শনিবার ২৫শে জুন, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ | ১১ই আষাঢ়, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম

শনিবার ২৫শে জুন, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ

শিরোনাম

অর্থ ব্যয়ে সাশ্রয়ী ও পরিমিতিবোধ দেখাতে হবে : প্রধানমন্ত্রী

বুধবার, ১৮ মে ২০২২
43 ভিউ
অর্থ ব্যয়ে সাশ্রয়ী ও পরিমিতিবোধ দেখাতে হবে : প্রধানমন্ত্রী

কক্সবাংলা ডটকম(১৭ মে) :: বিশ্ববাজারে খাদ্যসহ সব পণ্যের দামবৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে দেশের মানুষকে ‘কৃচ্ছ্রসাধন ও সাশ্রয়ী হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন’ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, অর্থ ব্যয়ে সাশ্রয়ী ও পরিমিতিবোধ দেখাতে হবে, অপচয় করা যাবে না। মঙ্গলবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের (এনইসি) সভায় সরকারপ্রধানের তরফ থেকে এই নির্দেশনা আসে।

পরে সংবাদ সম্মেলনে সভার আলোচনার বিষয়ে ব্রিফ করেন পরিকল্পনামন্ত্রী। গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে ওই বৈঠকে যুক্ত হয়ে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী।

বৈঠকে আগামী ২০২২-২৩ অর্থবছরের জন্য ২ লাখ ৪৬ হাজার ৬৬ কোটি টাকার বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচী (এডিপি) অনুমোদন দেয়া হয়। এছাড়া স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা বা কর্পোরেশনের প্রায় ৯ হাজার ১৩০ কোটি টাকার এডিপি অনুমোদন পায়। পরে সংবাদ সম্মেলনে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, ‘আলোচনায় আরেকটা বিষয় গুরুত্ব পেয়েছে, সেটা হল অপচয় রোধ করা। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাদের দেশের সাধারণ মানুষকে কৃচ্ছ্রসাধন ও সাশ্রয়ী হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।’ কর্মকর্তাদের আত্মবিশ্বাস নিয়ে চলার পরামর্শ দিয়ে সরকারপ্রধান বলেন, অনেক সময় আপনাদের অনেকের মুখেই শুনি- এই পত্রিকা লিখেছে। ওটা নিয়ে কখনও ঘাবড়ানোর কিছু নেই। ওটা নিয়ে চিন্তাও করবেন না। নিজের আত্মবিশ্বাস নিয়ে চলবেন। সেটাই আমি চাই। তাহলে দেশ এগিয়ে যাবে। আওয়ামী লীগ সরকারের সময় হওয়া নানামুখী উন্নয়ন কর্মসূচী নিয়ে যারা সমালোচনা করেন, বক্তৃতায় তাদের পাল্টা সমালোচনা করেন শেখ হাসিনা।

কাজের ব্যস্ততার মাঝেও একদিন আগে একটি বেসরকারী টেলিভিশনে টকশো দেখার অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কেউ কেউ দেখলাম ইদানীং একটা কথা খুব বেশি প্রচার করার চেষ্টা করছে। একটা হলো রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুত কেন্দ্র। তারা টাকার অঙ্ক দিয়ে দেখাতে চাচ্ছেন যে, এত টাকা খরচ করার দরকারটা কী ছিল। আমি শুধু এটুকুই বলব, আমরা যখন সরকার গঠন করে রেন্টে পাওয়ারপ্ল্যান্ট এনে কাজ শুরু করলাম, তখনও এরা বলছেন- এটার দরকারটা কী ছিল।

এতে নাকি ভীষণ দুর্নীতি হচ্ছে। আর আজকে আমরা নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট, যেটা সব থেকে বেশি পরিবেশবান্ধব, কোন পলিউশান নেই, আনাতে খরচ বেশি কিন্তু বিদ্যুত সাশ্রয়ী। আর তাছাড়া আমরা তো এটা একটি দেশের সঙ্গে পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপ নিয়েই এটা করেছি। সেখানে আমাদের টাকার অঙ্ক কম। আমরা টাকা পেয়েছি এবং সেটা আমাদের শোধ দিতে হবে ৫০ বছরে।

