মঙ্গলবার ২২শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ | ৭ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম

মঙ্গলবার ২২শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

কক্সবাজারে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের মাঝে বাড়ছে অপরাধ প্রবণতা

বুধবার, ২১ জুন ২০১৭
449 ভিউ
কক্সবাজারে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের মাঝে বাড়ছে অপরাধ প্রবণতা

মোসলেহ উদ্দিন,উখিয়া(২০ জুন) :: বাস্তুহারাও আশ্রয়হীন মানুষের সংখ্যা ক্রমশঃ বাড়ছে। অভ্যন্তরীন, আঞ্চলিক, সাম্প্রদায়িক পক্ষপাতদুষ্ট নানা সহিংসতার শিকার হয়ে অসংখ্য মানুষ ছুটে চলছে নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে।

বাংলাদেশের প্রতিবেশী রাস্ট্র মিয়ানমারের রাখাইন প্রদেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে গত বছরের সহিংস ঘটনার পর থেকে সর্বশেষ তথ্যমতে প্রায় ৭৪ হাজারসহ প্রায় ৫লক্ষাধিক মিয়ানমারের মুসলিম নাগরিক বাংলাদেশে আশ্রয়ে রয়েছে।

জাতিসংঘও মানবাধিকার সংস্থারা মিয়ানমার থেকে সেদেশের নাগরিক বাস্তুচ্যুত হওয়ার পেছনে অভ্যন্তরীণ যুদ্ধ-বিদ্রোহ, সাম্প্রদায়িক, জাতিগত হিংস্রতা ও নিপীড়নকে কারণ হিসাবে ময়িনমারকে দায়ী করা হয়েছে।

মঙ্গলবার ২০ জুন বিশ্ব শরণার্থী দিবস উপলক্ষ্যে উখিয়ার কুতুপালংয়ে নিবন্ধিত শরণার্থী শিবিরে দিনব্যাপী নানা কর্মসূচী পালনের মধ্য দিয়ে উদ্যাপন করেছে জাতিসংঘ, সরকার ও রোহিঙ্গাদের একটি অংশ।

কুতুপালং শরণার্থী শিবির ক্যাম্প ইনচার্জ ও সহকারি সচিব মোঃ রেজাউল করিম জানান, মঙ্গলবার সকালে র‌্যালি, কমিউনিটি সেন্টারে আলোচনা সভা, রোহিঙ্গাদের সাম্প্রতিক নির্যাতনের উপর আরাকান ভাষায় নাটিকা প্রদর্শন, বর্ণনা, খেলাধুলা, নানা প্রতিযোগীতা আয়োজনের ব্যবস্থা ছিল।

কুতুপালংয়ের প্রায় ১ লক্ষের মতো রোহিঙ্গার বসবাস হলেও নিবন্ধিত শরণার্থী রয়েছে মাত্র ১৩ হাজারের মতো।

কুতুপালং অনিবন্ধিত রোহিঙ্গা বস্তির অসংখ্য লোক মঙ্গলবার বিশ্ব শরণার্থী দিবসে জাতিসংঘের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, তারা শরণার্থী হলেও বিশ্ব শরণার্থী দিবসের কর্মসূচীতে তাদের সম্পৃক্ত করা হয়নি।

তাদের ভাষায় নিবন্ধিত স্বল্প সংখ্যক সুবিধাভোগী রোহিঙ্গারা মূলত জাতিসংঘ, বাংলাদেশ সরকার, বিভিন্ন এনজিও, আইএনজিওদের নানা সুযোগ সুবিধা ভোগ করে শরণার্থী জীবন অতিবাহিত করছে রাজার হালে জীবনযাপন করলেও বৃহত্তর অনিবন্ধিত রোহিঙ্গা নাগরিকরা আশ্রয়, খাদ্য, বস্ত্র, চিকিৎসাহীন অবস্থায় মানবেতর জীবন কাটাচ্ছে।

মিয়ানমারের রাখাইনের মংডু থেকে গত বছরের সামারিক জান্তার নিপীড়নের কবল থেকে বাচঁতে পরিবার পরিজন নিয়ে পালিয়ে উখিয়ার বালুখালীতে আশ্রয় নেয় সেখানকার দীর্ঘদিনের ইউপি চেয়ারম্যান আবুল ফয়েজ (উক্কাট্টা)।

নিজ দেশে দাপটের সাথে চেয়ারম্যানগিরি করলেও পর দেশে বাস্তুচ্যুত নিঃস্ব শরণার্থীর জীবন কাটাচ্ছে আবুল ফয়েজসহ অসংখ্য প্রভাবশালী রোহিঙ্গা নেতা ও পরিবার।

আবুল ফয়েজ বলেন, রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী ও অংসান পরিবারের মধ্যকার সম্পর্ক অন্তুরে, ভালবাসার রাজনৈতিক। ১৯৮২ সালের নাগরিকত্ব আইন অনুযায়ী লক্ষ লক্ষ রোহিঙ্গা হয়ে পড়ে রাষ্ট্রহীন নাগরিক।

