সোমবার ১২ই এপ্রিল, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ২৯শে চৈত্র, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম

সোমবার ১২ই এপ্রিল, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

শিরোনাম

আসছে নতুন হেফাজত?

বুধবার, ০৭ এপ্রিল ২০২১
263 ভিউ
আসছে নতুন হেফাজত?

কক্সবাংলা ডটকম(৭ এপ্রিল) :: হেফাজতের ভাঙ্গন প্রক্রিয়া চূড়ান্ত প্রায়। হেফাজতের একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র মনে করছেন যে, আল্লামা শফীর মৃত্যুর পর জুনায়েদ বাবুনগরী হেফাজতের কর্তৃত্ব নেন। তিনি হেফাজতের আমীর নির্বাচিত হয়েছিলেন। কিন্তু আমীর হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করে তিনি হেফাজতকে বিতর্কিত করেছেন, একটি রাজনৈতিক আবরণ দিয়েছেন। এখান থেকেই এখন হেফাজতের ভাঙ্গনের সূচনা হয়েছে।

জানা গেছে যে, গত কয়েকদিনে আল্লামা শফীর পুত্র আনাস মাদানী নেতৃত্বে হেফাজতের বর্তমান নেতৃত্বের অনেকেই বৈঠক করেছেন, তারা আলাপ আলোচনা করছেন। ঈদের আগেই হেফাজতের একটি নতুন অংশ আত্মপ্রকাশ করতে যাচ্ছে বলে জানা গেছে।

তবে মজার ব্যাপার হল যে, জুনায়েদ বাবুনগরী যখনই হেফাজতের আমীর নির্বাচিত হয়েছিলেন সেই সময়ে হেফাজতের প্রধান অংশ পুরোটাই ছিল জুনায়েদ বাবুনগরীর অনুসারী এবং জুনায়েদ বাবুনগরীর পক্ষে। সেই সময়ে আল্লামা শফীর পুত্র এত সংখ্যালঘু ছিলেন যে, তিনি আলাদা অবস্থান শেষ পর্যন্ত গ্রহণ করতে পারেননি। এমনকি যখন তাকে হাটহাজারী মাদ্রাসা থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়, তখনও তিনি তার প্রতিবাদ করতে পারেননি। কিন্তু সাম্প্রতিক ঘটনাবলীতে দ্রুতই পরিস্থিতি পাল্টে গেছে।

বিশেষ করে হেফাজতের একটি বড় অংশ মনে করছেন যে, সরকারের সঙ্গে বিরোধে জড়িয়ে কওমী মাদরাসা সহ যে অর্জনগুলো হেফাজত করেছিল সেই অর্জনগুলো নষ্ট হয়ে যাবে। সাম্প্রতিক সময়ে আবাসিক কওমি মাদ্রাসাগুলো বন্ধের ব্যাপারে সরকার কঠোর অবস্থান নিয়েছে। এর ফলে বিপাকে পড়েছেন মাদ্রাসার শিক্ষার্থী এবং শিক্ষকরা। আর এজন্য তারা দুষছেন জুনায়েদ বাবুনগরীকে।

তারা মনে করছেন যে, যদি ভাস্কর্য বিরোধী এবং নরেন্দ্র মোদি বিরোধী আন্দোলন না করা হতো তাহলে এই পরিস্থিতি হতো না। এখন হেফাজতের অনেক শিক্ষক এবং মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের অধিকাংশই মনে করছেন যে বর্তমান নেতৃত্ব যদি অব্যাহত থাকে তাহলে হেফাজতকে টিকিয়ে রাখা কঠিন হবে এবং মাদ্রাসার যে সুযোগ-সুবিধা সেগুলো নষ্ট হয়ে যাবে। আর এই প্রেক্ষাপটেই হেফাজতের নতুন নেতৃত্বের মেরুকরণ হচ্ছে।

জানা গেছে যে, হেফাজতের জুনায়েদ বাবুনগরীর যে কমিটি আছে সেই কমিটির অন্তত ৬০ শতাংশ এখন আনাস মাদানীর সঙ্গে যোগাযোগ করছেন এবং তার প্রতি আনুগত্য দেখাচ্ছেন।

একাধিক সূত্র বলছে, আনাস মাদানীর সঙ্গে সরকারের একটি অংশের বিশেষ সম্পর্ক রয়েছে। বিশেষ করে সরকারের অনেকেই আল্লামা শফীকে পছন্দ করতেন, তাকে একজন আলেম হিসেবে মানতেন। কিন্তু জুনায়েদ বাবুনগরীকে একজন রাজনৈতিক ব্যক্তি হিসেবেই মনে করছেন আওয়ামী লীগের ওই অংশ। যার ফলে জুনায়েদ বাবুনগরীর সঙ্গে এখন কোন ধরনের আলাপ-আলোচনা বা সমঝোতা করার পক্ষপাতী নয় সরকার।

