রবিবার ১৩ই জুন, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ৩০শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম

রবিবার ১৩ই জুন, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

শিরোনাম

এই ভারতকে দেখেনি চীন

বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২০
92 ভিউ
এই ভারতকে দেখেনি চীন

কক্সবাংলা ডটকম(১৭ জুন) :: ঘরে বাইরে স্নায়ুর চাপটা শেষমেষ আর সহ্য করতে পারল না বেজিং। লাদাখে গায়ের জোর দেখাতে গিয়ে বিনা উসকানিতে হামলা এবং তা রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে টেনে নিয়ে গেল চিনের পিপালস্‌ লিবারেশন আর্মি। যা আন্তর্জাতিক মহলে চিনের সাম্রজ্যবাদী চেহারা আরও উন্মুক্ত করে দিল।

১৯৭৫ সালের পরে এই প্রথম সীমান্ত বিবাদ রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে পৌঁছল, ফলে আন্তর্জাতিক পরিসরে আগেভাগেই চাপে থাকা বেজিং এখন বুঝতে পেরেছে কৌশলগত ভুলটা এবার তাঁদের হাত থেকেই হল। কারণ সীমান্ত বিবাদে আন্তর্জাতিকমহল বিশেষ করে আমেরিকা, ব্রিটেন, ফ্রান্স, জাপান সহ ইউরোপীয় ইউনিয়ন অনেক আগে থেকেই ভারতের পাশে।

তার ওপর করোনা নিয়ে তথ্য গোপনের অভিযোগে আন্তর্জাতিকমহলে কাঠগড়ায় বেজিং। গোদের ওপর বিষফোঁড়া আমেরিকার সঙ্গে বাণিজ্য যুদ্ধ যা কিনা আরও একটি ঠান্ডাযুদ্ধের জন্ম দিতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। এতো গেল বাইরের চাপ, ঘরেও হংকং ইস্যুতে চাপে চিনের্ কমিউনিস্ট সরকার। তাই সবদিক থেকে চাপে পড়ে এই প্রথম স্নায়ু ধরে রাখতে পারল না চিনা কমিউনিস্ট সরকার।

গালোয়ান ভ্যালির রক্তপাত নিয়ে আন্তর্জাতিকমহলে যে বেজিংকে প্রশ্নের মুখে পড়তেই হবে, তা আগেভাগে আঁচ করেই বেজিংয়ের সরকারি গণমাধ্যমগুলি তড়িঘড়ি আসরে নেমে পড়েছে। দাবি করতে শুরু করেছে ভারতীয় সেনা চিন সীমানা পেরিয়ে ঢুকে পড়ার ফলে এটা হয়েছে।

সেক্ষেত্রে ভারতকে আগ্রাসক বলে অভিহিত করার চেষ্টা চলছে পুরোদমে। যদিও বেজিংয়ের সেই দাবি কোনওভাবেই ধোপে টেকে না কারণ, সীমানা পেরিয়ে ভারত ভূ-খণ্ডে ঢুকে বসে আছে চিন, ভারত নয়। আন্তর্জাতিকমহলও চিনের সাম্রজ্যবাদী চরিত্র সম্পর্কে অবহিত। তিব্বত এবং হংকংয়ের ইতিহাস ভুলে যায়নি বিশ্ব।

চিনের এই স্নায়ুর চাপ সহ্য করতে না পারার আরও একটি বড় কারণ, বদলে যাওয়া ভারতের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য। এই ভারত যে আগের ভারত নয় তা বেজিং ভাল করেই বুঝতে পারছে। এর আগে ডোকলাম দখল করতে এসে বাধার মুখে পড়তে হবে এবং পরে পিছু হঠতে হবে তা স্বপ্নেও ভাবতে পারেনি বেজিং।

অন্যদিকে ড্রাগনের আপত্তি সত্ত্বেও, ভারত ২৫৫ কিলোমিটারের রাস্তা-ব্রিজ তৈরি করে ফেলেছে নিয়ন্ত্রণরেখার সমান্তরাল বরাবর। তাই নিয়ন্ত্রণরেখার যে কোনও দুর্গম এলাকায় অতিদ্রুত সামরিক অস্ত্র, ট্যাঙ্ক নিয়ে এখন পৌঁছে যেতে পারে ভারতীয় সেনা।

