শুক্রবার ২৬শে ফেব্রুয়ারি, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ১৩ই ফাল্গুন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম

শুক্রবার ২৬শে ফেব্রুয়ারি, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

শিরোনাম

কক্সবাজারের মাতারবাড়ী বিদ্যুৎ প্রকল্পে ১৬ হাজার কোটি টাকা ব্যয় ও আড়াই বছর মেয়াদ বাড়ানোর প্রস্তাব

মঙ্গলবার, ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২১
98 ভিউ
কক্সবাজারের মাতারবাড়ী বিদ্যুৎ প্রকল্পে ১৬ হাজার কোটি টাকা ব্যয় ও আড়াই বছর মেয়াদ বাড়ানোর প্রস্তাব

কক্সবাংলা রিপোর্ট :: কক্সবাজার জেলার মহেশখালী উপজেলার মাতারবাড়ী-ধলঘাটা ইউনিয়নে বাংলাদেশ সরকার ও জাইকার অর্থায়নে বাস্তবায়ন হচ্ছে মাতারবাড়ী ১২০০ মেগাওয়াট আল্ট্রা সুপার ক্রিটিক্যাল ফায়ার্ড পাওয়ার প্রজেক্টটি বাস্তবায়ন করছে কোল পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেড (সিপিজিসিবিএল)।

এ প্রজেক্ট‘র আওতায় সমুদ্রপথে কয়লা পরিবহনের জন্য ১৪ দশমিক ৩ কিলোমিটার দীর্ঘ, ২৫০ মিটার প্রশস্ত, ১৮ দশমিক ৫ মিটার গভীর চ্যানেলসহ বিদ্যুৎকেন্দ্রটি স্থাপনে অবকাঠামো তৈরি এবং কয়লা ও তেল আনলোডিং জেটিসহ অন্যান্য অবকাঠামো নির্মাণ করা হবে।

এক্ষেত্রে মাতারবাড়ী প্রকল্পে নতুন করে প্রায় সাড়ে ১৬ হাজার কোটি টাকা ব্যয় বাড়ানোর প্রস্তাব করেছে। এ নিয়ে এরই মধ্যে দুই দফা আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা হয়েছে। সিপিজিসিবিএলের প্রস্তাব যাচাই-বাছাই শেষে একনেকে পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়।

তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চাহিদার তুলনায় অতিরিক্ত বিদ্যুৎ সক্ষমতা বাড়ায় এরই মধ্যে সরকারকে বড় অংকের লোকসান গুনতে হচ্ছে। উন্নত বিশ্বসহ চীন-ভারতের মতো বড় অর্থনীতিগুলো কয়লা থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। এ অবস্থায় বিপুল পরিমাণ বিনিয়োগ করে জাতীয় সক্ষমতায় মাত্র ১২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সংযোগের অর্থনৈতিক যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা।

কয়লাভিত্তিক এসব বিদ্যুৎ প্রকল্পের যথাযথ বাস্তবায়ন নিয়ে সংশয় প্রকাশ পেয়েছে সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায় থেকেও।

কয়লাভিত্তিক কয়েকটি বিদ্যুৎকেন্দ্রের অনুমতি বাতিলসংক্রান্ত পরিকল্পনার আভাস দিয়ে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু জানান, কয়লা দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনে খরচ কম হলেও নির্মাণের অনুমতি পাওয়া অনেক কেন্দ্র কাজই শুরু করতে পারেনি। আমরা এগুলো বাদ দেয়ার কথা ভাবছি।

সম্প্রতি এক গবেষণাপত্র প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইনস্টিটিউট ফর এনার্জি ইকোনমিকস অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল অ্যানালাইসিস (আইইইএফএ)।

