সোমবার ২১শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ | ৬ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম

সোমবার ২১শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

ইউএনওর ওপর হামলা : ঢুকেছিল মাস্ক পরে,‘মৃত ভেবে’ ফেলে রেখে যায় হামলাকারীরা

বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২০
13 ভিউ
ইউএনওর ওপর হামলা : ঢুকেছিল মাস্ক পরে,‘মৃত ভেবে’ ফেলে রেখে যায় হামলাকারীরা

কক্সবাংলা ডটকম(৩ সেপ্টেম্বর) :: গভীর রাতে দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ওয়াহিদা খানমের বাসায় ঢুকে তার ওপর হামলা চালানো দুর্বৃত্তদের মুখে মাস্ক ছিল।

সিসিটিভির ফুটেজ বিশ্লেষণ করে ঘোড়াঘাট থানার ওসি আমিরুল ইসলাম এ তথ্য জানান।

তিনি জানান, সিসিটিভির ফুটেজে দেখা গেছে হামলা ছিল দু’জন। তাদের একজনকে মাস্ক পরিহিত অবস্থায় দেখা গেছে। আরেকজনের চেহারা বোঝা যাচ্ছিল না।

বুধবার রাতে ইউএনও ওয়াহিদা খানমের সরকারি বাসভবনে ঢুকে তার ও তার বাবা ওমর আলী শেখের ওপর হামলা চালায় দুর্বৃত্তরা। উভয়েরই শরীর ও মাথায় আঘাত লেগেছে। ধারণা করা হচ্ছে, পূর্ব শত্রুতার জের ধরে এই ঘটনা ঘটেছে। হাতুড়ি কিংবা ভারী কোনো বস্তু দিয়ে তাদের আঘাত করা হয়েছে।

গুরুতর আহত অবস্থায় বৃহস্পতিবার প্রথমে তাদের রংপুরের একটি বেসরকারি মেডিকেলে ভর্তি করা হয়। পরে ইউএনও ওয়াহিদা খানমকে হেলিকপ্টারে ঢাকার ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্স হাসপাতালে নেওয়া হয়। তার বাবা রংপুরে চিকিৎসাধীন।

জানা গেছে, ইউএনও ওয়াহিদা খানমের বাবা ওমর আলী প্রতিদিন সকালে হাঁটাহাঁটি করেন। কিন্তু বৃহস্পতিবার সকালে তিনি বাড়ি থেকে হাঁটার জন্য বের না হওয়ায় তার সঙ্গীরা খোঁজ নিতে বাড়িতে যান। পরে বাড়িতে ডাকাডাকি করেও কোনো সাড়া না পেয়ে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। পুলিশ এসে ইউএনও ও তার বাবাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠান।

ঘটনার সময় প্রহরীকে একটি ঘরে বেঁধে রাখা হয়েছিল। ঘটনা জানার পরপরই দিনাজপুরের জেলা প্রশাসক মাহমুদুল আলম, পুলিশ সুপার আনোয়ার হোসেনসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে ছুটে যান।

‘মৃত ভেবে’ ফেলে রেখে যায় হামলাকারীরা

হাসপাতালে আনার পর ঘোড়াঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ওয়াহিদা খানমের অবস্থার আরও অবনতি হয়

রাতের আঁধারে দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ওয়াহিদা খানমের সরকারি বাসভবনে হামলা করে দুর্বৃত্তরা। গেটে দারোয়ানকে বেঁধে ফেলে তারা। পরে বাসার পেছনে গিয়ে মই দিয়ে উঠে ভেন্টিলেটর দিয়ে বাসার ভেতরে প্রবেশ করে। ভেতরে ঢুকে ভারি ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ও আঘাত করে ইউএনও ওয়াহিদাকে গুরুতর আহত করে হামলাকারীরা। মেয়েকে বাঁচাতে এলে তার বাবা মুক্তিযোদ্ধা ওমর আলী শেখকে (৭০) জখম করে। উনারা অচেতন হয়ে পড়লে মৃত ভেবে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। ভোরে স্থানীয়রা টের পেয়ে তাদের উদ্ধার করেন। পুলিশ, স্থানীয় কর্মকর্তা ও জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) সকালে আশঙ্কাজনক অবস্থায় রংপুরে কমিউনিটি প্রাইভেট মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের সিসিইউ নেওয়ার পর অবস্থার আরও অবনতি ঘটে। পরে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে তাকে।