প্রসঙ্গত, আরও কয়েক কিলোমিটার রাস্তা তৈরি বাকি যা তৈরি হয়ে গেলে আকসাই চিনের একেবারে ঘাড়ের কাছে নিঃশ্বাস ফেলবে ভারতীয় সেনা। আর তা মরিয়া করে তুলেছে চিনকে। ফলশ্রুতি গোলোয়ান ভ্যালিতে চিনের অনুপ্রবেশ। এখানে বলে রাখা দরকার গোলায়ান উপত্যকা নিয়ে কোনও ঐতিহাসিক বিবাদ নেই। এলকাটি বিবাদহীনভাবেই ভারতের অংশ। এখানে আরও বলে রাখা প্রয়োজন, ভারত যে পরিকাঠামো এখন তৈরি করছে তেমনই কৌশলগত পরিকাঠামো নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর অনেক আগেই তৈরি করে ফেলেছে চিন। তাই নিয়ন্ত্রণরেখার এপারে ভারতের জন্যও এমন পরিকাঠামো অত্যন্ত প্রয়োজন।

লক্ষ্যনীয় হল কূটনৈতিক স্তরে বিষয়টি নিয়ে ভারত-চিন আলোচনার মধ্যে এই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটল। স্বাভাবিকভাবেই চিনের ধৈর্য্যচ্যুতি ঘটছে। নিয়ন্ত্রণরেখা পেরিয়ে অনুপ্রবেশ, ফাইটার জেট নিয়ে এসে, ব‌্যাপক সংখ্যায় সেনা মোতায়েন করেও ভারতের রাস্তা তৈরির কাজ থামানো যায়নি। আর তা মেনে নেওয়া কষ্টকর বেজিংয়ের পক্ষে। উল্টে সমসংখ্যক সেনা এবং অস্ত্র মোতায়েন করেছে ভারতও।

প্রতিরক্ষামন্ত্রকও স্পষ্ট করে দিয়েছে রাস্তা তৈরির কাজ যেমন চলছে তেমনই চলবে। তাই নিজেদের হাতের কাঠের পুতুল পাকিস্তানের পাশাপাশি এখন নেপালের কমিউনিস্ট সরকারকে হাত করে ভারতকে বিব্রত করছে চিন। কিন্তু এসব করেও যে কোনও লাভ হচ্ছে না, তাও বুঝতে পারছে বেজিং। তাই এবার রাতের অন্ধকারে ড্রাগন লাদাখে আরও একটু ভিতরে ঢুকে আসার চেষ্টা করতেই রুখে দাঁড়ায় ভারতীয় সেনা। খবর অনুযায়ী গুলি না চললেও পাথর এবং রোড নিয়ে সংঘর্ষ এমন জায়গায় পৌঁছায় যে দুই পক্ষের অনেকের মৃত্যু হয়।

ঘটনা ভারতকে যতটা না বেশি আশ্চর্য করেছে চিনের কাছে আরও বেশি আশ্চর্যের। কারণ এতদিন তাঁরা মনে করে এসেছে ভারত পাকিস্তানের সঙ্গে কড়া মনোভাব নিয়ে থাকলেও চিনের সঙ্গে তা করা ভারতের পক্ষে সম্ভব নয়, বেজিংয়ের ধারণা ছিল কূটনৈতিক স্তরে যাই হোক একেবারে সরেজমিনে সামন্য বলপ্রয়োগেই ভারত পিছু হঠবে। কিন্তু ড্রাগনের এই ধারণা যে আসলে একটা মিথ তা প্রমাণ করে দিয়েছে নয়াদিল্লি।

যুদ্ধের পরিস্থিতি এখনও তৈরি হয়নি। এটাও ঠিক যে যুদ্ধ কোনওভাবেই চায় না বেজিং। পরিস্থিতি সেই দিকে যাক তা চায়না নয়াদিল্লিও। এক্ষেত্রে ভারত-চিন দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য যেমন একটা বিষয়। তেমনই দুই পরমাণু শক্তিধর বড় দেশের যুদ্ধে যাওয়া কতটা মারত্মক হতে পারে তা বলার অবকাশ রাখে না। এছাড়াও বিশ্ব অর্থব্যবস্থায় ২০৩০ এর মধ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে সরিয়ে প্রথম স্থান দখল করার স্বপ্ন দেখছে চিনের কমিউনিস্ট পার্টি, ভারতের সঙ্গে যুদ্ধ জিনপিংয়ের সেই স্বপ্ন ভেঙে চুরমার করে দিতে পারে। তাই সরাসরি যুদ্ধে যাওয়ার কথা ভাবতেই পারেনা বেজিং।