বেশ কয়েকটি গণমাধ্যম সেই গবেষণা প্রতিবেদনের ভিত্তিতে খবরও প্রকাশ করেছে। প্রতিষ্ঠানটি বলছে, নভেল করোনাভাইরাস মহামারীর আগেই দেশের মোট বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতার মাত্র ৪৩ শতাংশ ব্যবহূত হচ্ছিল (২০১৮-১৯ অর্থবছর)। মহামারীর কারণে দেশে বিদ্যুতের চাহিদা আরো কমে গেছে। এতে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি) একদিকে রাজস্ব হারাচ্ছে, অন্যদিকে অলস বসে থাকা বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোকে নিয়মিত ক্যাপাসিটি চার্জ পরিশোধ করতে হচ্ছে।

মহামারীর আগেই এসব কেন্দ্রের ক্যাপাসিটি চার্জ পরিশোধের জন্য সরকার ৯ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দিয়েছে এমন তথ্য উল্লেখ করে আইইইএফএ বলছে, লোকসান কমাতে বিদ্যুতের দাম বাড়াতে হয়েছে। এরই মধ্যে কয়লা ও এলএনজিভিত্তিক নতুন নতুন বিদ্যুৎকেন্দ্র তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। এতে দীর্ঘমেয়াদি ওভার ক্যাপাসিটির আবর্তে পড়ে আর্থিক ক্ষতির শিকার হবে দেশ। অর্থনীতিতে কভিড-১৯ মহামারীর প্রভাব আমলে নিয়ে বিদ্যুতের চাহিদা বাড়ার যে পূর্বাভাস দেখা যাচ্ছে, তাতে ২০৩০ সালে বাংলাদেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা প্রয়োজনের তুলনায় ৫৮ শতাংশ বেশি থাকবে বলে মনে করছে আইইইএফএ।

বিদ্যুতের উৎপাদন সক্ষমতা অর্জনের লক্ষ্যে ২০১৪ সালে কয়লাভিত্তিক একটি মেগা প্রকল্পের অনুমোদন দেয় সরকার। লক্ষ্য মহেশখালীর মাতারবাড়ীতে ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে এরই মধ্যে পেরিয়ে গেছে সাত বছর। নির্ধারিত সময়ে প্রকল্প বাস্তবায়ন সম্ভব নয় বলে জানিয়েছে বাস্তবায়নকারী সংস্থা সিপিজিসিবিএল।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, নতুন করে এ প্রকল্পে অতিরিক্ত আরো প্রায় সাড়ে ১৬ হাজার কোটি টাকা ব্যয় বৃদ্ধিসহ আড়াই বছর মেয়াদ বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে।

২০১৪ সালে ৩৫ হাজার ৯৮৪ কোটি ৪৫ লাখ টাকা ব্যয়ে ‘মাতারবাড়ী ১২০০ মেগাওয়াট আল্ট্রা সুপার ক্রিটিক্যাল ফায়ার্ড পাওয়ার প্রজেক্ট’ শীর্ষক প্রকল্পটি অনুমোদন দেয় জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)। ২০২৩ সালের জুন পর্যন্ত মেয়াদকাল ধরে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে সরকারি খাতের সিপিজিসিবিএল।

সম্প্রতি মেয়াদ ও ব্যয় বাড়ানোর প্রস্তাব বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের বিদ্যুৎ বিভাগে পাঠিয়েছে সিপিজিসিবিএল। এ প্রস্তাব অনুমোদনে দুই দফা আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা হয়েছে। কিন্তু এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে আসতে পারেনি সরকার। তবে শিগগির সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে বলে জানা গেছে।

