সোমবার ১৫ই আগস্ট, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ | ৩১শে শ্রাবণ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম

সোমবার ১৫ই আগস্ট, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ

শিরোনাম

কক্সবাজারের মাতারবাড়ীতে গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণে ১৭ হাজার ৭৭৭ কোটি টাকা একনেকে অনুমোদন

মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২০
243 ভিউ
কক্সবাজারের মাতারবাড়ীতে গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণে ১৭ হাজার ৭৭৭ কোটি টাকা একনেকে অনুমোদন

কক্সবাংলা রিপোর্ট(১০ মার্চ) :: কক্সবাজারের মহেশখালীর ‘মাতারবাড়ী পোর্ট ডেভেলপমেন্ট’ প্রকল্পের অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)।এই পরিপ্রেক্ষিতে দেশে প্রথম গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণ করছে সরকার।  মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দরের নির্মাণ কাজ শুরু হচ্ছে এ মাসেই। প্রায় ১৮ হাজার কোটি টাকার এই প্রকল্পের প্রায় ১৩ হাজার কোটি টাকা ঋণ দিচ্ছে জাপান সরকারের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা জাইকা। প্রকল্পের ব্যয় পর্যালোচনাসহ কারিগরি ও অন্যান্য সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে সংস্থার পক্ষ থেকে। ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারির মধ্যে প্রকল্পের নির্মাণ কাজ শেষ করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার রাজধানীর শের-ই-বাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে একনেক চেয়ারপারসন ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত একনেক সভায় এই প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়। বৈঠক শেষে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান প্রকল্পের বিষয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন।

তিনি বলেন, প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যয় ধরা হয়েছে ১৭ হাজার ৭৭৭ কোটি ১৬ লাখ টাকা। এর মধ্যে জাপানের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগিতা সংস্থা (জাইকা) বৈদেশিক ঋণ সহায়তা প্রদান করবে ১২ হাজার ৮৯২ কোটি ৭৬ লাখ টাকা। এছাড়া বাংলাদেশ সরকারের তহবিল থেকে ২ হাজার ৬৭১ কোটি ১৫ লাখ এবং সংস্থার নিজস্ব তহবিল থেকে পাওয়া যাবে দুই হাজার ২১৩ কোটি ২৫ লাখ টাকা। জানুয়ারি ২০২০ থেকে ডিসেম্বর ২০২৬ মেয়াদে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ এবং সড়ক ও জনপথ বিভাগ যৌথভাবে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে।

তিনি আরও বলেন,বড় আকারের জাহাজ ভেড়ার উপযোগী করে কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার মাতারবাড়ী ও ধলঘাট এলাকায় গভীর সমুদ্র বন্দর স্থাপনের লক্ষ্যে ‘মাতারবাড়ী পোর্ট ডেভেলপমেন্ট’ প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এই সমুদ্র বন্দর নির্মিত হলে দেশের কার্গো হ্যান্ডলিং ক্ষমতা অনেক বৃদ্ধি পাবে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে এই বন্দর আন্তর্জাতিক বাণিজ্য চাহিদা মেটানো এবং প্রতিবেশি দেশগুলোর সঙ্গে ত্বরিত বন্দরসেবা দিতে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

মন্ত্রী এই প্রকল্পটিকে স্বপ্নের প্রকল্প আখ্যা দিয়ে বলেন, ‘মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্র বন্দর নির্মাণের মধ্যে দিয়ে বৈদেশিক বাণিজ্যে আমাদের অবস্থান আরো শক্তিশালী হবে।’

প্রকল্প প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে, মাতারবাড়ী সমুদ্রবন্দরে ৩০০ ও ৪৬০ মিটার দৈর্ঘ্যের দুটি টার্মিনাল থাকবে। এর একটি হবে বহুমুখী টার্মিনাল ও অপরটি কন্টেইনার টার্মিনাল। এছাড়া, বন্দরের সঙ্গে সংযোগ সড়ক নির্মাণ করা হবে। একসঙ্গে ৮ হাজার কন্টেইনারবাহী জাহাজ বন্দরে ভিড়তে পারবে।

