বুধবার ২রা ডিসেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ | ১৭ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম

বুধবার ২রা ডিসেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

শিরোনাম

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন : কক্সবাজার জেলায় সরগরম হয়ে উঠছে ভোটের মাঠ

শনিবার, ১৪ অক্টোবর ২০১৭
515 ভিউ
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন : কক্সবাজার জেলায় সরগরম হয়ে উঠছে ভোটের মাঠ

কক্সবাংলা রিপোর্ট(১৪ অক্টোবর) :: একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বছর বাকি থাকলেও কক্সবাজারে ইতোমধ্যে কিছুটা হলেও সরগরম হয়ে উঠেছে ভোটের মাঠ। নিজ নিজ ঘর গোছাতে ব্যস্ত রাজনৈতিক দলগুলো। সম্ভাব্য প্রার্থীরা স্ব-স্ব নির্বাচনী এলাকায় ব্যানার, ফেস্টুন ও পোস্টারের মাধ্যমে শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন। নিজ নিজ নেতাদের নামে কর্মী-সমর্থকরা বিলবোর্ড তৈরি করে প্রচারণা চালাচ্ছেন। সরকারি দল ব্যানার-ফেস্টুনের মাধ্যমে উন্নয়নের ফিরিস্তি তুলে ধরছেন। কর্মীদের নিয়ে দলীয় ও ব্যক্তিগত মতবিনিময়, কর্মীসভা, পথসভা করছেন। শহর ও গ্রামের দোকানগুলোতে চায়ের কাপে উঠছে আগামী নির্বাচন নিয়ে বিচার বিশ্লেষন। বিভিন্ন স্থানে চলছে নির্বাচনী প্রস্তুতিমূলক নানা কর্মকান্ড।

কক্সবাজার জেলার ৮টি উপজেলা নিয়ে গঠিত চারটি সংসদীয় আসন।সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী কক্সবাজার জেলায় মোট ভোটার ১২ লাখ ৬২ হাজার ৭১৬ জন।এদের মধ্যে পূরুষ ভোটারের সংখ্যা ছয় লাখ ৪৯ হাজার ৫০৭জন এবং মহিলা ভোটারের সংখ্যা ছয় লাখ ১৩ হাজার ২০৯ জন।এবার দেখা যাক জেলার ৪টি আসনে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীদের অবস্থান।

কক্সবাজার-১ (চকরিয়া-পেকুয়া)

জেলার চকরিয়া ও পেকুয়া উপজেলা নিয়ে কক্সবাজার-১ আসন গঠিত।এ আসনের ভোটার সংখ্যা তিন লাখ ৬০ হাজার ৬২২ জন।এর মধ্যে চকরিয়ায় দুই লাখ ৬২ হাজার ২৬৮ জন এবং পেকুয়ায় ৯৭ হাজার ৩৫৪ জন।

এদের মধ্যে চকরিয়ায় পূরুষ ভোটারের সংখ্যা এক লাখ ৩৬ হাজার ২৪০ জন এবং মহিলা ভোটারের সংখ্যা এক লাখ ২৭ হাজার ২৮ জন।আর পেকুয়ায় পূরুষ ভোটারের সংখ্যা ৫০ হাজার ৩২৩ জন এবং মহিলা ভোটারের সংখ্যা ৪৭ হাজার ৩১ জন।

এ আসন থেকে সম্ভাব্য প্রার্থী আলোচনায় রয়েছেন বর্তমান চকরিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি জাফর আলম, জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সালাউদ্দিন আহমদ সিআইপি, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি রেজাউল করিম ও সুচিন্তা ফাউন্ডেশনের চট্টগ্রাম বিভাগীয় আহ্বায়ক ড. আশরাফুল ইসলাম সজিব,।