অন্যদিকে ইতিহাসে এই প্রথম চিন ইস্যুতে ভারত স্পষ্ট অবস্থান জানিয়েছে, প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং ইতিমধ্যেই জানিয়েছেন, ভারত পৃথিবীর কোনও দেশের সার্বভৌমত্বে আঘাত করে না এবং পৃথিবীর কোনও দেশ ভারতের সার্বভৌমত্বে আঘাত করার চেষ্টা করলে তা সহ্য করা হবে না। নয়াদিল্লির এমন স্পষ্ট বার্তা বেজিং আশা করেনি।

কাশ্মীরে ৩৭০ ধারাকে বিলুপ্ত করে লাদাখকে আলাদা কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল ঘোষিত করাও ভালোভাবে নেয়নি বেজিং, কারণ চিন-পাকিস্তান ইকোনমিক করিডর গিয়েছে পাক এবং চিন অধিকৃত কাশ্মীরের উপর দিয়ে। এই করিডরে সায় নেই নয়াদিল্লির। তাই সবদিক বিশ্লেষণ করলে একটা বিষয় স্পষ্ট যে এই ভারতকে দেখতে অভ্যস্ত নয় চিন আর তারজন্যই খানিকটা মরিয়া হয়েই কূটনৈতিক আলোচনার পাশাপাশি সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ছে চিন। যা আন্তর্জাতিকমহলে চিনকে আরও সমালোচনার মুখে ফেলবে।

ফলে এখনই আরও দ্রুততার সঙ্গে কূটনৈতিকভাবেই ভারতের সঙ্গে ড্যামেজ কন্ট্রোলের পথে হাঁটবে বেজিং। সেই দিকে তড়িঘড়ি হাঁটতেও শুরুও করেছে বেজিং। নয়াদিল্লিরও অবস্থানও স্পষ্ট, যে কোনও বিতর্কের সমাধান আলোচনার টেবিলেই চাইছে ভারত কিন্তু ইট মারলে পাটকেল খেতে হবে সেটাও স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। তাই ড্রাগন চাইলে হাতি একসঙ্গে নাচতে প্রস্তুত, কিন্তু ড্রাগন বিষ ছড়ালে হাতি তাকে শুঁড়ে তুলে আছাড় মারবে সেটাও স্পষ্ট।

ভারতের উপর যে কারণে ক্ষিপ্ত চীন

চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিন পিং যখন গত সপ্তাহে চীনা সেনাবাহিনীকে ‘সার্বভৌমত্ব রক্ষায় যুদ্ধের জন্য তৈরি থাকার’ পরামর্শ দেন তাকে অধিকাংশ পর্যবেক্ষক ব্যাখ্যা করেছেন সীমান্তে নতুন করে শুরু হওয়া সঙ্কটে ভারতের প্রতি চীনের প্রচ্ছন্ন একটি হুমকি হিসেবে।

কারণ চীনা কম্যুনিস্ট পার্টির মুখপাত্র দি গ্লোবাল টাইমসেও গত কয়েকদিনে ভারতকে লক্ষ্য করে একই ধরনের আক্রমণাত্মক লেখালেখি হচ্ছে।

চীন এবং ভারতের মধ্যে সীমান্ত নিয়ে বিরোধ নতুন কোনো বিষয় নয়, কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে এখন হঠাৎ করে এই করোনাভাইরাস প্যানডেমিকের ভেতর এই সঙ্কট শুরু হলো কেন?

