বুধবার ২০শে অক্টোবর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ৪ঠা কার্তিক, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম

বুধবার ২০শে অক্টোবর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

শিরোনাম

কক্সবাজারের সাবেক সহকারী পুলিশ সুপার বাবুল আক্তারকে গ্রেপ্তার

বুধবার, ১২ মে ২০২১
168 ভিউ
কক্সবাজারের সাবেক সহকারী পুলিশ সুপার বাবুল আক্তারকে গ্রেপ্তার

কক্সবাংলা ডেস্ক :: স্ত্রী মাহমুদা খানম মিতু হত্যা মামলায় তার স্বামী সাবেক কক্সবাজার জেলার সহকারী পুলিশ সুপার বাবুল আক্তারকে মঙ্গলবার রাতে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

এর আগে এই মামলায় চট্টগ্রাম নগরের মনসুরাবাদ পিবিআই মহানগর কার্যালয়ে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পরিদর্শক সন্তোষ কুমার চাকমাসহ পিবিআইর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জিজ্ঞাসাবাদ করেন। এরপরই বাবুল আক্তারকে স্ত্রী হত্যার মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশ সদর দপ্তরের একটি সূত্র তার গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করলেও এ নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। এ বিষয়ে কঠোর গোপনীয়তা অবলম্বন করছে পিবিআই। মিতু হত্যা মামলার বাদীও বাবুল আক্তার।

সংশ্নিষ্টরা বলছেন, বাবুল আক্তারকে গ্রেপ্তারের মধ্য দিয়ে এই মামলার তদন্ত নতুন মোড় নিল। মিতু হত্যার পর প্রথমে তাকে নির্দোষ বলে গণমাধ্যমে বিবৃতি দিলেও পরে তার শ্বশুর মোশাররফ হোসেন ও শাশুড়ি সাহেদা মোশাররফ হত্যাকাণ্ডের জন্য মেয়ের জামাইকে দায়ী করেন।

২০২০ সালের জানুয়ারিতে আদালতের নির্দেশে এ মামলা তদন্তের দায়িত্ব পায় পিবিআই। এর আগে সেটি নগর গোয়েন্দা পুলিশ তদন্ত করেছিল। তারা প্রায় তিন বছর তদন্ত করেও অভিযোগপত্র দিতে ব্যর্থ হয়। পরে ২০২০ সালের জানুয়ারিতে আদালত মামলা তদন্তের ভার পিবিআইকে দেন।

পিবিআই প্রধান ডিআইজি বনজ কুমার মজুমদার  বলেন, ‘তিনি আগেও এসেছিলেন। আজকেও পিবিআইতে গেছেন। মামলার বাদী হিসেবে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। হাইকোর্টের রুলিং আছে। এর বেশি কিছু বলা যাবে না।’

তবে পিবিআইর নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে সাবেক পুলিশ সুপার বাবুল আক্তার জিজ্ঞাসাবাদের জন্য চট্টগ্রামে হাজির হয়েছেন বলে জানা গেছে। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পিবিআই পরিদর্শক সন্তোষ কুমার চাকমা বলেন, ‘তিনি মামলার বাদী। আমরা মামলার তদন্ত করছি, তিনি এর অগ্রগতি জানতে আমাদের কাছে এসেছিলেন।’

পুলিশের একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা সমকালকে বলেন, যেহেতু মিতু হত্যার ঘটনার বাদী বাবুল আক্তার এখন অন্যতম সন্দেহভাজন, তাই এ মামলায় চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেওয়া হতে পারে। এরপর এ ঘটনায় নতুনভাবে দায়ের করা মামলায় বাবুলকে আসামি করা হবে।

২০১৬ সালের ৫ জুন ছেলেকে স্কুলবাসে তুলে দিতে গিয়ে চট্টগ্রাম নগরের জিইসি মোড়ের কাছে ওআর নিজাম রোডে নির্মমভাবে খুন হন মাহমুদা খানম মিতু। ছুরিকাঘাত ও গুলি চালিয়ে হত্যা করা হয় তাকে। এ ঘটনায় বাবুল আক্তার অজ্ঞাতপরিচয় তিন ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা করেন।

মিতু হত্যাকাণ্ডের পর প্রথমে ধারণা করা হয়েছিল, জঙ্গিরা এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত। পরে পরকীয়ার বিষয়ও আলোচনায় আসে। এ ব্যাপারে বিভিন্ন পক্ষের বক্তব্যও নিয়েছেন তদন্ত কর্মকর্তা। হত্যাকাণ্ডের বছরখানেক পর থেকে মিতুর বাবা সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা মোশাররফ হোসেন দাবি করে আসছিলেন, বাবুল আক্তারের পরিকল্পনায় ও নির্দেশে তার মেয়ে মিতুকে খুন করা হয়েছে।

