শনিবার ২৬শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ | ১১ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম

শনিবার ২৬শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

কক্সবাজারের শরনার্থী ক্যাম্পের বাইরে গেলেই রোহিঙ্গাদের ঠিকানা ভাসানচর‌ : স্বাগত জানাল স্থানীয়রা

সোমবার, ০৪ মে ২০২০
13 ভিউ
কক্সবাজারের শরনার্থী ক্যাম্পের বাইরে গেলেই রোহিঙ্গাদের ঠিকানা ভাসানচর‌ : স্বাগত জানাল স্থানীয়রা

কক্সবাংলা রিপোর্ট(৪ মে) :: কক্সবাজারের স্থানীয় ও উখিয়া ও টেকনাফের ৩৪টি শরনার্থী শিবিরের রোহিঙ্গাদের করোনা ভাইরাস সংক্রমনের কথা বিবেচনায় কঠোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।এখন থেকে ক্যাম্পের বাইরে কোনো রোহিঙ্গাকে পাওয়া গেলেই ভাসানচরে পাঠানো হবে ৷ কারণ মানবপাচারকারী চক্রের খপ্পরে পড়ে অনেক রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে পালিয়ে মালয়শিয়া-সৌদিআরব সহ দেশের বিভিন্ন স্থানে কর্মসংস্থানের জন্য চলে যায়।এর ফলে চলমান করোনা মহামারিতে পালিয়ে যাওয়া রোহিঙ্গারা যাতে ফিরে স্থানীয় সহ ক্যাম্পের রোহিঙ্গাদের স্বাস্থ্য ঝুকি সৃষ্টি করতে না পারে সে জন্য ভাসানচরে পাঠানো হবে।

জানা যায়,গতমাসে রোহিঙ্গাদের একটি দল সাগর পথে মালয়েশিয়া যেতে গিয়ে ব্যর্থ হয়ে ফিরে আসলে তাদের ৩৯২ জনকে আশ্রয় দেয়া হয়৷ কিন্তু তাদের আশ্রয় দিলেও করোনা সংক্রমনের আশংকায় আতঙ্কে রয়েছে ক্যাম্পের বাকী রোহিঙ্গারা।এছাড়া স্থানীয়দের মধ্যেও আতংক বিরাজ করছে।এরপরও বঙ্গোপসাগরে ভাসমান আরেকটি জাহাজে প্রায় ৫০০ রোহিঙ্গাকে নিয়ে ভাসতে থাকে। জানা গেছে তাদের উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে সাগর পথে ট্রলারে করে মালয়েশিয়া নেওয়ার কথা বলে কক্সবাজার নুনিয়াছড়া এলাকায় নামিয়ে দেয় দালাল চক্র৷ পরে পুলিশ এই খবর পেয়ে তাদের মোট ২৯ জনকে উদ্ধার করে৷ রাতে তাদের নৌবাহিনীর কোস্টগার্ডের সহায়তায় ভাসানচরে কোয়ারান্টাইনে পাঠানো হয়৷ আর সেখানেই অবস্থানকালে বোঝা যাবে তারা করোনায় সংক্রমিত কিনা।

এ ব্যাপারে ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা প্রতিমন্ত্রী প্রতিমন্ত্রী ডা. এনামুর রহমান একটি বিদেশী সংবাদ মাধ্যকে জানান, ‘‘এখন থেকে কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফের ৩৪টি শরনার্থী শিবিরের বাইরে কোনো রোহিঙ্গাকে পাওয়া গেলেই ভাসানচরে পাঠানো হবে৷’’ ‘‘সম্প্রতি কক্সবাজারে উদ্ধার ২৯ রোহিঙ্গাকে ভাসানচরে নৌবাহিনী নিয়ে গেছে৷ তারা সেখানে নৌবাহিনীর তত্ত্বাবধানেই থাকবে৷ কোনো ভলান্টারি অর্গানাইজেশন না থাকলেও কোনো সমস্যা নেই৷ সরকারই তাদের সবধরনের সহায়তা করবে৷ সেখানে থাকা, চিকিৎসা, পানি ও খাদ্যের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা আছে৷ সেখানকার আবাসন সুবিধা সুপার টাউনের মত৷’’

আরো রোহিঙ্গা শরনার্থীকে ভাসানচরে নেয়া হবে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘‘সরকারের নির্দেশনা হলো ক্যাম্পের বাইরে যাদেরই ডিটেক্ট করা হবে তাদেরই ভাসানচরে পাঠানো হবে৷ এখানে তারা সরকারি ব্যবস্থাপনায়ই থাকবে৷ সংখ্যা বাড়লে তখন আমরা আন্তর্জাতিক সংস্থার সাথে কথা বলব৷’’