সিপিজিসিবিএলের সংশোধিত উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবে (আরডিপিপি) বলা হয়, কক্সবাজার জেলার মহেশখালী উপজেলার মাতারবাড়ী-ধলঘাটা ইউনিয়নে বাংলাদেশ সরকার ও জাইকার অর্থায়নে বাস্তবায়ন হচ্ছে মাতারবাড়ী ১২০০ মেগাওয়াট আল্ট্রা সুপার ক্রিটিক্যাল ফায়ার্ড পাওয়ার প্রজেক্টটি। এর আওতায় সমুদ্রপথে কয়লা পরিবহনের জন্য ১৪ দশমিক ৩ কিলোমিটার দীর্ঘ, ২৫০ মিটার প্রশস্ত, ১৮ দশমিক ৫ মিটার গভীর চ্যানেলসহ বিদ্যুৎকেন্দ্রটি স্থাপনে অবকাঠামো তৈরি এবং কয়লা ও তেল আনলোডিং জেটিসহ অন্যান্য অবকাঠামো নির্মাণ করা হবে। এক্ষেত্রে ব্যয় বাড়ানোর অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয় নির্মাণাধীন চ্যানেলের ব্যয় বৃদ্ধির বিষয়টি। বলা হয়, চ্যানেলটি আরো ১০০ মিটার প্রশস্ত এবং অতিরিক্ত ৩৯৭ মিটার সেডিমেন্ট মিটিগেশন ডিকে নির্মাণ বাবদ ব্যয় হবে ২ হাজার ৩৭৭ কোটি ৮০ লাখ টাকা।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে মাতারবাড়ী বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্প পরিচালক আবুল কালাম আজাদ বলেন, সংগত কারণেই আমরা মন্ত্রণালয়ে ব্যয় ও মেয়াদ বাড়ানোর প্রস্তাব পাঠিয়েছি। এটা নিয়ে মন্ত্রণালয় বৈঠকও করেছে বলে শুনেছি। কিন্তু আমরা এখনো প্রস্তাবটির অনুমোদন পাইনি। পোর্টের উন্নয়ন কার্যক্রম এ প্রকল্পে রাখা হবে কিনা, সেটা একটা সিদ্ধান্তের বিষয় ছিল। এখন পোর্টকে এ প্রকল্পের আওতায় নিয়ে আসায় ব্যয় বাড়ছে।

প্রকল্পের বাস্তবায়ন বিষয়ে জানতে চাইলে এখন পর্যন্ত ৪০ শতাংশের মতো কাজ হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ২০২৩ সালের জুনের মধ্যে প্রকল্প বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। এজন্য ২০২৬ সাল পর্যন্ত মেয়াদ বাড়ানোর প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।

সিপিজিসিবিএলের ব্যয় ও মেয়াদ বাড়ানোর প্রস্তাবের ওপর আন্তঃমন্ত্রণালয় সভার কার্যপত্রে বলা হয়, বিদ্যুৎকেন্দ্রটি নির্মাণে মোট ৩৫ হাজার ৯৮৪ কোটি ৪৫ লাখ টাকা ব্যয় ধরা হয়। এর মধ্যে জাইকার প্রকল্প সহায়তার পরিমাণ হচ্ছে ২৮ হাজার ৯৩৯ কোটি ৩ লাখ টাকা। বাংলাদেশ সরকারের অর্থায়নের পরিমাণ ৪ হাজার ৯২৬ কোটি ৬৫ লাখ টাকা এবং সিপিজিসিবিএলের নিজস্ব অর্থায়ন ২ হাজার ১১৮ কোটি ৭৬ লাখ টাকা। এ প্রকল্পের মেয়াদ ধরা হয়েছিল ২০১৪ সালের জুলাই থেকে ২০২৩ সালের জুন পর্যন্ত। তবে এ প্রকল্প নির্মাণকাজ শুরুতে দেরি হয়। প্রকল্পের উদ্বোধন করা হয় ২০১৮ সালের জানুয়ারিতে।

