সোমবার ২৫শে অক্টোবর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ৯ই কার্তিক, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম

সোমবার ২৫শে অক্টোবর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

শিরোনাম

কক্সবাজারের বঙ্গোপসাগরে ৫ নভেম্বর থেকে আবার শুরু হচ্ছে ইলিশ ধরা

মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২০
135 ভিউ
কক্সবাজারের বঙ্গোপসাগরে ৫ নভেম্বর থেকে আবার শুরু হচ্ছে ইলিশ ধরা

কক্সবাংলা রিপোর্ট :: দ্বিতীয় দফায় ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষে বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) থেকে কক্সবাজারের বঙ্গোপসাগরে আবার ইলিশ ধরা শুরু হচ্ছে। এ উপলক্ষে জেলেরাও প্রস্তুতি নেওয়া শুরু করেছে।ইলিশ আহরণে নিষেধাজ্ঞা শেষ হচ্ছে বুধবার (৪ নভেম্বর)। কক্সবাজার সহ সারাদেশে ২২ দিন বন্ধ থাকার পর বৃহস্পতিবার থেকে সাগরে আবারও ইলিশ ধরার কার্যক্রম শুরু করবে জেলেরা। জেলা মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।’

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, ইলিশ সম্পদ সংরক্ষণে ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুমে (১৪ অক্টোবর থেকে ৪ নভেম্বর পর্যন্ত) মোট ২২ দিন সারাদেশে ইলিশ মাছ আহরণ, পরিবহন, মজুত, বাজারজাতকরণ, ক্রয়-বিক্রয় ও বিনিময় নিষিদ্ধ ছিল। সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসনের সঙ্গে নৌ-পুলিশ, কোস্ট গার্ড ও মৎস্য অধিদফতর সম্মিলিতভাবে এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে।

সরকারের এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে প্রজ্ঞাপন জারি করেছিল মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়। ২২ দিনের সেই নিষেধাজ্ঞা শেষ হবে বুধবার (৪ নভেম্বর)। বৃহস্পতিবার থেকে কক্সবাজারের বঙ্গোপসাগরে ইলিশের জাল ফেলতে কোনও প্রকার আইনি বাধা থাকছে না।

কক্সবাজার ফিসারীঘাটে ঘাটে গিয়ে দেখা যায়, সাগরে মাছ ধরতে যাওয়ার জন্য জেলেরা তাদের ট্রলার প্রস্তুত করছে। ডক থেকে নামানো হচ্ছে ট্রলার। ট্রলারের ইঞ্জিন চালিয়ে সচল করছে মাঝিরা। মাছ ধরা জাল, জ্বালানি ও প্রয়োজনীয় মালপত্রবোঝাই করা হচ্ছে ট্রলারে। আর এক দিন পর সোমবার থেকে জেলেরা সাগরে ইলিশ ধরতে যাবে। আবারও জালে ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ ধরা পড়বে এমন আশায় বুক বেঁধেছে তারা।

জেলেরা জানান, মাঝারী কিংবা বড় সাইজের ট্রলার নিয়ে সাগরে নামতে খরচ হয়ে থাকে দেড় থেকে দু লাখ টাকা। এবার ২২ দিন বেকার থাকায় পুঁজি শেষ করে ধার-দেনায় জর্জরিত তারা। পাশাপাশি আড়তদার কিংবা দাদনদাররাও খুব একটা ঝুঁকি নিতে রাজি নন।

বরফকল মালিকরাও জানিয়েছেন ৬৫ দিনের পর ২২দিন পুরোটাই তাদের টেকনিশিয়ান সহ শ্রমিকদের বেকার বসিয়ে টাকা গুণতে হয়।তবে সাগরে আবার মাছ ধরা শুরু হওয়ায় সংকট অনেকটা কেটে যাবে।

কক্সবাজার শহরের প্রধান মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র ফিশারিঘাটস্থ মৎস্য ব্যবসায়ী সমিতির পরিচালক জুলফিকার আলী জানান,ভারী বষণ সত্বেও জীবিকার তাগিদে বৃহস্পতিবার থেকে ফিসারীঘাট থেকে শত শত ট্রলার গভীর সাগরে মাছ শিকারে নেমে পড়বে। ট্রলারগুলো মাছ ধরে কয়েকদিন পর ঘাটে ফিরতে শুরু করলেই মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরতে শুরু করবে।

কক্সবাজার জেলা মৎস্য কর্মকর্তা এস.এম. খালেকুজ্জামান বিপ্লব জানান,মৎস্য বিভাগের তথ্যমতে, জেলার বিভিন্ন স্থানে লাখো জেলে শ্রমিক থাকলেও তাঁদের নিবন্ধিত জেলের সংখ্যা ৪৮ হাজার ৩৯৩ জন। আগামী বুধবার মধ্যরাত থেকে নিষেধজ্ঞা প্রত্যাহার হচ্ছে। চলমান ভরা মৌসুমে প্রায় এক লাখ জেলে সাগরে ইলিশ শিকারে নামতে যাচ্ছে বলে তিনি জানান। তিনি আরও বলেন, আসন্ন শীত মৌসুমে সাগরে বেশি ইলিশ ধরা পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে জেলেদের জালে।এবার দুই মাস এবং এরপর ২২ দিন বন্ধ থাকায় মাছের প্রজনন বৃদ্ধি পেয়েছে।আশা করছি শীতে প্রচুর ইলিশ মিলবে।

