বৃহস্পতিবার ২৮শে অক্টোবর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ১২ই কার্তিক, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম

বৃহস্পতিবার ২৮শে অক্টোবর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

শিরোনাম

কক্সবাজারে ১৪ ইউপি ইউপি নির্বাচনে বিদ্রোহী ও সতন্ত্র প্রার্থীদের দাপট দেখল আওয়ামী লীগ

বৃহস্পতিবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২১
182 ভিউ
কক্সবাজারে ১৪ ইউপি ইউপি নির্বাচনে বিদ্রোহী ও সতন্ত্র প্রার্থীদের দাপট দেখল আওয়ামী লীগ

কক্সবাংলা রিপোর্ট :: কক্সবাজারের ৪ উপজেলার ১৪ ইউপি নির্বাচনে মাঠে বিএনপি-জামায়াত ছিল না। আওয়ামী লীগের অস্বস্তি ছিল তাই নিজ দলের ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থীদের নিয়ে। তাঁদের সতর্ক করার পাশাপাশি একাধিক জায়গায় বহিষ্কারও করা হয়েছিল দল থেকে। কিন্তু তাতেও দমানো যায়নি তাঁদের। গত সোমবারের ভোটের মাঠে দাপটও দেখালেন তাঁরা। আওয়ামী লীগের প্রার্থীদের কাছ থেকে জয় ছিনিয়ে নিয়েছেন ৮ বিদ্রোহী ও ৪ স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী। ২ ইউপিতে ভোট স্থগিত রয়েছে সহিংসতার কারণে। বাকি ২টিতে জয় পেয়েছেন আওয়ামী লীগের মনোনিত প্রার্থীরা।এতেই বোঝা যায় জেলায় আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা বেশি সুবিধা করতে পারেননি।

বিদ্রোহী প্রার্থীদের একাধিক জায়গায় জয় পাওয়ার বিষয়ে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম বলেন, ‘আমরা দলের শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছি। এ জন্য বিদ্রোহী প্রার্থী অনেক কমে এসেছে। এরপরও যাঁরা বিদ্রোহী হচ্ছেন, তাঁরা শাস্তিভোগ করবেন। ভবিষ্যতে দলের মনোনয়ন বঞ্চিত হবেন। পদপদবি পাবেন না।’

স্থানীয় সূত্র বলছে, ক্ষমতাসীন দলটি বিদ্রোহী প্রার্থী ও তাঁদের পক্ষ নেওয়া নেতা-কর্মীদের নানাভাবে সতর্ক এবং দল থেকে বহিষ্কার করেও অনেক জায়গায় কোনো ফল পায়নি। স্থানীয় আওয়ামী লীগ মনে করছে, একটানা দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকায় সুবিধা পাওয়া না-পাওয়া নিয়ে নেতা-কর্মীদের মধ্যে দ্বন্দ্ব-সংঘাত বেড়ে গেছে। এরই প্রভাব পড়েছে নির্বাচনের ফলাফলে।

ইউপি নির্বাচনে হারের কারণ জানিয়ে টেকনাফ আওয়ামী লীগের ত্যাগী নেতা-কর্মীরা বলেছেন,এবার তিনটি ইউনিয়নে নৌকার পক্ষে ছিলেন না দলের নেতা-কর্মীরা। নেতাদের অনেকে গোপনে দলীয় প্রার্থীদের বিপক্ষে কাজ করেছেন। এর ফল স্বরুপ টেকনাফ সদরে জিতলেন স্বতন্ত্র প্রার্থী জিয়াউর রহমান জিহাদ। টেকনাফ সদর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছিলেন আবু সৈয়দ। এই ইউনিয়নে নৌকা প্রতীককে জিতিয়ে আনার দায়দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল আওয়ামী লীগ সহ অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের। সেই দায়িত্ব সঠিকভাবে পালনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন নেতাকর্মীরা।

নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী আবু সৈয়দ পেয়েছেন মাত্র ১ হাজার ৮৬৭ ভোট। ৯ হাজার ৪৬৮ ভোট পেয়ে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী জিয়াউর রহমান। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগের মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়া শাহজাহান মিয়া। তিনি পেয়েছেন ৭ হাজার ৯৫২ ভোট।

