বৃহস্পতিবার ২রা ডিসেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ১৭ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম

বৃহস্পতিবার ২রা ডিসেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

শিরোনাম

কক্সবাজারের তমব্রু জিরো পয়েন্টে আটকে পরা রোহিঙ্গারা কেমন আছে ?

শুক্রবার, ৩০ মার্চ ২০১৮
347 ভিউ
কক্সবাজারের তমব্রু জিরো পয়েন্টে আটকে পরা রোহিঙ্গারা কেমন আছে ?

কক্সবাংলা রিপোর্ট(২৯ মার্চ) :: কাঁটাতারে বিভাজিত দুই রাষ্ট্রের মধ্যকার নিরপেক্ষ সীমানাকেই ডাকা হয় নো ম্যানস ল্যান্ড নামে। জাতিগত পরিচয় আর জাতিরাষ্ট্রের নাগরিকত্বহীন রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের শিশুদের ক্ষেত্রে এমন স্থানই হয়ে উঠেছে বিনোদনকেন্দ্র। সেখানেই কুঁড়ে ঘর ও পানির পাম্পের কাছাকাছি ফাঁকা জায়গায় খেলছে রোহিঙ্গা  শিশুরা। কেউ দড়ি নিয়ে লাফাচ্ছে, কেউ পাম্প থেকে পানি ছুঁড়ছে অন্য বন্ধুর দিকে। পাশেই গল্প করছে বড়রা।

অস্থায়ী এই বাড়িগুলোর একটু পেছনেই কাঁটাতারের বেড়া। তার পেছনেই অস্ত্র হাতে মিয়ানমারের সীমান্ত পুলিশ। কাঁটাতারে ঘেরা বেড়া দিয়েই অপলক তাকিয়ে থাকেন দিল মোহাম্মদ নামে এক রোহিঙ্গা। নিরাপত্তায় নিয়োজিত পুলিশকে অতিক্রম করে তার চোখ খুঁজে ফেরে নিজের বসত ভিটা। স্বপ্ন জাগে মনে, কোনও একদিন নিজ গ্রামে ফিরতে পারার স্বপ্ন।

তবে নির্মম সত্য, মিয়ানমার-লাগোয়া নো ম্যানস ল্যান্ডে অবস্থান করলেও চেকপয়েন্ট পেরিয়ে ভেতরে যাওয়ার সুযোগ নেই তার। দিল মোহাম্মদ একা নন। তার মতো করেই আরও পাঁচ হাজার রোহিঙ্গা আশ্রয় নিয়েছেন এখানে। রাখাইনের সহিংসতা থেকে বাঁচতে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা প্রায় সাত লাখ রোহিঙ্গার মধ্যে যারা ফিরে যেতে চায়,  এরা ছিলেন তাদের প্রথম কাতারে।

গত বছরের ২৫ আগস্ট রাখাইনের কয়েকটি নিরাপত্তা চৌকিতে হামলার পর পূর্বপরিকল্পিত ও কাঠামোবদ্ধ সহিংসতা জোরালো করে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। হত্যা-ধর্ষণসহ বিভিন্ন ধরনের সহিংসতা ও নিপীড়ন থেকে বাঁচতে পালিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশকরে প্রায় সাত লাখ রোহিঙ্গা। কক্সবাজারের শরণার্থী শিবিরগুলোতে আশ্রয় নেয় তারা।

পালিয়ে আসা মানুষদের একটা ছোট অংশ থেকে যায় নো ম্যানস ল্যান্ডে, তমব্রু চেকপয়েন্ট কক্সবাজার থেকে ৪৫ কিলোমিটর দূরে। নো ম্যানস ল্যান্ড হলেও কার্যত এটি মিয়ানমারের মধ্যে। একটি ছোট খাল দিয়ে অঞ্চলটি বিভক্ত করেছে মিয়ানমার ও বাংলাদেশ সীমান্তকে। চেকপয়েন্টে থাকা মিয়ানমার সীমান্ত পুলিশ রোহিঙ্গাদের রাখাইনে প্রবেশ করতে দিচ্ছে না। তবে বাংলাদেশ সাড়া দিচ্ছে তাদের মানবিক আর্তিতে। খাবার স্বাস্থ্য ও অন্যান্য সুবিধার জন্য তাদের আসতে হচ্ছে বাংলাদেশে।

