বৃহস্পতিবার ২০শে জানুয়ারি, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ | ৬ই মাঘ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম

বৃহস্পতিবার ২০শে জানুয়ারি, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ

শিরোনাম

অবহেলায় ‘গ্রাম পুলিশ’

বৃহস্পতিবার, ১৩ জানুয়ারি ২০২২
22 ভিউ
অবহেলায় ‘গ্রাম পুলিশ’
কক্সবাংলা ডটকম(১৩ জানুয়ারি) :: ‘আমরা নামেই ‘গ্রামপুলিশ’। থানা পুলিশের ‘আই পাওয়ার’ হিসেবেও আমরা কাজ করি। রাত-দিন গ্রামের সুরক্ষায় নিরলস প্রহরীর কাজ করি। ইউনিয়ন পরিষদেও যথেষ্ট সময় দিতে হয়। বলতে গেলে অনেক সময় রাত-দিন চব্বিশ ঘণ্টা কাজ করতে হয়। অথচ আমরা যা বেতন পাই তা দিয়ে লবণ-ভাত খাওয়াও কঠিন হয়ে পড়েছে। সন্তানদের ভালো স্কুলে লেখাপড়া করানো কিংবা সংসারের সাধারণ চাহিদাগুলোও পূরণ করতে পারি না।
তখন নিজেকে ব্যর্থ বাবা বা অভিভাবক মনে হয়। সবখানে উন্নয়ন হয়, সবার বেতন বাড়ে, ভাগ্যেরও উন্নয়ন হয়; কিন্তু আমরা সেই অবহেলার মধ্যেই পড়ে আছি।’ বুকচাপা কষ্ট নিয়ে সময়ের আলোকে এসব কথা বলেছেন বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার বাঁশতলী গ্রামের সাত নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা গ্রামপুলিশ শেখ ইস্কান্দার আলী।
বান্দরবানের লামা উপজেলার রূপসীপাড়া ইউনিয়নের গ্রামপুলিশ মো. মোফাজ্জেল হোসেন বলেন, আমরা শুধু নামে চাকরি করি। আমাদের যে বেতন তা দিয়ে কী হয়? আমার বড় ছেলে এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৪.৮৫ পেয়েছে; কিন্তু টাকার অভাবে কলেজে ভর্তি করাতে পারিনি। একইভাবে তার আরেক ছেলে নবম শ্রেণিতে পড়ে। তার পরীক্ষার টাকা দিতে না পারায় তার লেখাপড়াও বন্ধ হয়ে গেছে।
বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলার নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক গ্রামপুলিশ বলেন, সরকার আমাদের যে বেতন দেয় তা দিয়ে কিছুই হয় না। তাই দিন শেষে মুচির (জুতা সেলাইয়ের কাজ) কাজ করি। যা পাই তা দিয়ে সংসার চলে। এই বেতন বৈষম্যের কারণে পেটের তাড়নায় গ্রামপুলিশকে মুচির কাজ করতে হয়।
আরেক গ্রামপুলিশ জানান, শরীরের রক্ত বিক্রি করে সংসার চালাতে হয় তাকে। রাঙামাটির কাপ্তাই উপজেলার ১নং চন্দ্রঘোনা ইউনিয়নে ১৫ বছর ধরে দফাদারের দায়িত্ব পালন করছেন মো. ফোরকান শিকদার। তিনি বলেন, আমার ১১ বছরের মেয়েকে স্কুলে ভর্তি করালেও টাকার অভাবে তার স্কুলড্রেস বানাতে পারিনি। এ ছাড়া মেয়ের ছোট কোনো ইচ্ছাই পূরণ করতে পারছি না। আমাদের যে বেতন তা দিয়ে চলা অসম্ভব। তাছাড়া সারা দেশের মধ্যে সবচেয়ে অবহেলিত হলো পার্বত্য চট্টগ্রামের তিন জেলা- বান্দরবান, রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ি। এষানকার সদস্যরা ইউনিয়ন পরিষদের ভাতাও পান না।