বিপুল ভোটে পরাজয়ের বিষয়ে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের প্রার্থী আবু ছৈয়দ হতাশার সুরে বলেন, ‘আওয়ামী লীগের নেতারাই ডুবিয়েছেন নৌকা। আমি একাকী নৌকা জেতাব কী করে? ভোটকেন্দ্রে যুবলীগ-ছাত্রলীগের যাঁরা এজেন্ট হয়েছিলেন, তাঁরাও নৌকার পক্ষে কাজ করেননি। কেন করেননি দলের নেতারা অনুসন্ধান করলে বেরিয়ে আসবে।

আবু ছৈয়দের অভিযোগ, এই ইউনিয়নের নির্বাচনের দায়িত্ব নিলেও আওয়ামী লীগ সহ অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা ভোটের তিন থেকে চার দিন আগে উধাও হন। নৌকা প্রতীকের সভায় কিছুসংখ্যক নেতাকর্মীদের পাওয়া গেলেও, অনেক নেতাকর্মীদের পাওয়া যায়নি। এমনকি নির্বাচনের দিন সকাল থেকে কয়েক দফা ফোন করা হলেও নেতাকর্মীরা ফোন ধরেননি। দু-তিনজন নেতা ছাড়া আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের কাউকে পাশে পাননি তিনি (ছৈয়দ)। আসলে নৌকায় ভোট দেওয়ার মানুষ থাকলেও নেওয়ার মতো কেউ ছিলেন না বলে অভিযোগ করেছেন নৌকার পরাজিত প্রার্থী আবু ছৈয়দ।

এদিকে ২২ সেপ্টেম্বর বুধবার কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগ’র কার্যনির্বাহী সংসদের এক সভা ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এড. ফরিদুল ইসলাম চৌধুরী সহ নেতৃবৃন্দ বলেন,২০ সেপ্টেম্বর  অনুষ্ঠিত কক্সবাজার জেলার ২টি পৌরসভা ও ১৪টি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে যারা দলীয় সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে গিয়ে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছিলেন তাদের ইতিমধ্যে সাময়িক ভাবে বহিস্কার করা হয়েছে। তাদেরকে চুড়ান্ত ভাবে বহিস্কারের জন্য বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের বরাবরে সুপারিশ প্রেরণ করা হবে। আগামী ৯ অক্টোবর কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের প্রতিনিধি সভা অনুষ্ঠিত হবে।

উক্ত সভায় দলীয় বিদ্রোহী প্রার্থী এবং তাদেরকে সহায়তাকারী দলীয় নেতাদের বিষয়ে চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে। সভায় নির্বাচনের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিশ্লেষণ পূর্বক ভবিষ্যত নির্বাচন নিয়ে করণীয় বিষয়ে আলোচনা হয়। সভায় আগামী ২৮ সেপ্টেম্বর গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা ৭৫ তম জন্ম বার্ষিকী যথাযোগ্য মর্যাদায় পালনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। উক্ত কর্মসূচী কক্সবাজার শহীদ দৌলত ময়দানে অনুষ্ঠিত হবে।

সভায় মহেশখালী পৌরসভায় পর পর ৩ বার নির্বাচিত মেয়র জেলা আওয়ামী লীগ নেতা আলহাজ্ব মকসুদ মিয়া ও চকরিয়া পৌরসভায় ২য় বারের মত মেয়র নির্বাচিত হওয়ায় আলমগীর চৌধুরীকে এবং ইউনিয়ন পর্যায়ে দলীয় ভাবে নির্বাচিত চেয়ারম্যানবৃন্দকে অভিনন্দন জানানো হয়। সভায় নির্বাচন নিয়ে কঠোর পরিশ্রম করায় জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক টিমের সকল সদস্য ও দলীয় নেতাকর্মীদের ধন্যবাদ জানানো হয়।

২০ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত কুতুবদিয়া উপজেলার বড়ঘোপ ইউনিয়নের নির্বাচনে ৭নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুল হালিম প্রশাসনের গুলিতে নিহত হন। নেতৃবৃন্দ তার স্মরণে এক মিনিট নিরবতা পালন করেন এবং শোক প্রকাশ করেন। সভায় আবদুল হালিমকে হত্যার উপযুক্ত বিচার দাবী করা হয় এবং নিরপেক্ষ তদন্ত পূর্বক প্রকৃত দোষীদের শাস্তির আওতায় আনার জোর দাবী জানানো হয়।

