
কক্সবাংলা ডটকম(১০ আগস্ট) :: চলতি বছরের শেষে অথবা আগামী বছরের শুরুতে অনুষ্ঠিত হতে পারে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক দলগুলো যেমন প্রস্তুতি নিচ্ছে, তেমনি প্রস্তুতি চলছে ঢাকার বিদেশী মিশনগুলোয়ও।
আগামী জাতীয় নির্বাচনে পর্যবেক্ষক পাঠানোর জন্য মাঠ পর্যায়ের প্রস্তুতি প্রায় সম্পন্ন করে ফেলেছে দূতাবাসগুলো। ঢাকায় বিভিন্ন দেশের কূটনৈতিক মিশনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে এ তথ্য জানা গেছে।
কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, কূটনীতিকরা আগামী জাতীয় নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু, গ্রহণযোগ্য ও অংশগ্রহণমূলক দেখতে চান। ফলে আগে থেকেই সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে নিজেদের প্রত্যাশার কথা জানিয়ে দিচ্ছেন তারা।
বিশেষ করে নির্বাচনকে সামনে রেখে আওয়ামী লীগের রাজনীতির দিকে চোখ রাখছেন কূটনীতিকরা। ক্ষমতাসীন দলটি আগামী জাতীয় নির্বাচন সুষ্ঠু করার জন্য নিজেদের দেয়া প্রতিশ্রুতি কতটুকু বাস্তবায়ন করে, সেদিকে নজর রাখছেন তারা। সেই সঙ্গে বাংলাদেশের সার্বিক অর্থনীতি, স্থিতিশীলতা ও রাজনৈতিক পরিস্থিতিও বিশ্লেষণ করছেন পশ্চিমা কূটনীতিকরা।
আগামী জাতীয় নির্বাচনে পর্যবেক্ষক পাঠানো নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত রেনসিয়ে টিরিঙ্ক বণিক বার্তাকে বলেন, পর্যবেক্ষক পাঠানোর বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে শিগগিরই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।
ঢাকার ইইউ মিশন সূত্রে জানা গেছে, এবারের নির্বাচনে আগের মতো বড় নির্বাচনী পর্যবেক্ষক দল হয়তো পাঠাবে না ইইউ। কারণ চলতি বছর আফ্রিকাসহ বিশ্বের অনেক দেশে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।
যেহেতু প্রতিনিধি দল পাঠানোর সঙ্গে বাজেট বরাদ্দের একটি বিষয় থাকে, তাই বাংলাদেশে নির্বাচনী পর্যবেক্ষক পাঠানোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত আসতে কিছুটা বিলম্ব হচ্ছে। তবে ছোট পরিসরে হলেও ইইউর একটি পর্যবেক্ষক দল বাংলাদেশে নির্বাচনে থাকবে।
বাংলাদেশের আগামী জাতীয় নির্বাচন নিয়ে প্রস্তুতির বিষয়ে জানতে চাইলে পশ্চিমা এক কূটনীতিক বলেন, গত মাসে বিভিন্ন দূতাবাসের কর্মকর্তারা নির্বাচনী পর্যবেক্ষক পাঠানোর প্রস্তুতির কাজ শুরু করেছেন। তারা হেডকোয়ার্টারে পরিস্থিতির পূর্ণ ব্যাখ্যা দিয়েছেন। মূলত হেডকোয়ার্টার থেকে যে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে, সেটাই চূড়ান্ত হবে। তবে আগেরবারের মতো পর্যবেক্ষক না দেয়ার ভুল করবে না তারা।
তিনি আরো বলেন, দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক না হওয়ায় ও নির্বাচনপূর্ব সহিংসতার কারণে গতবার বাংলাদেশে পর্যবেক্ষক পাঠায়নি উন্নয়ন সহযোগী ও বিদেশী মিশনগুলো।
ফলে এক ধরনের অনিয়মের মধ্যদিয়ে নির্বাচন সম্পন্ন করে সরকার পূর্ণ মেয়াদ সম্পন্ন করছে। এবার আর এ ভুল করবেন না কূটনীতিকরা। পর্যবেক্ষক পাঠানোর মাধ্যমে অনিয়মের মাত্রা কমিয়ে আনতে চান তারা।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন হয় ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি। ওই নির্বাচনে অন্যতম বৃহৎ রাজনৈতিক দল বিএনপিসহ অধিকাংশ দলই অংশ নেয়নি। ফলে একতরফা নির্বাচনে সুষ্ঠু পরিবেশের অভাব ও নির্বাচন কমিশনের ওপর আস্থা না থাকায় সেবার পর্যবেক্ষক পাঠায়নি বিদেশী দূতাবাসগুলো।
যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ অন্য দেশগুলো নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। এ অবস্থায় আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য করতে ইসিকেই শক্তিশালী ভূমিকায় দেখতে চায় তারা।

Posted ১২:৫৩ অপরাহ্ণ | শুক্রবার, ১০ আগস্ট ২০১৮
coxbangla.com | Chanchal Das Gupta