রূপপুরের বিদ্যুতে অর্থনীতির ভিত্তি কতটা মজবুত হবে, তা সমালোচকরা চিন্তা করেন না বলে মন্তব্য করেন শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, এর থেকে যে আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের একটা সুযোগ সৃষ্টি হবে, এটাও তারা ভাবেন না। কারণ তারা তো এখন বিদ্যুত পেয়ে গেছেন। যখন ১০ ঘণ্টা, ১২ ঘণ্টা বিদ্যুত পেতেন না, তখন হয়তো বিদ্যুতের চাহিদাটা তারা বুঝতেন।

আওয়ামী লীগ সরকারে আসার পর ঘরে ঘরে বিদ্যুত গেছে মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সেই বিদ্যুতের জোরে ঘরে ঘরে টেলিভিশন চলছে, আর এই বেসরকারী খাতে টেলিভিশন আমিই উন্মুক্ত করে দিয়েছি; সেখানে বসেই তারা সমালোচনা করে যাচ্ছেন।

আওয়ামী লীগ সরকার ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ করে দিয়েছে’ মন্তব্য করে সরকারপ্রধান বলেন, যখন ডিজিটাল বাংলাদেশ ঘোষণা দিই, তখনও সমালোচনা শুনতে হয়েছে। কিন্তু আজকে সেই ডিজিটাল বাংলাদেশের প্ল্যাটফর্ম নিয়েই কিন্তু তারা আমাদের সমালোচনা করে যাচ্ছেন। কিছু লোক সবসময় সমালোচনা করাকেই অভ্যাসে পরিণত করেছেন মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যত ভাল কাজ করেন না কেন নিজেদেরটা তারা দেখে, নিজেদেরটা তারা বোঝে। কিন্তু জনগণের ভালমন্দ বোঝে না।

শতভাগ মানুষকে বিদ্যুত দেয়ায় দেশের অর্থনীতি সচল রয়েছে মন্তব্য করে বঙ্গবন্ধুকন্যা বলেন, আইয়ুব খানের আমলে ১৯৬২ সালে তখনকার পূর্ব পাকিস্তান ও পশ্চিম পাকিস্তানে দুটো পারমাণবিক বিদ্যুত কেন্দ্র নির্মাণ করার কথা থাকলেও পরে দুটোই পশ্চিম পাকিস্তানে করা হয়। এতে বরাবরের মতোই পূর্ব পাকিস্তানের মানুষকে বঞ্চনার শিকার হতে হয়েছিল।

পারমাণবিক বিদ্যুত কেন্দ্র করা আওয়ামী লীগ সরকারের লক্ষ্যই ছিল জানিয়ে তিনি বলেন, আজকে আমরা সেই বিদ্যুত কেন্দ্র নির্মাণ করেছি। এর বিদ্যুতটা যখন আসবে, সেটা তো আমাদের অর্থনীতিতে বিরাট অবদান রাখবে। অর্থনীতি আরও সচল হবে, আরও চাঙা হবে এবং এটাতো সম্পূর্ণ পরিবেশবান্ধব একটি বিদ্যুত কেন্দ্র। কাজেই এটা নিয়ে এতে সমালোচনা কেন?

সমালোচনাকারীদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, গরিব মানুষের ঘরে বিদ্যুত গেছে, সেটা তাদের পছন্দ না। তারাই খাবেন, ভাল থাকবেন আর আমার গরিব মানুষগুলো ধুঁকে ধুঁকে মরবে। এটাই তারা চায়। পদ্মা সেতু নিয়ে সমালোচনার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, পদ্মা সেতু নিয়ে অনেক কথা। তারপর এলো পদ্মা সেতুর রেললাইন, ৪০ হাজার কোটি টাকা দিয়ে পদ্মা সেতুর রেললাইন করার কী দরকার ছিল। কারা চড়বে এই রেললাইনে। আমি অপেক্ষা করছি, রেললাইন যখন চালু হবে, তখন কেউ চড়ে কি না। তখন এই মানুষগুলোকে আমার মনে হয় ধরে নিয়ে দেখানো দরকার যে এই রেল সেতুতে মানুষ চড়ে কি না। একটা সেতু নির্মাণ হওয়ার পর দক্ষিণ অঞ্চলের জেলাগুলোর অর্থনীতিতে যে গতিশীলতা আসবে, এই মানুষগুলোর চলাচল, পণ্য পরিবহন থেকে সর্বক্ষেত্রে সেটা তারা একবার ভেবে দেখছেন না।