এদিকে সরকারের এই সিদ্ধান্তকে যুগান্তকারী উল্লেখ করে স্বাগত জানিয়েছেন ব্যবসায়ী নেতারা। বিকেএমইএর ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম সাহসী এই সিদ্ধান্তের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অভিনন্দন এবং কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন।  এক প্রতিক্রিয়ায় দেশের গোটা ব্যবসায়ী সমাজের পক্ষ থেকে সরকারের নেতৃত্বদানকারী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।

মোহাম্মদ হাতেম বলেন, একটা গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণের জন্য দীর্ঘদিন ধরে সরকারের কাছে দাবি জানিয়ে আসছিলেন তারা। গভীর সমুদ্রবন্দর হলে আমদানি-রপ্তানিতে নতুন করে গতি আসবে। দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বড় ধররেন উল্লম্ম্ফন হবে। অগ্র-পশ্চাৎ সংযোগ শিল্পের সঙ্গে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে। মানে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের মাধ্যমে আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে। চট্টগ্রাম, পায়রা, মোংলাসহ দেশে বর্তমানে তিনটি সমুদ্রবন্দর রয়েছে। এগুলোর কোনোটিই গভীর সমুদ্রবন্দর নয়। এ ছাড়া এসব বন্দরের সক্ষমতাও চাহিদা পূরণের জন্য যথেষ্ট নয়।

পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রাম বন্দরে একটি জাহাজ সর্বোচ্চ দুই হাজার টিইউইএস (থেরাপিউটিক ইউজ ইগজেম্পশন্স) কনটেইনার নিয়ে ভিড়তে পারে। অথচ কলম্বো, জওহরলাল নেহরু, করাচি ও চেন্নাই বন্দরে তার চেয়ে কয়েকগুণ বেশি ধারণক্ষমতাসম্পন্ন জাহাজ ভিড়তে পারে। মাতারবাড়ীতে অধিক ড্রাফটের জাহাজের সমুদ্রবন্দর নির্মাণ বাংলাদেশের জন্য উত্তম বিকল্প হিসেবে মত দিয়েছে জাইকা।

মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দরে ৩০০ ও ৪৬০ মিটার দৈর্ঘ্যের দুটি টার্মিনাল থাকবে। এসব টার্মিনালে ১৬ মিটারের আট হাজার টিইইউএস কনটেইনারবাহী জাহাজ ভিড়তে পারবে। চট্টগ্রাম বন্দরে সাড়ে নয় মিটার ড্রাফটের বেশি সক্ষমতার জাহাজ ভিড়তে পারে না। এ কারণে মাদার ভেসেলগুলো চট্টগ্রাম বন্দরের জেটিতে আসতে পারে না। ফিডার জাহাজে করে কনটেইনার আনা-নেওয়া করতে হয়। প্রতিদিন ৩৫০০ থেকে ৩৮০০ টিইইউএস আমদানি পণ্য কনটেইনার হ্যান্ডলিং হয়ে থাকে। এখান থেকে ফিডার জাহাজ অন্যান্য বন্দরে পণ্য আনা-নেওয়া করতে পারবে। মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণ হলে চট্টগ্রাম বন্দরের ওপর চাপ কমবে। খালাসের অপেক্ষায় জাহাজ-জট কমবে।

জানা যায়,সম্প্রতি মিয়ানমারের রাখাইনে গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণে সম্পাদিত চুক্তির সূত্রে বঙ্গোপসাগরে ভাগ বসাতে যাচ্ছে চীন। ভৌগোলিক কারণে সাগরে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার এ বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় রয়েছে বাংলাদেশও। বিশ্বের দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতির দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম। ভারত ও মিয়ানমার ছাড়া বিশ্বের অন্যান্য দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের আমদানি-রফতানি বাণিজ্যের প্রায় পুরোটাই সম্পন্ন হয় বঙ্গোপসাগর দিয়ে। দীর্ঘদিন ধরে বঙ্গোপসাগর উপকূলে একটি গভীর সমুদ্রবন্দরের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছিল বাংলাদেশ। কিন্তু ভূ-রাজনীতির কারণে তা এতদিন সম্ভব হয়ে ওঠেনি।

