মঙ্গলবার ২৭শে সেপ্টেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ | ১২ই আশ্বিন, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম

মঙ্গলবার ২৭শে সেপ্টেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ

শিরোনাম

আওয়ামী লীগকে শেখ হাসিনা যে বার্তা দিলেন : আরও কোণঠাসা হলেন কাদের?

শনিবার, ২০ নভেম্বর ২০২১
469 ভিউ
আওয়ামী লীগকে শেখ হাসিনা যে বার্তা দিলেন : আরও কোণঠাসা হলেন কাদের?

কক্সবাংলা ডটকম(২০ নভেম্বর) :: শুক্রবার অনুষ্ঠিত আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির বৈঠকে অনেকগুলো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। আর এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অনেকগুলো বার্তা দিয়েছেন দলের নেতাকর্মীদেরকে। প্রশ্ন হলো, আওয়ামী লীগ সভাপতির এ বার্তা কি অনুধাবন করতে পেরেছে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা? যদি অনুধাবন করতে পারে তাহলে আওয়ামী লীগের এই বার্তা থেকে হয়তো আওয়ামী লীগ অনেক কিছু শিখবে এবং এই বার্তাগুলো অনুধাবন করে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের অনেক পরিবর্তন হবে। আর শেখ হাসিনার বার্তা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা পড়তে না পারে তাহলে ভবিষ্যতে আরও কঠোর ব্যবস্থা তিনি হয়তো গ্রহণ করতে পারেন। আওয়ামী লীগ সভাপতি গতকালের বৈঠকে কি বার্তা দিলেন?

১. দলে কেউ অপরিহার্য নয়: শেখ হাসিনা গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন, যেটি বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সিটি কর্পোরেশন। সেই সিটি কর্পোরেশনের মেয়রকে দল থেকে বহিষ্কার করে প্রমাণ করে দিলেন যে কেউ অপরিহার্য নয়, কেউ বাড়াবাড়ি করলে, নীতি আদর্শের পরিপন্থী হলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে তিনি মোটেও কার্পণ্য করেন না। জাহাঙ্গীর গাজীপুরের নিঃসন্দেহে জনপ্রিয় নেতা ছিলেন এবং আজমত উল্লাহর মতো জনপ্রিয়, ত্যাগী এবং দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত নেতাকে বাদ দিয়ে তাকে মেয়র দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু মেয়র হয়েই জাহাঙ্গীর মনে করেছিলেন যে, তিনি বোধহয় দলের সর্বেসর্বা এবং সবকিছুর ঊর্ধ্বে।

কিন্তু শেখ হাসিনা পরিষ্কার করে দিলেন যে, দলের জন্য কেউই অপরিহার্য নয় এবং একজন নেতা যতই জনপ্রিয় হোক না কেন, তিনি যদি দলের আদর্শের বাইরে, বঙ্গবন্ধুর নীতির বাইরে যান তাহলে তার করুণ পরিণতি হতে বাধ্য। আর এই বার্তাটি সকলের জন্য প্রযোজ্য। যারা এখন মন্ত্রী-এমপি হয়ে দলের ভেতর সৃষ্টি করছেন, বিশেষ করে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন এবং স্থানীয় সরকার নির্বাচন গুলোতে বিভক্তি আনছেন তাদের জন্য এটি একটি কঠিন বার্তা। এই বার্তার প্রয়োগ যে ভবিষ্যতে কঠিনভাবে হবে এটি নিয়ে কোনো সংশয় এবং সন্দেহ নেই।

২. ধৈর্য ধরলে মূল্যায়ন করা হয়: আওয়ামী লীগ সভাপতি গতকালের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির বৈঠকে আরেকটি বিষয় পরিষ্কার করলেন। তা হলো, যদি কোন ব্যক্তি ধৈর্য ধরে, দীর্ঘদিন ধরে দলের জন্য কাজ করা ব্যক্তিকে যদি সাময়িকভাবে মূল্যায়ন না করা হয়, তাহলে তার কষ্ট পাওয়ার কোন কারণ নেই। কারণ, শেখ হাসিনার সবকিছু জানেন এবং দেখেন। নির্দিষ্ট সময়ে তিনি তাকে মূল্যায়ন করবেন। আওয়ামী লীগের দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত নেতা মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া এবং ওয়ান-ইলেভেনের সময় শেখ হাসিনার পাশে দাঁড়ানো অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম এবং জাতীয় চার নেতার উত্তরাধিকার এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন যেভাবে শেখ হাসিনা প্রেসিডিয়াম সদস্য করলেন তা সকলের জন্য একটি শিক্ষা বটে। শিক্ষা হলো যে, আওয়ামী লীগের জন্য যারা ত্যাগ স্বীকার করেন শেখ হাসিনা সবসময় তাদের পাশে থাকেন এবং কোন না কোন সময় তাদেরকে মূল্যায়ন করেন। কাজেই, আওয়ামী লীগের ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতাকর্মীদের হতাশ হবার কোন কারণ নাই। শেখ হাসিনা যতক্ষণ আছেন, ততক্ষণ তাদেরকে নিঃসন্দেহে মূল্যায়ন করা হবে আজ অথবা কাল।