মিতু হত্যার পর একটি মাজারের খাদেম আবু নছর ওরফে গুন্নু ও শাহজামান ওরফে রবিন নামের এক যুবককে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে তারা জামিনে বেরিয়ে আসেন। হত্যার ২০ দিন পর তদন্ত ভিন্ন খাতে এগোয়। ২০১৬ সালের ২৪ জুন মধ্যরাতে ঢাকার বনশ্রী এলাকার শ্বশুরবাড়ি থেকে বাবুল আক্তারকে তুলে নিয়ে যায় পুলিশ। প্রায় ১৫ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পরে তাকে বাসায় পৌঁছে দেওয়া হয়। এরপর নানা গুঞ্জন ডালপালা ছড়ায়। এ সময় পুলিশ জানায়, বাহিনী থেকে পদত্যাগ করেছেন বাবুল আক্তার। তবে বাবুল আক্তারের দাবি ছিল, তিনি স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেননি। ২০১৬ সালের ৯ আগস্ট পদত্যাগপত্র প্রত্যাহারের জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেন তিনি। নানা নাটকীয়তা শেষে ৬ সেপ্টেম্বর বাবুলকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

মিতু হত্যার ২১ দিন পর ২৬ জুন গ্রেপ্তার করা হয় ওয়াসিম ও আনোয়ারকে। আদালতে জবানবন্দি দেন তারা। জবানবন্দি থেকে জানা যায়, এ হত্যাকাণ্ডে অংশ নেন মুছার নেতৃত্বে ওয়াসিম, আনোয়ার, মো. রাশেদ, নবী, মো. শাহজাহান ও মো. কালু। হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত মোটরসাইকেলে ছিল ওয়াসিম, মুছা ও নবী। মাহমুদাকে ছুরিকাঘাত করে নবী। অস্ত্র সরবরাহ করে এহতেশামুল হক ওরফে ভোলা। তবে কী কারণে, কার নির্দেশে তারা অংশ নিয়েছে, তা নিয়ে কোনো তথ্য দেয়নি তারা।

একই বছরের ৪ জুলাই রাঙ্গুনিয়ায় পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হয় এ হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্ত নবী ও রাশেদ। মুছা ও কালুকে এখনও গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। মুছাকে ধরিয়ে দিতে পাঁচ লাখ টাকা পুরস্কারও ঘোষণা করে পুলিশ। তবে ২০১৬ সালের ২২ জুন চট্টগ্রাম নগরের বন্দর এলাকায় এক আত্মীয়ের বাড়ি থেকে পুলিশ মুছাকে ধরে নিয়ে গেছে বলে দাবি করে আসছেন তার স্ত্রী পান্না আক্তার।

বাবুল আক্তার পুলিশের চাকরি ছেড়ে প্রথমে আদ্‌-দ্বীন হাসপাতালে যোগ দেন। সম্প্রতি তিনি চীন থেকে পানি পরিশোধনকারী যন্ত্র এনে বিক্রির ব্যবসা শুরু করেন। এরই মধ্যে বিয়েও করেছেন তিনি। বর্তমান স্ত্রীকে নিয়ে ঢাকায় বসবাস করে আসছিলেন বাবুল আক্তার।

মিতুর মা সাহেদা মোশাররফ বলেন, মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে বাবুল আক্তারের বাবা আবদুল ওয়াদুদ তাদের ফোন করেছিলেন। বাবুলের বর্তমান স্ত্রীকে উদ্বৃত করে তিনি বলেছেন, সোমবার থেকে তিনি বাড়ি ফেরেননি।

168 ভিউ

Posted ২:১২ পূর্বাহ্ণ | বুধবার, ১২ মে ২০২১

coxbangla.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

এ বিভাগের আরও খবর

Archive Calendar

রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
৩১  

Editor & Publisher

Chanchal Dash Gupta

Member : coxsbazar press club & coxsbazar journalist union (cbuj)
cell: 01558-310550 or 01736-202922
mail: chanchalcox@gmail.com
Office : coxsbazar press club building(1st floor),shaheed sharanee road,cox’sbazar municipalty
coxsbazar-4700
Bangladesh
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

ABOUT US :

coxbangla.com is a dedicated 24x7 news website which is published 2010 in coxbazar city. coxbangla is the news plus right and true information. Be informed be truthful are the only right way. Because you have the right. So coxbangla always offiers the latest news coxbazar, national and international news on current offers, politics, economic, entertainment, sports, health, science, defence & technology, space, history, lifestyle, tourism, food etc in Bengali.

design and development by : webnewsdesign.com