মঙ্গলবার ২২শে জুন, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ৮ই আষাঢ়, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম

মঙ্গলবার ২২শে জুন, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

শিরোনাম

আফগানিস্তান : ছায়াযুদ্ধের ময়দান হতে যাচ্ছে প্রতিবেশী ও পরাশক্তি দেশগুলোর

শুক্রবার, ২১ মে ২০২১
67 ভিউ
আফগানিস্তান : ছায়াযুদ্ধের ময়দান হতে যাচ্ছে প্রতিবেশী ও পরাশক্তি দেশগুলোর

কক্সবাংলা ডটকম :: জঙ্গিগোষ্ঠী তালেবানরা এখন আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় অনেক বেশি শক্তিশালী। ক্ষমতাকাঠামোয় গোষ্ঠীভিত্তিক হিসাব-নিকাশও রয়েছে অনেক। ফলে সেপ্টেম্বরে মার্কিন নেতৃত্বাধীন মিত্রবাহিনী আফগানিস্তান ছেড়ে যাওয়ার পর দেশটিতে তীব্র গৃহযুদ্ধের জোর সম্ভাবনা দেখতে পাচ্ছে আন্তর্জাতিক মহল। আশঙ্কা করা হচ্ছে, শান্তি প্রক্রিয়া ব্যর্থ হলে এ গৃহযুদ্ধ রূপ নিতে পারে প্রতিবেশী ও পরাশক্তি দেশগুলোর ছায়াযুদ্ধে। সেক্ষেত্রে দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনীতিতে এর ব্যাপক প্রভাব পড়বে বলে ধারণা সংশ্লিষ্টদের।

পর্যবেক্ষকরা বলছেন, আফগানিস্তানে গৃহযুদ্ধটি হবে মূলত তালেবান ও তালেবানবিরোধী বিভিন্ন শক্তির মধ্যে। এ সংঘাতে জড়িয়ে পড়বে আফগানিস্তানের প্রতিবেশীরাও। অন্যদিকে নিজ স্বার্থরক্ষায় ছায়াযুদ্ধে জড়িয়ে পড়বে বৈশ্বিক পরাশক্তিগুলোও। যুযুধান দলগুলোকে অস্ত্র ও অর্থসহ আরো বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করতে পারে দেশগুলো। বিশেষ করে বৈরী প্রতিবেশী পাকিস্তানের সঙ্গে ভারতের বিরোধ এখানে বড় একটি ভূমিকা রাখতে যাচ্ছে। সেক্ষেত্রে আফগানিস্তানে ছায়াযুদ্ধ শুরু হলে পর্দার আড়ালের প্রধান দুই প্রতিপক্ষ হয়ে উঠতে পারে দেশ দুটি।

আশঙ্কা করা হচ্ছে, শান্তি প্রক্রিয়া ব্যর্থ হলে ছায়াযুদ্ধের ময়দান হয়ে উঠবে আফগানিস্তান। গোটা দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনীতিতেই এর বড় ধরনের প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে। সেক্ষেত্রে আফগান গৃহযুদ্ধে প্রভাবক হিসেবে জড়িয়ে পড়তে পারে চীন, যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়াও। অন্যদিকে শিয়া-সুন্নি দ্বন্দ্বের প্রেক্ষাপটে এ লড়াইয়ে ইরানের জড়িয়ে পড়াটাও বিচিত্র কিছু নয়।

বিশ্লেষকদের মতে, আফগানিস্তানের মাটিতে দেশগুলোর সরাসরি যুদ্ধে জড়ানোর সম্ভাবনা তেমন একটা নেই। তবে যুযুধান পক্ষগুলোর সঙ্গে এসব দেশের প্রতিটিরই কোনো না কোনো স্বার্থ জড়িত রয়েছে। আফগান গৃহযুদ্ধে দৃশ্যমান প্রধান বিবদমান পক্ষ হয়ে উঠতে পারে কাবুলের সরকারি বাহিনী, তালেবান ও হাজারা সংখ্যালঘুরা। এছাড়া সন্ত্রাসী সংগঠন ইসলামিক স্টেটও (আইএস) এ যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ার জোর আশঙ্কা রয়েছে। এসব পক্ষের আড়ালে দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনীতিতে প্রভাব বিস্তারে আগ্রহী দেশগুলোও নিজ নিজ স্বার্থ সংরক্ষণের তাগিদ থেকে গৃহযুদ্ধে পরোক্ষ অংশগ্রহণ করবে।

Afghan Forces Retake Taliban-Held Key District After 5 Years | Voice of  America - English

