শুক্রবার ৩০শে অক্টোবর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ | ১৪ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম

শুক্রবার ৩০শে অক্টোবর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

শিরোনাম

কক্সবাজারের সোনাদিয়া দ্বীপের গহীন প্যারাবনই জলদস্যুদের নিরাপদ আস্তানা

রবিবার, ০৪ মার্চ ২০১৮
191 ভিউ
কক্সবাজারের সোনাদিয়া দ্বীপের গহীন প্যারাবনই জলদস্যুদের নিরাপদ আস্তানা

এম.নজরুল ইসলাম,কুতুবদিয়া(৪ মার্চ) :: জলদস্যুদের ভয়ে কক্সবাজার উপকূলের জেলেরা মাছ ধরতে যাচ্ছে না বঙ্গোপসাগরে। যার ফলে বেকার হয়ে পড়েছে উপকূলের শতশত জেলে। গত চারদিনে সাগরে ১২ ফিশিং ট্রলারে গণডাকাতির পর ৪ মার্চ (রবিবার)ও জলদস্যুদের কবলে পড়েছে আরো ৪টি ফিশিং বোট। কয়েক সপ্তাহ ধরে সাগরে জলদস্যুদের উৎপাত বৃদ্ধি পেয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় জেলেরা।

স্থানীয় জেলেদের সূত্রে জানা গেছে, গত শনিবার দিবাগত ভোর রাতে সাগরে মাছ ধরে উপকূলে ফিরে আসার পথে এফবি মরিয়ম, এফবি আল্লাহর দান , এফবি ফাতেমাসহ আরো একটি ফিশিং ট্রলারে জলদস্যুরা আক্রমণ করে সোনাদিয়ার গহীন প্যারাবনে নিয়ে আটকে রাখে। পরে মুক্তিপণের বিনিময়ে তিনটি ট্রলারকে মাঝি-মাল্লাসহ ছেড়ে দিলেও অন্য একটি ছেড়ে দেইনি বলেন জানান তারা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় জেলেরা জানিয়েছেন, গত দুই কয়েক সপ্তাহে প্রায় ২০টির অধিক ফিশিং বোট জলদস্যুদের কবলে পড়েছে। প্রতিটি ফিশিং ট্রলারকে জলদস্যুরা মাঝি-মাল্লাসহ মহেশখালী দ্বীপের সোনাদিয়ার ঘড়িভাঙ্গা খাল দিয়ে গহীন প্যারাবনে ঢুকিয়ে ট্রলারের যাবতীয় মালামাল লুট করে জেলেদের পরিবারের নিকট থেকে নগদ মুক্তিপণ আদায়ের জন্য অসহনীয় নির্যাতন করতে থাকে।

নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে জেলেরা নিজেদের পরিবারের সাথে যোগাযোগের মাধ্যমে জলদস্যুদের দেয়া ০১৮১১৩৬৩৯৫৭, ০১৮২১০৯১১৯৭, ০১৮৫২৩২২৫৫৭, ০১৭৬৮৪১৫৬৫৪,০১৮১২৯০১৫৫৫, ০১৮৪৫৮৮৩৮৩৮, ০১৮২৭৮২৩৬৭৯, ০১৮৫২৫৮২৫১০, ০১৬৪০৮৪৩১৩২ ও ০১৮২৯৪৩৫৪১৬ বিভিন্ন বিকাশ নাম্বারে মুক্তিপণ দিয়ে জেলেদের কবল থেকে উদ্ধার হয়। জেলেরা জানিয়েছেন, সোনাদিয়া দ্বীপের গহীন এই প্যারাবনকেই নিরাপদ আস্তানা হিসেবে ব্যবহার করছে জলদস্যুরা। জীবনের ভয়ে এই প্যারাবনে দিনেও কোন মনুষ্য প্রবেশ করে না বলে ধারনা তাদের।

এদিকে রবিবার (৪ মার্চ) উপজেলার অমজাখালী গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, জলদস্যুদের কবল থেকে ফিরে আসা জেলে পরিবারগুলো এলাকার দাদন ব্যবসায়ী ও বিভিন্ন এনজিও সংস্থার ক্ষুদ্রঋণের জালে আটকে পড়ে মানবেতর জীবন-যাপন করছে। যার কারনে একদিকে পরিবারের খরচ বহন অন্যদিকে ঋণের টাকা পরিশোধ এ দুইয়ের টানা-পুড়নে জ্বলছে এসব পরিবারের জেলেরা।

