বৃহস্পতিবার ১৮ই আগস্ট, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ | ৩রা ভাদ্র, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম

বৃহস্পতিবার ১৮ই আগস্ট, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ

শিরোনাম

কক্সবাজারের পরিবেশ উন্নয়নে জাতিসংঘের তিন সংস্থার ‘সেইফ প্লাস’ প্রকল্প

রবিবার, ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২০
121 ভিউ
কক্সবাজারের পরিবেশ উন্নয়নে জাতিসংঘের তিন সংস্থার ‘সেইফ প্লাস’ প্রকল্প

বার্তা পরিবেশক(১৬ ফেব্রুয়ারি) :: বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের মানবিক আশ্রয় দিতে গিয়ে কক্সবাজারে বৃক্ষ উজাড় রোধ করা ও স্থানীয়দের জীবিকার সুযোগ বৃদ্ধির লক্ষ্যে বাংলাদেশ সরকারের সাথে জাতিসংঘের তিনটি সংস্থা মিলে শুরু করেছে ‘সেইফ একসেস্ টু ফুয়েল এন্ড এনার্জি প্লাস লাইভলিহুডস্’ (সেইফ প্লাস) প্রকল্প।

রোববার (১৬ ফেব্রুয়ারি) ঢাকার এনইসি-১ কনফারেন্স রুমে এ প্রকল্প বিষয়ে ঐক্যপত্রে স্বাক্ষর হয়েছে বলে জানিয়েছেন আইওএম’র ন্যাশনাল কমিউনিক্যাশন অফিসার তারেক মাহমুদ।

তিনি জানান, সেইফ প্লাস জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও), আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) ও বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি)-এর যৌথ উদ্যোগে নেওয়া এক প্রকল্প। এর মাধ্যমে তরল পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) ও স্টোভ বিতরণ, পুনঃবনায়ন এবং লাইভলিহুডস্ কার্যক্রমের দ্বারা অধিকতর খাদ্য উৎপাদনের মাধ্যমে পরিবেশ বিপর্যয় রোধে কাজ করা যাবে।

প্রকল্পের বরাত দিয়ে তিনি আরো জানান, এলপিজি স্টোভ ও গ্যাস বিতরণের ফলে মানুষের জ্বালানী কাঠের প্রয়োজনীয়তা কমে আসবে। ফলে, জ্বালানী কাঠ ব্যবহারের মাধ্যমে সৃষ্ট পরিবেশের ক্ষতি রোধ ও এ পুনঃবনায়ন কার্যক্রম বন সম্পদ পুনরুদ্ধার এবং সেইসাথে প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষায় কাজ করবে। লাইভলিহুড ও সেল্ফ রিলায়েন্স কার্যক্রমের মাধ্যমে কক্সবাজারের স্থানীয় জনগোষ্ঠীর খাদ্য উৎপাদন ও ব্যবসার সুযোগ বৃদ্ধি করা হয়, যার মাধ্যমে তারা আর্থিকভাবে লাভবান হতে পারে।

এ বিষয়ে সরকারের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব শাহ্ কামাল বলেন, কক্সবাজারের পরিবেশ-বিষয়ক ব্যাপারগুলো চিহ্নিত করে এ নিয়ে কাজ করতে জাতিসংঘকে সাথে পেয়ে আমরা অত্যন্ত খুশি। উন্নয়ন সহযোগীদের এ ব্যাপারে আরও সহযোগিতা করার ব্যাপারে গুরুত্বারোপ করছি। অনুষ্ঠানে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের অতিরিক্ত সচিব এবং জাতিসংঘ উইং-এর প্রধান সুলতানা আফরোজ, রোহিঙ্গা ও স্থানীয় জনগোষ্ঠিকে সহযোগিতায় এগিয়ে আসায় জাতিসংঘের তিন সংস্থাকে ধন্যবাদ জানান।

তিনি বলেন, আমাদের নিজেদের অনেক সমস্যা থাকা সত্ত্বেও বাংলাদেশ সরকার ও এদেশের জনগণ যে উদারতার পরিচয় দিয়েছে তা দৃষ্টান্তমূলক। এখন এটি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দায়িত্ব, বাংলাদেশ যেন এ বোঝা একাই বহন না করে এবং মায়ানমারে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবর্তনের মধ্যদিয়ে এই সংকট-এর টেকসই সমাধান আসে। প্রকল্পটি কক্সবাজারে সরকারের অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত বিষয় নিয়ে কাজ করবে বলে, সেইফপ্লাস প্রকল্পের প্রতি সরকারের সমর্থন ব্যক্ত করেন তিনি ।

অতিরিক্ত শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, যতদিন না রোহিঙ্গাদের পূনর্বাসন শেষ হবে, ততদিন পর্যন্ত সেইফপ্লাস প্রকল্প চালিয়ে যাওয়া উচিত।

জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা-এফএও বাংলাদেশ-এর প্রতিনিধি রবার্ট সিম্পসন বলেন, সেইফ প্লাস জাতিসংঘের এই তিনটি সংস্থা ও সরকারি সংস্থাগুলোর কারিগরি দক্ষতার ওপর ভিত্তি করে তৈরি, যার মাধ্যমে কক্সবাজারের জনগোষ্ঠীর নিত্যনতুন প্রয়োজনগুলো মেটানো হবে। এটি উন্নততর খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা থেকে শুরু করে প্রাকৃতিক সম্পদের টেকসই ব্যবস্থাপনা, জীবিকার সুযোগ বৃদ্ধি ও সামাজিক সংহতিকে মজবুত করার মতো বিভিন্ন ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশা করা হচ্ছে।

আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা-আইওএম বাংলাদেশ-এর চিফ অফ মিশন গিয়োর্গি গিগাওরি বলেন, শরণার্থী ও কক্সবাজারের স্থানীয় জনগোষ্ঠীর মানবিক ও প্রাকৃতিক প্রয়োজন মেটানোর জন্য এই সেইফ প্লাসকে একটি প্রকল্প হিসেবে ঘোষণা করতে পেরে আইওএম অত্যন্ত খুশি। পরিবারের খরচ কমিয়ে আনার পাশাপাশি সেইফ প্লাস-এর মাধ্যমে ধোঁয়াবিহীন ঘর নিশ্চিত হবে, যা এই মানুষদের সুস্বাস্থ্যে ও নিরাপদে রাখবে, যোগ করেন তিনি।

বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি-ডব্লিউএফপি বাংলাদেশ এর কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ মি. রিচার্ড রেগান বলেন, কক্সবাজারের জনগণের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার চাবিকাঠি হলো আমাদের পরিবেশকে রক্ষা করা ও জীবিকার সুযোগ বৃদ্ধি করা। জাতিসংঘের অন্যান্য সংস্থার সাথে একত্রে কাজ করার মাধ্যমে আমরা সমন্বিত ও সর্বাত্মক কার্যক্রম নিশ্চিত করে চলেছি, যার মাধ্যমে পরিবেশ বিপর্যয়ের মূল কারণগুলো চিহ্নিত করা যাবে এবং এর পাশাপাশি কক্সবাজারের জনগণের জীবিকার সুযোগ বৃদ্ধি করা যাবে। এ বছরজুড়ে সেইফ প্লাস-এর মাধ্যমে কক্সবাজারের স্থানীয় জনগোষ্ঠীর পরিবারগুলোকে লাইভলিহুডস্ কার্যক্রমের সাথে যুক্ত করা হবে, কৃষকদেরকে অধিক চাহিদাসম্পন্ন সবজিগুলোর উৎপাদন বৃদ্ধি করার জন্য কারিগরি সহায়তা দেওয়া হবে এবং এর পাশাপাশি চলতে থাকবে পুনঃবনায়ন কার্যক্রম।

অনুষ্ঠানে প্রকল্প সম্পর্কে জানানো হয়, বিভিন্ন খাতে সহযোগিতা বৃদ্ধির জন্য সরকারি সংস্থাগুলোর সাথে অংশীদারিত্বের মাধ্যমে তিন বছর মেয়াদী এই প্রকল্পটির রূপরেখা তৈরি করা হয়। ইতোপূর্বে, মানবিক প্রকল্পের মাধ্যমে এই কার্যক্রমগুলো সম্পন্ন করা হতো। এই চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সেইফ প্লাস প্রকল্পটি এখন একটি উন্নয়নমূলক কার্যক্রমে রূপ নিলো, যার মাধ্যমে বাংলাদেশের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ এই অঞ্চলের মানুষের জীবন ও জীবিকার উন্নয়ন সাধন করা হবে।

121 ভিউ

Posted ৮:৫৯ অপরাহ্ণ | রবিবার, ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২০

coxbangla.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

এ বিভাগের আরও খবর

Archive Calendar

রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০৩১  

Editor & Publisher

Chanchal Dash Gupta

Member : coxsbazar press club & coxsbazar journalist union (cbuj)
cell: 01558-310550 or 01736-202922
mail: chanchalcox@gmail.com
Office : coxsbazar press club building(1st floor),shaheed sharanee road,cox’sbazar municipalty
coxsbazar-4700
Bangladesh
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

ABOUT US :

coxbangla.com is a dedicated 24x7 news website which is published 2010 in coxbazar city. coxbangla is the news plus right and true information. Be informed be truthful are the only right way. Because you have the right. So coxbangla always offiers the latest news coxbazar, national and international news on current offers, politics, economic, entertainment, sports, health, science, defence & technology, space, history, lifestyle, tourism, food etc in Bengali.

design and development by : webnewsdesign.com