কার্যপত্র অনুযায়ী, মাতারবাড়ী বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পটি বিদ্যুৎ বিভাগের অধীনে বাস্তবায়নাধীন অন্যতম ফাস্ট ট্র্যাক প্রকল্প। সিপিজিসিবিএল থেকে এ প্রকল্পের ব্যয় বাড়িয়ে মোট ৫২ লাখ ৩৮৮ কোটি ৭৭ লাখ টাকা এবং মেয়াদকাল ২০১৪ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত মেয়াদে বাস্তবায়নের জন্য প্রকল্পের প্রথম সংশোধিত প্রস্তাব বিদ্যুৎ বিভাগে পাঠানো হয়েছে। এক্ষেত্রে সরকারের অর্থায়ন বাড়িয়ে ৬ হাজার ৪৩০ কোটি ৭৭ লাখ টাকা, প্রকল্প সাহায্য ৪৪ হাজার ৪২৭ কোটি ৫৩ লাখ টাকা এবং সিপিজিসিবিএলের নিজস্ব অর্থায়ন ১ হাজার ৫৩০ কোটি ৬০ লাখ টাকা হবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

কার্যপত্রে আরো বলা হয়, প্রকল্প ব্যয়ে প্রকল্প সাহায্যের ৪৪ হাজার ৪২৭ কোটি ৫৩ লাখ টাকার মধ্যে ২ হাজার ৩৭৭ কোটি টাকা নির্মাণাধীন চ্যানেলের অতিরিক্ত কাজ বাবদ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এ অতিরিক্ত কাজটি নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের বাস্তবায়নাধীন ‘মাতারবাড়ী পোর্ট ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট’-এর জন্য করা হবে। বর্ণিত কাজ সিপিজিসিবিএলের ইপিসি ঠিকাদার ও পরামর্শক প্রতিষ্ঠান সম্পাদন করবে। একই সঙ্গে এ কাজের ব্যয় সিপিজিসিবিএল নির্বাহ করবে। পরবর্তী সময়ে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ সরকারকে ওই অর্থ পরিশোধ করবে।

এ বিষয়ে বিদ্যুৎ বিভাগের যুগ্ম সচিব (পরিকল্পনা-১) ড. শাহ মো. হেলাল উদ্দীন বলেন, সম্প্রতি সিপিজিসিবিএল এ প্রকল্পের ব্যয় ও মেয়াদ বাড়ানোর জন্য প্রস্তাব পাঠিয়েছে। এটা নিয়ে আমরা একাধিক আন্তঃমন্ত্রণালয় সভাও করেছি। কিন্তু আমরা চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে আসতে পারিনি। তাই এখনো প্রস্তাব অনুমোদন দেয়া হয়নি। এ বিষয়ে আমরা আরো আলোচনা করছি।

এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ও জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ড. বদরুল ইমাম বলেন, সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী প্রকল্প বাস্তবায়নে ধীরগতির কারণে যেন ব্যয় না বাড়ে, সেজন্য বিশেষ লক্ষ রাখতে বলেছেন। এক্ষেত্রে পোর্টের জন্য অতিরিক্ত ২ হাজার ৩৭৭ কোটি টাকা বাড়লে বাকি প্রায় ১৪ হাজার কোটি টাকা প্রকল্প বিলম্ব হওয়ার কারণেই বাড়ছে বলে মনে হচ্ছে। যদি এ ব্যয় বৃদ্ধি প্রকল্পের বিলম্বের জন্য হয়ে থাকে তাহলে সেটা অযৌক্তিক। কারণ সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী নিজেই এ বিষয়ে উষ্মা প্রকাশ করেছেন। এছাড়া আগামীতে যতগুলো কয়লাভিত্তিক পাওয়ার প্লান্ট হবে তার মধ্যে মাতারবাড়ী বিদ্যুৎকেন্দ্র সবচেয়ে ব্যয়বহুল। তার ওপর বাড়তি খরচ—এটা কীভাবে গ্রহণযোগ্য হয়।

