
মোসলেহ উদ্দিন,উখিয়া(২৫ জুলাই) :: সপ্তাহ ধরে টানা বর্ষণ ও পাহাড়ী ঢলে উখিয়ার অধিকাংশ গ্রাম ফের প্লাবিত হয়ে পড়েছে। জলাবদ্ধতার কারণে বন্ধ রয়েছে আমন চাষাবাদ। গ্রামীণ সড়ক ও আরাকান সড়কের উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হওয়ার কারণে কক্সবাজার-টেকনাফ সড়কে দুরপাল্লার যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। দূর্ভোগে পড়েছে শত শত যাত্রী সাধারণ।
মঙ্গলবার দুপুর ১২টার দিকে টর্নেডোর আঘাতে রহমতের বিল ও ধামনখালীতে ২০টি বসতবাড়ি ও মসজিদের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
গত ৬ জুলাই এ উপজেলার আকস্মিক বন্যায় প্রায় অর্ধশতাধিক গ্রাম প্লাবিত হয়ে ৫ শতাধিক বসতবাড়ি সম্পূর্ণ ও আংশিক বিধ্বস্ত হয়েছে। ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে আমন বীজতলা ও গ্রামীণ জনপদের। এসময় পানিতে পড়ে পাহাড় ধ্বসে নিহত হয়েছে ৪ জন।
উপজেলা প্রশাসন ও প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার তথ্য মতে ৫টি ইউনিয়নে প্রায় ৫ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এর আগে ঘূর্ণিঝড় মোরায় আক্রান্ত হয়ে বিপর্যস্ত জনজীবনের ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে না উঠতেই ফের বন্যার আশংকায় আক্রান্ত হওয়ার ভয়ে গ্রামীণ জনপদের সাধারণ মানুষ আতংকে রয়েছে বলে জানা গেছে।
গত ৭ দিনের টানা বর্ষণ ও পাহাড়ী ঢলের পানিতে উপজেলার নি¤œাঞ্চল গুলো প্লাবিত হয়ে বন্যা পরিস্থিতির সার্বিক অবনতি হয়েছে বলে আক্রান্ত ও ক্ষতিগ্রস্থ লোকজনের অভিযোগ।
রাজাপালং ইউনিয়নের হরিণমারা, আমিনপাড়া, দোছরী, হারাশিয়া, কাশিয়ার বিল, হিজলিয়া, কুমার পাড়া, পালংখালী ইউনিয়নের আনজুমানপাড়া, রহমতের বিল, ধামনখালী, বালুখালী, থাইংখালী, তেলখোলা-মোছারখোলা, রতœাপালং ইউনিয়নের ভালুকিয়া, রতœাপালং, থিমছড়ি, তলাতলী, তেলীপাড়া, খোন্দকারপাড়া, টেকপাড়া, হলদিয়াপালং ইউনিয়নের চৌধুরী, পাড়া, মনির মার্কেট, রুমখাঁ বাজার পাড়া, নাপিত পাড়া, বৌ-বাজার, মরিচ্যা প্রভৃতি এলাকা প্লাবিত হয়ে পানিবন্দী হয়ে পড়েছে ১০ হাজারেরও অধিক লোকজন।
কক্সবাজার-টেকনাফ সড়কের পানেরছড়া, কাটির মাথা, চাকমাপাড়া, সাদৃকাটা, থাইংখালী, বালুখালী, কাস্টমস্ এলাকায় সড়কের উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হওয়ার কারণে গত ২ দিন ধরে দুরপাল্লার যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। ফলে দুর্ভোগে পড়েছে শত শত যাত্রী ও ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণি পেশার লোকজন।
পালংখালী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এম গফুর উদ্দিন চৌধুরী জানান,মঙ্গলবার দুপুর ১২টার দিকে রহমতের বিল ও ধামনখালী গ্রামের উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া টর্নেডোর আঘাতে ২০টি বসতবাড়ি, মসজিদের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। লন্ডভন্ড হয়ে গেছে বসতভিটার ফলজ ও বনজ গাছগাছালি।
তিনি জানান, সাম্প্রতিক সময়ে বয়ে যাওয়া বন্যা ও ঘুর্ণিঝড় মোরায় আক্রান্তদের উপর চলমান ভারী বর্ষণ, জলাবদ্ধতায় মরার উপর খাড়ার গাঁয়ে পরিণত হয়েছে। তিনি অবিলম্বে বন্যা দূর্গত এলাকায় ক্ষতিগ্রস্থদের ত্রাণ সামগ্রী বিতরণের জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

Posted ১১:২৯ অপরাহ্ণ | মঙ্গলবার, ২৫ জুলাই ২০১৭
coxbangla.com | Chanchal Das Gupta