তবে আফগানিস্তান ঘিরে ঘনিয়ে ওঠা ছায়াযুদ্ধগুলোর আশঙ্কায় শেষ পর্যন্ত ভারত-পাকিস্তান বৈরিতাই সবচেয়ে বড় প্রভাবকের ভূমিকা রাখবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বলা হচ্ছে, আফগান সংঘাতে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ খেলুড়ে পাকিস্তান। এ পর্যন্ত তালেবান ইস্যুতে দেশটি বহুবার পরস্পরবিরোধী অবস্থান নিয়েছে। তালেবানরা প্রথম ক্ষমতায় আসার পর তাদের সবার আগে স্বীকৃতি দিয়েছে পাকিস্তান। আবার ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের পর মার্কিন নেতৃত্বাধীন তালেবান ও আল কায়েদাবিরোধী মিত্রজোটেও যোগ দিয়েছিল পাকিস্তান। ওয়াশিংটনের চাপের মুখে ইসলামাবাদ তালেবানদের বিরুদ্ধ পক্ষ নিলেও পাকিস্তানের আফগান সীমান্তবর্তী উপজাতিগুলো তালেবানদের নানাভাবে সহায়তা করে এসেছে। এ তালেবানরা নানা সময়ে আবার পাকিস্তানের জন্যও বড় মাথাব্যথার কারণ হয়ে উঠেছে। মার্কিন সৈন্যদের প্রস্থানের পর তালেবানরা পাকিস্তানের পরিবেশকে আরো অস্থিতিশীল করে তুলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। দেশটির উগ্র ডানপন্থী রাজনৈতিক সংগঠন তেহরিক-ই-লাব্বাইকের সাম্প্রতিক উত্থান এ আশঙ্কাকে আরো ঘনীভূত করে তুলেছে।

তবে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পাকিস্তানের সম্পর্ক খুব একটা ভালো যাচ্ছে না। ফলে এ মুহূর্তে নিজ স্বার্থ অনুযায়ী যেকোনো পক্ষের আড়ালে নিজের ছায়াযুদ্ধ চালাতে বাধা নেই পাকিস্তানের। এক্ষেত্রে ইসলামাবাদের অবস্থান বহুলাংশেই নির্ভর করছে পাকিস্তানি সামরিক বাহিনীর ওপর। তবে মার্কিন সৈন্যদের উপস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে পাকিস্তানের তা থেকে কূটনৈতিকভাবে লাভবান হওয়ার সম্ভাবনা বেশি ছিল বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। কারণ তাতে ওয়াশিংটনকে ইসলামাবাদের ওপর আরো বেশি নির্ভরশীল হতে হতো। সেক্ষেত্রে এ নির্ভরশীলতাকে কাজে লাগিয়ে ভারতের সঙ্গে বৈরিতায় ওয়াশিংটনের সমর্থন আদায়েরও সুযোগ তৈরি হতো পাকিস্তানের। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে সে সুযোগ এ মুহূর্তে নেই বললেই চলে।

CIA-backed Afghan unit accused of atrocities is able to call in air strikes  — The Bureau of Investigative Journalism

মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন আফগানিস্তান থেকে সৈন্য প্রত্যাহারের ঘোষণা দেয়ার পর পাকিস্তানের সেনাপ্রধান জেনারেল কমর জাভেদ বাজওয়া ও আইএসআই প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল ফাইজ হামিদ কাবুল সফরে যান। সে সময় তারা কাবুলের নেতাদের আশ্বস্ত করেন, আফগানিস্তানের শান্তি প্রক্রিয়ায় সমর্থন দেবে পাকিস্তান।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আফগানিস্তান ইস্যুতে পাকিস্তানের ভবিষ্যৎ অবস্থান কেমন হবে, তা নির্ভর করছে এ শান্তি প্রক্রিয়ার ওপরেই। এতদিন পর্যন্ত পাকিস্তানের আফগানিস্তান নীতির মূল লক্ষ্য ছিল কাবুলে ভারত প্রভাবশালী হয়ে উঠতে না দেয়া। এ কারণে বিষয়টি শেষ পর্যন্ত পাকিস্তানের জন্য বুমেরাং হলেও তালেবান ও হাক্কানি নেটওয়ার্কের মতো উগ্র সংগঠনগুলোকে সমর্থন দিয়ে গিয়েছে পাকিস্তান। এ অবস্থায় মার্কিন উপস্থিতিবিহীন আফগানিস্তানের শান্তি প্রক্রিয়া কোন দিকে গড়াচ্ছে, তার ওপরেই নির্ভর করছে পাকিস্তানের অবস্থান। এ শান্তি প্রক্রিয়া ব্যর্থ হলে ভারতকে মোকাবেলার তাগিদে পাকিস্তান তালেবানদের সমর্থনে এগিয়ে আসতে পারে।