এ ব্যাপারে কক্সবাজরের জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন জানান, ‘‘ভাসানচরে নেয়া ওই রোহিঙ্গাদের ব্যাপারে এখন থেকে নোয়াখালী জেলা প্রশাসন কাজ করবে৷ তারা সরকারের তত্ত্বাবধানেই সেখানে থাকবে৷’’

এদিকে তাতক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় এ সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে কক্সবাজারের সুশিল সমাজ ও স্থানীয়রা জানায়,করোনা ভাইরাসের সংক্রমন ঠেকাতে এবং ক্যাম্প ছেড়ে রোহিঙ্গাদের পালানো রোধ করতে এটাই মহাঔষধ। কারণ রোহিঙ্গারা ক্যাম্প থেকে পালিয়ে মাদক পাচার,চুরি,ডাকাতি,অপহরণ,খুন সহ নানা অসামাজিক কাজে লিপ্ত রয়েছে। আর ভূয়া বাংলাদেশী পাসপোর্ট বানিয়ে বিভিন্ন দেশে পাচার হচ্ছে।আর সেখানে অপরাধ কর্মকান্ডে জড়ানোর ফলে এর কর্মফল ভোগ করতে হয় বাংলাদেশী প্রবাসী রেমিটেন্স যোদ্ধাদের। এখন ভাসানচরে যাওয়ার ভয়ে রোহিঙ্গারা আর ক্যাম্প ছেড়ে পালাবে না। আর ভাসানচর ফর্মুলাটি কঠোরভাবে প্রয়োগ করার জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সহযোগীতা করার আহব্বান জানান তারা।

প্রসঙ্গত,২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট মিয়ানমারের রাখাইনে নৃশংস সামরিক অভিযানের পর দেশটি ছেড়ে আসা প্রায় সাড়ে সাত লাখ মানুষ কক্সবাজারে আশ্রয় নিলে এই আবাসন প্রকল্পটি হাতে নেওয়া হয়। প্রকল্পের খরচ বহন করা হয় রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে। রাখাইনে এর আগে সহিংসতার সময় পালিয়ে বাংলাদেশে আসা তিন লাখ রোহিঙ্গাদের সঙ্গে এই নতুন সাড়ে সাত লাখ মানুষ যোগ দেন।এনিয়ে কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফের ৩৪টি আশ্রয় শিবিরে রয়েছেন প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গা।

জানা যায়,ভাসানচর নোয়াখালী জেলার হাতিয়া উপজেলার একটি দ্বীপ৷ মেঘনা নদী ও বঙ্গোপসাগরের মোহনায় জেগে ওঠা এই দ্বীপে ১ লাখ রোহিঙ্গার আশ্রয়ের জন্য সরকার ২ হাজার ৩১২ কোটি টাকা খরচ করে স্থাপনা তৈরি করে৷ নৌবাহিনীর তত্ত্বাবধানে এরইমধ্যে সেখানে অনেক স্থাপনা গড়ে উঠেছে৷ সেখানে এক হাজার ৪৪০টি একতলা ভবন নির্মাণ করা হয়েছে৷ নির্মাণ করা হয়েছে ১২০টি চারতলা আশ্রয়কেন্দ্র৷ মূল ভূখন্ড থেকে ৩০ কিলোমিটার দূরে ভাসানচরকে বাঁচাতে ১৩ কিলোমিটার দীর্ঘ ও তিন মিটার উঁচু বাঁধ নির্মাণ করা হয়েছে৷

তবে শুরু থেকেই রোহিঙ্গাদের ভাসানচরে পাঠানোর ব্যাপারে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো বিরোধিতা করে আসছিল৷

 

13 ভিউ

Posted ৬:৩০ অপরাহ্ণ | সোমবার, ০৪ মে ২০২০

coxbangla.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

Archive Calendar

রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি
 
১০১১১২
১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৮২৯৩০  

Editor & Publisher

Chanchal Dash Gupta

Member : coxsbazar press club & coxsbazar journalist union (cbuj)
cell: 01558-310550 or 01736-202922
mail: chanchalcox@gmail.com
Office : coxsbazar press club building(1st floor),shaheed sharanee road,cox’sbazar municipalty
coxsbazar-4700
Bangladesh
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

ABOUT US :

coxbangla.com is a dedicated 24x7 news website which is published 2010 in coxbazar city. coxbangla is the news plus right and true information. Be informed be truthful are the only right way. Because you have the right. So coxbangla always offiers the latest news coxbazar, national and international news on current offers, politics, economic, entertainment, sports, health, science, defence & technology, space, history, lifestyle, tourism, food etc in Bengali.