নিজের কন্যাকে রক্ষা করতে বৃদ্ধ বাবা মুক্তিযোদ্ধা ওমর আলী শেখ (৭০) এগিয়ে গেলে তাকেও আহত করে সন্ত্রাসীরা। তাকে আহত অবস্থায় রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের সার্জারি ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়, পরে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন হাসপাতালের পরিচালক ডা. ফরিদুল ইসলাম।

রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের নিউরোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. রাজকুমারসহ কয়েকজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ইউএনওকে পরীক্ষা করে সাংবাদিকদের জানান, তার মাথার আঘাত গুরুতর। হাড় দেবে গেছে। তার একটি হাত ও শরীরের এক পাশ অবশ হয়ে গেছে। ডা. রাজকুমার বলেন, ‘দ্রুত অস্ত্রোপচার করা জরুরি। সেজন্য তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। যত তাড়াতাড়ি অপারেশন করা যাবে ততই তার জন্য মঙ্গল।’

এদিকে ঘোরাঘাট উপজেলা চেয়ারম্যান আবদুর রাফে খন্দকার ও উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. নুর নেওয়াজ আহমেদ স্থানীয়দের বরাত দিয়ে জানান, রাত আড়াইটা বা ৩টার দিকে উপজেলা পরিষদ চত্বরে ইউএনও ওয়াহিদা খানমের সরকারি বাসায় হামলা হয়। তখন উনারা সাহায্যের জন্য চিৎকার করেছেন কিনা তা স্থানীয়রা বলতে পারছেন না। ভোরে উনার বাবা হাঁটতে বের না হওয়ায় তার সঙ্গীরা বাসায় গিয়ে খোঁজ নেন। বাড়িতে ডাকাডাকি করেও কোনও সাড়া না পেয়ে পুলিশকে খবর দেন তারা। পরে পুলিশ এসে ইউএনও ও তার বাবাকে আহতাবস্থায় দেখে তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়।.

পুলিশ জানায়, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ওয়াহিদা খানমের একটি ছোট সন্তান রয়েছে। তার স্বামী রংপুরের পীরগঞ্জে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োজিত। তিনি মাঝে মাঝে আসেন। তার বৃদ্ধ বাবা মুক্তিযোদ্ধা ওমর আলী শেখ সম্প্রতি মেয়ের কাছে এসেছেন। ঘটনার দিনে তিনি সেখানে অবস্থান করছিলেন।

আহত ইউএনও’র মা রমিসা খাতুন নওগাঁ থেকে জানান, বুধবার সন্ধ্যায় ফোনে তার মেয়ের সঙ্গে তার কথা হয়েছে। তবে কারা, কেন তার মেয়ের বাসায় ঢুকে তাকে হত্যা করার জন্য কুপিয়েছে তা তিনি জানেন না। তিনি দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।

জেলা প্রশাসক আসিব আহসান বৃহস্পতিবার দুপুরে সাংবাদিকদের বলেন, ‘হত্যার উদ্দেশ্যেই এই হামলা চালানো হয়েছে বলে আমরা মনে করছি। তদন্ত করার পর পুরো ঘটনা জানা যাবে।’

এদিকে ইউএনও আহত হওয়ার খবর পেয়ে রংপুরের বিভাগীয় কমিশনার ওয়াদুদ ভুইয়া, জেলা প্রশাসক আসিব আহসান, র‌্যাব-১৩ রংপুর প্রধান কমান্ডার রেজা আহাম্মেদ ফেরদৌস, মেট্রোপলিটন পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা, রংপুর মেডিক্যাল কলেজের অধ্যাক্ষ ডা. নুরন্নবী লাইজু, হাসপাতালের পরিচালক ডা. ফরিদুল ইসলামসহ জেলা প্রশাসন ও বিভিন্ন উপজেলার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ওয়াহিদা খানমের অবস্থা পরিদর্শনে আসেন।