তবে এক্ষেত্রে জেনারেল বাজওয়ার ওপরেই অনেক কিছু নির্ভর করছে বলে ধারণা পর্যবেক্ষকদের। তারা বলছেন, দেশটির সামরিক বাহিনীর জেনারেলরা বরাবরই দেশটির পররাষ্ট্রনীতিতে বড় ধরনের ভূমিকা রেখেছেন। জেনারেল বাজওয়া সে ধারার বাইরে নন। তবে এক্ষেত্রে পাকিস্তানের চিরাচরিত পররাষ্ট্রনীতির বাইরে গিয়ে বৈরী দেশগুলোর প্রতি সাবধানী আচরণ বজায় রেখেছেন তিনি। কিছুদিন আগেও জেনারেল বাজওয়া সামরিক বাহিনীর ভারত-সংক্রান্ত নীতিতেও পরিবর্তন আনতে চেয়েছিলেন। তবে সামরিক বাহিনীর মধ্যকার বিভিন্ন অংশের বিরোধিতার কারণে তাতে সফল হননি তিনি। তবে দেশটির কূটনৈতিক পরিমণ্ডলে এরই মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে শুরু করেছেন তিনি। এছাড়া সৌদি আরবের সঙ্গে পাকিস্তানের সম্পর্ক পুনরুদ্ধারের ক্ষেত্রে জেনারেল বাজওয়া দৃশ্যপটের অন্তরালে বড় ধরনের ভূমিকা রেখেছেন।

Descent into chaos: Why did Nangarhar turn into an IS hub? - Afghanistan  Analysts Network - English

অন্যদিকে ভারতেরও আফগানিস্তানকেন্দ্রিক বড় স্বার্থ জড়িত রয়েছে। পর্যবেক্ষকরা বলছেন, আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, পাকিস্তানের মতো ভারতও বরাবরই চেয়েছে, আফগানিস্তানে মার্কিন সৈন্যদের উপস্থিতি দীর্ঘায়িত হোক। কারণ মার্কিন সৈন্যদের উপস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে আফগানিস্তানে তালেবানসহ স্থানীয় জঙ্গিগোষ্ঠীগুলোর তত্পরতা সীমিত হয়ে পড়বে। বিষয়টি যত দীর্ঘায়িত হবে, আফগানিস্তানে ভারতের কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক উপস্থিতি বাড়ানোর পরিবেশ ততটাই অনুকূল হবে। এছাড়া আফগানিস্তানে তালেবানরা ক্ষমতায় ফিরে এলে আল কায়েদাসহ আরো অন্যান্য জঙ্গিগোষ্ঠীরও পুনরায় সক্রিয় ও দৃশ্যমান হয়ে ওঠারও সম্ভাবনা রয়েছে অনেক। কাশ্মীরসহ নানা ইস্যুতে এসব জঙ্গিগোষ্ঠী ভারতের জন্যও অনেক বড় সমস্যার কারণ হয়ে উঠতে পারে। সেক্ষেত্রে ভারত কোনোভাবেই চাইছে না আফগানিস্তানে তালেবানরা ক্ষমতায় ফিরে আসুক। আবার ক্ষমতায় এলেও তাদের দ্রুত পতনেই নয়াদিল্লির মঙ্গল। সেক্ষেত্রে ভারতের এ ছায়াযুদ্ধে জড়িয়ে পড়াটা অনেকটাই অবধারিত।

অন্যদিকে সাবেক সিল্করুটের অংশ হিসেবে চীনের বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ (বিআরআই) বাস্তবায়নের ক্ষেত্রেও আফগানিস্তানের গুরুত্ব অনেক। এ অবস্থায় যুযুধান কোনো একটি পক্ষের মাধ্যমে চীনও আফগানিস্তানকে নিজের প্রভাব বলয়ের মধ্যে নিয়ে আসার প্রয়াস চালাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এক্ষেত্রে ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে চীন ও পাকিস্তান যেকোনো একটি পক্ষকে সহায়তা-সমর্থন দিয়ে নিজের ছায়াযুদ্ধ চালিয়ে যাবে বলে অভিমত পর্যবেক্ষকদের।

অন্যদিকে আফগানিস্তানে তালেবানদের প্রধান শত্রু শিয়া হাজারারা। তাদের সহায়তার মাধ্যমে এ গৃহযুদ্ধের আড়ালের যুদ্ধে বড় অংশগ্রহণ করতে পারে ইরানও। এছাড়া ইসলামিক স্টেটের উপস্থিতিও এ অঞ্চলের প্রতিটি দেশের জন্যই বড় আশঙ্কার কারণ।

Taliban threaten to end talks with US on ending Afghan war

67 ভিউ

Posted ২:২৮ অপরাহ্ণ | শুক্রবার, ২১ মে ২০২১

coxbangla.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

Archive Calendar

রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি
 
১০১১১২
১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৮২৯৩০  

Editor & Publisher

Chanchal Dash Gupta

Member : coxsbazar press club & coxsbazar journalist union (cbuj)
cell: 01558-310550 or 01736-202922
mail: chanchalcox@gmail.com
Office : coxsbazar press club building(1st floor),shaheed sharanee road,cox’sbazar municipalty
coxsbazar-4700
Bangladesh
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

ABOUT US :

coxbangla.com is a dedicated 24x7 news website which is published 2010 in coxbazar city. coxbangla is the news plus right and true information. Be informed be truthful are the only right way. Because you have the right. So coxbangla always offiers the latest news coxbazar, national and international news on current offers, politics, economic, entertainment, sports, health, science, defence & technology, space, history, lifestyle, tourism, food etc in Bengali.

design and development by : webnewsdesign.com