বৃহস্পতিবার ২৬শে নভেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ | ১১ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম

বৃহস্পতিবার ২৬শে নভেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

শিরোনাম

কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্প এলাকায় অপরাধ নিয়ন্ত্রণে সরকারের নতুন প্রকল্প

রবিবার, ১১ নভেম্বর ২০১৮
202 ভিউ
কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্প এলাকায় অপরাধ নিয়ন্ত্রণে সরকারের নতুন প্রকল্প

কক্সবাংলা রিপোর্ট(১০ নভেম্বর) ::  মানব ও মাদকপাচার, জঙ্গি-সন্ত্রাসী কার্যক্রম প্রতিরোধে কক্সবাজারের উখিয়া-টেকনাফে অবস্থানরত প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গাদের জন্য নতুন করে ‘ইমারজেন্সি মাল্টি সেক্টর রোহিঙ্গা ক্রাইসিস রেসপন্স’ নামে একটি প্রকল্প হাতে নিয়েছে সরকার। যা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় বাস্তবায়ন করবে।

এছাড়া এরইমধ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা বিভাগ কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্প এলাকায় আইনি সহায়তা ও অপরাধ নিয়ন্ত্রণে কুইক রেসপন্স টিম, বিশেষ কন্ট্রোল রুম স্থাপন করে আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে কক্সবাজার জেলার কুতুপালং, থাইংখালী, নোয়াপাড়া, বালুখালী ও উনপিপ্রাং-এর সাতটি ক্যাম্পে ১১ লাখ ৫৮ হাজার ২৫৯ জন রোহিঙ্গা অবস্থান করছে।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৭ সালের ২ আগস্ট থেকে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে জাতিগত সহিংসতার শিকার হয়ে এ পর্যন্ত ১১ লক্ষাধিক নাগরিক সীমান্ত অতিক্রম করে কক্সবাজার জেলায় অনুপ্রবেশ করেছে। জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত মিয়ানমার জনগোষ্ঠীর বেশির ভাগ কক্সবাজার জেলার উখিয়া ও টেকনাফ উপজেলায় বসতি স্থাপন করেছে।

গত ৩১ মে’র (২০১৮) ইউএনএইচসিআর-এর রিপোর্টের হিসাব অনুযায়ী, যাদের ৮৭ ভাগ অপরিকল্পিত ৩২টি ক্যাম্প-সাইটে এবং বাকি ১৩ ভাগ স্থানীয় জনগোষ্ঠীর মধ্যে বসবাস করছে। এতে কুতুপালং মেগা ক্যাম্প বিশ্বের বৃহত্তম শরণার্থী শিবিরে পরিণত হয়।

এছাড়া বাস্তুচ্যুত মিয়ানমার জনগোষ্টি স্থানীয় জনগণের চেয়ে তিনগুণ বেশি হয়ে যায়। যে কারণে ওই এলাকা ঘনবসতিপূর্ণ হয়ে পড়ে এবং উন্নয়ন কার্যক্রম চ্যাঞ্জের মুখোমুখি হয়েছে।

রোহিঙ্গাদের ক্যাম্প স্থাপন করতে ছয় হাজার একর এবং জ্বালানি কাঠ সংগ্রহ করতে গিয়ে আরও চার হাজার একর বনভূমি ধ্বংস হয়েছে। পানি, স্যানিটেশন ও স্বাস্থ্যসেবা অবকাঠামোর ওপরও চাপ বেড়ে যায়। স্থানীয় জনগোষ্ঠীর ওপরও ব্যাপক নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, রোহিঙ্গাদের আইনি সমায়তাসহ সার্বিক আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কাজ করছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এরইমধ্যে কক্সবাজারের টেকনাফের নয়াপাড়ায় এবং উখিয়ার কুতুপালংয়ে পুলিশ ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে।

আশ্রয়প্রার্থী রোহিঙ্গারা যেন সর্বত্র ছড়িয়ে পড়তে না পারে, সেজন্য গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোয় অতিরিক্ত চেকপোস্ট স্থাপন করা হয়েছে। রোহিঙ্গা ক্যাম্প এলাকাসহ পুরো জেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় টহল কার্যক্রম বাড়ানো হয়েছে। স্থাপন করা হয়েছে বিশেষ কন্ট্রোল রুম।

রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোয় যেকোনও ধরনের অপরাধ প্রতিরোধ ও আইনি সহায়তার জন্য কুইক রেসপন্স টিমের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এছাড়া রোহিঙ্গাদের মধ্যে সচেতনতামূলক সভা-সেমিনার করা হচ্ছে।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় সম্প্রতি অনুমোদিত ‘ইমারজেন্সি মাল্টি সেক্টর রোহিঙ্গা ক্রাইসি রেসপন্স’ প্রকল্পের আওতায় মানবিক সহায়তা দেওয়ার কার্যক্রমগুলো চালাবে। এরমধ্যে ৬০ হাজার সহায় সম্বলহীন হতদরিদ্র, কর্মক্ষম বয়স্ক, কিশোর, কিশোরীদের দিয়ে বিভিন্ন কমিউনিটি সেবা দেওয়ার জন্য কর্ম সংস্থান সৃষ্টি করবে। যেন ক্যাম্প সাইটের পরিবেশ ও তাদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন হয়।

১৬ থেকে ২৯ বছর বয়সী ৪০ হাজার তরুণ-তরুণীকে কাজে নিয়োজিত করে তাদের সমাজ উন্নয়নে সম্পৃক্ত করা হবে। পারিবারিক আয়বৃদ্ধির মাধ্যমে ন্যূনতম ব্যয় নির্বাহে সক্ষমতা সৃষ্টি করা হবে। মানবপাচার, মাদকপাচারসহ সমাজের জন্য ক্ষতিকর কাজ থেকে সরিয়ে এনে অর্থনৈতিক কাজে নিয়োজিত করা হবে।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়, শরণার্থী ত্রাণ ও পুনর্বাসন কমিশন এবং অন্যান্য সরকারি সংস্থার শরণার্থী ব্যবস্থাপনায় সক্ষমতা বাড়াতে মাঠ পর্যায়ে ক্যাম্প-ইন-চার্জ, শরণার্থী ত্রাণ ও পুনর্বাসন কমিশনারেটের কর্মকর্তা, স্টাফ এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের কর্মকর্তাদের স্থানীয় ও বৈদেশিক প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।

২০২১ সালের মধ্যে ৩৩৭ কোটি ৮৯ লাখ টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়িত হবে ‘ইমারজেন্সি মাল্টি সেক্টর রোহিঙ্গা ক্রাইসি রেসপন্স’ প্রকল্প। এরমধ্যে বিশ্বব্যাংক দিবে ৩৩৪ কোটি টাকা। বাকি টাকা ব্যয় করবে বাংলাদেশ সরকার।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের শরনার্থী সেলের প্রধান যুগ্ম সচিব শাহ্ রেজওয়ান হায়াত বলেন, ‘গত সপ্তাহে এ প্রকল্পের অনুমোদন দিয়েছে সরকার। শিগগিরই বিষয়টি নিয়ে কাজ শুরু হবে। তবে, শুরু থেকেই দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ-মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগ স্থানীয় ও রোহিঙ্গাদের আর্থসামাজিক উন্নয়নে কাজ করছে।’

202 ভিউ

Posted ৫:১২ পূর্বাহ্ণ | রবিবার, ১১ নভেম্বর ২০১৮

coxbangla.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

এ বিভাগের আরও খবর

Archive Calendar

রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি
১০১১১২১৩১৪
১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
২৯৩০  

Editor & Publisher

Chanchal Dash Gupta

Member : coxsbazar press club & coxsbazar journalist union (cbuj)
cell: 01558-310550 or 01736-202922
mail: chanchalcox@gmail.com
Office : coxsbazar press club building(1st floor),shaheed sharanee road,cox’sbazar municipalty
coxsbazar-4700
Bangladesh
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

ABOUT US :

coxbangla.com is a dedicated 24x7 news website which is published 2010 in coxbazar city. coxbangla is the news plus right and true information. Be informed be truthful are the only right way. Because you have the right. So coxbangla always offiers the latest news coxbazar, national and international news on current offers, politics, economic, entertainment, sports, health, science, defence & technology, space, history, lifestyle, tourism, food etc in Bengali.

design and development by : webnewsdesign.com