শুধু ইস্কান্দার আলী, মোফাজ্জেল ও ফোরকান শিকদার নন, সারা দেশে গ্রাম পর্যায়ে নিয়োজিত স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অধীনে ইউনিয়ন পরিষদের নিয়ন্ত্রণে থাকা প্রায় ৪৭ হাজার গ্রামপুলিশের জীবনসংসারের গল্প প্রায় একই রকম। গ্রামাঞ্চলে গ্রামপুলিশের সদস্যদের চৌকিদার, দফাদার বা মহল্লাদার বলেও ডাকা হয়ে থাকে। গ্রামে যারা বড় হয়েছেন বা এখনও আছেন, সেসব গ্রামপুলিশ চৌকিদার শব্দের সঙ্গে পরিচিত। গ্রামের নিরাপত্তাসহ গুরুত্বপূর্ণ প্রায় সব কাজেই ডাকা হয় তাদের। তৃণমূল পর্যায়ের এই বাহিনীর ‘নীল ও খাকি’ রঙের কম্ব্যাট পোশাকও আছে। এ বাহিনীর সদস্যদের হাতে থাকে বাঁশ বা বেতের লাঠি। ইউপি চেয়ারম্যানের নির্দেশমতো কাজ করেন তারা। পাশাপাশি থানা পুলিশের গ্রামীণ পর্যায়ের যেকোনো কাজেই গ্রামপুলিশ সহযোগী হিসেবে কাজ করেন; কিন্তু তাদের তেমন কোনো ক্ষমতা নেই বললেই চলে। অনেক সময় তুচ্ছ-তাচ্ছিল্যেরও শিকার হন তারা। আর সুযোগ-সুবিধাও সময় অনুসারে খুবই সামান্য, যা দিয়ে বর্তমান বাজারে চলা যায় না।
একাধিক গ্রামপুলিশের তথ্য অনুযায়ী, প্রত্যেক গ্রামপুলিশ সদস্য বেতন-ভাতা হিসেবে দুই খাত থেকে মোট সাড়ে ৬ হাজার টাকা পান। এর মধ্যে ৩ হাজার ২৫০ সরকারি রাজস্ব থেকে এবং বাকি ৩ হাজার ২৫০ টাকা ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) থেকে দেওয়া হয়। কিন্তু অনেক সময় ইউপি থেকে সে ভাতাটুকুও ঠিকমতো দেওয়া হয় না। ফলে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে অনেক সময় মানবেতর জীবন যাপন করতে হয়। এই গ্রামপুলিশ সদস্যদের গ্রামের মানুষের নিরাপত্তা দিতে গিয়ে নিজেদের নানা সমস্যার মুখে পড়তে হয়।
গ্রামপুলিশের একাধিক কর্মী জানান, প্রতি ইউনিয়নে ১০ জন করে গ্রামপুলিশ নিয়োগ দেওয়া হয়, যাদের একজন থাকেন ইউনিয়ন কমান্ডার। পুলিশের পাশাপাশি থেকেই গ্রামপুলিশ কাজ করেন। তারা স্কুল-কলেজ, ইউনিয়ন পরিষদ ও উপজেলা পরিষদ পাহারা, টহলদারি, অপরাধের সব বিষয়ে অনুসন্ধান, অপরাধ দমন, অপরাধী ও অভিযুক্ত ব্যক্তিকে গ্রেফতারে পুলিশকে সহযোগিতা দেওয়া, চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালনে সহযোগিতা করা, ইউনিয়নের খারাপ ও সন্দেহভাজন লোকের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করা, গ্রামে লুকিয়ে থাকা কোনো ব্যক্তি যার প্রকাশ্য রোজগার নেই তাদের খোঁজখবর করা এবং সব ধরনের নির্বাচনে দায়িত্বপালনসহ সংশ্লিষ্ট নানা কাজ করে থাকেন গ্রামপুলিশ। তাদের কাজের যে পরিধি সে তুলনায় বেতন সামান্য। এখন তাদের দাবি, গ্রামপুলিশের চাকরি জাতীয়করণ ও অবসর ভাতা চালু করা। এটা হলে অন্তত শেষ বয়সে তারা ভালো থাকবেন বলে জানিয়েছেন।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ বলেন, ‘গ্রামপুলিশরা নির্ধারিত বেতন পান। তাদের উৎসব ভাতা, পোশাক, টর্চলাইট ও একটি বাইসাইকেল দেওয়া হয়। তবে আপাতত তাদের চাকরি জাতীয়করণের কোনো পরিকল্পনা নেই।’
গ্রাম পুলিশ কর্মচারী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান কমান্ডার মোস্তফা কামাল বলেন, গ্রামপুলিশ ‘পুলিশের’ আই পাওয়ার হিসেবে কাজ করে। যেমন একটি থানার পুলিশ যে কাজ করে তার থেকেও আমরা বেশি কাজ করে থাকি। বলা যায়, একটি গ্রামের ‘এ টু জেড’ কাজ করেন গ্রামপুলিশ। কিন্তু সেদিক থেকে আমরা বেতন পাই খুবই কম। আমরা যে বেতন পাই তা একটা অফিসারের একদিনের পকেটখরচও নয়। বর্তমান বাজারে আমাদের চলতে যে পরিমাণ কষ্ট হয় তা বলে বোঝাতে পারব না। আমাদের ছেলেমেয়ের স্কুল ফি, খাওয়া ও চলাফেরার খরচ চালাতে পারি না। আমরা ব্যর্থ বাবা হিসেবে গণ্য হই সন্তানদের কাছে।
