বুধবার ৩০শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ | ১৫ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম

বুধবার ৩০শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

আদর্শের প্রতীক মুজিবকোটের অপব্যবহার

শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২০
223 ভিউ
আদর্শের প্রতীক মুজিবকোটের অপব্যবহার

সাহেদ করিম - লোপা

কক্সবাংলা ডটকম(১১ সেপ্টেম্বর) :: জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বিশেষ পোশাক ছিল সাদা পাঞ্জাবি-পায়জামা আর ছয় বোতামের হাতাহীন কালো কোট। কালক্রমে এটি ‘মুজিবকোট’ নামে পরিচিতি পায়। মুজিবকোটের অপব্যবহার চলছে; তাই ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন দেশের বিশিষ্টজনেরা। তাঁরা বলছেন, গায়ে মুজিবকোট চড়িয়ে নয়, বঙ্গবন্ধুকে ধারণ করতে হবে অন্তরে।

নব্য সুবিধাবাদীরা এখন নানা অপকর্ম জায়েজ করতে এ কোটের অপব্যবহার করছে। এগুলো এখনই বন্ধ করতে হবে। প্রয়োজনে আইন চান কেউ কেউ। একটা সময় দলের ত্যাগী প্রবীণ ও পোড় খাওয়া কিংবা বংশীয় আওয়ামী লীগের লোকেরা মুজিবকোট পরলেও অপকর্ম অপব্যবহার করেননি। এখন অপব্যবহার বেড়ে চলেছে।

জানা গেছে, দল টানা প্রায় ১২ বছর ক্ষমতায় থাকার ফলে অনেক সুবিধাবাদী মুজিবকোটের অপব্যবহার করছে। অতিসম্প্রতি মুজিবকোট পরা আওয়ামী লীগ নামধারী সাহেদ করিম ও লোপা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে ধরা খেয়েছেন। নব্য আওয়ামী লীগাররা ক্ষমতার অপব্যবহার করতে গিয়ে মুজিবকোট পরছেন।

১৯৭৫-এর ১৫ আগস্টের পর মাঠ পর্যায় কিংবা দলের ত্যাগী নিবেদিত নেতারা মুজিবকোট পরতেন ‘বঙ্গবন্ধুর ব্যবহার্য’ কোটকে আদর্শের প্রতীক হিসেবে। জাতির পিতার হাতে গড়া দলের নেতা-কর্মীরা এখনো নিশ্চিহ্ন হয়ে যাননি এটা বোঝানোর জন্য। এখন কিছু টাউট-বাটপাড় ও চোর তাদের অপকর্ম জায়েজ করতে এ কোট পরছে।

সূত্রমতে, প্রতারক চক্র বিভিন্ন ভবনে টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজি, বদলি তদবির করতে মুজিবকোট গায়ে লাগিয়ে মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন অধিদফতরে যায়। মুজিবকোট গায়ে থাকায় ‘ব্যক্তিটি আওয়ামী লীগ’ করে এটা সহজেই অনুমান করা যায়। এসব প্রতারক নিজেদের কখনো ওয়ান-ইলেভেনের ভুক্তভোগী ত্যাগী ও পরিশ্রমী ছাত্রনেতা বলেও পরিচয় দেয়। এ প্রতারক চক্র কখনো উচ্চপর্যায়ের লোক হিসেবেও নিজেদের পরিচয় দেয়। আবার মুজিবকোট গায়ে থাকার সুবাদে কিছু মন্ত্রী, এমপি কিংবা ক্ষমতাধর ব্যক্তির সঙ্গে ছবিও তুলে থাকে এই প্রতারক শ্রেণি। তাদের মূল কাজই নানা ধরনের প্রতারণা।

এ প্রসঙ্গে সুপ্রিম কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক বলেন, ‘আওয়ামী লীগ দীর্ঘদিন ক্ষমতায়। ফলে আওয়ামী লীগের বিরোধীরাও আওয়ামী লীগে অনুপ্রবেশ করেছে। এসব অনুপ্রবেশকারীই মুজিবকোট পরে। যারা খাঁটি আওয়ামী লীগার তারা কখনো মুজিবকোট লাগিয়ে ঘোরে না। তারা বুকে ধারণ করে।

যেমন বলা হয়, চেনা বামুনের পৈতা লাগে না। যারা অনুপ্রবেশকারী তারাই বড় আওয়ামী লীগার সাজতে চায়। কারণ তারা নানা অপকর্ম, দুর্নীতি, নারী, মাদক পাচার করার জন্য আওয়ামী লীগের লোক সাজে। অর্থাৎ চোর-বাটপাড়রা এ কাজ করছে। যাতে কেউ তাদের সঙ্গে ঝামেলায় না যায়।’ মুজিবকোট ব্যবহারে দল থেকে একটি নির্দেশনা দেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করেন অবসরপ্রাপ্ত এই বিচারপতি।

