মহাকাশে ক্রমশ বন্ধ হয়ে আসছে প্রাণঘাতী ওজোন হোল

ozone.jpg

কক্সবাংলা ডটকম(৭ নভেম্বর) :: ক্রমশ বন্ধ হয়ে আসছে ওজোন হোল। দূষণের ফলেই যে গর্ত তৈরি হয়েছিল ওজোন স্তরে, ধীরে হলেও সেটাই নাকি ক্রমশ মিলিয়ে যাচ্ছে।

রাষ্ট্রসংঘ বলছে, স্ট্র্যাটোস্ফিয়ারে ওজোন গ্যাসের (O3) একটি পাতলা আস্তরণ রয়েছে। সূর্য থেকে আসা ক্ষতিকর রশ্মিগুলিকে আটকে দেয় ওই ওজোন স্তর। এই স্তর না থাকলে পৃথিবীতে জীবনই থাকত না। আর আধুনিক জীবনের প্রভাবে ব্যাপক ধোঁয়া আর দূষণে ওজোন স্তর তৈরি হয়েছিল হোল।

বড় ফুটোটি হয়েছে দক্ষিণ মেরুর আকাশে। তবে ভরসার কথা এটাই যে, সময়ে সতর্ক হওয়ায় ওজোন স্তরের ক্ষতি পূরণ হতে শুরু করছে। রাষ্ট্রপুঞ্জের এক রিপোর্ট বলছে, ২০০০ সাল থেকে প্রতি দশকে ১-৩ শতাংশ হারে ওজোন স্তরের ক্ষত কমছে।

সূর্য থেকে আসা অতিবেগুনি রশ্মি আমাদের পক্ষে ক্ষতিকর। চোখে ঢুকলে দৃষ্টিশক্তির ক্ষতি, চামড়ায় লাগলে হয় ক্যানসারের মতো রোগ। ওজোন স্তর ওই রশ্মি থেকে আমাদের বাঁচায়। দীর্ঘদিন ধরে মানুষের তৈরি নানা ধরনের রাসায়নিক ও গ্যাসের প্রভাবে ভেঙে যাচ্ছিল সেই ওজোন স্তর।
১৯৮৭ সালের ২৬ অগস্ট স্বাক্ষরিত হয় মন্ট্রিল চুক্তি। এই চুক্তির পর নিয়ম করে এই ধরনের কিছু গ্যাসকে নিষিদ্ধ করা হয়। মন্ট্রিল চুক্তি অনুযায়ী, প্রতি চার বছর অন্তর ওজোন স্তরের অবস্থা খতিয়ে দেখা শুরু হয়।

রাষ্ট্রপুঞ্জের পরিবেশ সংক্রান্ত দফতর এবং আন্তর্জাতিক আবহাওয়া সংগঠনের মতে, এত দিনে ফল মিলতে শুরু করেছে। প্রতি দশকে ১-৩ শতাংশ হারে ওজোন স্তরের ক্ষত সারছে। এ ভাবে এগোলে, ২০৩০ সালের মধ্যে উত্তর গোলার্ধে, ২০৫০ সালের মধ্যে দক্ষিণ গোলার্ধে এবং দুই মেরু অঞ্চলে ২০৬০ সালের মধ্যে ওজোন স্তরের ক্ষত পুরোপুরি নিরাময় হতে পারে।

Share this post

PinIt
scroll to top