দেশের সর্বোচ্চ দেড়শত বয়সের মানুষ চকরিয়ার সিকান্দর

Chakaria-Picture-24-11-2018-U.N.O.jpg

এম.জিয়াবুল হক,চকরিয়া(২৪ নভেম্বর) :: কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার খুটাখালী ইউনিয়নের অধিবাসি দেশের সর্বোচ্চ বয়সের জীবিত মানুষকে স্বচক্ষে দেখতে গেলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নুরউদ্দিন মুহাম্মদ শিবলী নোমান।

শনিবার (২৪ নভেম্বর) দুপুরে তিনি ছুটে যান বয়সের ভারে ন্যুয়ে পড়া সিকান্দরের বাড়িতে। এসময় তিনি সিকান্দরের শরীরের খোঁজ-খবর নেন, পুরানো ঘরের চালা নতুনভাবে তৈরী করতে ঢেউটিন, আরামদায়ক পরিবেশে ঘুমানোর জন্য একটি খাট ও লেপ-তোষক প্রদানের আশ^াস দিয়েছেন। বয়সের ভারে ন্যুয়ে পড়া মানুষটির স্মৃতিশক্তি এখনো বিদ্যমান। দেশে গড় আয়ু যেখানে ৭০ বছর সেখানে প্রায় দেড়শত বছরের জীবিত সিকান্দরকে নিয়ে এলাকাবাসির মধ্যে অবিরাম কৌতুহল চলছে।

জানা যায়, চকরিয়া উপজেলার খুটাখালী ইউনিয়নের দক্ষিন পাড়ার বাসিন্দা মোঃ সিকান্দর। স্থানীয়দের দেয়া ভাষ্যমতে, বর্তমান বয়স ১৫০ এর কম-বেশি নয়। সিকান্দরের জন্ম হয়েছে ব্রিটিশ যুদ্ধের অনেক আগে। সিকান্দরের পিতার নাম মৃত হারু মিয়া ও মাতার নাম মৃত ছুরুত বেগম। সে ব্রিটিশ যুদ্ধের আগে বিভিন্ন গ্রাম থেকে পৃথক ভাবে বিয়ে করেন ৩টি। কালের বির্বতনে ৩ স্ত্রীর কোনটি বেঁচে নেই। বর্তমানে বেঁচে আছেন ৭ ছেলে ৩ মেয়ে। সিকান্দরের ৩য়পুত্র ছৈয়দ আলম (৭০) জানান, তার বড় ভাইয়ের বয়স ১শ এর উপরে বোনের বয়সও ৯০ ছুইছুই।

সিকান্দরের ছোট ছেলে ব্যবসায়ী আলতাজ জানান, ছোটবেলা থেকে বাবাকে বৃদ্ধাবস্থায় দেখে আসছি। কিছুদিন আগেও বাবা পায়ে হেটে মসজিদে গিয়ে নামাজ পড়েছেন। তিনি ধারনা করছে অনুমানিক ১৪০-১৪৫ বছরের বয়সের ভারে ক্রমান্বয়ে ন্যুয়ে পড়ায় এবাদত করতে মসজিদে যেতে না পারলেও সারারাত তিনি তাজবিহ্ নিয়ে দোয়া দুরুদ পাঠ করেন। কীভাবে তিনি এত বছর বেঁচে আছেন ও জন্ম কি ব্রিটিশযুদ্ধের আগে কি-না জানতে চাইলে সিকান্দর বলেন, ব্রিটিশতো সেদিনের কথা। এর আগেই তিনি ৩টি বিয়ে করেছেন এবং তার ৭ ছেলে ও ৩ মেয়ে রয়েছে।

কক্সবাজারের বিশিষ্ট লেখক কবি আ ন ম রফিকুর রশিদ বলেন, সিকান্দরের বয়স যদি হয় ১৫০ তাহলে এটি বাংলাদের জন্য গৌরব ও সম্মানের। গ্রিন্সিবুকে বর্তমানে সর্বোচ্ছ ১১৭ বছর বয়সের অধিকারি হচ্ছে জাপানের। বাংলাদেশ সরকার চাইলে জাপানের সেই রেকর্ড অতিক্রম পারে সিকান্দরের বর্তমান বয়স দিয়ে। তাতে বাংলাদেশের সুনাম ছড়িয়ে পড়বে বর্হিবিশ্বে। নতুন করে আলোকিত হবে খুটাখালী তথা পর্যটন জেলা কক্সবাজার।

Share this post

PinIt
scroll to top