শনিবার ১৮ই সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ৩রা আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম

শনিবার ১৮ই সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

শিরোনাম

কক্সবাজারে আশ্রয় নেয়া ৫ লাখ রোহিঙ্গাকে ফিরিয়ে নেবে মিয়ানমার

শনিবার, ০৮ জুন ২০১৯
63 ভিউ
কক্সবাজারে আশ্রয় নেয়া ৫ লাখ রোহিঙ্গাকে ফিরিয়ে নেবে মিয়ানমার

কক্সবাংলা ডটকম(৮ জুন) :: বাংলাদেশরে কক্সবাজারে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের নিয়ে আসিয়ানের ‘ইমার্জেন্সি রেসপন্স অ্যান্ড অ্যাসেসমেন্ট টিম’-এর তৈরি করা একটি প্রতিবেদন প্রকাশের আগেই ফাঁস হয়েছে। ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপির হাতে আসা ওই প্রতিবেদনে আশা প্রকাশ করা হয়েছে, দুই বছরের মধ্যে বাংলাদেশরে কক্সবাজারে থাকা রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের ৫ লাখ মানুষকে ফিরিয়ে নেবে মিয়ানমার।

এএফপি জানিয়েছে, ওই প্রতিবেদনে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ায় মিয়ানমারের চলমান পদক্ষেপ নিয়ে প্রশংসা করা হয়েছে। শিগগির প্রতিবেদনটি জনসম্মুখে প্রকাশ করার কথা রয়েছে বলে জানিয়েছে তারা।

২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট কয়েকটি নিরাপত্তা চৌকিতে হামলার পর রাখাইনে পূর্ব-পরিকল্পিত ও কাঠামোবদ্ধ সহিংসতা জোরালো করে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। হত্যা-ধর্ষণসহ বিভিন্ন ধারার সহিংসতা ও নিপীড়ন থেকে বাঁচতে নতুন করে বাংলাদেশে পালিয়ে আসে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর প্রায় সাড়ে ৭ লাখ মানুষ। এদের সঙ্গে রয়েছেন ১৯৮২ সাল থেকে নির্যাতনের হাত থেকে বাঁচার জন্যে বাংলাদেশে পালিয়ে আশ্রয় নেওয়া আরও প্রায় ৩ লাখ রোহিঙ্গা। সব মিলে বাংলাদেশে থাকা রোহিঙ্গার সংখ্যা ১০ লাখের বেশি।

এএফপি তাদের প্রতিবেদনে জানিয়েছে, মিয়ানমার সরকারের কাছে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের সংখ্যা ৫ লাখ, যা বাংলাদেশ এবং জাতিসংঘের হিসাবের চেয়ে অনেক কম।‘প্রিলিমিনারি নিডস অ্যাসেসমেন্ট ফর রিপেট্রিয়েশন ইন রাখাইন স্টেট, মিয়ানমার’ শিরোনামে প্রণীত প্রতিবেদনে ৫ লাখ রোহিঙ্গার প্রত্যাবাসন নিয়ে কাজ করার কথা উঠে এসেছে।

প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে রোহিঙ্গারা রাখাইনে থাকলেও মিয়ানমার তাদের নাগরিক বলে স্বীকার করে না। উগ্র বৌদ্ধবাদকে ব্যবহার করে সেখানকার সেনাবাহিনী ইতিহাসের বাঁকে বাঁকে স্থাপন করেছে সাম্প্রদায়িক অবিশ্বাসের চিহ্ন। ছড়িয়েছে বিদ্বেষ। ৮২-তে প্রণীত নাগরিকত্ব আইনে পরিচয়হীনতার কাল শুরু হয় রোহিঙ্গাদের। এরপর কখনও মলিন হয়ে যাওয়া কোনও নিবন্ধনপত্র, কখনও নীলচে সবুজ রঙের রসিদ, কখনও ভোটার স্বীকৃতির হোয়াইট কার্ড, কখনও আবার ‘ন্যাশনাল ভেরিফিকেশন কার্ড’ কিংবা এনভিসি নামের রংবেরঙের পরিচয়পত্রে ধাপে ধাপে মলিন হয়েছে তাদের জাতিগত পরিচয়। ক্রমশ তাদের রূপান্তরিত করা হয়েছে রাষ্ট্রহীন বেনাগরিকে।

