শনিবার ২৫শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ১০ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম

শনিবার ২৫শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

শিরোনাম

ইয়াবা গডফাদার সাইফুল কি তথ্য দিয়ে গেলেন ?

শনিবার, ০১ জুন ২০১৯
67 ভিউ
ইয়াবা গডফাদার সাইফুল কি তথ্য দিয়ে গেলেন ?

কক্সবাংলা রিপোর্ট(৩১ মে) :: ইয়াবা চোরাকারবারের অন্যতম হোতা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তালিকাভুক্ত সাইফুল করিম (৪৫) পুলিশের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছেন।গত ৩১ মে বৃহস্পতিবার রাতে কক্সবাজারের টেকনাফ বন্দরের কাছে নাফ নদের তীরে এ ঘটনা ঘটে। কক্সবাজারে পুলিশ হেফাজতে থাকা অবস্থায় সাইফুল করিম জিজ্ঞাসাবাদে তার ইয়াবা কারবারে যুক্ত হওয়ার পেছনের গল্প, কারা তাকে সব সময় আশ্রয়-প্রশ্রয় দিয়েছেন, কারা নিয়মিত সুবিধা নিতেন সেসব রাঘববোয়ালের নাম জানিয়েছেন বলে সূত্র জানায়। সাইফুল করিম নিহত হওয়ায় নেপথ্যের এসব কুশীলবের কী হবে, ইয়াবা ব্যবসা কি বন্ধ হবে? এসব নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছেন অনেকেই। নিহত সাইফুল করিম টেকনাফ উপজেলার সদর ইউনিয়নের শিলবুনিয়াপাড়া এলাকার মো. হানিফ ওরফে হানিফ ডাক্তারের ছেলে।

সাইফুল করিম স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তালিকাভুক্ত দ্বিতীয় শীর্ষস্থানীয় ইয়াবা কারবারি।আর তালিকায় এক নম্বরে রয়েছে সাবেক এমপি আবদুর রহমান বদির নাম।এক সপ্তাহ আগে গত শনিবার রাতে সাইফুল করিম মিয়ানমারের ইয়াঙ্গুন থেকে বিমানযোগে দেশে ফেরেন। পরে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে তাকে পুলিশ কক্সবাজার নিয়ে যায়।

জানা গেছে, চলতি বছরের ১৬ ফেব্রুয়ারি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর উপস্থিতিতে প্রথম দফায় ১০২ ইয়াবাকারবারি আত্মসমর্পণ করে টেকনাফে। এ সময় সাইফুল করিমের আত্মসমর্পণের কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত তিনি আসেননি। দ্বিতীয় দফা আত্মসমর্পণের সুযোগকে কাজে লাগাতেই সাইফুল করিম পুলিশের সোর্সের সঙ্গে যোগাযোগ করে আসছিলেন। পরে তাদের আশ্বাসে গত শনিবার ইয়াঙ্গুন থেকে বিমানযোগে ঢাকা আসেন। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নামার পরই পুলিশের একটি টিম তাকে আটক করে কক্সবাজারে নিয়ে যায়। সেখানে নেওয়ার পর ঢাকা থেকে যাওয়া পুলিশের একটি বিশেষ টিমের কাছে ইয়াবা বাণিজ্য নিয়ে পিলে চমকানো তথ্য প্রকাশ করতে থাকেন সাইফুল। তার কাছ থেকে গত কয়েক বছর যারা নিয়মিত সুবিধা নিয়ে আসছিলেন, তাদের নাম প্রকাশ করেন। এ ছাড়া কীভাবে ইয়াবা মিয়ানমার থেকে পাচার করতেন, সারাদেশে ছড়িয়ে দিতেন, তার বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেন যুব সমাজ ধ্বংসকারী এই ইয়াবা ডিলার। তার সিন্ডিকেট ছাড়া আরও যেসব সিন্ডিকেট এখনো ইয়াবার বড় বড় চালান দেশে পাচার করছে, তাদের সম্পর্কেও তথ্য প্রকাশ করেন।