আর বঙ্গোপসাগরের অন্যতম হিস্যাদার বাংলাদেশ ভূ-রাজনৈতিক কারণে সোনাদিয়ায় গভীর সমুদ্রবন্দর না হলেও আশার নতুন দিগন্ত হয়ে ধরা দিয়েছে কক্সবাজারের মাতারবাড়ী।

বাংলাদেশের অবকাঠামোগত উন্নয়নে এ যাবৎ জাপানের সবচেয়ে বড় উদ্যোগ বিগ-বি। বিগ-বি হলো বে অব বেঙ্গল ইন্ডাস্ট্রিয়াল গ্রোথ বেল্ট। এর আওতায় বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় উন্নয়ন সহযোগী দেশ জাপানের সংস্থা জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি (জাইকা) মাতারবাড়ীতে কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য কোল জেটি করতে গিয়ে সেখানে একটি বাণিজ্যিক বন্দর নির্মাণের সম্ভাব্যতা দেখতে পায়।

মাতারবাড়ী অঞ্চলে সমুদ্রের গভীরতা ১৫.৩ মিটার। তবে খনন শেষে প্রাথমিকভাবে মাতারবাড়ী চ্যানেলে সারাবছরই ন্যূনতম ১৬ মিটার গভীরতা পাওয়া যাবে। চ্যানেলের বাইরে সাগরের গভীরতা ৩০ মিটার। ফলে এ বন্দরে অনায়াসে বড় আকৃতির মাদার ভেসেল নোঙর করতে পারবে।

ইতোমধ্যে মাতারবাড়ীতে গভীর সমুদ্রবন্দরের মূল অবকাঠামো নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে। ১৮ হাজার ৫৮০ কোটি টাকা ব্যয়ে সমুদ্রবন্দরের জন্য বড় দুটি জেটি নির্মাণকাজ শুরুর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের গভীর সমুদ্রবন্দরের স্বপ্ন বাস্তবায়ন হতে যাচ্ছে। ২০২৬ সালের শেষনাগাদ এ বন্দর চালু হবে বলে আশা করছে সরকার।

বিশেষজ্ঞদের ধারণা, ভৌগোলিক অবস্থানগত কারণে মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর অন্য যেকোনো আঞ্চলিক বন্দরের তুলনায় ক্রমবর্ধমান আন্তর্জাতিক ব্যবসা-বাণিজ্যের চাহিদা পূরণে অধিকতর সুবিধা দেবে। বেশিসংখ্যক দেশ এ বাণিজ্যিক বন্দর ব্যবহার করতে পারবে। ভারতের সেভেন সিস্টার্স (উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সাতটি রাজ্য), কলকাতা ও হলদিয়া বন্দর, মিয়ানমার, স্থলবেষ্টিত নেপাল ও ভুটান তাদের আমদানি-রফতানি বাণিজ্যে এ বন্দর ব্যবহারে আকৃষ্ট হবে। মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর-পূর্ব এশিয়ার কেন্দ্রস্থলে অবস্থানের কারণে আশিয়ান ও উপসাগরীয় দেশগুলোরও এ বন্দর ব্যবহারের যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া তেল-গ্যাস ও অন্যান্য সমুদ্রসম্পদ আহরণ ও ব্যবহারের সুযোগ সম্প্রসারিত হবে।

 

243 ভিউ

Posted ১০:২০ অপরাহ্ণ | মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২০

coxbangla.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

এ বিভাগের আরও খবর

Archive Calendar

রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০৩১  

Editor & Publisher

Chanchal Dash Gupta

Member : coxsbazar press club & coxsbazar journalist union (cbuj)
cell: 01558-310550 or 01736-202922
mail: chanchalcox@gmail.com
Office : coxsbazar press club building(1st floor),shaheed sharanee road,cox’sbazar municipalty
coxsbazar-4700
Bangladesh
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

ABOUT US :

coxbangla.com is a dedicated 24x7 news website which is published 2010 in coxbazar city. coxbangla is the news plus right and true information. Be informed be truthful are the only right way. Because you have the right. So coxbangla always offiers the latest news coxbazar, national and international news on current offers, politics, economic, entertainment, sports, health, science, defence & technology, space, history, lifestyle, tourism, food etc in Bengali.

design and development by : webnewsdesign.com