এএফপি জানিয়েছে, আসিয়ানের প্রতিবেদনেও মিয়ানমারের রাষ্ট্রীয় কর্তৃপক্ষের মতো করে ‘রোহিঙ্গা’ শব্দটি ব্যবহার করা হয়নি। তাদের পরিচয় হিসেবে সেখানে ‘মুসলমান’ শব্দটি ব্যবহার করা হয়েছে।

পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফিরিয়ে নিতে আন্তর্জাতিক চাপের মুখে গত বছরের জানুয়ারিতে বাংলাদেশ-মিয়ানমার প্রত্যাবাসন চুক্তি সম্পন্ন হয়। গত ৬ জুন নেপিদোতে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে মিয়ানমার ও জাতিসংঘের সংস্থাগুলোর মধ্যেও সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। তবে নানা জটিলতায় এখন পর্যন্ত প্রত্যাবাসন চুক্তির আওতায় একজন রোহিঙ্গাকেও ফিরিয়ে নেয়নি মিয়ানমার।

আসিয়ানের প্রতিবেদনকে উদ্ধৃত করে এএফপি জানিয়েছে, ম্যানুয়ালি কাজ করার পরিবর্তে স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে কাজ করা হলে ৫ কোটি রোহিঙ্গার প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শেষ করতে ‘দুই বছরের মতো’ সময় লাগবে।

বাংলাদেশ ও জাতিসংঘের সঙ্গে চুক্তির পরও রাখাইনে গ্রাম জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে। বুলডোজারে নিশ্চিহ্ন করা হয়েছে মানবতাবিরোধী অপরাধের নজির। খবর মিলেছে সেখানে আদর্শ বৌদ্ধ গ্রাম নির্মাণ চলমান থাকার। ফেব্রুয়ারিতে জাতিসংঘ প্রতিনিধিদলের মিয়ানমারে প্রবেশের কথা থাকলেও সে সময় ডি-ফ্যাক্টো সরকার এর অনুমতি দেয়নি। পরে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে প্রবেশাধিকার দিলেও মানবাধিকার সংগঠনগুলো অভিযোগ করে আসছে, প্রত্যাবাসনের ভান করছে মিয়ানমার।

তবে আসিয়ানের অবস্থান সম্পর্কে এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তাদের প্রতিবেদনে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে মিয়ানমারের নেওয়া পদক্ষেপকে ‘সহজ ও সুশৃঙ্খল’ আখ্যা দিয়ে এর প্রশংসা করা হয়েছে। নেপিডোর সুরে সুর মিলিয়ে এতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশি কর্মকর্তাদের পেপার ওয়ার্ক জনিত দুর্বলতার কারণে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া বিলম্বিত হচ্ছে।

 

৫ লাখ রোহিঙ্গাকে ফিরিয়ে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি হাস্যকর: অ্যামনেস্টি

আসিয়ানের ফাঁস হওয়া প্রতিবেদনে সেনাবাহিনীর দ্বারা সংঘটিত রোহিঙ্গা নিপীড়নের বিষয়টিকে যথাযথভাবে তুলে ধরা হয়নি বলে অভিযোগ তুলেছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। সংস্থাটির মিয়ানমার বিষয়ক গবেষক লরা হাই এ নিয়ে ‘বিস্ময়’ প্রকাশ করেছেন। আসিয়ানের ওই প্রতিবেদনে দুই বছরের কিছু বেশি সময়ের মধ্যে ৫ লাখ রোহিঙ্গার প্রত্যাবাসনের সম্ভাব্যতা হাজির করা হয়েছে। তবে একে হাস্যকর আখ্যা দিয়েছেন লরা।

২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট কয়েকটি নিরাপত্তা চৌকিতে হামলার পর রাখাইনে পূর্ব-পরিকল্পিত ও কাঠামোবদ্ধ সহিংসতা জোরালো করে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। হত্যা-ধর্ষণসহ বিভিন্ন ধারার সহিংসতা ও নিপীড়ন থেকে বাঁচতে নতুন করে বাংলাদেশে পালিয়ে আসে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর প্রায় সাড়ে ৭ লাখ মানুষ। এদের সঙ্গে রয়েছেন ১৯৮২ সাল থেকে নির্যাতনের হাত থেকে বাঁচার জন্যে বাংলাদেশে পালিয়ে আশ্রয় নেওয়া আরও প্রায় ৩ লাখ রোহিঙ্গা। সবমিলে বাংলাদেশে থাকা রোহিঙ্গার সংখ্যা ১০ লাখের বেশি। এএফপি তাদের প্রতিবেদনে জানিয়েছে, মিয়ানমার সরকারের কাছে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের সংখ্যা ৫ লাখ যা বাংলাদেশ এবং জাতিসংঘের হিসাবের চেয়ে অনেক কম।