এদের মধ্যে সালাউদ্দিন আহমদ সিআইপি অতীতে একাধিকবার দলীয় মনোনয়ন পেয়েও নির্বাচিত হতে পারেননি। দলীয় নেতা হিসেবে গুরুত্ব থাকলেও তার জনসম্পৃক্ততা তেমন নেই। জাফর আলম অতীতে একাধিকার দলীয় টিকেট দাবি করলেও মনোনয়ন বঞ্চিত হন। তাই কোনোবার সংসদ নির্বাচনে অংশ নেয়া সম্ভব হয়নি। তবে গত চকরিয়া উপজেলা নির্বাচনে বিপুল ভোটে উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন জাফর আলম। তবে বিভিন্ন সময় উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতা কর্মীরাদের সাথে বিতর্কে জড়ান তিনি। কয়েকবার চকরিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা বিতর্কিত কর্মকান্ডের জন্য তাকে বহিষ্কারও করে। আবার গত জেলা আওয়ামী লীগের কাউন্সিলেও কাউন্সিলরদের সমর্থনে এগিয়ে থাকলেও কাউন্সিল ছাড়াই কমিটি ঘোষণা হওয়ার কারণে ছিটকে পড়েন জাফর আলম।

তাছাড়া রেজাউল করিম বর্তমান জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান তাই প্রত্যেক ইউনিয়নে গণসংযোগ করছেন। পাশাপাশি ইউনিয়ন- ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের নেতা কর্মীদের সাথে নিজের লবিং চালিয়ে যাচ্ছেন। এরই মধ্যে জন সমর্থন বাড়াতে মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন। তবে ড. আশরাফুল ইসলাম সজিব তরুণ নেতা হিসেবে জনপ্রিয়তায় রয়েছেন।

তবে এ আসনটিতে কেন্দ্রীয় বিএনপি নেতা ও সাবেক মন্ত্রী সালাইদ্দিন আহমদের স্ত্রী ও ২০০৮ সালে এ আসনে নির্বাচিত এমপি হাসিনা আহমদ এর শক্ত অবস্থানের পাশাপাশি সাম্ভ্যব্য বিজয়ী হিসাবে গণ্য করা হয়।

কক্সবাজার-২ (মহেশখালী-কুতুবদিয়া)

অন্যদিকে দুই সাগর বেস্টিত দ্বীপ মহেশখালী ও কুতুবদিয়া উপজেলা নিয়ে কক্সবাজার-২ আসনের ভোটার সংখ্যা দুই লাখ ৭৬ হাজার ৪৩৬জন।এর মধ্যে মহেশখালীতে এক লাখ ৯৫ হাজার ৯৩২জন এবং কুতুবদিয়ায় ৮০ হাজার ৫০৪ জন।

এদের মধ্যে মহেশখালীতে পূরুষ ভোটারের সংখ্যা এক লাখ এক হাজার ২৭১ জন এবং মহিলা ভোটারের সংখ্যা ৯৪ হাজার ৬৬১ জন।আর কুতুবদিয়ায় পূরুষ ভোটারের সংখ্যা ৪১ হাজার ৭৯৭ জন এবং মহিলা ভোটারের সংখ্যা ৩৮ হাজার ৭০৭ জন।

এ আসনে সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকায় রয়েছেন বর্তমান সাংসদ আশেক উল্লাহ রফিক, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাড. সিরাজুল মোস্তফা, জেলা আওয়ামী লীগ নেতা ড. আনছারুল করিম ও সাবেক কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ নেতা ওসমান গণি।

তবে আসনটিতে বিএনপি’র সাবেক এমপি আলমগীর ফরিদ এবং কুতুবদিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান ও জেলা বিএনপি নেতা নুরুল বশর চৌধূরীর নাম প্রতিদ্বন্দিতায় শোনা যাচ্ছে। এছাড়া জাতীয় পার্টি থেকে কবীর আহম্মদ সওদাগর এবং মহিবুল্লাহর নামও প্রার্থী হিসাবে উঠে এসেছে।

এর মধ্যে অ্যাড. সিরাজুল মোস্তফা ও ড. আনছারুল করিম অতীতে দলীয় টিকেট পেয়েও সংসদে যেতে ব্যর্থ হয়েছেন। আর ওসমান গণি নিজেকে জনগণের কাছে তুলে ধরার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

আর ভোটবিহীন নির্বাচিত হলেও তরুণ সাংসদ হিসেবে আশেক উল্লাহ রফিক পুনরায় মনোনয়ন পাওয়ার জন্য জোর তৎবির চালিয়ে যাচ্ছেন।

