
শাহিদ মোস্তফা শাহিদ,সদর(২৯ নভেম্বর) ::কক্সবাজারের ঈদগাও-ঈদগড়-বাইশারী সড়কে অপহরন ঘটনা এখন নিত্য নৈমিত্য ব্যাপার হয়ে দাড়িয়েছে। এসব এলাকায়।প্রতিনিয়ত অপহরনের ঘটনা ঘটলেও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী নির্লিপ্ততায় সংঘবদ্ধ অপহরনকারী চক্র বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। গত ২১ নভেম্বর দুই ব্যক্তিকে অপহরনের রেস কাটতে না কাটতেই আবারও অপহরন হয়েছে আরও দুই জন।এঘটনায় এলাকার লোকজনের মধ্যে অপহরণ আতংক দেখা দিয়েছে।
জানা যায়,মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১০ টার দিকে কক্সবাজার সদর ও রামুর মধ্যবর্তী ঈদগাঁও-ঈদগড় সড়কে ইসলামাবাদ গজালিয়া এলাকায় যানবাহনে থামিয়ে ডাকাতির ঘটনা ঘটে। এ সময় দুই ব্যক্তিকে অপরণ করে নিয়ে যায় ডাকাতদল। অপহরনের ১৪ ঘন্টা পেরিয়ে গেলেও অপহৃতদের খোঁজ খবর পাওয়া যায়নি।
অপহৃতরা হল- নুরুল আমিন (৩৫), হেলাল উদ্দিন (২০)। তারা দুইজনই ঈদগড় ইউনিয়নের বাইতুশ শরফ এলাকার বাসিন্দা।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ঈদগাঁও থেকে ঈদগড় যাওয়ার পথে সিএনজি ও ১টি মোটরসাইকেল ব্যারিকেড দেয়। ১০/১২ জনের জন সশস্ত্র ডাকাতদল যাত্রীদের মারধর করে নগদ ৫০/৬০ হাজার টাকা, মোবাইল,প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কেড়ে নিয়ে যায়।সিএনজির অপর এক যাত্রী আব্দুল্লাহ জানান,তাকেও অপহরণ করে নিয়ে যাওয়ার সময় কৌশলে সে পালিয়ে আসে।
সিএনজিতে থাকা তার দুলাভাই নুরুল আমিনকে অপহরণ করে নিয়ে যায়।হেলাল উদ্দিনের চাচাত ভাই সাবেক মেম্বার বেলাল উদ্দিন জানান,তার ছোট ভাই জরুরী কাজ সেরে ঈদগাঁও থেকে মোটর সাইকেল যোগে ঈদগড়ে আসার পথে উল্লেখিত স্থানে অপহরণের শিকার হন।
এ ব্যাপারে ঈদগাঁও পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ মিনহাজ মাহমুদ ভুইয়া জানান, খবর পেয়ে পুলিশের কয়েকটি টিম পাহাড়ে অভিযান চালাচ্ছে।
ঈদগড় পুলিশ ক্যাম্পে দায়িত্বপ্রাপ্ত এ এস আই মোরশেদ আলম জানান, ঈদগাঁও-ঈদগড় সড়কে রাত ৮টার পর গাড়ি চলাচল বন্ধ থাকলেও রাত ১০টার পর কিছু অসাধু ড্রাইভার তা না মানার কারণে এই রকম দূর্ঘটনা ঘটে। ঘটনাটি শোনার পর পরই আমি সিএনজি গাড়িটি জব্দ করি।
প্রসঙ্গত গত ২১ নভেম্বর মঙ্গলবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে নিজ বাড়ী থেকে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার দোছড়ি ইউনিয়নের বাঁকখালী মৌজার ছাগল খাইয়া গ্রামের বাসিন্দা মোঃ হোছন (৪২) ও নুরুল আজিমকে (৩২) ৮/১০ জনের সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের একটি দল অপহরণ করে নিয়ে যায়।
অপহরণের দুইদিন পর অপহৃতদের মোবাইল থেকে ফোন করে পরিবারের সদস্যদের নিকট ৭ লাখ টাকা মুক্তিপন দাবী করে আসছিল সন্ত্রাসীরা। টাকার পরিমাণ কম হলেও এবং যথাসময়ে টাকা পরিশোধ না করলে তাদের হত্যা করা হবে বলেও মোবাইল ফোনে হুমকি দিয়ে আসছিল সন্ত্রাসীরা।
এছাড়া বিগত দিনেও দোছড়ি ইউনিয়নের বাঁকখালী মৌজার ছাগল খাইয়া থেকে ৬জন তামাক চাষী অপহরণ করেছিল সন্ত্রাসীরা। তাদেরকেও মুক্তিপনের বিনিময়ে সন্ত্রাসীরা ছেড়ে দেয় বলে স্থানীয়রা জানান।

Posted ৪:৩২ অপরাহ্ণ | বুধবার, ২৯ নভেম্বর ২০১৭
coxbangla.com | Chanchal Das Gupta