শনিবার ১৯শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ | ৪ঠা আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম

শনিবার ১৯শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

ইয়াবার সাজা মৃত্যুদণ্ড বিধান করে আসছে সংশোধিত আইন

বুধবার, ২৬ জুলাই ২০১৭
855 ভিউ
ইয়াবার সাজা মৃত্যুদণ্ড বিধান করে আসছে সংশোধিত আইন

কক্সবাংলা রিপোর্ট(২৫ জুলাই) :: মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে স্থলপথ ও সমুদ্র পথে কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফ দিয়ে প্রতিনিয়ত বানের পানির মত ইয়াবা ঢুকছে বাংলাদেশে।এর ফলে মরণনেশা ইয়াবার ভয়ঙ্কর বিস্তার ঘটেছে সারা দেশে। টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া পর্যন্ত মহামারীর মত ছড়িয়ে পড়েছে নীরব ঘাতক ইয়াবা। স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রী, তরুণ-তরুণী শুধু নয়, ব্যবসায়ী, চাকরিজীবীদের একটি অংশ এখন ইয়াবায় আসক্ত। হাত বাড়ালেই ইয়াবা চলে আসায় এর সেবনকারীর সংখ্যা বাড়ছে আশঙ্কাজনক হারে।

ইয়াবার ভয়াবহ আগ্রাসন নিয়ে সরকার যেমন উদ্বিগ্ন, চিন্তিত অভিভাবকমহলও। অথচ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নাকের ডগা দিয়ে বেড়েই চলছে ইয়াবা ব্যবসা। প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম ধ্বংস করে মাদক ব্যবসায়ীরা হাতিয়ে নিচ্ছে হাজার কোটি টাকা। দুই শতাধিক প্রভাবশালী ব্যক্তিবর্গ ও এমপি, রাজনৈতিক নেতার সমন্বয়ে গঠিত শক্তিশালী সিন্ডিকেট ইয়াবা ব্যবসায় সক্রিয়।

এর পরিপ্রেক্ষিতে মরণনেশা ইয়াবাকে ‘ক’ শ্রেণির মাদক হিসেবে চিহ্নিত করে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের বিধান সংযোজন করে আইন সংশোধন করছে সরকার। ইতিমধ্যে প্রস্তাবিত সংশোধিত আইনের খসড়া চূড়ান্ত করা হয়েছে। আলাদা শাস্তির বিধানের ধারাও নতুন করে সংযোজন করা হচ্ছে। এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পুলিশ ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণে ১৯৯০ সালের একটি আইন বিদ্যমান রয়েছে। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোয় মাদকের যে অপব্যবহার, ব্যবসা, মাদকের চোরাচালান বেড়েছে তাতে বিদ্যমান আইন দিয়ে মাদক ব্যবসায়ীদের দমন করা কঠিন হয়ে পড়ছে।

সাম্প্রতিক বছরগুলোয় নতুন করে সংযোজন হয়েছে ইয়াবার ব্যবহার। মিয়ানমার সীমান্ত দিয়ে প্রায় প্রতিদিনই দেশের ভিতরে ঢুকছে ইয়াবার ছোট-বড় চালান। এরপর এই ইয়াবা ছড়িয়ে পড়ছে গ্রামে-গঞ্জে।

তরুণ-যুবকরা এ মরণনেশায় আসক্ত হচ্ছে। ইয়াবা ঘিরে দেশজুড়ে পরিবারগুলোয় একরকম অশান্তি বিরাজ করছে। কিন্তু আইনের দুর্বলতার কারণে ইয়াবা পাচার, ব্যবসা ও ব্যবহারকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ বেশ কঠিন হয়ে পড়ছে।

সূত্র জানায়, এ অবস্থায় বিদ্যমান আইনের দুর্বলতার কারণে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িতরা আইনের ফাঁকফোকর গলিয়ে বেরিয়ে গিয়ে আবারও একই ব্যবসায় জড়িত হচ্ছেন। সরকার ও প্রশাসন মাদকের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি ঘোষণা করলেও মাদককে কোনোভাবেই নিয়ন্ত্রণে আনা যাচ্ছে না।

সম্প্রতি পুলিশের মহাপরিদর্শক এ কে এম শহীদুল হক এক অনুষ্ঠানে বলেছেন, আইনের দুর্বলতার কারণেই মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত শতকরা ৯০ ভাগ অপরাধী কোনো সাজা পাচ্ছে না। ১০ ভাগের সাজা হলেও তা খুব দীর্ঘমেয়াদি কিছু নয়। এর ফলে মাদক ব্যবসা, ব্যবহার ও চোরাচালান কোনোটাই থামছে না।