সূত্রে জানা যায়, জিজ্ঞাসাবাদে দেশের অন্যতম শীর্ষ ইয়াবা ডন সাইফুল তাঁর ইয়াবা কারবারের ব্যাপারে অনেক তথ্য দিয়েছেন। এর মধ্যে টেকনাফের সাবেক সংসদ আবদুর রহমান বদি সম্পর্কেও অনেক তথ্য রয়েছে। সাইফুলের দেওয়া তথ্য মতে, টেকনাফ জালিয়াপাড়ার বাসিন্দা জাফর আলম ওরফে টিটি জাফরের মাধ্যমে তিনি ইয়াবার টাকা দুবাই ও সিঙ্গাপুর পাঠাতেন। টিটি জাফরের ভাই টেকনাফ পৌরসভার কাউন্সিলর মনিরুজ্জামান ও অন্য ভাই আব্দুল গফুর তাঁর ইয়াবা কারবারে সহযোগিতা করতেন। সাইফুল তাঁর ইয়াবার চালান ঢাকায় মো. জুবাইর ও হ্নীলার মাহমুদুল্লাহর কাছে পাঠাতেন বলে পুলিশকে জানান। এ ছাড়া তিনি টেকনাফের পল্লানপাড়ার শামসুল আলম শামসু, তাঁর গাড়িচালক সোনা মিয়া, টেকনাফ এলাকার মৌলভী বোরহান, মৌলভী জহির, বাট্টা আয়ুব, হুন্ডি শওকত, হুন্ডি আনোয়ার, মো. শফি, আলী আহমদ, মোহাম্মদ আমিন, সৈয়দ ও আব্দুল হাফেজ তাঁর ইয়াবা কারবারের অন্যতম সহযোগী বলে পুলিশকে তথ্য দিয়েছেন। এ ছাড়া সাইফুল করিম জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশকে দেশে ইয়াবা ছড়িয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে তাঁর সহযোগী হিসেবে জড়িত আইন প্রয়োগকারী সংস্থার বেশ কয়েকজন সদস্য, রাজনৈতিক ও প্রভাবশালী ব্যক্তিদের নাম প্রকাশ করেছেন বলেও জানা যায়।

র‌্যাব-পুলিশের হাত থেকে বাঁচতেই গত বছর সাইফুল করিম সীমান্ত পেরিয়ে মিয়ানমারে আশ্রয় নেন। সেখান থেকেও ইয়াবা ব্যবসা চালিয়ে আসছিলেন। উখিয়া-টেকনাফের সাবেক এমপি আবদুর রহমান বদির ঘনিষ্ঠ সহচর ছিলেন সাইফুল করিম। সাম্প্রতিক সময়ে অবশ্য দুজনের সম্পর্ক ছিল শাপে-নেউলে। ইয়াবা ডন সাইফুল করিমকে আটকের পর টেকনাফ সীমান্তের অনেক রথী-মহারথীর ঘুম হারাম হয়ে যায়। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক সংসদ সদস্য, সাবেক উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান, পৌর কাউন্সিলর, ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ও মেম্বারসহ অনেক প্রভাবশালী ব্যক্তি।আর সাইফুল করিম ইয়াঙ্গুন থেকে দেশে ফেরার খবর জানাজানি হওয়ার পর থেকে টেকনাফ সীমান্তে সাবেক সংসদ সদস্য আবদুর রহমান বদির কথাই উঠে আসছে বারবার।

একাধিক সূত্রে জানা গেছে, মিয়ানমারের বিভিন্ন কারখানায় ইয়াবা তৈরির সঙ্গে সরাসরি যুক্ত ছিলেন সাইফুল করিম। সেখান থেকে প্রতিদিন লাখ লাখ পিস ইয়াবা টেকনাফ সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে পাচার করতেন। এভাবে ইয়াবা কারবার চালিয়ে সাইফুল করিম অঢেল সম্পদের মালিক বনে যান। দেশে-বিদেশে গড়ে তোলেন সম্পদের সম্পদের পাহাড়। অর্থের জোরে সিআইপি কার্ডও বাগিয়ে নেন। কিন্তু সব সময় ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকতেন সাইফুল করিম। টাকা দিয়ে ঘাটে ঘাটে সোর্স পালতেন। সব কিছুই অর্থের বিনিময়ে আপসরফা করতেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত নিজেকে রক্ষা করতে পারেননি।

বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, ২০১০ সালের পর ইয়াবার বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান চালাতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা যে তালিকা তৈরি করে, তাতে শীর্ষস্থানেই তার নাম ছিল। প্রায় প্রতিটি তালিকায়ই নাম ছিল সাইফুল করিমের। গত ফেব্রুয়ারিতে কক্সবাজারে ১০২ মাদক ব্যবসায়ীকে আত্মসমর্পণ করাতে যে মাধ্যমটি ভূমিকা রেখেছিল, সে মাধ্যমেই তিনি আত্মসমর্পণে আগ্রহ প্রকাশ করেন। কিন্তু শেষ মুহূর্তে তিনি আত্মসমর্পণ করেননি।জানা যায়, সাবেক সংসদ সদস্য বদির আত্মীয়স্বজন রয়েছেন মিয়ানমারে। অন্যদিকে মোহাম্মদ ইব্রাহিম নামে সাইফুলের এক আপন মামাও রয়েছেন মিয়ানমারে। সেখানে তিনি প্রভাবশালীদের আস্থাভাজন বলে জানা গেছে। এই ইব্রাহিমই নাফ নদের ওপারে স্থাপিত ৩৭টি ইয়াবা কারখানা থেকে সাইফুলের কাছে ইয়াবার চালান পাঠাতেন। রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে টেকনাফ এলাকায় ইয়াবার চালানের দেখভাল করতেন বদি ও তাঁর সহযোগীরা।আর এবারের ঈদের পর ইয়াবাকারবারিদের দ্বিতীয় দফায় আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানের কথা রয়েছে। আত্মসমর্পণ করার জন্যই মিয়ানমার থেকে দেশে ফেরেন সাইফুল করিম।