পশ্চিমা এবং ভারতীয় অনেক বিশ্লেষক লিখছেন, বিশ্বে নিজেদের প্রভাব বলয় বিস্তারের চেষ্টা চীন বেশ কিছুদিন ধরে করে চলেছে এবং করোনাভাইরাস প্যানডেমিকে সারা বিশ্ব যখন ব্যতিব্যস্ত, তখন বেইজিং এটাকে একটা লক্ষ্য হাসিলের সুযোগ হিসেবে ব্যবহার করছে। শুধু সীমান্তে চাপ তৈরি নয়, হংকংয়ে সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠায় আরো কঠোর পদক্ষেপ নিতে শুরু করেছে চীন।

এসব পর্যবেক্ষক বলছেন, ২০০৮ সালের বিশ্ব অর্থনৈতিক মন্দার পরও সঙ্কটে পড়া দেশগুলোকে ঋণ-সাহায্য দিয়ে অনেকটা একইভাবে বেইজিং তাদের প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করেছে।

লাদাখে অবকোঠামো নিয়ে উদ্বিগ্ন চীন

তবে অনেক বিশ্লেষক বলছেন, লাদাখ সীমান্তের গালওয়ান উপত্যকায় গত কয়েকবছর ধরে ভারত যেভাবে রাস্তাঘাটসহ অবকাঠামো তৈরি করছে তাতে চীন সত্যিই উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ছে এবং ভারতের এই কর্মকাণ্ড তারা আর মেনে নিতে রাজি নয়।

কুয়ালালামপুরে মালয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব চায়নার অধ্যাপক সৈয়দ মাহমুদ আলী বলছেন, চীন ও ভারতের সীমান্ত রেখা নিয়ে অস্পষ্টতা এবং বিরোধ ঐতিহাসিক, ‘কিন্তু গত দশ-বারো বছরে সীমান্তের পাহাড়ি এলাকায় ভবিষ্যতে সম্ভাব্য যুদ্ধের প্রস্তুতি হিসেবে ভারত যেভাবে ব্যাপক হারে অবকাঠামো নির্মাণ করে চলেছে তাতে চীন বেশ কিছুদিন ধরে উদ্বিগ্ন।’

তিনি বলেন, ভারতে কট্টর জাতীয়তাবাদী একটি সরকারের ক্ষমতা-গ্রহণ এবং যুক্তরাষ্ট্রের সাথে তাদের সামরিক এবং রাজনৈতিক নৈকট্যে বেইজিংয়ের উদ্বেগ দিন দিন আরো বাড়ছে।

হংকং ভিত্তিক এশিয়া টাইমসে তার এক লেখায় সুইডিশ বিশ্লেষক বার্টিল লিনটার বলছেন, লাদাখে ভারতের সড়ক নির্মাণকে চীন একটি হুমকি হিসেবে দেখতে শুরু করেছে।

তিনি বলছেন, বিশেষ করে পশ্চিম জিনজিয়াং প্রদেশের কাসগর শহর থেকে তিব্বতের রাজধানী লাশা পর্যন্ত সামরিক কৌশলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ যে মহাসড়ক চীন তৈরি করেছে তার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে চীনের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

এমনিতেই এই দুটো প্রত্যন্ত প্রদেশ এবং সেখানকার বাসিন্দাদের আনুগত্য নিয়ে চীন সবসময়েই উদ্বেগে। উপরন্তু এই মহাসড়কটি আকসাই চীন নামে যে এলাকার মধ্য দিয়ে গেছে সেটিকে ভারত তাদের এলাকা বলে বিবেচনা করে। এলাকাটি ভারতীয় মানচিত্রের অংশ।

সুতরাং, মি. লিনটার বলছেন, সেই অঞ্চলের কাছে ভারতের অবকাঠামো নির্মাণের তৎপরতা চীন মেনে নিতে পারছে না।

‘ভারতের সেনাবাহিনীকে চরম মূল্য দিতে হবে’

চীনের গ্লোবাল টাইমসে গত কয়েকদিনে বেশ কিছু সম্পাদকীয় এবং উপ-সম্পাদকীয়তে ভারতের বিরুদ্ধে এমন সব কড়া কড়া ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে যা সাম্প্রতিক সময়ে দেখা যায়নি। ১৯ মে প্রকাশিত সংখ্যায় তারা লাদাখের গালওয়ান উপত্যকায় ‘অবৈধ প্রতিরক্ষা স্থাপনা’ তৈরির জন্য ভারতকে সরাসরি অভিযুক্ত করেছে।

