
রোতাব চৌধূরী :: প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা অধ্যাপক ডাঃ বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার বলেছেন,শিশুদের মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিত করতে আগে মাতৃভাষার উপর জোর দিতে হবে। এরপরে গণিত, ইংরেজীসহ অন্যান্য শিক্ষা।
এ ছাড়া ধর্মীয় শিক্ষা প্রাথমিক থেকেই শুরু করা হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
উপদেষ্টা শনিবার (৬ ডিসেম্বর ২০২৫) সকালে কক্সবাজার সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস আয়োজিত প্রাথমিক শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নে শিক্ষা সংশ্লিষ্ট অংশীজনের ভূমিকা” শীর্ষক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে একথা বলেন।
উপদেষ্টা বলেন, যে স্কুলের প্রধান শিক্ষক যতবেশী আন্তরিক সেই স্কুল ততবেশী উন্নত। তাই প্রধান শিক্ষকদের নেতৃত্ব ও দক্ষতার সাথে বিদ্যালয় পরিচালনার আহ্বান জানান তিনি।
উপদেষ্টা বলেন, কর্মজীবনে সফলতা পেলে পরবর্তীতে শান্তি পাওয়া যায়।
জেলা প্রশাসক মোঃ আঃ মান্নানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এতে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব আবু তাহের মো: মাসুদ রানা এবং প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবু নূর মো: শামসুজ্জামান।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব আবু তাহের মো: মাসুদ রানা তাঁর বক্তব্যে বলেন, নীতিবান শিক্ষকদের দ্বারাই নীতি প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব। শিক্ষার মানোন্নয়নে প্রতিটি স্কুলে প্রথমে নির্ধারিত করতে কর্মপরিকল্পনা। এ ছাড়া প্রতিটি বিদ্যালয়ে একটি লক্ষ্যমাত্রা টার্গেট করে দেওয়া হবে।। তিন মাস পর পর তা মূল্যায়ন করা হবে।শিক্ষার্থীদের
পঠন দক্ষতার উপরও জোর দেন তিনি।
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবু নূর মো: শামসুজ্জামান বলেন, শিক্ষকদের ইতিমধ্যে লীডারশীপ ট্রেনিং দেওয়া হয়েছে। পরবর্তীতে এডভান্স লিডারশীপ ট্রেনিং,পদোন্নতিসহ বিভিন্ন বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক মো: আ: বলেন, মেধা যাচাই পরীক্ষার মতো কার্যক্রমের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মেধার বিকাশ ঘটানো এবং প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ তৈরি করা প্রয়োজন। এছাড়া পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের প্রতি বিশেষ নজর দেওয়াসহ বিভিন্ন চ্যালেঞ্জগুলো চিহ্নিত করে তা সমাধানের চেষ্টা করা হবে বলে জানান তিনি।
এতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম বিভাগীয় প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো আতাউর রহমান।
এ ছাড়া জেলার প্রাথমিক শিক্ষার হালচিত্র পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে উপস্থাপন করেন প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো: শাহিন মিয়া।
সহকারী জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা গুলশান আক্তারের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত এতে জেলার শিক্ষাদানে নানান ধরনের কর্মসূচী তুলে ধরে প্রধানশিক্ষকগণ বলেন,শিক্ষার্থীদের গ্লোবাল সিটিজেন হিসেবে গড়ে তুলতে শিক্ষার্থীদের শিখন ঘাটতি দূরীকরণে বাড়তি ক্লাস,প্রশ্নউত্তরের মাধ্যমে মূল্যায়ন,উদ্ভাবনী প্রকল্প,মাল্টি-মিডিয়া ব্যবহার,মা সমাবেশ,বিদ্যালয়ের অবকাঠামো উন্নয়ন,ক্রীড়ানুষ্ঠানের আয়োজন,শিক্ষা সফরসহ বিভিন্ন কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
এ ছাড়া নির্দিষ্ট সময়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে উপস্থিতি নিশ্চিতকরণ,শ্রেণীকক্ষে শিক্ষকদের মোবাইল ব্যবহার বর্জন,শ্রেনীকক্ষের অপ্রতুলতা, লোকবল নিয়োগসহচ্যালেঞ্জগুলো নিয়েও আলোচনা করেন তারা।
এ সময় জেলার সকল উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা, রিসোর্স সেন্টারের ইনস্ট্রাক্টর,বিভিন্ন প্রাথমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক,সহকারী শিক্ষকসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠান শেষে বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা বলেন,আগামী বছরের শুরুতে শিক্ষার্থীদের মাঝে বই বিতরণ করা হবে। তবে এ বিষয়ে কোন উৎসব অনুষ্ঠান করা হবে না।
এ ছাড়া পরীক্ষার সময়ে প্রাথমিক শিক্ষকদের কর্মবিরতিতে কোনমহলই সন্তুষ্ট হন নাই বলে উল্লেখ করেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা অধ্যাপক ডাঃ বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার।

Posted ৯:৫৬ অপরাহ্ণ | শনিবার, ০৬ ডিসেম্বর ২০২৫
coxbangla.com | Chanchal Das Gupta