যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক হামলায় দোষী সাব্যস্ত বাংলাদেশি আকায়েদ

ny-bd-akb.jpg

কক্সবাংলা ডটকম(৭ নভেম্বর) :: গত বছর যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কের ম্যানহাটনে বোমা হামলায় দোষী সাব্যস্ত হয়েছে বাংলাদেশি অভিবাসী আকায়েদ উল্লাহ। তার বিরুদ্ধে আনা ছয়টি অভিযোগেই মঙ্গলবার (৬ নভেম্বর) তাকে দোষী সাব্যস্ত করে ম্যানহাটনের ফেডারেল আদালত। ওই হামলার কারণে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হতে পারে তার।

২৮ বছর বয়সী আকায়েদ ব্রুকলিনে এক সময়ে ট্যাক্সি ক্যাব চালাতো। গত বছর ১১ ডিসেম্বর নিউ ইয়র্কের ম্যানহাটনে একটি ব্যস্ত এলাকায় বোমা বিস্ফোরণ ও হামলার চেষ্টা চালালে আকায়েদসহ চারজন আহত হয়।

এরপর পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে। আকায়েদের আইনজীবী আদালতে বলেছেন, নিজেকে ছাড়া অন্য কাউকে হত্যা বা আহত করার উদ্দেশ্য ছিলো না তার মক্কেলের। পিঠের ব্যাগে রাখা পাইপ বোমাটি কোথাও আঘাত হানার আগে বিস্ফোরিত হয় বলেও দাবি করেন তার আইনজীবী।

আকায়েদের বিরুদ্ধে জঙ্গি সংগঠন আইএস-এ সমর্থন, ব্যাপক বিধ্বংসী অস্ত্রের ব্যবহার, জনসমাগমস্থলে বোমা বিস্ফোরণ, বিস্ফোরণ বা অগ্নিসংযোগের কারণে জনসম্পত্তি ধ্বংস, গণ পরিবহন ব্যবস্থায় সন্ত্রাসী হামলা ও সহিংস অপরাধ সংঘটনে বিধ্বংসী ডিভাইস ব্যবহারের অভিযোগ আনা হয়।

ছয়টি অভিযোগেই তাকে দোষী সাব্যস্ত করেছেন বিচারক। বিচারকেরা তার বিরুদ্ধে আইএস এর সদস্য হওয়ার অভিযোগের প্রমাণ পেলেও তার আইনজীবীর দাবি, আকায়েদ কখনোই আইএস সদস্য ছিলো না।আকায়েদকে এক হতাশাগ্রস্ত ও দুর্বল মানুষ হিসেবে বর্ণনা করেন তিনি।

কোর্ট হাউস নিউজ সার্ভিসের খবরে বলা হয়েছে, দোষী সাব্যস্ত করার সময়ে আকায়েদ বিচারকের উদ্দেশে তার গ্রেফতারের দিন থেকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ফেসবুক পোস্টের দিকে ইঙ্গিত করে আইএস সদস্য না হওয়ার কথা জানিয়ে চিৎকার করে ওঠেন। বিচারক তাকে পরামর্শ দিয়ে বলেন দণ্ড ঘোষণার দিনে নিজের বক্তব্য উপস্থাপনের সুযোগ পাওয়া যাবে।

বিচার চলার মধ্যে বিচারকদের আকায়েদের বাড়ি থেকে বের হওয়া, বাস স্টেশনে যাওয়া এবং বিস্ফোরণের পর নিজের অগ্নিদগ্ধ হওয়ার ভিডিও ফুটেজ দেখানো হয়। ফুটেজে দেখা যায়, পুলিশ কর্মকর্তারা বন্দুক উঁচিয়ে এগিয়ে আসার আগে মাটিতে ছড়িয়ে পড়ে আছে আকায়েদ।

যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচনের ভোটগ্রহণের দিনেই আদালতে দোষী সাব্যস্ত হলো আকায়েদ। দেশটির সরকারি অ্যাটর্নি জিওফ্রে এস বারম্যান এই ইস্যুতে বিবৃতি দিয়ে বলেছেন, আদালতে তাকে দোষী সাব্যস্ত করার ঘটনা আমেরিকার গণতন্ত্র ও মূল্যবোধের মূল নীতিকেই সমুন্নত করেছে:  ভোটের মাধ্যমে রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় অংশ নেয় আমেরিকা, সহিংসতায় নয়।

তিনি বলেন, ‘আজ আকায়েদ দোষী সাব্যস্ত, সম্ভাব্য যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের মুখে দাঁড়িয়ে আর তার উদ্দেশ্য ব্যর্থ। তবে প্রত্যাশা ও স্বাধীনতার শহর হিসেবে ঝলমল করা অব্যাহত রয়েছে নিউ ইয়কর্।

গ্রিন কার্ড নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করা আকায়েদ চাচার স্পন্সরশিপে অভিবাসন শৃঙ্খল নীতির আওতায় বাংলাদেশ থেকে ভিসা নিয়ে নিউ ইয়র্ক যায়। ডিবি লটারির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে ভিসা পেয়েছিলেন আকায়েদের চাচা।

Share this post

PinIt
scroll to top