এলাকাটি সরেজমিন পরিদর্শন করেছেন বিবিসির সাংবাদিক আরবারাসন এথিরাজন। তিনি কথা বলেছেন রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের মানুষের সঙ্গে। চারটি বিজিবি চেকপয়েন্ট পার হতে পেরেছিলেন এথিরাজন। তবে মিয়ানমারে ঢুকাতে পারেননি তিনি। দিল মোহাম্মদ ও বাকি রোহিঙ্গাদের তাই বাংলাদেশে সীমান্তে এসেই কথা বলতে হয়েছে। এথিরাজন দেখেছেন, দাফতরিকভাবে দুই রাষ্ট্রের মধ্যকার ওই নিরপেক্ষ অঞ্চলেই বাঁশের খুটি দিয়ে ঘর বানিয়েছে রোহিঙ্গারা। ঘরে প্লা্স্টিকের দেয়াল আর পলিথিনের ছাদ।

এমন ঘরেই করতে হচ্ছে রাত্রিযাপন। খাবার পানির পাম্পের পাশ দিয়েই গেছে পয়নিস্কাশনের পাইপ। কাঁটাতারের বেড়া পেরোলেও চোখে পড়বে ছোট একটি পাহাড়। সেখানেই মিয়ানমারের সীমান্ত পুলিশের চেকপোস্ট। বেড়ার ওপাশেই কাদামাটির রাস্তায় এমন অসংখ্য চেকপোস্ট রয়েছে।  দিল মোহাম্মদ বলেন. ‘আমরা অন্যপাশে অনেক ‍পুলিশ দেখি। মাঝে মাঝে পুলিশ বেড়ার ওপরে উঠে মাইকে ঘোষণা করে বলে যেন আমর বাংলাদেশে চলে যাই।’

চলতি মাসের প্রথমেই ওই অঞ্চলে উত্তেজনা তৈরি হয়। নিরাপত্তার অজুহাতে নতুন করে সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া দেয় মিয়ানমার। কোথাও কোথাও কংক্রিটের দেওয়াল নির্মাণের মধ্য দিয়ে সুরক্ষা জোরদারের চেষ্টা করা হয়। কোথাও খোঁড়া বাঙ্কার, কোথাও আবার স্থাপন করা হয় সীমান্ত নিরাপত্তা চৌকি।

বিবিসি জানায়, মিয়ানমার সীমান্তের দিকে তাকালে দেখা যায় ট্রাকে করে আসছে সীমান্তরক্ষীরা। তাদের হাতে তাঁক করা রাইফেল, চোখে সতর্ক অবস্থানের চিহ্ন। বিজিবি জানায়, হঠাৎ করেই মিয়ানমার সীমান্তে সেনা সংখ্যা বাড়ানো শুরু করে। পেছনে সরে যেতে বলা হয়েছে তাদের।

নুরুসান নামে এক রোহিঙ্গা নারী বলেন, মিয়ানমারে সেনাবাহিনী তার ও পরিবারের ওপর গুলি চালালে তিনি গ্রাম থেকে পালিয়ে আসেন। কিন্তু এখানেও খুব ভালো নেই তারা। বিবিসিকে তিনি বলেন, ‘এই আশ্রয়শিবিরে জীবন খুবই কঠিন। খুব গরম, রান্নার জন্য লাকড়িও পাওয়া যায় না। ইউনিসেফের ডাক্তাররা মাঝে মাঝে আসেন, এছাড়া কোনও চিকিৎসা সুবিধাও নেই।’ এর আগে রোহিঙ্গাদের খাদ্য ও চিকিৎসা সেবা দেওয়া মিয়ানমারের আন্তর্জাতিক রেড ক্রস কমিটির প্রধান ফ্যাব্রিজিও কারবোনি বলেছিলেন, এটা থাকার জন্য নিরাপদ জায়গা নয়।