রোহিঙ্গাদের নিয়ে আসিয়ানের ‘ইমার্জেন্সি রেসপন্স অ্যান্ড অ্যাসেসমেন্ট টিম’-এর তৈরি করা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দুই বছরের মধ্যে বাংলাদেশে থাকা রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের ৫ লাখ মানুষকে ফিরিয়ে নেবে মিয়ানমার। প্রতিবেদনটি নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের পক্ষ থেকে বিস্ময় প্রকাশ করা হয়। সংস্থাটির মিয়ানমার বিষয়ক গবেষক লাওরা হাই ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেছেন, আসিয়ানের প্রতিবেদন সেনাবাহিনীর নিপীড়নের মুখে রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে পালিয়ে আসতে বাধ্য হওয়া, এখনও রাখাইনে বসবাসরত রোহিঙ্গাদের ভয়াবহ দুরাবস্থা এবং সেখানকার জাতিগত সশস্ত্র সংঘাতের ব্যাপকতাকে হাজির করতে ব্যর্থ হয়েছে।

পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফিরিয়ে নিতে আন্তর্জাতিক চাপের মুখে গত বছরের জানুয়ারিতে বাংলাদেশ-মিয়ানমার প্রত্যাবাসন চুক্তি সম্পন্ন হয়। গত ৬ জুন নেপিদোতে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে মিয়ানমার ও জাতিসংঘের সংস্থাগুলোর মধ্যেও সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। তবে নানা জটিলতায় এখন পর্যন্ত প্রত্যাবাসন চুক্তির আওতায় একজন রোহিঙ্গাকেও ফিরিয়ে নেয়নি মিয়ানমার। আসিয়ানের প্রতিবেদনে সেনাবাহিনীর রোহিঙ্গা নিধনযজ্ঞ যথাযথভাবে তুলে ধরার বদলে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ায় মিয়ানমারের চলমান পদক্ষেপ নিয়ে প্রশংসা করা হয়েছে। ওই প্রতিবেদনকে উদ্ধৃত করে এএফপি জানিয়েছে, ম্যানুয়ালি কাজ করার পরিবর্তে স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে কাজ করা হলে ৫ কোটি রোহিঙ্গার প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শেষ করতে ‘দুই বছরের মতো’ সময় লাগবে।

রাখাইনে আকারান বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে সেনাবাহিনীর চলমান যুদ্ধের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে অ্যামনেস্টির গত সপ্তাহের প্রতিবেদনে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে নতুন ‘যুদ্ধাপরাধ’র অভিযোগ আনা হয়েছে। ‘এমন বাস্তবতায় সেখানে [৫ লাখ রোহিঙ্গার] নিরাপদ-স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের চিন্তা হাস্যকর’, বলেছেন লরা হাই।

63 ভিউ

Posted ৯:৪৭ অপরাহ্ণ | শনিবার, ০৮ জুন ২০১৯

coxbangla.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

Archive Calendar

রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি
 
১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০  

Editor & Publisher

Chanchal Dash Gupta

Member : coxsbazar press club & coxsbazar journalist union (cbuj)
cell: 01558-310550 or 01736-202922
mail: chanchalcox@gmail.com
Office : coxsbazar press club building(1st floor),shaheed sharanee road,cox’sbazar municipalty
coxsbazar-4700
Bangladesh
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

ABOUT US :

coxbangla.com is a dedicated 24x7 news website which is published 2010 in coxbazar city. coxbangla is the news plus right and true information. Be informed be truthful are the only right way. Because you have the right. So coxbangla always offiers the latest news coxbazar, national and international news on current offers, politics, economic, entertainment, sports, health, science, defence & technology, space, history, lifestyle, tourism, food etc in Bengali.

design and development by : webnewsdesign.com