে এ অর্থ নিজস্ব জনগণের সুবিধার্থে মানবিক বাণিজ্যে ব্যয় করে, সে বিষয়টি নিশ্চিত করার জন্য আমরা এসব দেশকে দৃঢ়ভাবে উৎসাহিত করছি। যুক্তরাষ্ট্র এসব অ্যাকাউন্ট নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করবে বলে জানিয়েছেন তিনি। হুক আরো বলেন, পূর্ববর্তী সরকারগুলোর মতো আমরা ইরানকে এ অর্থ অবৈধ কার্যক্রমে ব্যয় করতে দেব না।

এদিকে ইরান পারমাণবিক চুক্তি বাঁচাতে সচেষ্ট ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) তেহরানকে সহায়তার জন্য একটি স্পেশাল পারপাজ ভেহিকল (এসপিভি) ঘোষণা করবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে সূত্রের তথ্য অনুসারে, একাধিক জটিলতা দেখা দেয়ায় প্রক্রিয়াটি আগামী বছর পূর্ণাঙ্গভাবে কার্যকর হবে।

ইউরোপের বহু দেশই এসপিভি ও যুক্তরাষ্ট্রের ক্রোধ নিয়ে সতর্ক অবস্থায় রয়েছে। ভারতের এ মুহূর্তে কোনো ইউরোপীয় বিকল্প গ্রহণ না করার এটা একটা বড় কারণ। যদি এসপিভি বাস্তবায়ন হয়, তবে ভারত অর্থ পরিশোধের ক্ষেত্রে আরো একটি বিকল্প পথ পেয়ে যাবে।

এদিকে মার্কিন ছাড়ের পুনরাবৃত্তি ঘটবে না বলে মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। এ প্রসঙ্গে শুক্রবার হুক বলেন, তেলের দাম না বাড়িয়েই আমরা তেহরানের ওপর সর্বোচ্চ অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগের ক্ষেত্রে অত্যন্ত সতর্কতা অবলম্বন করছি। আগামী বছর বাজারে তেল সরবরাহ জোরালো হয়ে উঠবে বলে আমরা ধারণা করছি। এতে আমরা ইরানের তেল রফতানি একেবারেই শূন্যের কোটায় নিয়ে যাওয়ার সুযোগ পাব।

টাইমস অব ইন্ডিয়া

 

SHARE