আর কক্সবাজারের ৪টি আসনের মধ্যে জামায়াতের ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত মহেশখালী-কুতুবদিয়ার এ আসনটি। বিগত নবম সংসদ নির্বাচনে জামায়াতের র্শীষ নেতা হামিদুর রহমান আজাদ দাঁড়ি-পাল্লা প্রতীক নিয়ে বিপুল ভোটে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়। তাই এ আসনে প্রার্থীকে বিজয় করতে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছে আওয়ামী লীগ। কারণ কক্সবাজার জেলায় মহেশখালীতে সব চেয়ে বেশি উন্নয়ন করে যাচ্ছে আওয়ামী লীগ সরকার।

কক্সবাজার-৩ (সদর-রামু)

জেলার গুরুত্বপূর্ণ কক্সবাজার সদর ও রামু উপজেলা নিয়ে কক্সবাজার-৩ আসনের ভোটার সংখ্যা তিন লাখ ৮১ হাজার ৭৬৫ জন।এর মধ্যে সদরে ২লাখ ৩৪হাজার ৭৫৯ জন এবং রামুতে ১লাখ ৪৭ হাজার ছয় জন।

এদের মধ্যে সদরে পূরুষ ভোটারের সংখ্যা এক লাখ ২২ হাজার ৫০৮ জন এবং মহিলা ভোটারের সংখ্যা এক লাখ ১২ হাজার ২৫১ জন।আর রামুতে পূরুষ ভোটারের সংখ্যা ৭৫ হাজার ১৮১ জন এবং মহিলা ভোটারের সংখ্যা ৭১ হাজার ৮২৫ জন।

এ আসন থেকে সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে আলোচনায় রয়েছে বর্তমান সাংসদ সাইমুম সরওয়ার কমল, জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সভানেত্রী কানিজ ফাতেমা আহমেদ, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মুজিবুর রহমান, জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য রাশেদুল ইসলাম, জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক নাজনিন সরওয়ার কাবেরী, রামু উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সোহেল সরওয়ার কাজল ও কক্সবাজার উন্নয়ন কতৃপক্ষ (কউক) চেয়ারম্যান লে. কর্ণেল (অব.) ফোরকান আহমদ। এর মধ্যে বর্তমান সাংসদ কমলের পরিবারে তিন জন মনোনয়ন প্রত্যাশী। তাই ঘরোয়া বিরোধের জেরে রাজনীতিতে সম্পূর্ণ দুইভাবে বিভক্ত রামুতে বর্তমান সাংসদ কমল নিজেকে তুলে ধরতে এবার সফল নাও হতে পারেন।

কারণ ঘরের মধ্যেই ঘোর বিরোধী রয়েছে সাংসদ কমলের বড় ভাই উপজেলা সভাপতি কাজল। আর এ সুযোগ কাজে লাগাতে ভুল করবেন না সম্ভাব্য প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থীরা। তাছাড়া ২০০৮ সালের নির্বাচনে দলীয় টিকেট পেয়েও সাংসদ সাইমুম সরওয়ার কমল বিএনপির প্রার্থীর কাছে চরম পরাজিত হওয়ার বিষয়টিও আগামী নির্বাচনের মনোনয়নে বিবেচ্য হতে পারে।

এছাড়া সফল নারী নেত্রী হিসেবে কানিজ ফাতেমা আহমেদের দিকে সবুজ সংকেত রয়েছে। তবে মুজিবুর রহমানের জনপ্রতিনিধি হিসেবে জনপ্রিয়তা কিছুটা বেড়েছে। বিগত পৌর নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে বিপুল ভোটে হেরেছেন জামায়াত প্রার্থীর কাছে। মুজিবুর রহমানের পক্ষে একাদিক কেন্দ্রীয় নেতার সমর্থন রয়েছে। একইভাবে দলীয় মনোনয়ন আশাবাদী বর্তমান সাংসদের বোন নাজনিন সরওয়ার কাবেরিও।