শেখ হাসিনা বলেন, এই রেল সেতু তো সেই মোংলা পোর্ট পর্যন্ত সংযুক্ত হচ্ছে। কাজেই ভবিষ্যতে আমরা পায়রা পোর্ট যখন করব, পায়রা পোর্ট পর্যন্ত যাতে সংযুক্ত হয়- সেই ব্যবস্থা আমরা নিচ্ছি। কিন্তু সেটা এই মুহূর্তে বেশি প্রয়োজন নেই বলে আমরা একটু ধীরগতিতে যাচ্ছি।

নিজস্ব অর্থায়নে দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের স্বপ্ন পূরণের কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, পদ্মা সেতু নির্মাণের জন্য একটি টাকাও কারও কাছ থেকে ঋণ নেয়া হয়নি বা ধার করা হয়নি। এটি বাংলাদেশের সম্পূর্ণ নিজস্ব অর্থায়নে করা হচ্ছে। একেবারে সরকারী কোষাগার থেকে টাকা দিয়ে তৈরি করা হচ্ছে। সমালোচনাকারীদের উদ্দেশ করে সরকারপ্রধান বলেন, তারা অর্বাচীনের মতো একেকটা কথা বলবে, আর মিথ্যে বলে মানুষকে বিভ্রান্ত করবে; এটা কিন্তু গ্রহণ করা যায় না।

বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ উৎক্ষেপণের সময় কেউ কেউ যে সমালোচনা করছে, সেই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যাই করবেন, বলবে এটার কী দরকার ছিল। তাদের জন্য দরকার না থাকতে পারে, আমাদের দেশের মানুষের জন্য দরকার আছে। কারণ আমরা, তাদের মতো দুই-চারজন, যারা দেশের অর্থ সম্পদ ভোগ করে- তাদের কথা আমরা ভাবি না। ভাবি- দেশের তৃণমূলের মানুষ যারা অসহায়, যারা শোষিত, যারা বঞ্চিত- আমি তাদের কথা ভাবি। তাদের কল্যাণ যাতে হয়, আমরা সেটা দেখি। শুধু বড়লোকদের দুই-চারটা ছেলেমেয়ে কম্পিউটার ব্যবহার করবে; আর আমার গ্রামের ছেলেমেয়েরা ব্যবহার করবে না, সেটা তো হয় না।

এখন প্রান্তিক মানুষও ডিজিটাল সুবিধা ভোগ করছে মন্তব্য করে শেখ হাসিনা বলেন, একেবারে গ্রাম পর্যায় পর্যন্ত যাতে কম্পিউটার ব্যবহার করতে পারে, সমস্ত তথ্য আদান-প্রদান করতে পারে, বিশ্বের সঙ্গে সংযোগ করতে পারে, বিশ্বটাকে তাদের নিজের হাতের মুঠোয় আনতে পারে- আমরা সেভাবেই পদক্ষেপ নিই। কাজেই যারা এভাবে সমালোচনা করে মানুষকে বিভ্রান্ত করতে চেষ্টা করেন, আমি তাদের বলব যে- তাদের সংযতভাবে কথা বলা উচিত। মানুষকে খামোখা, অযথা বিভ্রান্ত করার চেষ্টা না করা ভাল।

43 ভিউ

Posted ১:৩৬ পূর্বাহ্ণ | বুধবার, ১৮ মে ২০২২

coxbangla.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

Archive Calendar

রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি
 
১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০  

Editor & Publisher

Chanchal Dash Gupta

Member : coxsbazar press club & coxsbazar journalist union (cbuj)
cell: 01558-310550 or 01736-202922
mail: chanchalcox@gmail.com
Office : coxsbazar press club building(1st floor),shaheed sharanee road,cox’sbazar municipalty
coxsbazar-4700
Bangladesh
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

ABOUT US :

coxbangla.com is a dedicated 24x7 news website which is published 2010 in coxbazar city. coxbangla is the news plus right and true information. Be informed be truthful are the only right way. Because you have the right. So coxbangla always offiers the latest news coxbazar, national and international news on current offers, politics, economic, entertainment, sports, health, science, defence & technology, space, history, lifestyle, tourism, food etc in Bengali.

design and development by : webnewsdesign.com