Home আন্তর্জাতিক যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচন : রাজনীতিতে ফিরল ক্ষমতার ভারসাম্য

যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচন : রাজনীতিতে ফিরল ক্ষমতার ভারসাম্য

61
SHARE

কক্সবাংলা ডটকম(৮ নভেম্বর) :: যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচনে বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছে ক্ষমতাসীন রিপাবলিকান পার্টি। মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত এ নির্বাচনে কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ হাউজ অব রিপ্রেজেন্টেটিভে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে ২০১৬ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে পরাজিত দল ডেমোক্রেটিক পার্টি।

দীর্ঘ আট বছর পর তারা প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পেল। অবশ্য নিম্নকক্ষের নিয়ন্ত্রণ হারালেও উচ্চকক্ষ সিনেটে সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রেখেছে গ্র্যান্ড ওল্ড পার্টি খ্যাত রিপাবলিকানরা। এর মধ্য দিয়ে মার্কিন রাজনীতিতে ক্ষমতার ভারসাম্য ফিরল। খবর রয়টার্স, দ্য টেলিগ্রাফ, এপি।

প্রতিবেদনটি লেখার সময় পর্যন্ত এপির তথ্য অনুযায়ী, পরিষদের মোট ৪৩৫টি আসনের মধ্যে ৪১৯টি আসনের ফল ঘোষণা করা হয়। ডেমোক্রেটিক পার্টি জয়ী হয়েছে ২২০টি আসনে। রিপাবলিকানরা জিতেছে ১৯৯টি আসনে। নিয়ম অনুসারে, ৪৩৫ আসনের হাউজ অব রিপ্রেজেন্টেটিভে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের জন্য ২১৮টি আসনে জয় প্রয়োজন। ১৬টি আসনের ফলাফল ঘোষণা বাকি থাকতেই নিম্নকক্ষের নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করেছে ডেমোক্র্যাটরা।

কংগ্রেসের উচ্চকক্ষ সিনেটের মোট আসনসংখ্যা ১০০টি। এর মধ্যে ৩৫টিতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। বাদবাকি আসনগুলোর মেয়াদ এখনো বহাল রয়েছে। ৩৫টির মধ্যে ৩২টির ফল ঘোষণা করা হয়েছে। সব মিলিয়ে রিপাবলিকানদের আসনসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫১টি, ডেমোক্র্যাটদের ৪৪টি। দুটি আসনে জিতেছে নির্দলীয় প্রার্থীরা। তবে এরই মধ্যে সিনেটে রিপাবলিকানরা আধিপত্য নিশ্চিত করেছে।

উচ্চকক্ষের নির্বাচনে ফ্লোরিডা, ইন্ডিয়ানা, মিসৌরি ও নর্থ ডাকোটায় ডেমোক্রেটিক পার্টির চার সিনেটর প্রতিদ্বন্দ্বী রিপাবলিকানদের কাছে ধরাশায়ী হয়েছেন। ইন্ডিয়ানা, মিসৌরি ও নর্থ ডাকোটায় পরাজিত ডেমোক্র্যাটরা হলেন যথাক্রমে জো ডোনেলি, ক্লেয়ার ম্যাক’চাসকিল ও হেইদি হেইটক্যাম্প। পরাজিত হয়েছেন ফ্লোরিডার ডেমোক্র্যাট সিনেটর বিল নেলসনও।

নির্বাচনে দুটি আসনের লড়াই নিয়ে বেশি কৌতূহল ছিল, যেখানে ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রার্থীদের পরাজয়ই দেখতে হয়েছে। টেক্সাসের রিপাবলিকান সিনেটর টেড ক্রুজ ডেমোক্রেটিক প্রার্থী বেতো ও’রৌকেকে পরাজিত করে পুনর্নির্বাচিত হয়েছেন। ফ্লোরিডার প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ গভর্নর হওয়ার আশায় ছিলেন ডেমোক্র্যাট অ্যান্ড্রু জিলাম। তিনি সামান্য কিছু ভোটে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সহচর রিপাবলিকান রন ডিস্যান্টিসের কাছে পরাজিত হয়েছেন।

সিনেটে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য কিছুটা স্বস্তির। কারণ উচ্চকক্ষে আধিপত্য ধরে রাখার মাধ্যমে রিপাবলিকানরা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বেশকিছু এজেন্ডা বাস্তবায়ন করতে সক্ষম হবে, যার মধ্যে বিচারক ও মন্ত্রিপরিষদের সদস্য নিয়োগের বিতর্কিত কিছু এজেন্ডা অন্যতম।

তবে প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ হারানোর মাধ্যমে নিশ্চিতভাবেই ক্ষমতাসীনরা বড় একটি ধাক্কা খেল। এর মাধ্যমে ডেমোক্র্যাটরা হাউজ কমিটির মাধ্যমে মার্কিন প্রেসিডেন্ট-সম্পর্কিত কিছু বিষয়ে তদন্ত শুরু করতে পারবে। এসব বিষয়ের মধ্যে রয়েছে ট্রাম্পের আয়কর রিটার্ন, তার সাংঘর্ষিক ব্যবসায়িক স্বার্থ ও ২০১৬ সালে নির্বাচনী প্রচারণায় রুশ-সংশ্লিষ্টতা। এছাড়া হাউজের ডেমোক্র্যাট সদস্যরা ট্রাম্পের কিছু উচ্চাভিলাষী নীতিগত সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধেও অবস্থান নিতে পারবে। এগুলোর মধ্যে রয়েছে মেক্সিকো সীমান্তে প্রাচীর নির্মাণ, কর কর্তন নীতি অনুমোদন ও কঠোর বাণিজ্যনীতি।

যদি তদন্তে প্রমাণ হয়, ট্রাম্প ন্যায়বিচারে বাধা দিয়েছেন বা নির্বাচনী প্রচারণার সময় রাশিয়ার সঙ্গে তার গোপন আঁতাত ছিল, তবে প্রতিনিধি পরিষদের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যরা তাকে অভিশংসনের সামনে দাঁড় করাতে পারেন। তবে বাস্তবতা হলো, কংগ্রেস এত সহজে তাকে হোয়াইট হাউজ থেকে বিতাড়িত করতে পারবে না। কারণ সেক্ষেত্রে রিপাবলিকান-নিয়ন্ত্রিত সিনেটের দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের ভোট ট্রাম্পের বিরুদ্ধে পড়তে হবে।

মঙ্গলবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনকে অনেকেই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের জনপ্রিয়তায় গণভোট হিসেবে দেখছেন। কারণ পরবর্তী মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে ২০২০ সালে। সে নির্বাচনের আগে মধ্যবর্তী ভোটের ফলাফলে প্রেসিডেন্ট হিসেবে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা কমেছে না বেড়েছে, সে বিষয়ে একটি ধারণা পাওয়া যাবে।

মধ্যবর্তী নির্বাচনে মার্কিন ইতিহাসে প্রথমবারের মতো দুজন মুসলিম নারী ও একজন সমকামী গভর্নর কংগ্রেস সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। জয়ী মুসলিম নারীর দুজনই ডেমোক্র্যাট। তারা হলেন মিনেসোটার ইলহান ওমর ও মিশিগানের রশীদা তায়্যিব। রশীদা ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত। আর ইলহান সোমালি বংশোদ্ভূত। এদিকে কলোরাডোর গভর্নর নির্বাচিত হয়েছেন নিজেকে সমকামী দাবি করা ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জ্যারেড পোলিস।

SHARE