এছাড়াও আগামী নির্বাচনে কক্সবাজার নিয়ে দলীয় প্রধানের দূরদর্শী চিন্তাধারাও রয়েছে বলে ধারণা করছেন শীর্ষ নেতারা। দক্ষ সংগঠক ও ক্লিন ইমেজের জন্য দলীয় নেতাকর্মীদের সবচেয়ে জনপ্রিয় রাশেদুল ইসলাম। দুঃসময়ে দলের পাশে দাঁড়ানোর জন্য তৃণমূল থেকে শুরু করে কেন্দ্রীয় নেতাদের কাছেও গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে তার। দলীয় সভানেত্রী শেখ হাসিনা তাকে একবার মহাজোট থেকে মনোনয়নও দেন। অতীতে বিএনপি পারলেও আওয়ামী লীগ এখনো কক্সবাজার থেকে একজনও মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী করতে পারেননি।

আর তাই আগামী নির্বাচনে বর্তমান কউক চেয়ারম্যান ও সাবেক দক্ষ সেনা কর্মকর্তা লে. কর্নেল (অব.) ফোরকান আহমদকে দিয়ে আওয়ামী লীগ সেই অভাবটি পূরণ করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। কারণ ফোরকান আহমদের সম্পর্কে দলীয় প্রধানের বাস্তব ধারণা রয়েছেন। তাই আগামী নির্বাচনে সাবেক সেনা কর্মকর্তা ফোরকান আহমদকেও দলীয় টিকেট দিতে পারেন বলে ধারণা করছেন অনেকে।

এরই মধ্যে সাংসদ কমলের বড় ভাই রামু উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সোহেল সরওয়ার কাজলও মনোনয়ন পেতে কেন্দ্রে লবিং শুরু করে দিয়েছে। রামু উপজেলায় দুই ভাইয়ের দ্বন্দের কারণে দলীয় কর্মকান্ড ঝিমিয়ে পড়েছে বলে দাবি করছেন আওয়ামী লীগের অনেক ত্যাগী নেতা তাদেরকে দায়ী করছেন।

তবে সবদিক বিবেচনায় এ আসনে সবচেয়ে শক্ত প্রতিদ্বন্ধি এবং সাম্ভ্যব্য বিজয়ী হিসাবে ২০০৮ সালের নির্বাচনে জয়ী এবং কেন্দ্রীয় বিএনপি নেতা লুৎফর রহমান কাজল রয়েছেন।এছাড়াও শক্ত প্রতিদ্বন্ধি হিসাবে রয়েছেন দল বিচ্ছিন্ন সাবেক এমপি শহিদুজ্জামান এবং সদর উপজেলা চেয়ারম্যান ও জামায়াত নেতা রহিমুল্লাহ।

কক্সবাজার-৪ (উখিয়া-টেকনাফ)

সর্বশেষ রোহিঙ্গা অধ্যূষিত এলাকা উখিয়া ও টেকনাফ উপজেলা নিয়ে কক্সবাজার-৪ আসনের ভোটার সংখ্যা দুই লাখ ৪৩ হাজার ৮৯৩ জন।এর মধ্যে উখিয়ায় এক লাখ ১০ হাজার ৫৭৯ জন এবং টেকনাফে এক লাখ ৩৩ হাজার ২৯৬ জন।

এদের মধ্যে টেকনাফে পূরুষ ভোটারের সংখ্যা ৬৬ হাজার ৩৯৯ জন এবং মহিলা ভোটারের সংখ্যা ৬৬ হাজার ৮৯৭ জন।আর উখিয়ায় পূরুষ ভোটারের সংখ্যা ৫৫ হাজার ৭৮৮ জন এবং মহিলা ভোটারের সংখ্যা ৫৪ হাজার ৮০৯ জন।

এ আসনে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন বর্তমান সাংসদ আব্দুর রহমান বদি, সাবেক সাংসদ ও টেকনাফ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অধ্যাপক মোহাম্মদ আলী, জেলা পরিষদ সদস্য ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান শফিক মিয়া, জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি শাহ্ আলম ওরফে রাজা শাহ আলম ও উখিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হামিদুল হক চৌধুরী।

