Home কক্সবাজার পেকুয়ায় মাদ্রাসা থেকে আসবাবপত্র লুট

পেকুয়ায় মাদ্রাসা থেকে আসবাবপত্র লুট

49
SHARE

নাজিম উদ্দিন,পেকুয়া(৮ নভেম্বর) :: পেকুয়ায় একটি মাদ্রাসা থেকে আসবাবপত্র লুট হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। পরিচালনা পর্ষদ নিয়ে ওই মাদ্রাসায় দু’পক্ষের মধ্যে দ্বন্ধ ও বিরোধ দেখা দিয়েছে। স্থানীয়রা জানায়, এর সুত্র ধরে এ মাদ্রাসা থেকে বিপুল আসবাবপত্র লুট করে দুবৃর্ত্তরা।

এ দিকে কমিটি নিয়ে দ্বন্ধের জের ধরে উপজেলার সদর ইউনিয়নের হরিফাঁড়ি শাহ-আজমী নজমুল উলুম স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসায় শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ছালাহ উদ্দিন চৌধুরী ও উপজেলা শিক্ষা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার আ.ফ.ম হাসান ওই শিক্ষা প্রতিষ্টান পরিদর্শনে যান। কমিটি নিয়ে দ্বন্ধ ও গোলযোগপূর্ন পরিস্থিতি প্রশমিত করতে উভয়পক্ষকে নিয়ে বৈঠক হয়েছে।

সুত্র জানায়, শাহ-আজমী নজমুল উলুম ইবতেদায়ী মাদ্রাসা ২০০৫ সালে প্রতিষ্টিত হয়। বিশিষ্ট আলেমেদ্বীন ও শিক্ষাবিদ মাওলানা মোহাম্মদ শামশুল আলম আজমী এ মাদ্রাসা প্রতিষ্টা করছিলেন।

পেকুয়ার জমিদরাবাড়ীর নজমুল হক চৌধুরী গং মাদ্রাসার জন্য ৪৬ শতক জমি দান করেন। সদর ইউনিয়নের হরিনাফাঁড়ি গ্রামটি শিক্ষা প্রসারে অনুন্নত ছিল। এ প্রতিষ্টান থেকে এলাকায় শিক্ষার বিকাশ হয়েছে। প্রাথমিক স্তরের এ প্রতিষ্টানে ওই এলাকার দরিদ্র ও পীড়িত মানুষের সন্তানরা পড়ালেখা করছিলেন।

ইবতেদায়ী শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষায় ফলাফল ছিল অভাবনীয়। তিনটি পরীক্ষায় এ প্রতিষ্টানের পাসের হার শতভাগ। এ দিকে গত ১ বছর ধরে এ মাদ্রাসায় শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে। কমিটির দ্বন্ধকে ঘিরে মাদ্রাসার প্রতিষ্টাতা পরিচালক শামশুল হক আজমীকে নিস্ক্রিয় করে।

প্রতিষ্টা সময় থেকে ২ জন শিক্ষক শিক্ষকতা করছিলেন। এ ২ জনকে চাকুরী থেকে অব্যাহতি দেয়। ওই পদে নতুন ২ জনকে নিয়োগ দেয়া হয়। কমিটির আধিপত্যকে ঘিরে ওই মাদ্রাসার শিক্ষা কার্যক্রম থেমে গেছে।

৮ নভেম্বর বৃহস্পতিবার এ মাদ্রাসাটি পরিদর্শন করা হয়। এ সময় দেখা গেছে নজমুল উলুম মাদ্রাসায় শ্রেনী কার্যক্রম নেই। কোন শিক্ষার্থী এ প্রতিষ্টানে ওই দিন ক্লাসে যোগদান করেন নি। স্থানীয়রা জানায়, মাদ্রাসায় শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে। বিশেষ করে একটি চক্র এ মাদ্রাসার শ্রেনীকক্ষ থেকে বিপুল আসবাবপত্র লুট করে নিয়ে যায়। আসবাবপত্র না থাকায় শিক্ষার্থীরা এ প্রতিষ্টান থেকে অনেকটা বিমুখ হয়েছে।

এ ছাড়া হরিনাফাঁড়ির আবু ছিদ্দিকের ছেলে আবু হানিফ, মৃত মাষ্টার নেছারের ছেলে রফিক আহমদসহ দুবৃর্ত্তরা এ প্রতিষ্টানের জায়গা জবর দখলের পায়তারা করছেন। তারা এ মাদ্রাসার সীমানা অতিক্রম করে ঘেরা বেড়া দেয়।

মাদ্রাসার উত্তরপার্শ্বের সীমানায় আবু হানিফ জবর দখল প্রক্রিয়ায় মেতেছে। ওই ব্যক্তি বিশাল জায়গায় ঘিরা বেড়া দেয়।

মাদ্রাসার পরিচালক শামশুল আলম আজমী জানান, তারা ইসলামী এ দ্বীনি শিক্ষা প্রতিষ্টানকে ধ্বংসের পায়তারা করছে। আমরা শিক্ষা বিস্তারে এ প্রতিষ্টান সৃষ্টি করেছি। কিছু হিংসুক মানুষ এর পিছুনে লেগেছে।

পরিচালক শামশুল আলম আজমী এ বিষয়ে পেকুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবরে লিখিত অভিযোগ দেয়। গত ১৫ দিন আগে এ অভিযোগটি রুজু করে। তবে অভিযোগের বিষয়ে এখনো আইনী কোন সহায়তা পাননি বলে পরিচালক জানায়।

SHARE