৩. কোন্দল-অনিয়ম বরদাস্ত করা হবে না: আওয়ামী লীগ সভাপতি গতকালের বৈঠকে সুস্পষ্টভাবে বার্তা দিলেন যে, আওয়ামী লীগের মধ্যে কোন্দল এবং অনিয়ম বরদাস্ত করা হবে না। দলের উপর কেউ নেই। দলে থেকে যারা কোন্দল করবেন তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে তিনি কার্পণ্য করবেন না।

আর এই তিন বার্তা আওয়ামী লীগের সাম্প্রতিক সময়ে যে অস্থিরতা তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আওয়ামী লীগ সভাপতির এই বার্তাগুলোর মধ্য দিয়ে তিনি যে ব্যক্তির চেয়ে দল বড় মনে করেন সেটি প্রমাণ করলেন। এখন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা তার বার্তাটা যদি বুঝতে পারেন তাহলে নিশ্চয়ই কোন্দল থেকে বেরিয়ে এসে দলের জন্য আত্মনিয়োগ করবেন।

আরও কোণঠাসা হলেন কাদের?

আরও কোণঠাসা হলেন কাদের?

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। টানা দ্বিতীয় মেয়াদে তিনি দলের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন। একই সাথে তিনি সরকারের গুরুত্বপূর্ণ সেতুমন্ত্রী। কিন্তু দলের ভিতর এখন তিনি অনেকটাই কোণঠাসা। আর গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র জাহাঙ্গীর এর বহিষ্কারাদেশের মধ্য দিয়ে অনেকেই মনে করছেন যে, ওবায়দুল কাদের দলের মধ্যে আরও কোণঠাসা হয়ে পড়লেন। জাহাঙ্গীরকে ওবায়দুল কাদেরের পছন্দের ব্যক্তি মনে করা হতো এবং জাহাঙ্গীরের রাজনীতির উত্থানের পেছনে ওবায়দুল কাদেরের একটি বড় ভূমিকা ছিল। কিন্তু নিজের প্রিয় রাজনৈতিক শিষ্যকে ওবায়দুল কাদের যখন ঝড় থেকে বাঁচাতে পারেননি, তখন দলের ভেতর তার রাজনৈতিক প্রভাব ক্ষুন্ন হয়েছে বলে মনে করছেন দলের নেতাকর্মীরা।

অবশ্য দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই ওবাদুল কাদের এক প্রতিকূল পরিবেশে সাঁতার কাটছেন। বিশেষ করে তার অসুস্থতার পর থেকেই তিনি দলের কর্তৃত্বের লাগাম টেনে ধরতে পারেননি। একদিকে তার অসুস্থতার কারণে সারাদেশের সঙ্গে সাংগঠনিক যোগাযোগ কমে গেছে। দ্বিতীয়ত, করোনার মধ্যে থেকে তিনি ঘরবন্দি থেকে শুধুমাত্র বক্তৃতা-বিবৃতির মাধ্যমে বিভিন্ন ইস্যুতে বক্তব্য রাখছেন। আর সেই বক্তৃতা-বিবৃতিগুলো আগের মতো সম্মোহনী জায়গায় না। বরং বিভিন্ন ইস্যুতে কাগজ দেখে তার বক্তব্যে অনেকেই অতীতের ওবায়দুল কাদেরের ছায়া দেখছেন। একসময় অনলবর্ষী বক্তা ওবায়দুল কাদের কেন কাগজ দেখে বিবৃতি দিবেন এই নিয়ে আওয়ামী লীগের মধ্যে অনেক প্রশ্ন। এর মধ্যে তার ছোট ভাই কাদের মির্জার লাগাতার আক্রমণ ওবায়দুল কাদেরকে অনেকটাই কোণঠাসা করে দেয়।

এটি কেবল ভাইয়ে ভাইয়ে বিরোধ নয়, বরং এর মাধ্যমে সারাদেশের তৃণমূলেও ওবায়দুল কাদেরের আবেদন, ইমেজ এবং ভাবমূর্তি নষ্ট হয়েছে বলেও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন। ওবায়দুল কাদেরকে যেভাবে তৃণমূলের নেতাকর্মীরা শ্রদ্ধা করতো, ভয় পেতো এবং তার নির্দেশ শুনতো, কাদের মির্জার এই ঘটনার পর সেটি অনেকটা হালকা হয়ে যায়। এর পরপরই দেখা যায় কাদের মির্জার স্টাইলে দেশের বিভিন্ন স্থানে বিভিন্ন তৃণমূলের নেতা ওবায়দুল কাদের সম্বন্ধে নানা রকম নেতিবাচক মন্তব্য করেন। অনেকে চেইন অব কমান্ড ভেঙে ফ্রিস্টাইল কথাবার্তা বলা শুরু করেন।