রোহিঙ্গা আশ্রয় শিবিরবাংলাদেশে পালিয়ে আসা প্রায় সাত লাখ রোহিঙ্গার প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া এগুচ্ছে ধীর গতিতে। পাঁচ হাজার শরণার্থীর একটি গ্রুপ বাংলাদেশ সীমান্তের কোনাপাড়া এলাকায় মিয়ানমারের অভ্যন্তরে স্পর্শকাতর জমিতে আটকা পড়ে আছে। দেড়শো ফুট দূরে মিয়ানমারের সীমান্ত আর রোহিঙ্গা শিবিরকে ভয় দেখাতে সেদেশের নিরাপত্তা কর্মীরা ছোট ছোট গর্ত খুঁড়ে অবস্থান নিয়েছে।

আর বাংলাদেশের দিকে বর্ডার গার্ড পুলিশ ছোট ছোট চেকপোস্টে রাইফেল নিয়ে পাহারা দিচ্ছে। পাঁয়ে হেঁটে অথবা ট্রাকে করে পেট্রল ডিউটি চালিয়ে যাচ্ছে তারা। মিয়ানমার সরকারের এক মুখপাত্র দাবি করেন, তাদের কাছে তথ্য আছে যে আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মির সেনারা সেখানে অবস্থান নিয়েছে। এজন্যই সেখানে সেনা উপস্থিতি বাড়ানো হয়েছে। বাংলাদেশের বিপক্ষে কোনও অবস্থান নেননি তারা।

কিছুদিন পরে আবার সেনা সরিয়ে নিতে থাকে তারা। বাংলাদেশি সীমান্তরক্ষী বাহিনী প্রশ্ন তোলে আদৌ কোনও রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী সেখানে ছিল কি না।

ওই অঞ্চলের বিজিবি কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল মনজুরুল হাসান খান বলেন, ‘গত ছয় মাসে আমি কোনও সন্ত্রাসী কার্যকম দেখিনি। আমি শুধু নিষ্পাপ শিশু ও নারীদেরই দেখেছি। গত বছর এক চুক্তি অনুযায়ী নো ম্যানস ল্যান্ডে বাস করা রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু এই প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া থমকে গেছে। যাদের ফেরত পাঠানো হবে তাদের ব্যাপারে আরও বিস্তারিত জানার চেষ্টা করছে মিয়ানমার।

বাংলাদেশের শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন বিষয়ক কমিশনার মোহাম্মদ আবুল কালাম বলেন, এখনও কিছু কাজ বাকি আছে। যারা ফিরে যাবে, তারা কোথায় যাবে সেই বিষয়টিও এখনও ঠিক হয়নি।

বিবিসি জানায়, মিয়ানমারে অনেকেই ফিরে যেতে চায় না। বালুখালি ক্যাম্পে আশ্রয় নেওয়া সানজিদা বেগম বলেন, মিয়ানমার তাদের জাতীয়তা দিলে তিনি ফিরবেন। নয়তো আমার তাদের হত্যা করার চেষ্টা করা হবে। এই অবস্থায় তারা কেন ফিরে যাবেন বলেও প্রশ্ন তোলেন তিনি।

347 ভিউ

Posted ১১:৩৩ পূর্বাহ্ণ | শুক্রবার, ৩০ মার্চ ২০১৮

coxbangla.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

এ বিভাগের আরও খবর

Archive Calendar

রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি
 
১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০৩১  

Editor & Publisher

Chanchal Dash Gupta

Member : coxsbazar press club & coxsbazar journalist union (cbuj)
cell: 01558-310550 or 01736-202922
mail: chanchalcox@gmail.com
Office : coxsbazar press club building(1st floor),shaheed sharanee road,cox’sbazar municipalty
coxsbazar-4700
Bangladesh
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

ABOUT US :

coxbangla.com is a dedicated 24x7 news website which is published 2010 in coxbazar city. coxbangla is the news plus right and true information. Be informed be truthful are the only right way. Because you have the right. So coxbangla always offiers the latest news coxbazar, national and international news on current offers, politics, economic, entertainment, sports, health, science, defence & technology, space, history, lifestyle, tourism, food etc in Bengali.

design and development by : webnewsdesign.com