সরকার বরং আনাস মাদানীর নেতৃত্বে যদি হেফাজত হায়, তার সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী। আর এই প্রেক্ষাপটেই শক্ত একটা ভিত পেয়েছেন আনাস মাদানী। যারা আগে তাকে উপেক্ষা করেছিল, যারা তার নেতৃত্ব সেই সময় মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিল, তারাই এখন আনাস মাদানীর সঙ্গে নিজেরাই যোগাযোগ করছেন। তাদের যোগাযোগের কারণেই এখন নতুন একটি হেফাজতের জন্মগ্রহণ সময়ের ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে।

একাধিক সূত্র বলছে যে, আনাস মাদানী খুব শিগগিরই আনুষ্ঠানিকভাবে হেফাজতের নতুন কমিটি গঠন করবেন যে কমিটিতে জুনায়েদ বাবুনগরী মামুনুল হকের মত বিতর্কিত ব্যক্তিরা থাকবেন না। আনাস মাদানী সকলকে বলছেন হেফাজতকে একটি অরাজনৈতিক সংগঠন হিসেবে রাখতে হবে এবং অরাজনৈতিক পরিচয়ে হেফাজত শক্তিশালী হবে।

যদি হেফাজতের কোন রাজনৈতিক আবরণ তৈরি হয়, তাহলে হেফাজতই ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এই মতাদর্শ বিশ্বাস করছেন হেফাজতের অনেকেই। যার ফলে খুব শিগগিরই হয়তো হেফাজতের ভাঙ্গন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে এবং নতুন একটি হেফাজত দেখা যাবে।

মামুনুলের রিসোর্টকাণ্ড: নীরব থাকার সিদ্ধান্ত হেফাজত-খেলাফতের

মামুনুলের রিসোর্টকাণ্ড : নীরব থাকার সিদ্ধান্ত হেফাজত-খেলাফতের

নারী সঙ্গীসহ মাওলানা মামুনুল হকের রিসোর্টে অবরুদ্ধ হওয়া প্রসঙ্গে নতুন কোনও মন্তব্য না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন হেফাজতে ইসলাম ও খেলাফত মজলিসের সিনিয়র নেতারা। তারা মামুনুল ইস্যুকে চাপা দিয়ে সাংগঠনিক কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এরই ধারাবাহিকতায় হেফাজতে ইসলাম গত কয়েক দিনে মোদিবিরোধী আন্দোলন করতে গিয়ে যেসব কর্মী নিহত হয়েছে তাদের নাম-তালিকা সংগ্রহ করছে। তৈরির পর এই তালিকা জনসম্মুখে প্রকাশ করা হবে বলে জানা গেছে।

জানা গেছে, মাওলানা মামুনুল হক হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম মহাসচিব এবং ঢাকা মহানগর কমিটির মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। এছাড়া তিনি বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় মহাসচিব হিসেবেও দায়িত্ব পালন করে আসছেন।

বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ইস্যুতে বিতর্কিত মন্তব্য করে আলোচনায় আসেন মামুনুল হক। এরপর থেকে হেফাজতে তার জনপ্রিয়তা বাড়ে। এ কারণে সংগঠন বাঁচাতে যেকোনও মূল্যে মামুনুলের পাশে থাকতে চান হেফাজত ও খেলাফত মজলিসের নেতাকর্মীরা।

হেফাজত ও মজলিসের কেন্দ্রীয় সংগঠক মাওলানা আতাউল্লাহ আমিন বলেন, ‘হেফাজতে ইসলামের উচ্চ পর্যায় থেকে ইতোমধ্যে মামুনুল হক প্রসঙ্গে বলা হয়েছে, তার বিবাহ অনৈতিক নয়। একইসঙ্গে খেলাফত মজলিসের নির্বাহী কমিটির মিটিংয়েও বলা হয়েছে, মামুনুল হকের বিবাহ সঠিক।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের কাছে এখন এ বিষয়টি আর প্রাধান্য পাচ্ছে না। আমাদের সবকিছু এখন সম্প্রতি হেফাজতের কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করে যারা নিহত হয়েছেন, যারা আহত হয়েছেন, তাদের নিয়ে। ইসলামের জন্য যারা প্রাণ দিয়েছেন, অনেক সাধারণ মানুষও আছেন এই নিহতদের মধ্যে, তাদের কীভাবে আর্থিক সহযোগিতা করা যায়, কী সহযোগিতা করা যায়, এসব নিয়ে নেতারা চিন্তা-ভাবনা করছেন। খুব দ্রুত আমরা সহায়তায় নামবো।’

তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক সূত্র বলছে, প্রকাশ্যে মামুনুল হকের বিরোধিতা কেউ না করলেও ভেতরে ভেতরে অনেকেই তার ওপর ক্ষুব্ধ ও বিরক্ত। আপাতত সংগঠনের ‘ভাবমূর্তি’ রক্ষা করার জন্য সবাই মামুনুল ইস্যুতে চুপ থাকলেও ভবিষ্যতে তাকে দলের গুরুত্বপূর্ণ পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হতে পারে।

হেফাজতে ইসলামের অনেক নেতা মনে করছেন, মামুনুল হকের জনপ্রিয়তা বেড়ে যাওয়ায় তিনি ধরাকে সরা জ্ঞান করে চলাফেরা করতেন। তা না হলে এরকম একটা সময়ে অবৈধ হোক আর বৈধ হোক, স্ত্রীকে নিয়ে রিসোর্টে সময় কাটাবার জন্য যেতে পারেন না।

মামুনুলকাণ্ডের পর হেফাজতের একাধিক নেতার ফাঁস হওয়া ফোনালাপেও মামুনুল হকের প্রতি ক্ষোভের কথা জানা গেছে। ওই অডিওতে মাওলানা ফজলুল করিম কাশেমী ও ফয়সাল আহমেদ নামে হেফাজতের দুই নেতা মামুনুল হকের কর্মকাণ্ডকে ভুল আখ্যায়িত করে যেকোনও মূল্যে তাদের অবস্থান শক্ত করে ধরে রাখার পরামর্শ করেন। নারী সঙ্গী নিয়ে রিসোর্টে যাওয়া মামুনুল হকের অদূরদর্শিতা আখ্যায়িত করে ওই নেতা মামুনুল হককে কিছু নসিহত করতে বলে আলোচনা করেন। মামুনুল হক ও ওই নারীকে বছিলার একটি ফ্ল্যাটে রাখা হয়েছে জানিয়ে তারা আগে হেফাজতের ‘মান’ বাঁচানোর সিদ্ধান্ত নেন। মামুনুল হকের কর্মকাণ্ডে দুই হেফাজত নেতা ক্ষোভও প্রকাশ করেন।

হেফাজতের অনেক নেতাকর্মী মনে করেন, মামুনুল হকের রিসোর্ট কেলেঙ্কারির কারণে সরকার একটি সুযোগ পেয়েছে। তা না হলে মোদিবিরোধী কর্মসূচির ঘটনায় যত মামলা হয়েছে তাতে হেফাজতের সিনিয়র কোনও নেতৃবৃন্দের নাম ছিল না। মামুনুল হকের ঘটনার পর মামলায় তাকেসহ সিনিয়র নেতাদের নামে মামলা করা হয়েছে।

এদিকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, হেফাজতের বিষয়ে তারা কৌশলী হয়ে সামনের দিকে আগাচ্ছেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এক কর্মকর্তা জানান, এরই ধারাবাহিকতায় বুধবার (৭ এপ্রিল) নেত্রকোনা থেকে  মাওলানা রফিকুল ইসলাম মাদানীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশের যেসব হেফাজত নেতারা সহিংসতায় উসকানি দিয়েছেন তাদের ইতোমধ্যে চিহ্নিত করা হয়েছে। তাদের চলাফেরায় গোয়েন্দা নজরদারি করা হচ্ছে। যেকোনও সময়ে এদের আইনের আওতায় আনা হবে।

মঙ্গলবার (৬ এপ্রিল) সচিবালয়ে নিজ কার্যালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল সাংবাদিকদের বলেন, সম্পূর্ণ বিনা উসকানিতে হেফাজত বিভিন্ন স্থানে হামলা করেছে। ভূমি অফিস পুড়িয়েছে। সরকারি অনেক অফিস আদালত ভাংচুর-অগ্নিসংযোগ করেছে। এজন্য নাশকতাকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। ভবিষ্যতেও এসব বিষয়ে সরকার কঠোর অবস্থানে থাকবে বলে জানান তিনি।

263 ভিউ

Posted ১০:১৩ অপরাহ্ণ | বুধবার, ০৭ এপ্রিল ২০২১

coxbangla.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

এ বিভাগের আরও খবর

Archive Calendar

রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি
 
১০
১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
১৮১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭২৮২৯৩০  

Editor & Publisher

Chanchal Dash Gupta

Member : coxsbazar press club & coxsbazar journalist union (cbuj)
cell: 01558-310550 or 01736-202922
mail: chanchalcox@gmail.com
Office : coxsbazar press club building(1st floor),shaheed sharanee road,cox’sbazar municipalty
coxsbazar-4700
Bangladesh
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

ABOUT US :

coxbangla.com is a dedicated 24x7 news website which is published 2010 in coxbazar city. coxbangla is the news plus right and true information. Be informed be truthful are the only right way. Because you have the right. So coxbangla always offiers the latest news coxbazar, national and international news on current offers, politics, economic, entertainment, sports, health, science, defence & technology, space, history, lifestyle, tourism, food etc in Bengali.

design and development by : webnewsdesign.com