এদিকে সাইফুল করিম ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হওয়ার পর টেকনাফের লোকজন বলছে, তালিকার এক নম্বরে থাকা সাবেক সংসদ সদস্য আবদুর রহমান বদি, তাঁর ভাই মৌলভী মুজিব, জাফর চেয়ারম্যান, মৌলভী রফিক উদ্দীন ও মৌলভী আজিজ সিন্ডিকেট এখনো অধরা। একসময় তাঁরাও সাইফুলের মতো টেকনাফ সীমান্তের ইয়াবা কারবারের নিয়ন্ত্রক ছিলেন। তাঁরা আত্মসমর্পণও করেননি কিংবা পুলিশের হাতে আটকও হননি। তাঁদের ব্যাপারে ব্যবস্থা নিলে সীমান্তের ইয়াবা কারবার অনেকটা নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে বলে মনে করেন তাঁরা। বন্দুকযুদ্ধে সাইফুল করিম নিহত হওয়ার পর শুক্রবার সারা দিন কক্সবাজারের মানুষের মধ্যে আলোচনা ছিল এবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তালিকায় এক নম্বরে থাকা সাবেক সংসদ সদস্য আবদুর রহমান বদির কী হবে? তাঁরা বলছেন, সাইফুল নিহত হওয়ায় এবার সীমান্তে ইয়াবা কারবারে বদি’র একচ্ছত্র আধিপত্য তৈরি হবে।

অপরদিকে কক্সবাজারের সুশীল সমাজ বলছে,পুলিশের সাথে কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত সাইফুল করিম দেশের এক নম্বর ইয়াবা চোরাচালানী হয়ে উঠার পিছনে রয়েছেন কিছু জনপ্রতিনিধি, রাজনীতিবিদ আর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য। তাদের আশ্রয় প্রশ্রয়ে বিস্তার করেছে ইয়াবার নেটওয়ার্ক।আর সাইফুলের এসব গডফাদার আর সহযোগীদের আইনের আওতায় না আনলে প্রশ্নবিদ্ধ হবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সব পদক্ষেপ।

সরকারের সব সংস্থা যখন হন্যে হয়ে খুঁজছিলো সাইফুলকে। তখন টেকনাফে কথিত বন্দুকযুদ্ধে মারা যায় তালিকাভুক্ত এক নম্বর ইয়াবা চোরাচালানী সাইফুল করিম।

অভিযোগ আছে, সাইফুলের সাথে বিশেষ সখ্য ছিল রাজনীতিবিদ, জনপ্রতিনিধি, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সহ নানা পেশার লোকজনের। ফলে নব্বই দশক থেকে ইয়াবা ব্যবসা করে এলেও তাদের আশ্রয়ে প্রশ্রয়ে ৫ বছর আগ পর্যন্ত কোন মামলা বা তালিকায় নাম ছিলনা সাইফুলের।

সাইফুলদের আদি বাড়ি মিয়ানমারে। পরে টেকনাফে এসে স্থায়ী হয় তার পরিবার। ৫ ভাইয়ের মধ্যে তিনজন এখন কারাগারে। একসময়ের দরিদ্র সাইফুল করিমের এখন অঢেল সম্পদ চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, ঢাকাসহ দেশের বিভিন্নস্থানে।

জানা গেছে, এতদিন বিদেশে পালিয়ে থাকলেও সম্প্রতি আত্মসমর্পণের আশায় দেশে ফেরেন সাইফুল। তাতে সম্ভাবনা ছিল দেশে ইয়াবা নেটওয়ার্কের বহু তথ্য পাওয়ার। কিন্তু বন্দুকযুদ্ধেই শেষ সাইফুল যুগের।

 

67 ভিউ

Posted ৪:১৯ পূর্বাহ্ণ | শনিবার, ০১ জুন ২০১৯

coxbangla.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

এ বিভাগের আরও খবর

Archive Calendar

রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি
 
১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০  

Editor & Publisher

Chanchal Dash Gupta

Member : coxsbazar press club & coxsbazar journalist union (cbuj)
cell: 01558-310550 or 01736-202922
mail: chanchalcox@gmail.com
Office : coxsbazar press club building(1st floor),shaheed sharanee road,cox’sbazar municipalty
coxsbazar-4700
Bangladesh
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

ABOUT US :

coxbangla.com is a dedicated 24x7 news website which is published 2010 in coxbazar city. coxbangla is the news plus right and true information. Be informed be truthful are the only right way. Because you have the right. So coxbangla always offiers the latest news coxbazar, national and international news on current offers, politics, economic, entertainment, sports, health, science, defence & technology, space, history, lifestyle, tourism, food etc in Bengali.

design and development by : webnewsdesign.com