সোমবার ২৮শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ | ১৩ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম

সোমবার ২৮শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

কক্সবাজারে ৪র্থ ধাপে সেঞ্চুরির পথে করোনা আক্রান্ত রোগী : চরম আতংকে জেলাবাসী

শনিবার, ০৯ মে ২০২০
5 ভিউ
কক্সবাজারে ৪র্থ ধাপে সেঞ্চুরির পথে করোনা আক্রান্ত রোগী : চরম আতংকে জেলাবাসী

কক্সবাংলা রিপোর্ট(৯ মে) :: প্রাণঘাতি করোনা ভাইরাস প্রতিদিনই আক্রান্তের সংখ্যা বাড়িয়ে ভীতির সঞ্চার করছে কক্সবাজার জেলায়। শনিবার (৯ মে) পর্যন্ত জেলায় করোনা আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ৮১ জনে দাঁড়িয়েছে। কক্সবাজারে দ্রুত সেঞ্চুরির দিকে ছুটছে ভয়ঙ্কর এ ভাইরাসটি।বিশেষ করে শেষ পাঁচ দিনে করোনা রোগীর সংখ্যা বেড়েছে অর্ধেকেরও বেশি। হঠাত করোনা রোগী বৃদ্ধি পাওয়ায় জেলাবাসীর মাঝে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। এর মাঝে আগামিকাল রোববার থেকে খোলার কথা রয়েছে দোকানপাট। অগে থেকেই খোলা রয়েছে কাচাঁ বাজার।এরই মধ্যে খুলেছে বেশ কিছু দোকানপাট। এমন অবস্থায় বেড়েছে জনসমাগম। আর জনসমাগকে কেন্দ্র করে হঠাত জেলায় বাড়ছে করোনাভাইরাসের ঝুঁকি।চিকিৎসকরা বলছেন- জনসমাগের কারণে বাড়তে পাড়ে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগির সংখ্যাও।

কক্সবাজার মেডিকেল কলেজের ল্যাবে গত ৫মে ধরা পড়ে ১১ জন এবং ৬মে ২ জন,৭মে সর্বো্চ্চ ১৯ জন, ৮মে ৪ জন শনাক্ত হওয়ার পর ৯ই মে আরও ৬ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন।শনিবার আক্রন্তদের মধ্যে চকরিয়ার উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান সাঈদী সহ ৪ জন,টেকনাফে ১ জন ও উখিয়ার ১ জন রয়েছেন। আর গত ২ এপ্রিল থেকে কক্সবাজারে করোনা পরীক্ষা শুরু হওয়ার পর জেলায় রোগীর সংখ্যা দাড়াল ৮১ জনে। এর মধ্যে গত পাঁচ দিনেই আক্রান্ত হয়েছেন ৪২ জন। এই ৮১ জন করোনা রোগীর মধ্যে মৃত্যূ হয়েছে রামুর এক জনের।করোনা ডেডিকেটেড হাসপাতালে ভর্তি আছেন ২৫ জন এবং হোম আইসোলেশনে চিকিতসা নিচ্ছেন ১৫২ জন।আর করোনা মুক্ত হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৮ জন।

কক্সবাজারের স্বাস্থ্য বিভাগ ও আইসোলেশন হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, জেলায় গত ২ এপ্রিল হতে ৯ই মে পর্যন্ত করোনায় আক্রান্ত ৮১ জনের মধ্যে চকরিয়া উপজেলায় সর্বোচ্চ ২৪ জন,সদর উপজেলায় ১৮ জন,পেকুয়ায় ১২ জন,মহেশখালীতে ১১ জন, উখিয়ায় ৭ জন,টেকনাফে ৬ জন এবং রামুতে ৩ জন রয়েছেন।আক্রন্তদের মধ্যে ৩ জন ডাক্তার,একজন ম্যাজিষ্ট্রেট,একজন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তা, একজন উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান,স্বাস্থ্য কর্মী,ঔষধ প্রতিনিধি সহ ব্যবসায়ী রয়েছেন। তবে কাকতালিয়ভাবে কুতুবদিয়া উপজেলা এখনো করোনা মুক্ত রয়েছে।

জেলায় কভিড-১৯ করোনা ভাইরাস পরীক্ষার একমাত্র ল্যাব কক্সবাজার মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ডা. অনুপম বড়ুয়া জানান,ল্যাবে প্রতি দিন করোনা পরীক্ষার জন্য আতংকিত রোগীর ভিড় বাড়ছেই।প্রথম প্রথম করোনা পজিটিভের সংখ্যা কম থাকলেও গত পাঁচ দিন ধরে এ হার আশংকাজনকভাবে বেড়ে গেছে।তিনি আরও জানান,করোনা যতটা মারাত্মক আবার এর থেকে সুস্থ হওয়ার হারও অনেক ভাল।এর জন্য সামাজিক দুরত্ব মেনে চলা দরকার। আর এই ভাইরাসে আক্রান্ত হলে সবচেয়ে বেশী প্রয়োজন রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে এমন খাবার খাওয়া এবং মনোবল শক্ত রাখা। তাই যাদের করোনা হয়েছে তাদের সামাজিকভাবে হেয় করবেন না, এতে তারা মানসিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়বে। যার ফল আমাদের জন্য ভাল হবে না।