স্থানীয় আবু তাহের মিয়া জানান, চলতি শুষ্ক মৌসুমে জলদস্যুদের কবলে পড়ে প্রায় অর্ধশত কোটি টাকার চেয়েও বেশি আর্থিক ক্ষতির সম্মুখিন হয়েছেন উপকূলের জেলেরা। সাগরে জলদস্যুদের উৎপাত বেড়ে যাওয়ায় মাছ ধরতে সাগরে যাচ্ছে না স্থানীয় জেলেরা। ফলে বেকার হয়ে ঘরে বসে আছে কয়েক শতাধিক জেলে।

তবে এফ,বি নাজমা, এফ,বি কহিনুর ,এফ,বি খোকন, এফ,বি সাগরকন্যাসহ একাধিক ফিশিং ট্রলারের মালিকের দাবী সাগরে তান্ডব চালানো এসব জলদস্যুদের কূলে বসেই তথ্য সরবাহ করছে স্থানীয় কিছু ছদ্মবেশী সাধু ব্যক্তি। এসব তথ্য সরবাহকারী ব্যক্তিদেও তথ্যের উপর ভিত্তি করে সাগরে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে জলদস্যুরা।

কুতুবদিয়া উপকূলের অমজাখালী এলাকার ফিশিং ট্রলারের মালিক (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) জানান, গত বুধবার গভীর রাতে বঙ্গোপসাগরের জাহাজখাড়ী ও সোনাদিয়ারচর নামক স্থানে মাছ ধরারত অবস্থায় অস্ত্রধারী ৫৫/৬০ জন জলদস্যু চারটি ট্রলার নিয়ে ঘেরাও করে তার ট্রলারে হামলা চালিয়ে ট্রলারের মাঝিসহ ৮ জেলেকে আটক করে ট্রলারটি মহেশখালী দ্বীপের ঘড়িভাঙা খাল দিয়ে গহীন প্যারাবনে নিয়ে মুক্তিপণ আদায়ের জন্য মাঝি-মাল্লাদের নির্মমভাবে নির্যাতন করে।

এদিন একই সাথে মাছ ধরতে যাওয়া লেয়াকত আলী,ওসমান গনি,মোঃ
জকরিয়ার,জয়নাল আবেদীন,ও আজম কলোনীর মোর্শেদের ট্রলারসহ ১২টি ট্রলার ও দেড় শতাধিক জেলেকে জিম্মি করে মহেশখালী দ্বীপের ঘড়িভাঙা, সোনাদিয়া, জারীপাড়া খালের প্যারাবনের ভিতরে আটকে রেখে মুক্তিপণ আদায় করেছে বলে জানান।

এব্যপারে কক্সবাজার জেলার সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) রতন কুমার দাশ বলেন, সাগরে পুলিশের করার কিছু নেই। তবে তিনি জানান উপকূলীয় থানাগুলোতে জনবল সংকট ও জলযানের অভাবে সাগরে পুলিশের টহল জোরদার করা সম্ভব হচ্ছে না। সাগরের অতন্দ্রপ্রহরী বাংলাদেশ নৌ বাহিনী জাহান ও কোস্ট গার্ডের নিয়মিত টহল জোরদার থাকলে জেলেরা নিরাপদে মাছ ধরতে পারবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

একই মন্তব্য করেন কুতুবদিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুহাম্মদ দিদারুল ফেরদাউসও। তিনি বলেন চিরুনী অভিযানের মাধ্যমে কুতুবদিয়া উপকূলের শতাধিক চিহ্নিত জলদস্যুকে গ্রেফতার করে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। তারপরেও স্থানীয় জলদস্যু অন্যান্য উপকূলের জলদস্যুদের সাথে জড়ো হয়ে সাগরে গণহারে ডাকাতি করছে বলে পড়ার খবর পাওয়া যাচ্ছে। অচিরেই এসব জলদস্যুরাও পুলিশের জালে আটকা পড়বে বলে জানান তিনি।

191 ভিউ

Posted ১০:৪২ অপরাহ্ণ | রবিবার, ০৪ মার্চ ২০১৮

coxbangla.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

এ বিভাগের আরও খবর

Archive Calendar

রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি
 
১০
১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
১৮১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭২৮২৯৩০৩১

Editor & Publisher

Chanchal Dash Gupta

Member : coxsbazar press club & coxsbazar journalist union (cbuj)
cell: 01558-310550 or 01736-202922
mail: chanchalcox@gmail.com
Office : coxsbazar press club building(1st floor),shaheed sharanee road,cox’sbazar municipalty
coxsbazar-4700
Bangladesh
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

ABOUT US :

coxbangla.com is a dedicated 24x7 news website which is published 2010 in coxbazar city. coxbangla is the news plus right and true information. Be informed be truthful are the only right way. Because you have the right. So coxbangla always offiers the latest news coxbazar, national and international news on current offers, politics, economic, entertainment, sports, health, science, defence & technology, space, history, lifestyle, tourism, food etc in Bengali.

design and development by : webnewsdesign.com