তিনি বলেন, খসড়া বিধিমালায় গ্রামপুলিশদের চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের মতো বেতন স্কেল, অবসরকালীন ভাতা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধার কথা উল্লেখ আছে। বিধিমালা অনুযায়ী সরকার কর্তৃক গঠিত পে-কমিশন গ্রামপুলিশদের বেতনের স্কেল সুপারিশ করে; কিন্তু ওই পর্যন্তই হয়ে আছে।
গ্রামপুলিশ কর্মচারী ইউনিয়নের মহাসচিব কমান্ডার এমএ নাছের  বলেন, গত ১০ বছরে নির্বাচনি সহিংসতায় ডিউটি পালনের সময় ১৫ জন মারা গেছেন। আহত হয়েছেন প্রায় ৫০০। জননিরাপত্তা দিতে প্রতিপক্ষের আক্রমণে মারা গেছেন আটজন। করোনার সময়ে গ্রামপুলিশের ডিউটি ছিল ২৪ ঘণ্টা। এতে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ৫ জন। এ ছাড়া অল্প বেতনের চাকরি করায় বিভিন্ন কষ্টে আত্মহত্যা করেছেন সাতজন।
তিনি বলেন, একজন দফাদারের বেতন সাত হাজার টাকা এবং একজন গ্রাম পুলিশের বেতন সাড়ে ছয় হাজার টাকা। এর মধ্যে ৫০ শতাংশ সরকার দেয় আর ৫০ শতাংশ দেওয়া হয় ইউনিয়ন পরিষদ থেকে; কিন্তু তাও সঠিকভাবে সবসময় পায় না। অন্যদিকে পার্বত্য চট্টগ্রাম এলাকায় ইউনিয়ন পরিষদের টাকা দেওয়া হয় না। কারণ সেখানে জমি বিক্রির কোনো টাকা না থাকায় তারা শুধু সরকার থেকে যে ৫০ শতাংশ টাকা পান তা নিয়েই থাকতে হয়। তাহলে এই অঞ্চলের গ্রামপুলিশরা কীভাবে চলবেন! গ্রামপুলিশের থানায় ডিউটি থাকে মাসে চার দিন। এখানে ১২শ টাকা দেওয়ার কথা থাকলেও কেউ পান ১২শ আবার কেউ পান ৬শ টাকা।
তিনি আরও বলেন, নির্বাচন কমিশনের তথ্যমতে ৪১ হাজার ৬৯৩ জন গ্রামপুলিশের সদস্য রয়েছে। কিন্তু আমাদের কাছে যে তথ্য রয়েছে, সে অনুযায়ী গ্রামপুলিশের সদস্য সংখ্যা ৪৬ হাজার ৮৭০। এরা সবাই এখন অসহায়। এই গ্রামপুলিশের যে পরিমাণ কাজ সে তুলনায় তাদের বেতন অনেক কম।
গ্রামপুলিশের সুযোগ-সুবিধা : গ্রামপুলিশ সদস্যরা সরকার থেকে পোশাক, টুপি ও বুট পেয়ে থাকেন। সুবিধার মধ্যে রয়েছে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে তারা প্রতি মাসে ১০ কেজি করে চাল পান। এ ছাড়া পাঁচ বছর পরপর একটি করে বাইসাইকেল দেওয়া হয়। কিন্তু সরকার থেকে ভালো মানের সাইকেল দেওয়া হলেও গ্রামপুলিশ পান খারাপ মানের সাইকেল।
গ্রামপুলিশের কাজ : গ্রামপুলিশ সদস্যরা সারা জীবন ইউনিয়নের মানুষের বিভিন্ন কাজে সেবা দেন। বিভিন্ন গ্রামে নিরাপত্তা দেওয়া, বিচার-আচার, আসামি ধরিয়ে দিতে হলেও তাদের ডাক পড়ে। এ ছাড়াও ইউনিয়ন পরিষদে প্রতিদিন হাজিরা, রাতের ডিউটি, পুলিশের যেকোনো কাজে সহায়তা, বাল্যবিয়ে রোধ, স্কুলের নিরাপত্তা, নির্বাচনি কাজে সহায়তা ও শিশুর জন্মনিবন্ধন থেকে শুরু করে মৃত্যু পর্যন্ত সব কাজ করেন গ্রামপুলিশ সদস্যরা; কিন্তু এজন্য অবশ্য তারা পান না কোনো বাড়তি বেতন-ভাতা।
