Home কক্সবাজার কক্সবাজার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে এনজিও কার্যক্রমের আড়ালে উগ্রবাদী প্রচারণা : SKB এনজিও’র ১৫...

কক্সবাজার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে এনজিও কার্যক্রমের আড়ালে উগ্রবাদী প্রচারণা : SKB এনজিও’র ১৫ সদস্য গ্রেফতার

121
SHARE

কক্সবাংলা রিপোর্ট(৮ নভেম্বর) :: দীর্ঘদিন ধরে কক্সবাজারের বালুখালী রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরে এনজিও কার্যক্রমের আড়ালে জঙ্গিবাদে অর্থায়ন ও উগ্রবাদী প্রচার-প্রচারণার অভিযোগে কক্সবাজার ও ঢাকা থেকে Small Kindness Bangladesh (SKB) এনজিও’র ১৫ জনকে গ্রেফতার করেছে ডিএমপি’র কাউন্টার টেরোরিজম এন্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিট।

কক্সবাজার শহরের কলাতলী এলাকা থেকে ৭ জনকে পুলিশ এবং রাজধানি ঢাকার পল্লবী এলাকা থেকে ৮ জনকে আটক করে কাউন্টার টেরোজিম এন্ড ট্রান্স ন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিট (সিটিটিসি)। আটককৃত ১৫ ব্যক্তি হচ্ছেন পাকিস্থানভিত্তিক এনজিও এসকেভি। এটি একটি সন্ত্রাসী সংগঠন। এই সংগঠনের নামে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে কাজ করা হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার ভোরে কক্সবাজার শহরের কলাতলীর একটি হোটেলে নাশকতা পরিকল্পনা বৈঠক থেকে এই সংস্থার ৭ জনকে আটক করা হয়।

আটককৃতরা হলেন- পিরোজপুরের মো. রুহুল আমিন খানের ছেলে আবুল বাশেদ (২৫), পিরোজপুরের মৃত আব্দুল করিমের ছেলে জাকির হোসেন (৪০), পটোয়াখালীর ছিদ্দিকুর রহমানের ছেলে আল মামুন (২৮), নোয়াখালীর নুরুল ইসলামের ছেলে আশরাফুল ইসলাম (২৭), পিরোজপুরের জহির হোসেনের ছেলে মো. আব্দুল্লাহ (২২), মাদারিপুরের আব্দুল মান্নানের ছেলে মো. আসাদ (৩১) ও বরিশালের মৃত মোতাহের মিয়ার ছেলে মিলন ডালী (৪৫)।

পুলিশের দাবি, রোহিঙ্গা শিবিরে সহায়তার আড়ালে এই সংস্থাটি নানা ধরণের অপতৎপরতা চালায়।

জানা গেছে, এসকেবির কক্সবাজারের কার্যালয় কক্সবাজার শহরের কলাতলীর সৈকতপাড়া এলাকার ‘এবি সী এল রিসোর্ট এন্ড গেস্ট হাউজ নামে একটি হোটেলে। এই হোটেলের ৩য় তলায় এসকেবির কক্সবাজার কার্যালয়। ৩য় তলার দুটি ফ্ল্যাটে তাদের অফিস।

বৃহস্পতিবার ভোরে অফিসে বসে নাশকতা পরিকল্পনার সময় তাদেরকে আটক করে পুলিশ।

কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফরিদ উদ্দীন খন্দকার বলেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে এসকেবিকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে সরকার। কিন্তু এরপরও তারা গোপনে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছিলো। ভোরে কলাতলীর একটি হোটেলের তাদের অফিসে নাশকতা পরিকল্পনার বৈঠকের খবর পেয়ে অভিযান চালানো হয়। এসময় সেখান থেকে সাতজনকে আটক করা হয়। তারা রোহিঙ্গা ক্যাম্প কেন্দ্রিক নাশকতা পরিকল্পনার কথা স্বীকার করে। তাদের বিরুদ্ধে নাশকতা মামলা দায়ের করে করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ওসি।