এর মধ্যে শাহ আলম ওরফে রাজা শাহ আলম ও হামিদুল হক চৌধুরীর জনসম্পৃক্ততা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। মোহাম্মদ আলী ও শফিক মিয়ার জনপ্রিয়তা ও জনসম্পৃক্ততা থাকলেও বর্তমান সাংসদ আব্দুর রহমান বদির জনপ্রিয়তার কাছে ধরাশয়ী তারা। যদিও ইয়াবা চোরাচালান বিষয়ে সারাদেশে আলোচিত-সমালোচিত বদি। অনেকেই তাকে বর্তমান সরকারের ভাবমুর্তি নষ্টের জন্য দায়ী করেন। কিন্তু এই আসনে বিএনপির শক্তিশালী প্রার্থী শাহজাহান চৌধুরীর সাথে লড়াই করে বিজয় ছিনিয়ে আনা একমাত্র বদির পক্ষেই সম্ভব।

কারণ ব্যক্তিগত কর্মকাণ্ডের জন্য বিতর্ক থাকলেও উখিয়া-টেকনাফের প্রতিটি মানুষের অন্তরে পৌঁছতে সক্ষম হয়েছেন আব্দুর রহমান বদি। একারণে অনেকেই দাবী তুলছেন পূণরায় ওই আসনে দলকে বিজয়ী করতে আ.লীগ থেকে আব্দুর রহমান বদিকে মনোয়ন দিতে।

অনেকেই তাকে বর্তমান সরকারের ভাবমুর্তি নষ্টের জন্য দায়ী করেন। আওয়ামী লীগ সরকার দুই মেয়াদে ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় ইয়াবা, মানবপাচার ও রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে সবচেয়ে আলোচিত উখিয়া-টেকনাফেন এ আসনটি। ইয়াবা ও মানব পাচারের স্বর্গরাজ্য হিসেবে সারাদেশে আলোচিত এই অঞ্চলটি। সেই বদনাম ঘুচাতে আওয়ামী দলীয় সভানেত্রী সম্প্রতি কক্সবাজারে একটি জনসভায় ইয়াবার বিরুদ্ধে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। সভানেত্রীর এই হুঁশিয়ারি থেকেই অনেকে ধারণা করছেন উখিয়া-টেকনাফ আসনে আওয়ামী লীগে পরিবর্তন আসতে পারে। সেই হিসাবে দলীয় মনোনয়ন পেতে অনেক প্রার্থী নতুন করে তোড়জোড় শুরু করে দিয়েছেন।

দেশের শেষ সীমান্তের উখিয়া-টেকনাফ আসনটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আর এই অঞ্চলের ইয়াবা ও মানবপাচারের বদনাম মুছতে আওয়ামী লীগ নতুন প্রার্থী দিতে পারে। আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের বিশ্বাস সবদিক বিবেচনা করে এই আসনে প্রার্থী দিতে ভুল করবেন না দলীয় সভানেত্রী শেখ হাসিনা।

তবে সবদিক বিবেচনায় বদি এগিয়ে থাকলেও জেলা বিএনপি সভাপতি ও সাবেক দুইবারের এমপি শাহজাহান চৌধূরীর অবস্থানও বেশ ভালো রয়েছে।এছাড়া জেলা জামায়াত নেতা শাহজালাল চৌধূরী এবং জাতীয় পার্টি থেকে তাহা ইয়াহিয়ার নাম প্রতিদ্বন্দিতায় রয়েছে।

জানা যায়,২০১৪ সালে বিএনপি জোট নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করলেও আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির জোটসহ অন্যান্য দল নির্বাচনে অংশ নিতে তাদের দলীয় নেতা থেকে শুরু করে তৃণমূল পর্যায়ে আলাপ-আলোচনা চলছে।গ্রুপিং প্রকাশ্যে না থাকলেও আগামী নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিএনপির নেতাকর্মীরা অনেকটা চাঙ্গা আছেন। রাজনৈতিক মিটিং-মিছিল বা বড় কোনো প্রোগ্রাম করতে দেখা না গেলেও নিয়মিত গণসংযোগের মাধ্যমে সরকারের দুর্বল দিকগুলো তুলে ধরে তারা নির্বাচনে এ ৪টি আসনই উদ্ধারের জন্যে ভেতরে ভেতরে তৈরি হচ্ছেন বলে জানা গেছে।এখন অপেক্ষা কে কোন্ দলের মনোনয়ন পান। এখানে জামায়াতের কোনো প্রার্থীর নাম শোনা না গেলেও জাতীয় পার্টি থেকে প্রার্থী হওয়ার কথা শোনা যাচ্ছে।