এদিকে ঘোড়াঘাট থানার ওসি আমিরুল ইসলাম জানান, ‘কারা কীভাবে এ হামলা চালালো তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পুরো উপজেলা পরিষদ চত্বর সিসি ক্যামেরায় আওতায়। সেটাও পরীক্ষা করা হচ্ছে।’

এদিকে রংপুর র‌্যাব-১৩ প্রধান কমান্ডার রেজা আহাম্মেদ ফেরদৌস জানান, ‘আমরা ঘটনা জানার পরপরই পুরো এলাকা কর্ডন করেছি। আশেপাশের এলাকা থেকেও আমাদের একাধিক টিম যোগ দিয়ে কাজ শুরু করেছে। আশা করি আমরা দায়ীদের ধরতে পারবো।’

এদিকে রংপুরের বিভাগীয় কমিশনার ওয়াদুদ ভুইয়া বলেন, ‘এটা একটা জঘন্য ঘটনা। এর সঙ্গে যারাই জড়িত থাক তাদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা হবে। ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী ওয়াহিদা খানমকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।’

দুর্বৃত্তদের গ্রেফতারে পুলিশ কাজ করছে: জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী

জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন (ছবি: সংগৃহীত)

দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ওয়াহিদা খানমকে আঘাতকারী দুর্বৃত্তদের গ্রেফতারে পুলিশ কাজ করছে। পাশাপাশি উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে হেলিকপ্টারে ঢাকায় আনা হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন।

প্রতিমন্ত্রী জানান, ইউএনও ওয়াহিদা খানম এবং তার বাবাকে দুর্বৃত্তরা হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করেছে। ঘোড়াঘাটের ইউএনও’র সরকারি বাসভবনের দোতলার ভেন্টিলেটর ভেঙে বাসায় প্রবেশ করে দুর্বৃত্তরা। তাকে ঢাকার নিউরো সায়েন্স হাসপাতালে চিকৎসা দেওয়া হবে।

ফরহাদ হোসেন বলেন, ‘আমাদের জেলা প্রশাসক এবং পুলিশ সুপার এখনও ঘোড়াঘাটে ইউএনও’র বাসায় অবস্থান করছেন। আমরা কিছুক্ষণ আগে তাদের সঙ্গে কথা বলেছি। এসপি সাহেব জানিয়েছেন, খুব দ্রুতই তারা দুর্বৃত্তদের নাম-ঠিকানা বের করতে পারবেন। তাদের প্রচেষ্টা চলছে। ইউএনও’র বাসায় সিসিটিভি ক্যামেরা ছিল। সেগুলো দেখে দুর্বৃত্তদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে। তবে তাদের মুখে মুখোশ ছিল। তাদের শনাক্তে পুলিশের চৌকস টিম কাজ করছে।’

তিনি বলেন, ‘এটি অবশ্যই একটি দুঃখজনক ঘটনা। অবিলম্বে দুর্বৃত্তরা গ্রেফতার হবে এবং তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হবে।’

 

13 ভিউ

Posted ৪:৪৯ অপরাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২০

coxbangla.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

Archive Calendar

রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি
 
১০১১১২
১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৮২৯৩০  

Editor & Publisher

Chanchal Dash Gupta

Member : coxsbazar press club & coxsbazar journalist union (cbuj)
cell: 01558-310550 or 01736-202922
mail: chanchalcox@gmail.com
Office : coxsbazar press club building(1st floor),shaheed sharanee road,cox’sbazar municipalty
coxsbazar-4700
Bangladesh
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

ABOUT US :

coxbangla.com is a dedicated 24x7 news website which is published 2010 in coxbazar city. coxbangla is the news plus right and true information. Be informed be truthful are the only right way. Because you have the right. So coxbangla always offiers the latest news coxbazar, national and international news on current offers, politics, economic, entertainment, sports, health, science, defence & technology, space, history, lifestyle, tourism, food etc in Bengali.