সূত্রে জানা গেছে,কক্সবাজারের ৪ উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নের মধ্যে ১৪টিতে আওয়ামী লীগ মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন। এছাড়া ৮টিতে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী ও চারটিতে স্বতন্ত্র প্রার্থী নির্বাচিত হয়েছেন। অপরদিকে একটি ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে ফলাফল স্থগিত রয়েছে। চকরিয়া উপজেলার পৌরসভায় পূণরায় মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন আলমগীর চৌধূরী এবং মহেশখালী পৌরসভায় মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন মো. মকসুদ মিয়া (আওয়ামী লীগ)।

টেকনাফ উপজেলার সাবরাং ইউনিয়ন পরিষদে বর্তমান চেয়ারম্যান নূর হোসেন (আওয়ামী লীগ বিদ্রোহী প্রার্থী), টেকনাফ সদর ইউনিয়নে জিয়াউর রহমান (বিএনপি সমর্থিত) ও হ্নীলা ইউনিয়ন পরিষদে (আওয়ামী লীগ) রাশেদ মাহমুদ আলী নির্বাচিত হয়েছেন। তাছাড়া হোয়াইক্যং ইউনিয়নে এগিয়ে মওলানা নুর আহমদ আনোয়ারী (জামায়াত)।এখানে উনচিপ্রাং ও লম্বাবিল কেন্দ্রে ভোট স্থগিত করায় চেয়ারম্যান পদ প্রার্থীতার ঘোষণা দেওয়া সম্ভব হয়নি। পরবর্তীতে দুই কেন্দ্রে নতুন করে ভোট অনুষ্ঠিত হওয়ার পর চূড়ান্ত প্রার্থীতা ঘোষণা দিবে নির্বাচন কমিশন।

মহেশখালী উপজেলার কুতুবজোম ইউনিয়নে অ্যাডভোকেট শেখ কামাল (আওয়ামী লীগ), হোয়ানক ইউনিয়নে ওয়াজেদ আলী মুরাদ (আওয়ামী লীগ বিদ্রোহী) ও মাতারবাড়ী ইউনিয়নে এস এম আবু হায়দার (আওয়ামী লীগ) চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন।

কুতুবদিয়া উপজেলার আলী আকবর ডেইল ইউনিয়নে জাহাঙ্গীর আলম (আওয়ামী লীগ), কৈয়ারবিলে আজমগীর মাতব্বর (আওয়ামী লীগ), লেমশীখালীতে আকতার হোসেন (বিএনপি)ও দক্ষিণ ধুরুং আলাউদ্দিন আজাদ (বিএনপি) বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন।দ্বীপের উত্তর ধুরুং ইউনিয়নের আবদুল হালিম ও বড়ঘোপ ইউনিয়নে আ ন ম শহীদ উদ্দিন ছোটন এগিয়ে (স্বতন্ত্র) রয়েছেন। এছাড়া পেকুয়া উপজেলার টৈটং ইউনিয়নে জাহেদুল ইসলাম (আওয়ামী লীগ) বেসরকারিভাবে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন।

182 ভিউ

Posted ১:১৬ পূর্বাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২১

coxbangla.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

এ বিভাগের আরও খবর

Archive Calendar

রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
৩১  

Editor & Publisher

Chanchal Dash Gupta

Member : coxsbazar press club & coxsbazar journalist union (cbuj)
cell: 01558-310550 or 01736-202922
mail: chanchalcox@gmail.com
Office : coxsbazar press club building(1st floor),shaheed sharanee road,cox’sbazar municipalty
coxsbazar-4700
Bangladesh
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

ABOUT US :

coxbangla.com is a dedicated 24x7 news website which is published 2010 in coxbazar city. coxbangla is the news plus right and true information. Be informed be truthful are the only right way. Because you have the right. So coxbangla always offiers the latest news coxbazar, national and international news on current offers, politics, economic, entertainment, sports, health, science, defence & technology, space, history, lifestyle, tourism, food etc in Bengali.

design and development by : webnewsdesign.com