ওবায়দুল কাদের দলের মধ্যে আবার প্রশ্নের মুখোমুখি হন যখন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ব্যাপক মনোনয়ন বাণিজ্যের অভিযোগ ওঠে এবং বিদ্রোহী প্রার্থীরা একের পর এক প্রার্থী হতে থাকেন। দ্বিতীয় দফার ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে যখন বিদ্রোহী প্রার্থীদের জয়জয়কার এবং আওয়ামী লীগের কোণঠাসা অবস্থা তখন সাধারণ সম্পাদক হিসেবে ওবায়দুল কাদেরের ভূমিকা নিয়ে দলের ভিতরেই প্রশ্ন ওঠে। আর সর্বশেষ জাহাঙ্গীর আলমের বহিষ্কারাদেশ ওবায়দুল কাদেরকে এখন নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে বলেও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন।

ওবায়দুল কাদেরের আশীর্বাদে জাহাঙ্গীরের গাজীপুরের রাজনীতিতে উত্থান ঘটেছিল। ওবায়দুল কাদেরের জন্যই তিনি বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ার পরও ২০১৮ সালের নির্বাচনে মেয়রের মনোনয়ন পেয়েছিলেন এবং ওবায়দুল কাদের এর জন্যই তিনি গাজীপুর মহানগরের সাধারণ সম্পাদক হয়েছিলেন বলে অনেকে মনে করেন। তবে আওয়ামী লীগের কেউ কেউ বলেন যে, দলের সাধারণ সম্পাদক নন, এ ধরনের নেতৃত্বের বিষয় বা মনোনয়নের বিষয় চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেন দলের সভাপতি শেখ হাসিনা। কাজেই ওবায়দুল কাদেরের আশীর্বাদে জাহাঙ্গীর এর উত্থান ঘটেছে এমনটি ভাবার কোন কারণ নেই।

তবে এটি আওয়ামী লীগে ব্যাপক আলোচিত যে, জাহাঙ্গীর আলম ওবায়দুল কাদেরের আশীর্বাদপুষ্ট একজন রাজনীতিবিদ। আর সেই রাজনীতিবিদের যখন এরকম পরিণতি হলো তখন অনেকেই এটাকে ধরে নিচ্ছেন যে, আওয়ামী লীগ ওবায়দুল কাদেরের ক্ষমতা এবং কর্তৃত্ব হয়তো কমে গেছে। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলেন, আওয়ামী লীগের প্রধান এবং মূল চালিকাশক্তি হলেন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। অন্য কারোরই সিদ্ধান্ত গ্রহণ বা নীতিনির্ধারণী ক্ষমতা অত্যন্ত সীমিত। দলের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে ওবায়দুল কাদের শুধুমাত্র আওয়ামী লীগ সভাপতির নির্দেশনাগুলো প্রতিপালন করেন মাত্র। কিন্তু দ্বিতীয় মেয়াদে এসে নিষ্প্রভ ওবায়দুল কাদেরের জন্য জাহাঙ্গীরের ঘটনা আরেকটি আঘাত কিনা তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে এবং আওয়ামী লীগের মধ্যে নানারকম আলাপ আলোচনা রয়েছে।

469 ভিউ

Posted ১০:৪৬ অপরাহ্ণ | শনিবার, ২০ নভেম্বর ২০২১

coxbangla.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

এ বিভাগের আরও খবর

Archive Calendar

রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি
 
১০
১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
১৮১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭২৮২৯৩০  

Editor & Publisher

Chanchal Dash Gupta

Member : coxsbazar press club & coxsbazar journalist union (cbuj)
cell: 01558-310550 or 01736-202922
mail: chanchalcox@gmail.com
Office : coxsbazar press club building(1st floor),shaheed sharanee road,cox’sbazar municipalty
coxsbazar-4700
Bangladesh
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

ABOUT US :

coxbangla.com is a dedicated 24x7 news website which is published 2010 in coxbazar city. coxbangla is the news plus right and true information. Be informed be truthful are the only right way. Because you have the right. So coxbangla always offiers the latest news coxbazar, national and international news on current offers, politics, economic, entertainment, sports, health, science, defence & technology, space, history, lifestyle, tourism, food etc in Bengali.

design and development by : webnewsdesign.com