লেখা হয়েছে, ‘ভারত যদি উসকানি অব্যাহত রাখে তাহলে তাদের সেনাবাহিনীকে চরম মূল্য দিতে হবে।’

১৯৬২ সালে চীন-ভারত যুদ্ধের প্রসঙ্গ টানছে গ্লোবাল টাইমস। ২৫মে মে এক সম্পাদকীয়তে লেখা হয়েছে – ‘যদিও যুক্তরাষ্ট্রের সাথে চীনের সম্পর্কে উত্তেজনা চলছে, তারপরও ১৯৬২ সালের যুদ্ধের সময়কার তুলনায় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে চীনের অবস্থান এখন অনেক সুদৃঢ়। চীনের অর্থনীতি এখন ভারতের চেয়ে পাঁচগুণ বড়।’

চীনা কম্যুনিস্ট পার্টির মুখপাত্রে এ ধরণের কথাবার্তাকে অনেক বিশ্লেষক বিরল হুমকি হিসাবে ব্যাখ্যা করছেন।

চীন-বিরোধী অক্ষশক্তির অগ্রভাগে ভারত?

চীন ও ভারতের মধ্যে তাদের ৩৩০০ কিলোমিটার সীমান্ত নিয়ে বিরোধ নতুন কিছু নয়। আকসাই চীন অঞ্চলের ১৫০০০ বর্গমাইল এলাকাকে ভারত তাদের এলাকা বলে দাবি করে। অন্যদিকে ভারতের উত্তর-পূর্বের রাজ্য অরুণাচলকে চীন তাদের এলাকা বলে মনে করে।

চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিন পিং সম্প্রতি চীনা সেনাবাহিনীকে ‘সার্বভৌমত্ব রক্ষায় যুদ্ধের জন্য তৈরি থাকার’ নির্দেশ দেন।

১৯৬২ সালে সীমান্ত নিয়ে দুদেশের মধ্যে যুদ্ধ পর্যন্ত হয়েছে। ২০১৭ সালে ভুটানের সীমান্তে দোকলাম নামক একটি এলাকায় চীনের রাস্তা তৈরি নিয়ে চীন ও ভারতের সৈন্যরা ৭২দিন ধরে মুখোমুখি দাঁড়িয়ে ছিল। যুদ্ধ বেঁধে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল।

তবে অনেক বিশ্লেষক বলছেন, লাদাখে ভারতের রাস্তা নির্মাণ ছাড়াও ভারত চীনের জন্য অন্য মাথাব্যথারও কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

জোট বেধে চীনকে কোণঠাসা করার যে চেষ্টা যুক্তরাষ্ট্র শুরু করেছে, ভারতকে সেই জোটের অংশ হিসেবে দেখছে চীন।

ড. সৈয়দ মাহমুদ আলী, যিনি ভারত-চীন বৈরিতা নিয়ে গবেষণা-ধর্মী একটি বই লিখেছেন, বিবিসিকে বলেন, চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব প্রতিপত্তিকে বাগে আনার চেষ্টায় যুক্তরাষ্ট্র গত এক দশকে যে একটি ’অক্ষশক্তি’ তৈরি করেছে, ভারত তার অগ্রভাগে।

আমেরিকা মনে করে চীনকে শায়েস্তা করার ক্ষেত্রে যে দেশটি তাদের সবচেয়ে বেশি সাহায্য করতে পারে সেটি হলো ভারত। এজন্য গত দশ বছরের তারা ভারতের কাছে ২০০ কোটি ডলারের মত অত্যাধুনিক সমরাস্ত্র বিক্রি করেছে।

গ্লোবাল টাইমস সম্প্রতি তাদের বিভিন্ন লেখায় এমন কিছু মন্তব্য এবং তুলনা টেনেছে যাতে বোঝা যায় যে ভারতকে চীন এখন যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে চীন বিরোধী একটি অক্ষের অংশ হিসেবে মনে করছে।