এবছর বর্ষা মৌসুমের আগে ৬৫দিন ইলিশ ধরা বন্ধ থাকায় এ বছর জেলেদের জালে ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ ধরা পড়ে।এরপর আরও ২২ দিন বন্ধ থাকার পাশাপাশি প্রজনন মৌসুমে ইলিশ ধরা বন্ধ থাকায় শীতে ইলিশের উৎপাদন বেড়ে যাবে বলে তিনি আশাবাদী।

কক্সবাজার মৎস্য ব্যবসায়ী ঐক্য সমবায় সমিতির সভাপতি ওসমান গণি জানান,বৃহস্পতিবার ভোর থেকে জেলার প্রধান মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রের ফিশারিঘাট,কস্তুরাঘাট, কলাতলী ও দরিয়ানগর,সদরের খুরুস্কুল, চৌফলদন্ডী ,টেকনাফ, মহেশখালী, কুতুবদিয়া,উখিয়া ও পেকুয়ার তিন হাজারের বেশি ট্রলার গভীর সাগরে মাছ ধরতে নেমে পড়বে। পূর্ণীমার প্রভাবে উপকূলের সাগরের পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। এ কারণে সাগর বেশি ইলিশ পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে এ সময়ে।চলতি বছর প্রথম দফায় ৬৫দিন ও দ্বিতীয় দফায় ২২দিন মাছ ধরা বন্ধ থাকায় কক্সবাজারের অন্তত ১০ হাজার মৎস্য ব্যবসায়ী বেকার হয়ে পড়েন। জেলার হাটবাজারগুলোতেও মাছের সংকট দেখা দেয়। গত ২২ দিন সাগরে মাছ ধরা বন্ধ থাকার পর মাছের বংশ বৃদ্ধি পাওয়ায় আশা করছি এবার বিপুল মাছ পাওয়া যাবে।

উল্লেখ্য,ইলিশ ধরায় নিষেধাজ্ঞার সময়ে সরকারের মানবিক খাদ্য সহায়তা কর্মসূচির আওতায় জেলেদের জন্য ১০ হাজার ৫৬৬ মেট্রিক টন ভিজিএফ চাল বরাদ্দ করা হয়। কক্সবাজারসহ দেশের ৩৬টি জেলার ১৫২টি উপজেলায় মা ইলিশ আহরণে বিরত থাকা ৫ লক্ষ ২৮ হাজার ৩৪২টি জেলে পরিবারের জন্য ২০ কেজি হারে ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুম শুরুর পূর্বেই এ বরাদ্দ দেওয়া হয়।

এ প্রসঙ্গে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম বলেন, ইলিশ আহরণ নিষিদ্ধকালে কোনোভাবেই দেশের জলসীমায় ইলিশ আহরণের অবৈধ প্রচেষ্টা সফল হতে দেওয়া হয়নি। ইলিশের প্রজনন ক্ষেত্রে কোনোভাবেই মা ইলিশ আহরণ করতে দেওয়া হয়নি। মা ইলিশ থাকতে পারে এমন নদীতেও জেলেদের নামতে দেওয়া হয়নি।

মন্ত্রী বলেন, এ বছর বিশ্বে উৎপাদিত মোট ইলিশের ৮০ ভাগের বেশি বাংলাদেশে উৎপাদিত হয়েছে। ইলিশের আকার ও স্বাদ অন্যান্য বছরের তুলনায় অনেক ভালো। সামগ্রিক ব্যবস্থাপনায় অতীতের সকল রেকর্ড ভঙ্গ করে এ বছর ইলিশ উৎপাদন হয়েছে। এ উৎপাদনের ধারা অব্যাহত রাখার জন্য আমরা পরিকল্পনা নিয়েছি।

জানা গেছে, মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান বাস্তবায়নে বিভিন্ন সময়ে মোবাইল কোর্ট ও অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। এ সময় কারেন্ট জালসহ অবৈধ জাল আটক করা হয়েছে। নিষেধাজ্ঞা অমান্যকারী জেলেদের বিভিন্ন মেয়াদে জেল প্রদান করা হয়েছে এবং জরিমানা করা হয়েছে। মামলা করা হয়েছে। ইলিশ মাছ আটক করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশের মোট উৎপাদিত মাছের প্রায় ১২ শতাংশ আসে ইলিশ থেকে। দেশের জিডিপি’তে ইলিশের অবদান এক শতাংশেরও বেশি। সম্প্রতি পেটেন্ট, ডিজাইন ও ট্রেডমার্কস অধিদফতর বাংলাদেশের জাতীয় মাছ ইলিশের ভৌগোলিক নিবন্ধন প্রদান করেছে।

135 ভিউ

Posted ১১:০২ অপরাহ্ণ | মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২০

coxbangla.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

এ বিভাগের আরও খবর

Archive Calendar

রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
৩১  

Editor & Publisher

Chanchal Dash Gupta

Member : coxsbazar press club & coxsbazar journalist union (cbuj)
cell: 01558-310550 or 01736-202922
mail: chanchalcox@gmail.com
Office : coxsbazar press club building(1st floor),shaheed sharanee road,cox’sbazar municipalty
coxsbazar-4700
Bangladesh
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

ABOUT US :

coxbangla.com is a dedicated 24x7 news website which is published 2010 in coxbazar city. coxbangla is the news plus right and true information. Be informed be truthful are the only right way. Because you have the right. So coxbangla always offiers the latest news coxbazar, national and international news on current offers, politics, economic, entertainment, sports, health, science, defence & technology, space, history, lifestyle, tourism, food etc in Bengali.

design and development by : webnewsdesign.com