অপরদিকে বুধবার (৭ নভেম্বর) দিবাগত রাতে পল্লবী থানার মিরপুর ডিওএইচএস এর ৯ নম্বর রোডের ৬৪৪ নম্বর বাড়ির পঞ্চম তলা থেকে Small Kindness Bangladesh (SKB) নামের এনজিও অফিস থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতারকৃতরা হলো- মোঃ সাফ ওয়ানুর রহমান (৩৪), সুলতান মাহমুদ (২৫), মোঃ নজরুল ইসলাম (৩৮), মোঃ আবু তাহের (৩৬), মোঃ ইলিয়াস মৃধা (৩০), মোঃ আশরাফুল আলম (২৪), হাসনাইন (৩০) ও মোঃ কামরুল (২৮)।কক্সবাজারে এনজিও কর্মীদের পরিচয়ে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সক্রিয় ছিলো এই সদস্যরা।

গ্রেফতারের সময় তাদের কাছ থেকে নগদ ১৪ লাখ টাকা, একটি ল্যাপটপ, ৮টি ডেস্কটপ কম্পিউটার, ৮টি বিভিন্ন ব্যাংকের চেক বই ও ১০টি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়।

বৃহস্পতিবার (৮ নভেম্বর) দুপুরে কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের উপ কমিশনার মুহিবুল ইসলাম এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, ‘এই এনজিওর মাধ্যমে পাকিস্তানভিত্তিক সংগঠন আল খিদমত ফাউন্ডেশন কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শিবিরে সন্ত্রাসী কার্য্ক্রম চালিয়ে আসছিল। তারা সেখানে জঙ্গিবাদে উসকানি দেওয়া ও সেখান থেকে নাশকতার জন্য সদস্য সংগ্রহ করে আসছিল বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানায় গ্রেফতাকৃতরা। তাই তাদের গ্রেফতার করা হয়েছে এবং এসকেবি এনজিওটির অফিস সিলগালা করে দেওয়া হয়েছে।’

সিটিটিসি সূত্রে জানা যায়,Small Kindness Bangladesh (SKB) ‘এসকেবি’ নামের এনজিও অফিসের কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত সন্ত্রাসী সংগঠন আনসার-আল-ইসলামের মতাদর্শের অনুসারীদের দ্বারা পরিচালিত হচ্ছিল। দীর্ঘদিন যাবত বাংলাদেশের কক্সবাজারে রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরে এনজিওভিত্তিক হিউম্যানিটারিয়ান ওয়ার্কের ছদ্মাবেশে ওই এনজিওর সদস্যরা জঙ্গিবাদে অর্থায়ন ও রোহিঙ্গা শরণার্থীদের মাঝে উগ্রবাদের প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে আসছিল।

গত আগস্ট মাসে এনজিও ব্যুরো জঙ্গিবাদে অর্থায়ন ও রাষ্ট্রবিরোধী কার্যপরিচালনার অপরাধে রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরে এই এনজিওটির কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ করে। এই এনজিওটি পাকিস্তান, তুরস্ক, ফিলিপাইন, কানাডা, সৌদি আরব ও ইন্দোনেশিয়াসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন ইসলাম ভিত্তিক সংস্থা থেকে অনুদান সংগ্রহ করে থাকে। এছাড়াও দেশে ও বিদেশে হিসাব বহির্ভূতভাবে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে অনুদানের নামে অর্থ সংগ্রহ করে বলে তথ্যে উঠে আসে।

সিটিটিসি সূত্রে আরও জানা যায়, পাকিস্তানভিত্তিক সংগঠন আল খিদমত ফাউন্ডেশন এই এনজিও’র মাধ্যমে রোহিঙ্গা শিবিরে নির্বিঘ্নে জঙ্গিবাদী কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে।

প্রসঙ্গত, আল খিদমত ফাউন্ডেশন জঙ্গি সংগঠন আল-কায়েদা ও লস্কর-ই-তইয়েবার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা আছে। গ্রেফতারকৃতরা ও ওই এনজিওটি নিষিদ্ধ সন্ত্রাসী সংগঠনের সমর্থন পুষ্ট। তারা এসকেবি এনজিও কার্যক্রমের আড়ালে রোহিঙ্গাদের মাঝে বিভিন্ন কৌশলে সরকারবিরোধী প্রচারণা, দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন ও রোহিঙ্গাদের প্ররোচিত করে তারা দেশের অভ্যন্তরে সক্রিয় আনসার-আল-ইসলামের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে অর্থায়ন করে।

ডিএমপির গণমাধ্যম শাখার উপ কমিশনার মাসুদুর রহমান বলেন, ‘৮ জঙ্গিকে রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে। রিমান্ড পেলে জিজ্ঞাসাবাদে আরও বিস্তারিত তথ্য বের হয়ে আসবে।’

SHARE