এ অবস্থায় সরকার ১৯৯০ সালের মাদকবিরোধী আইন সংশোধনের উদ্যোগ নিয়েছে। প্রস্তাবিত নতুন আইনে সর্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদণ্ডের বিধান রাখা হচ্ছে। সে ক্ষেত্রে মাদক হিসেবে ইয়াবাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এটিকে ‘ক’ শ্রেণির মাদক হিসেবে চিহ্নিত করে প্রস্তাবিত সংশোধিত আইনে মৃত্যুদণ্ডের বিধান রেখে নতুন আইন প্রণয়নের কাজ প্রায় চূড়ান্ত করা করা হয়েছে।

এদিকে মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচারবিরোধী আন্তর্জাতিক মাদক দিবস উপলক্ষে মঙ্গলবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল জানিয়েছেন, ‘ইয়াবা মাদকদ্রব্যের মধ্যে শীর্ষে। এটি এত ছোট যা সহজে বহনযোগ্য এবং এটি হাত বদল হলেই মুনাফা বাড়ে। এ দুই কারণে ইয়াবা শহর ছেড়ে গ্রাম পর্যায়ে পৌঁছে গেছে। ইয়াবার বিস্তার রোধে মিয়ানমার-বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী নাফ নদে স্থায়ীভাবে মাছ ধরা নিষিদ্ধ করার পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। ’

তিনি বলেন, ‘নাফ নদ ছোট হওয়ায় মাছ ধরার নৌকায় বা ছোট ছোট নৌকায় মিয়ানমারে গিয়ে ইয়াবা বহন করে নিয়ে আসা সহজ। তাই সাময়িকভাবে ছয় মাসের জন্য নাফ নদে মাছ ধরা নিষিদ্ধ করা হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে জেলেদের পুনর্বাসন করবে সরকার। এ ছাড়া বিষয়টি নিয়ে মিয়ানমার সরকারের সঙ্গেও আমাদের কথাবার্তা হচ্ছে। আমরা তাদের নাফ নদের পাড় থেকে ইয়াবা তৈরির কারখানা সরিয়ে নিতে বলেছি। ’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, ‘ঐশীর কথা সবারই মনে আছে। আমরা চাই না সমাজে আর কোনো ঐশী তৈরি হোক। মাদকের করুণ পরিণতির উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হচ্ছে ঐশী।

এ কারণে এ বছরের মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচারবিরোধী আন্তর্জাতিক দিবসের প্রতিপাদ্য বিষয় নির্ধারণ করা হয়েছে “আগে শুনুন : শিশু ও যুবাদের প্রতি মনোযোগ দেওয়াই তাদের নিরাপদ বেড়ে ওঠার প্রথম পদক্ষেপ”।

’ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, ‘দেশকে মাদকমুক্ত করার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জিরো টলারেন্স নীতি সামনে রেখে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থাগুলো কাজ করে যাচ্ছে। ইয়াবার ভয়াবহতা রোধে সব আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কাজ করছে। মাদকাসক্তিমুক্ত, সুস্থ ও সুন্দর পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে বর্তমান সরকার বদ্ধপরিকর। ’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও জানান, ‘জাতিসংঘের নির্দেশনা অনুযায়ী ২৬ জুন এ দিবস পালিত হয়ে আসছে। তবে ওইদিন ঈদুল ফিতরের ছুটি থাকায় সরকার এটি পরিবর্তন করে এ বছরের জন্য ২৬ জুলাই দিবসটি পালনের জন্য নির্ধারণ করে। এ কারণে আজ পালন হবে মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচারবিরোধী আন্তর্জাতিক দিবস-২০১৭।

দিবসটি উপলক্ষে আজ সকালে র‌্যালি, মাদকবিরোধী টক শো, মোবাইলে মেসেজ, সড়কে আলোকসজ্জাসহ নানা কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে।

’ সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা ও সেবা শাখার সচিব ফরিদ উদ্দিন আহম্মদ চৌধুরী, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের মহাপরিচালক জামাল উদ্দীন আহমেদসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

855 ভিউ

Posted ১:২৮ পূর্বাহ্ণ | বুধবার, ২৬ জুলাই ২০১৭

coxbangla.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

এ বিভাগের আরও খবর

Archive Calendar

রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি
 
১০১১১২
১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৮২৯৩০  

Editor & Publisher

Chanchal Dash Gupta

Member : coxsbazar press club & coxsbazar journalist union (cbuj)
cell: 01558-310550 or 01736-202922
mail: chanchalcox@gmail.com
Office : coxsbazar press club building(1st floor),shaheed sharanee road,cox’sbazar municipalty
coxsbazar-4700
Bangladesh
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

ABOUT US :

coxbangla.com is a dedicated 24x7 news website which is published 2010 in coxbazar city. coxbangla is the news plus right and true information. Be informed be truthful are the only right way. Because you have the right. So coxbangla always offiers the latest news coxbazar, national and international news on current offers, politics, economic, entertainment, sports, health, science, defence & technology, space, history, lifestyle, tourism, food etc in Bengali.