রোহিঙ্গারা যুগ যুগ ধরে সাম্প্রদায়িক, কখনো জাতিগত সহিংসতার শিকার হয়ে আসছে। ২০১৫ সালের নির্বাচনে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত বর্তমান ক্ষমতাসীন ন্যাশনাল লীগ ফর ডেমোক্রেসী বা এনএলডি প্রধান অংসান সু চী ও রোহিঙ্গাদের ন্যায় সামরিক জান্তার রোষানলের শিকারে পরিণত হয়ে সরকার বা রাষ্ট্র প্রধানের দায়িত্ব পালনের অযোগ্য হয়ে পড়েন।

এরপরও সমঝোতার আশ্রয় নিয়ে অংসান সূ চী কে রাষ্ট্রীয় পরামর্শকের মতো ঢাল তলোয়ার বিহীন নিধিরাম সর্দারের মতো পিতার দেশে অনেক যন্ত্রণা সহ্য করে থাকতে হচ্ছে বলে রোহিঙ্গা নেতাদের অভিমত। কারণ সামরিক জান্তা রচিত কলংঙ্কিত সংবিধানে, জাতীয়, প্রাদেশিক পরিষদসহ আঞ্চলিক, প্রাদেশিক, জাতীয় ক্ষমতার গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোসহ ২৫ শতাংশ এখনো সেনাবাহিনী নিয়ন্ত্রিত।

ফলে ইচ্ছা থাকলেও নানা বাঁধা বিপত্তির মুখে গত বছরের আগষ্ট মাসে আরাকান প্রদেশের বারংবার সহিংসতার কারণ খতিয়ে দেখতে ও সেখানের সার্বিক ব্যবস্থার উন্নয়নের সুপারিশমালা প্রণয়নের জন্য অংসান সূ চী গঠন করেন কফি আনান নেতৃত্বাধীন আরাকান কমিশন।

এই কমিশনের প্রধান জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব ও আনান ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান কফি আনান। উক্ত কমিশন ইতিমধ্যে অর্ন্তবর্তী প্রতিবেদনে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ পেশ করেছেন। আগামী আগষ্ট মাসের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ সুপারিশমালা সহ প্রতিবেদন পেশ করা হবে বলে জানা গেছে।

চেয়ারম্যান আবুল ফয়েজ সহ রোহিঙ্গারা এ কমিশনের উপর আস্থাশীল হয়ে প্রণীত সুপারিশমালা সমূহ দ্রুত বাস্তবায়ন করা গেলে রোহিঙ্গারা দ্রুততম সময়ের মধ্যে নিজ দেশে ফিরে যাবে বলে আশাবাদী।

এব্যাপারে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) এর প্রোগ্রাম অফিসার সৈকত বিশ্বাস জানান, মূলত বিশ্ব শরণার্থী দিবসটি উদ্যাপনের মূল দায়িত্বপালন করেন জাতিসংঘ শরণার্থী বিষয়ক হাই কমিশন বা ইউএনএইচসিআর। আইওএম জাতিসংঘের সহযোগী সংস্থা হিসাবে অভিবাসিত লোকজনের জীবন মান-উন্নয়নে নানা কর্মসূচী বাস্তবায়ন করে আসছে।

আইওএম এর হিসাব মতে কুতুপালং শরণার্থী শিবির সংলগ্ন অনিবন্ধিত বস্তিতে ১৫ হাজার, বালুখালীতে ২৮শ, লেদা বস্তিতে ২৩শ ও শামলাপুর বস্তিতে ১৯শ’সহ মোট ২২ হাজার পরিবারের প্রায় লক্ষাধিক অনিবন্ধিত রোহিঙ্গা রয়েছে। তাদের জরুরী বিষয়গুলো আইওএমসহ কয়েকটি সংস্থা তদারক করছে বলে জানা গেছে।

449 ভিউ

Posted ১:২৮ পূর্বাহ্ণ | বুধবার, ২১ জুন ২০১৭

coxbangla.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

এ বিভাগের আরও খবর

Archive Calendar

রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি
 
১০১১১২
১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৮২৯৩০  

Editor & Publisher

Chanchal Dash Gupta

Member : coxsbazar press club & coxsbazar journalist union (cbuj)
cell: 01558-310550 or 01736-202922
mail: chanchalcox@gmail.com
Office : coxsbazar press club building(1st floor),shaheed sharanee road,cox’sbazar municipalty
coxsbazar-4700
Bangladesh
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

ABOUT US :

coxbangla.com is a dedicated 24x7 news website which is published 2010 in coxbazar city. coxbangla is the news plus right and true information. Be informed be truthful are the only right way. Because you have the right. So coxbangla always offiers the latest news coxbazar, national and international news on current offers, politics, economic, entertainment, sports, health, science, defence & technology, space, history, lifestyle, tourism, food etc in Bengali.