করোনায় গ্রামপুলিশ : করোনা মহামারিতে গ্রামপুলিশের অবদান অপরিসীম। ওই সময়ে একেকটি গ্রামের দায়িত্বে ছিলেন গ্রামপুলিশ সদস্যরা। করোনায় আক্রান্ত রোগীকে চিহ্নিত করা, বাইরে থেকে কোনো মানুষ গ্রামে প্রবেশ করলে তাদের বাসার সামনে লাল পতাকা দেওয়া ও ১৪ দিনের আগে বাড়ি থেকে বের হলে তার ব্যবস্থা নেওয়া। এ ছাড়া হাটবাজারের নিরাপত্তা দেওয়া থেকে শুরু করে সব কাজেই অবদান ছিল তাদের।
গ্রামপুলিশের অবসর ভাতা : সারা জীবন গ্রামের জন্য কাজ করে গেলেও শেষ জীবনে অবসরে যাওয়ার সময়ও এই মানুষগুলোকে শূন্য হাতেই চলে যেতে হয়। তবে সরকার কয়েক বছর ধরে গ্রামপুলিশের সদস্যদের অবসরকালীন ভাতা ৫০ হাজার টাকা নির্ধারণ করলেও তা সঠিকভাবে তারা পান না। অবসরকালীন টাকা দুয়েকজন পেলেও তার জন্য ধরনা দিতে হয় প্রশাসনের এক দরজা থেকে আরেক দরজায়।
গ্রামপুলিশের দাবিসমূহ : বর্তমান বাজারদরের অবস্থা বিশ্লেষণ করে গ্রামপুলিশ সদস্যরা কিছু দাবি তুলে ধরেছেন। তাদের দাবি, গ্রামপুলিশের জীবনমান উন্নয়নে বাজারদরের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বেতন দিতে হবে। একই সঙ্গে জাতীয় বেতন স্কেলের অন্তর্ভুক্ত করা, চাকরি জাতীয়করণ, সরকারি অন্যান্য বাহিনীর মতো রেশনিং ব্যবস্থা চালু, ঝুঁকি ভাতা ও চিকিৎসা ভাতার ব্যবস্থা করা। এ ছাড়া গ্রামপুলিশের জন্য ইউনিয়ন পরিষদকে প্রশাসনিক ইউনিট হিসেবে ঘোষণা করার দাবিও রয়েছে।
আরেকটি উল্লেখযোগ্য দাবি হচ্ছে- এককালীন অবসরভাতা দফাদার ৮ লাখ টাকা এবং মহল্লাদারের জন্য ৭ লাখ টাকা নির্ধারণ করা। অন্যান্য বাহিনীর মতো কেন্দ্রীয় অধিদফতর প্রতিষ্ঠা করে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে গ্রাম পুলিশকে যোগ্য ও দক্ষ বাহিনী হিসেবে গড়ে তোলার ব্যবস্থা করার দাবিও তুলেছেন গ্রামপুলিশ সদস্যরা।

 

22 ভিউ

Posted ১২:৩২ অপরাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ১৩ জানুয়ারি ২০২২

coxbangla.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

এ বিভাগের আরও খবর

Archive Calendar

রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি
 
১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
৩০৩১  

Editor & Publisher

Chanchal Dash Gupta

Member : coxsbazar press club & coxsbazar journalist union (cbuj)
cell: 01558-310550 or 01736-202922
mail: chanchalcox@gmail.com
Office : coxsbazar press club building(1st floor),shaheed sharanee road,cox’sbazar municipalty
coxsbazar-4700
Bangladesh
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

ABOUT US :

coxbangla.com is a dedicated 24x7 news website which is published 2010 in coxbazar city. coxbangla is the news plus right and true information. Be informed be truthful are the only right way. Because you have the right. So coxbangla always offiers the latest news coxbazar, national and international news on current offers, politics, economic, entertainment, sports, health, science, defence & technology, space, history, lifestyle, tourism, food etc in Bengali.

design and development by : webnewsdesign.com