জানতে চাইলে কক্সবাজার সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ও রামুর করোনা ডেডিকেটেড হাসপাতাল এর আহ্বায়ক ডা. আলী হোসেন বলেন, ‘স্বাস্থ্য অধিদফতরের নীতিমালা অনুসারেই করোনায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের চিকিৎসাসেবা প্রদান করছি আমরা। কক্সবাজারের করোনা আক্রান্ত বেশিরভাগ রোগীর শারীরিক অবস্থা খুবই ভাল রয়েছে।এখনো পর্যন্ত ক্রিটিক্যাল কন্ডিশনে কেউ নেই। করোনা হাসপাতালে বর্তমানে ২৫ জন এবং বাড়িতে আইসোলেশনে রেখে ১৫২ জনকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।এ পর্যন্ত হাসপাতাল থেকে ৯ জনকে করোনা মুক্ত ঘোষনা করে বাড়িতে পাঠানো হয়েছে।

রামু উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নোবেল বড়ুয়া কক্সবাংলাকে জানান,করোনা ডেডিকেটেড হাসপাতালে ৩টা টীমে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। প্রতি টীমে আছে ৩ জন ডাক্তার, ৬ জন নার্স, ৩ জন পরিচ্ছন্নতা কর্মী। রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি হলে ডাক্তার, নার্সের সংখ্যা বৃদ্ধি করা হবে। প্রতি টীম ১০দিন চিকিৎসা সেবা দিচ্ছে। তারপর ১৪দিন কোয়ারান্টাইনে থাকবে। ১০দিন পর আরেক টীম ঢুকবে। যারা সেবা দিবে তারা ওখানেই অবস্হান করছে ১০দিন। আমরা মূলত স্বাস্থ্য অধিদফতরের চিকিৎসা নীতিমালা অনুসরণ করছি।’

এ বিষয়ে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের সিভিল সার্জন ডা. মাহবুবুর রহমান কক্সবাংলাকে বলেন,কক্সবাজার জেলা এখন সর্বশেষ চতুর্থ ধাপ অত্রিক্রম করছে।মূলত জনগণ সামাজিক দুরত্ব মেনে চলতে ব্যর্থ হওয়ার কারনে কমিউনিকেশন ট্রান্সমিশন থেকে এই ভাইরাস দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে।এ কারণে গত পাঁচ দিন বেশি সংখ্যক করোনা রোগী সনাক্ত হচ্ছে। তিনি আরও বলেন,জেলায় কুতুবদিয়া উপজেলায় এখনো কেউ করোনায় আক্রান্ত হয়নি।ওখানে প্রচুর টেস্ট করা হয়েছে তা সত্বেও এখনো পর্যন্ত করোনা সনাক্ত হয়নি। কুতুবদিয়ার মতো যদি অন্যান্য উপজেলাগুলোতেও যদি সামাজিক দুরত্ব মেনে চলত তাহলে এত সংখ্যক রোগী সনাক্ত হতো না।তবুও তিনি সবাইকে সচেতন হয়ে চলার পরামর্শ দেন।

এদিকে কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো: কামাল হোসেন জানিয়েছেন জেলায় করোনা ভাইরাসের সংক্রোমন রোধে গণ পরিবহন বন্ধ থাকবে।রমজান ও ঈদে সামাজিক দুরত্ব মেনে চলতে প্রশাসনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

 

5 ভিউ

Posted ৭:৫৫ অপরাহ্ণ | শনিবার, ০৯ মে ২০২০

coxbangla.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

Archive Calendar

রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি
 
১০১১১২
১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৮২৯৩০  

Editor & Publisher

Chanchal Dash Gupta

Member : coxsbazar press club & coxsbazar journalist union (cbuj)
cell: 01558-310550 or 01736-202922
mail: chanchalcox@gmail.com
Office : coxsbazar press club building(1st floor),shaheed sharanee road,cox’sbazar municipalty
coxsbazar-4700
Bangladesh
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

ABOUT US :

coxbangla.com is a dedicated 24x7 news website which is published 2010 in coxbazar city. coxbangla is the news plus right and true information. Be informed be truthful are the only right way. Because you have the right. So coxbangla always offiers the latest news coxbazar, national and international news on current offers, politics, economic, entertainment, sports, health, science, defence & technology, space, history, lifestyle, tourism, food etc in Bengali.