২৫মে মে চীনা একজন বিশ্লেষক লং শিং চুং এক উপ-সম্পাদকীয়তে লেখেন, ‘ভারত সরকার যেন তাদের দেশকে যুক্তরাষ্ট্রের কামানোর গোলা হিসেবে ব্যবহৃত না হতে দেন। যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাপার দুই দেশকেই সতর্ক থাকবে হবে, কারণ যে কোনো সুযোগেই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা নষ্ট করা যুক্তরাষ্ট্রের স্বভাব।’

ভেঙে পড়ছে সম্পর্কের স্থিতি

১৯৮৮ সালে চীন এবং ভারতের মধ্যে এক ধরনের বোঝাপড়া হয় যে তারা সীমান্ত নিয়ে কোনো বিরোধে জড়াবে না, যাতে দুটো দেশই অর্থনীতির প্রবৃদ্ধিতে মনোনিবেশ করতে পারে। কিন্তু গত ৩২ বছরে পরিস্থিতি আমূল বদলে গেছে।

১৯৬২র যুদ্ধের পর ৪৪ বছর বন্ধ থাকার পর ২০০৬ সালে নাথুলা সীমান্ত পথ ব্যবসার জন্য খুলে দেয়া হলেও মাত্র দুবছরের মধ্যেই বাণিজ্যের উৎসাহে ব্যাপকভাবে ভাঁটা পড়ে। ১৯৮৮ তে ভারত ও চীনের অর্থনীতি ছিল প্রায় একই মাপের। একই পরিমাণ অর্থ তারা প্রতিরক্ষায় খরচ করতো।

কিন্তু এখন চীনের অর্থনীতি ভারতের পাঁচগুণ বড়। প্রতিরক্ষায় ভারতের চেয়ে চারগুণ বেশি খরচ করছে চীন। সম্পর্কের হিসাব বদলে গেছে, যুক্তরাষ্ট্রে প্রতিরক্ষা এবং কূটনীতি বিষয়ক সাময়িকী ফরেন পলিসিতে লিখেছেন সুমিত ব্যানার্জি।

চীন ভারতের প্রধাণ বাণিজ্যিক সহযোগী, যদিও চীনের রপ্তানির চেয়ে অনেক বেশি আমদানি করে ভারত। গতবছর বাণিজ্য ঘাটতির পরিমাণ ছিল ৫৩০০ কোটি ডলার।

বাণিজ্য কি সংঘাত ঠেকাতে সাহায্য করবে?

ড. মাহমুদ আলী মনে করেন, বিশাল এই ঘাটতির কারণেই ভারতের মধ্যে এখন চীনের সাথে বাণিজ্য সম্পর্ক নিয়েও আর তেমন আগ্রহ নেই। ‘বরঞ্চ ভারত এখন খোলাখুলি বলছে, চীন থেকে বিদেশী বিনিয়োগকারীরা এলে ভারত সবরকম সাহায্য দেবে।’

ড. আলী মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্র এবং চীনের মধ্যে যে বৃহত্তর কৌশলগত বিরোধ – যেটাকে নতুন এক শীতল যুদ্ধের সাথে তুলনা করা হচ্ছে – চলছে তার ভেতর ভারত ঢুকে পড়েছে।

যেটা, তার মতে,পারমাণবিক অস্ত্রধর দুই প্রতিবেশীর মধ্যে সীমান্ত সঙ্কট মোকাবিলার পথকে দিনকে দিন কঠিন এবং বিপদসংকুল করে ফেলছে।

92 ভিউ

Posted ৩:১৬ পূর্বাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২০

coxbangla.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

Archive Calendar

রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি
 
১০১১১২
১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৮২৯৩০  

Editor & Publisher

Chanchal Dash Gupta

Member : coxsbazar press club & coxsbazar journalist union (cbuj)
cell: 01558-310550 or 01736-202922
mail: chanchalcox@gmail.com
Office : coxsbazar press club building(1st floor),shaheed sharanee road,cox’sbazar municipalty
coxsbazar-4700
Bangladesh
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

ABOUT US :

coxbangla.com is a dedicated 24x7 news website which is published 2010 in coxbazar city. coxbangla is the news plus right and true information. Be informed be truthful are the only right way. Because you have the right. So coxbangla always offiers the latest news coxbazar, national and international news on current offers, politics, economic, entertainment, sports, health, science, defence & technology, space, history, lifestyle, tourism, food etc in Bengali.

design and development by : webnewsdesign.com