সূত্রমতে, বঙ্গবন্ধুর আদর্শের যারা রাজনীতি করছেন তারাও এ কোট ব্যবহার করছেন। বঙ্গবন্ধুর ভক্তদের কাছে এ কোট ধারণ করা মানেই তাঁকে ধারণ করার শামিল। কিন্তু মুজিবকোট পরে অপকর্ম করে ধরা খাচ্ছে বাটপাড় শ্রেণির কিছু লোক। সাম্প্রতিক সময়ে বেশ কিছু অপকর্মকারী ধরা খেয়েছে।

মুজিবকোটের অপব্যবহার বন্ধে আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সংসদের আগামী বৈঠকে তোলা হবে বলে জানিয়েছেন দলের যুগ্মসাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ এমপি। তিনি বলেন, ‘মুজিবকোট আমাদের কাছে আদর্শের পোশাক। কারণ এ কোট জাতির পিতা পরতেন। যারা বঙ্গবন্ধুর আদর্শ বুকে লালন ও ধারণ করেন তারাই এ পোশাক পরে থাকি। কিন্তু দল টানা ক্ষমতায় থাকায় কিছু লেবাসধারীও প্রতারণা করতে, লীগার সাজতে এ কোট পরছে। এমনকি এ কোট পরে ক্ষমতার অপবব্যহার করছে।’

তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সংসদের আগামী বৈঠকে বিষয়টি উত্থাপন করব। মুজিবকোটের যেন অসম্মান না হয়, অপব্যবহার না হয় সেজন্য কী কী করণীয় বা কোনো নির্দেশনা দেওয়া যায় কিনা সিদ্ধান্ত গ্রহণ করব।’

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, সরকার বদলের সঙ্গে সঙ্গেই ভিড় পড়ে যায় দর্জির দোকানে। আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসীন হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই হিড়িক পড়ে গিয়েছিল মুজিবকোট বানানোর। বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলার স্বপ্ন বাস্তবায়ন এখনো অনেক দূর। বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ক্ষেত্রবিশেষ স্বার্থান্বেষী মহল দ্বারা ভূলুণ্ঠিত হলেও তাঁর ব্যবহৃত কোটের মডেল মুজিবকোটের ব্যবহার ক্রমান্বয়ে বেড়েই চলেছে। এমন ব্যবহার যতটা না আদর্শিক তার চেয়ে বেশি ব্যবসায়িক। ওরা যে সাইবেরিয়ান বার্ড, তীব্র শীত থেকে বাঁচতে আসা অতিথি পাখি! রাজনৈতিক পট পরিবর্তন হলে ওরাও গায়ের পোশাক বদল করে অন্য পোশাক ধারণ করবে।

এ প্রসঙ্গে রাজনৈতিক বিশ্লেষক, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. মীজানুর রহমান বলেন, ‘চোর-বাটপাড়, নারী পাচারকারীরা মুজিবকোট পরে জাতির পিতার অবমাননা করছে। হয় সুপ্রিম কোর্ট থেকে একটি নির্দেশনা দেওয়া হোক, অথবা জাতীয় সংসদে একটা আইন করা হোক যে, জাতীয় দিবস ছাড়া কেউ মুজিবকোট পরতে পারবে না। অথবা এই এই ধরনের ব্যক্তি ছাড়া যে কেউ মুজিবকোট পরতে পারবে না।’

তিনি বলেন, ‘কিছু অপকর্মকারীর কারণে মুজিবকোটের অপব্যবহার হচ্ছে। কারণ মুজিবকোট কোনো সাধারণ কোট নয়, জাতির জনক এটা পরতেন। কিন্তু চোর-বাটপাড়রা এটাকে ফ্যাশনে পরিণত করেছে।’ এ প্রসঙ্গে মাহাত্মা গান্ধীকে নিয়ে ভারতের একটি আইন স্মরণ করেন এই রাজনৈতিক বিশ্লেষক।

223 ভিউ

Posted ৩:৩২ পূর্বাহ্ণ | শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২০

coxbangla.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

Archive Calendar

রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি
 
১০১১১২
১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৮২৯৩০  

Editor & Publisher

Chanchal Dash Gupta

Member : coxsbazar press club & coxsbazar journalist union (cbuj)
cell: 01558-310550 or 01736-202922
mail: chanchalcox@gmail.com
Office : coxsbazar press club building(1st floor),shaheed sharanee road,cox’sbazar municipalty
coxsbazar-4700
Bangladesh
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

ABOUT US :

coxbangla.com is a dedicated 24x7 news website which is published 2010 in coxbazar city. coxbangla is the news plus right and true information. Be informed be truthful are the only right way. Because you have the right. So coxbangla always offiers the latest news coxbazar, national and international news on current offers, politics, economic, entertainment, sports, health, science, defence & technology, space, history, lifestyle, tourism, food etc in Bengali.