নির্বাচনকে ঘিরে পাশাপাশি মাঠের নেতারা সম্ভাব্য প্রার্থী তালিকায় নিজেদের সম্পৃক্ত রেখে মনোনয়ন প্রাপ্তির চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এসব প্রার্থী এলাকায় প্রচার-প্রচারণা শুরু করে দিয়েছেন। এলাকায় দলীয় নেতার ছবিসহ নিজের ছবি দিয়ে পোস্টার, ব্যানার, ফেস্টুন লাগিয়ে গণসংযোগসহ নানা কর্মকাণ্ড চালাতে যোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন সম্ভাব্য প্রার্থীরা।

জেলার চারটি আসনে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মধ্যে বিরোধ থাকলেও অন্যান্য জেলার চেয়ে কক্সবাজার চারটি আসনে এখনো পর্যন্ত মোটোমুটি সব দলের মধ্যে ভাতৃত্ব রয়েছে। সম্ভাব্য নবীন এবং প্রবীণ প্রার্থীরা ব্যক্তিগত যোগাযোগের পাশাপাশি প্রকাশ্যে কর্মী সভা, জনসভা, বিয়ের অনুষ্ঠানের মাধ্যমে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে জামায়াত প্রকাশ্যে না থাকলেও ভিতরে ভিতরে তাদের নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানা গেছে।

এরশাদ সরকারের আমলে জেলার ৪টি আসন তাদের দখলেই ছিল। এরশাদ সরকারের পতনের পর ১৯৯১ সালের নির্বাচনে জেলার চারটি আসনের মধ্যে দুইটি বিএনপির, একটি আওয়ামী লীগের ও একটি জামায়াতের ঘরে উঠে।

১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করলে মূলত বিএনপি জেলার চারটি আসনের মধ্যে তিনটি আসন লাভ করে।২০০১ সালের নির্বাচনে জেলার চারটি আসনেই বিএনপি জয়ী হয়। ২০০৮ সালের নির্বাচনে দুইটি আসনে বিএনপি, একটিতে আওয়ামী লীগ ও একটিতে জামায়াত জয় লাভ করে।২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারীর একতরফা নির্বাচনে জেলার তিনটি আসন আওয়ামী লীগের ও একটি আসন জাতীয় পার্টির অনুকূলে যায়।

আর আসন্ন একাদশ সংসদ নির্বাচনে কক্সবাজারের ৪টি আসনই আওয়ামী লীগ ও তাদের জোট দখলে নিতে চায়। অপরদিকে বরাবরই শক্ত ঘাটি হিসাবে বিএনপি জোট এ আসনগুলো পুনরায় দখলে নিতে জোর লড়াইয়ের মনোভাব নিয়ে মাঠে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছে।সংশ্লিষ্ঠদের মতে আসন্ন একাদশ সংসদ নির্বাচনে বিএনপি জোট নির্বাচনে আসলে এখানকার ৪টি আসনেই হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে আওয়ামী লীগ জোটের প্রার্থীর সঙ্গে।

 

515 ভিউ

Posted ৫:৫৭ অপরাহ্ণ | শনিবার, ১৪ অক্টোবর ২০১৭

coxbangla.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

এ বিভাগের আরও খবর

Archive Calendar

রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি
 
১০১১১২
১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৮২৯৩০৩১  

Editor & Publisher

Chanchal Dash Gupta

Member : coxsbazar press club & coxsbazar journalist union (cbuj)
cell: 01558-310550 or 01736-202922
mail: chanchalcox@gmail.com
Office : coxsbazar press club building(1st floor),shaheed sharanee road,cox’sbazar municipalty
coxsbazar-4700
Bangladesh
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

ABOUT US :

coxbangla.com is a dedicated 24x7 news website which is published 2010 in coxbazar city. coxbangla is the news plus right and true information. Be informed be truthful are the only right way. Because you have the right. So coxbangla always offiers the latest news coxbazar, national and international news on current offers, politics, economic, entertainment, sports, health, science, defence & technology, space, history, lifestyle, tourism, food etc in Bengali.

design and development by : webnewsdesign.com