তিনি বলেন, ঐতিহাসিকভাবে আমরা গ্যাস দিয়েই বিদ্যুৎ উৎপাদন করি। আমরা ২০১০ সাল পর্যন্ত ৯০ শতাংশ বিদ্যুৎ গ্যাস দিয়ে উৎপাদন করেছি। কিন্তু বর্তমানে গ্যাসের মজুদ শেষ হয়ে যাচ্ছে। তাই একেবারেই কয়লা ব্যবহার করব না, সেটা এখন সম্ভব নয়। তবে সারা দুনিয়া এখন কয়লা থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। সুতরাং এখন কয়লাটাকে খুব বেশি প্রাধান্য দেয়া ঠিক হবে না। বরং কিছুটা সহায়ক শক্তি হিসেবে আমরা কয়লাকে ব্যবহার করতে পারি। তবে অতিরিক্ত কয়লা ব্যবহার গ্রহণযোগ্য হবে না। এটা পৃথিবীর চলমান ট্রেন্ড থেকে উল্টো দিকে যাবে।

বদরুল ইমাম আরো বলেন, বিদ্যুৎ উৎপাদনে আমাদের গ্যাসের ব্যবহার বাড়াতেই হবে। এজন্য গ্যাসের অনুসন্ধান খাতে অনেক বেশি বিনিয়োগ করতে হবে। কিন্তু সরকার এ খাতকে তেমন গুরুত্ব দিচ্ছে না। বর্তমানে দেশে গ্যাস অনুসন্ধানের কাজ একেবারেই নেই। সাগরে কিংবা ভূখণ্ডে কোথাও গ্যাস অনুসন্ধানে কোনো কাজ করা হচ্ছে না। গত ২০ বছরে আমরা ব্যবহার করেছি ১৩ টিসিএফ গ্যাস আর আমরা আবিষ্কার করেছি ২ টিসিএফেরও কম।

জানা যায়, সরকার ২০৩০ সালের মধ্যে ৪০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে। এজন্য ২০০৮ সাল থেকে এ পর্যন্ত ১৮টি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্প অনুমোদনও দেয়া হয়। আর এ বিপুল পরিমাণ বিদ্যুতের ৩৫ শতাংশই কয়লা থেকে উৎপাদন করার কথা ভাবা হয়েছিল। কিন্তু অনুমোদনের দেড় যুগ পেরিয়ে গেলেও ১৩টি প্রকল্পের কাজ এখনো শুরুই হয়নি। এছাড়া পরিবেশ দূষণের কথা বিবেচনায় নিয়ে এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে সরকার কায়লা থেকে সরে আসার চিন্তা করছে।

পরিবেশকর্মীরাও বলছেন, কয়লার ব্যবহারের ফলে বাংলাদেশ মারাত্মক জলবায়ু ঝুঁকিতে পড়তে পারে। আর বাংলাদেশ যদি বিদ্যুৎ উৎপাদনে কয়লার ব্যবহার কমিয়ে দেয়, তবে আরো সাশ্রয়ী মূল্যে বিকল্প জ্বালানি হিসেবে তরল প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানি করতে পারবে। পাশাপাশি কয়লার বিকল্প হিসেবে সৌর ও বায়ুবিদ্যুৎ শক্তির উৎসগুলোকে কাজে লাগানোর পরামর্শ দিয়েছেন পরিবেশকর্মীরা।

 

98 ভিউ

Posted ১২:৩০ অপরাহ্ণ | মঙ্গলবার, ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২১

coxbangla.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

এ বিভাগের আরও খবর

Archive Calendar

রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮  

Editor & Publisher

Chanchal Dash Gupta

Member : coxsbazar press club & coxsbazar journalist union (cbuj)
cell: 01558-310550 or 01736-202922
mail: chanchalcox@gmail.com
Office : coxsbazar press club building(1st floor),shaheed sharanee road,cox’sbazar municipalty
coxsbazar-4700
Bangladesh
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

ABOUT US :

coxbangla.com is a dedicated 24x7 news website which is published 2010 in coxbazar city. coxbangla is the news plus right and true information. Be informed be truthful are the only right way. Because you have the right. So coxbangla always offiers the latest news coxbazar, national and international news on current offers, politics, economic, entertainment, sports, health, science, defence & technology, space, history, lifestyle, tourism, food etc in Bengali.

design and development by : webnewsdesign.com